তবুও_তুমি ৮ম পর্ব

0
721

তবুও_তুমি
৮ম পর্ব
.
” কিরে তুই মানতাসা আর মানহার পিছনে অমন করে সেধিয়ে আছিস কেন। তোর অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বার্গারের দুই বনরুটির মধ্যে মুরগির টুকরোর মত” ভ্রু উঁচু করে বলল রাসেল ভাই। তার কথা আমি তাড়াতাড়ি করে উঠে বসলাম।” কই আমি পিছনে ঢুকেছি ” গলা ঝাড়া দিয়ে বললাম। ” তোরে আন্টি ডাকতেছে ” রাসেল ভাই এটুকু বলেই চলে গেল। মনে মনে ভাবতে ছিলাম আবার কি করেছি কে জানে। আর ভাল লাগে না আমার, এত লোক থাকতে ছুরি কেন আমার উপরেই চলে। আসলে আমার কপালই খারাপ। বড় আপু মানহা আপু বান্ধবীর চেয়ে বেশি। মিলি জিমির কথা নাই বা বললাম দুইটার তো ” রাম মিলায়ে জোড়ি ” মারামারি করলেও একটা একটারে ছাড়া আধা ঘন্টাও টিকে না। আর আমিই কপাল পোড়া সাথে পিছে কেউ নাই। বড় আপুদের গ্রুপে পাত্তা দেয় না আবার মিলিদের গ্রুপে আমি এডজাস্ট করতে পারি না। এসব ভাবতে ভাবতে গেলাম খালার রুমের দিকে। ” নিপা তুই এক্ষুনি রাসেলের সাথে পরীদের বাসায় যাবি ” মাকে দেখেই খালার ষান্ডা মার্কা আদেশ।এই কথাটা শুনে আমার জানি কেমন কেমন লাগতে ছিল। ” হঠাৎ ভাবিদের রুমএ বাসায়। কি হইছে খালা সমস্যা ” খালা যেন তেলপোকা দেখছে এমন একটা লুক দিল আমাকে। ” তুই ইদানিং বড্ড বেশি বকবক করা ধরেছিস নিপা। একটা কথা বললে কয়েক ডজন প্রশ্ন তোর রেডি থাকে ” এই বলেই ফোত করে একটা নিশ্বাস ছাড়ল খালা। মনে মনে ভাবতে থাকলাম একটা প্রশ্ন করেছি তারে বানাইছে ডজন আল্লাহ না করুক আর প্রশ্ন করলে কি করত। রাসেল ভাইয়ের সাথে আবার বাইরে যাব! উফফ আল্লাহ এই লোকের সাথে বাইরে যাওয়ার কথা শুনলেই আমার কেন জানি না বুকে পানি থাকে না। রুমে এসে দেখি সবাই আড্ডা দিচ্ছে হাসাহাসি করছে আর আমি কি না কপালের চ্যারা নিয়ে উনার সাথে বাইরে যাচ্ছি। সাদা কালারের একটা লং ফ্রকের সাথে ব্লাক জিন্স পরে নিলাম। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক আর চোখে কাজল ব্যাস আমি রেডি। চুল আচড়িঁয়ে উঁচু করে কাঠি দিয়ে বেঁধে নিলাম। ওড়নাটা টান দিয়ে যখন আমি বের হচ্ছি বড় ভাবি চোখ কপালে তুলে বলল ” বাবা গো নিপা তোমারে তো সেই দেখাচ্ছে। কি ব্যাপার কাকে পাগল করার ইচ্ছা আছে “। ” ভাবি আমি ভাইয়ারে বলতেছি যেন আপনারে চোখের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় অতিসত্ত্বর” এটুকু বলেই বাসা থেকে নামলাম। নিচে নেমে দেখি রাসেল ভাই হাওয়া। এদিক ওদিক তাকিয়ে তার বা তার বাইকের কোন ছায়া খুঁজেই পেলাম না। একবার ভাবলাম তার ফোনে কল দেই আবার ভাবলাম কল দিলে অহেতুক ঝাড়ি খাওয়া লাগবে। তার চেয়ে ভাল উপরে উঠে খালাকে বলি তার গুনধর ভরসার ব্যক্তি নিজেই ভ্যানিশ হয়ে গেছে। ঘুরে বাসায় উঠতে যাব এমন সময় দেখি এ লোক এসে হাজির তাও আবার রিক্সা নিয়ে। রাসেল ভাইয়ের বাইক গেল কই। ” অমন করে পানিতে খাবি খাওয়া মাছের মত হাঁ করে তাকিয়ে আছিস কেন ” এই বলেই একপাশে চেপে বসল সে। ” তাড়াতাড়ি উঠে আয় দেরি হয়ে যাচ্ছে ” এটুকু বলেই পকেট থেকে ফোন বের করে মনোযোগ দিয়ে ফোন দেখতে লাগল। কই আমাকে একটু হেল্প করবে রিক্সায় উঠতে তা না উনি আছে উনার মজায়। রিক্সায় বসতেই সেই একই কাহিনী উনার পারফিউমের ঘ্রানে আমি মাতাল। কালো খয়েরি এক পাঞ্জাবি ব্লু জিনস। পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে কনুই পর্যন্ত ভাঁজ করা। হাতে তার সেই মোটা চেইনের ঘড়ি উফফ এত স্মার্ট হয়ে বের হওয়া লাগে কেন। রিক্সা চলছে আর আমি চাপতে চাপতে আর এক কোনায় প্রায় এমন করে বসেছি যে একটু জোরে ঝাঁকি লাগলেই আমি কুমড়োর মত গড়িয়ে নিচে। হঠাৎই টের পেলাম রাসেল ভাই আমার পেছন থেকে হাত দিয়ে কোমর ধরে টেনে একদম উনার কাছে নিয়ে আসল। ”
____তোর সমস্যা কি আমারে বল তো নিপা? আমার সাথে বের হলেই কি প্লান করে বের হইস যে একটা না একটা আকাম করবিই?”
___ আমি আবার কি করলাম?
___ সেদিন বাইকে বসেছিলি আলগার উপরে। আজকে রিক্সায় বসেছিস তাও এমন জায়গায় পড়তে দুই মিনিট লাগবে না।

কিছু না বলেই চুপ করে বসে থাকলাম। তখনও সে আমার কোমরে হাত দিয়ে একদম শরীরের সাথে শরীর লাগিয়ে বসা। মনে হচ্ছিল ইসস যাক না সময় এখানে থেমে। আচ্ছা আমি কি রাসেল ভাইকে ভালবেসে ফেললাম নাকি! ইয়া খোদা তাইলে কেমনে কি। যখন এসব আগডুম বাগডুম চিন্তা করছিলাম ততক্ষনে রিক্সা থেমে গেছে। একি ভাবির বাপের বাড়ি তো আরো দূরে তাহলে এখানে রিক্সা থামল কেন? ” নিপা নিচে নাম ” এই বলেই ভাড়া দিল রাসেল ভাই। মিনমিনিয়ে বললাম ” বাসা তো আরো দূরে এত আগে নেমে কি করব “। ” তুই আমারে কোলে করে নিয়ে যাবি তাই এখানে নামা ” এই বলেই এক বিশাল ঝাড়ি দিল আমারে। এই লোকটার জীবনের বড় উদ্দেশ হল আমারে হেনস্ত করা। উনি আগে হাঁটছে আমি পিছে পিছে হাঁটছি। পুরো পনেরো মিনিট হাঁটার পরে পৌঁছালাম ঝুমুদের বাসায়। সেখানে যেয়ে দেখি এলাহি কান্ড। ভাবির আব্বু আম্মু অনেক খাতির করা শুরু করল আমাদের কে। হঠাৎই দেখি সাদ এসে হাজির। আমি আর রাসেল ভাই এক পাশে বসা আর সাদ অন্যপাশে। এসেই উনার সাথে কথা বলে আমার সাথে শুরু করল কথা। না পারছি উঠতে না পারছি কথা বলতে। সাদ অনেক মশকরা করছে আর আমি জোর করে হাসি মার্কা লুক দিচ্ছি। কিন্তু এটা বুঝতেছিলাম পাশে আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদগিরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্ঘাত আজকে আমাকে মেরেই ফেলবে। এখানে এসে শুনলাম আমাদের এখানে আনা হয়েছে উনাদের কিছু রীতি রেওয়াজের জন্য। হঠাৎই সাদের আব্বু আম্মু এসে হাজির আমাকে ডেকে নিয়ে দুইজনের মাঝে বসিয়ে নানা কথা। ঘন্টা খানেক থাকার পরে মনে রাসেল ভাই উঠেই অমনি বলল ” আচ্ছা মাওইমা অনেক রাত হচ্ছে আমরা এখন আসি তাহলে “। চোখের ইশারায় আমাকে উঠতে বলল।সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন বাইরে আসলাম দেখি উনি আগেই রিক্সা নিয়ে এসে হাজির।চাঁদ ভরা আকাশ রিক্সায় আমরা দুইজন। যেন এক রোমান্টিক পরিবেশ। আমার তখন কি হল কে জানে আস্তে করে উনার হাতটা ধরলাম। কি মনে করে কেন কিজন্য কিছুই জানি না শুধু হাতটা ধরলাম। ধরার সাথে সাথেই যেন ৩৪০ ভোল্টের ঝাঁকা খেলাম। ঝাড়া দিয়ে আমার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলল দূরে যেয়ে বস। লজ্জায় আমি মাথাটাই যেন আর উঁচু করতে পারছিলাম না। কি করতে যে আমি কি করি নিজেও জানি না।

বাসার সামনে এসে রিক্সা থামতেই রাসেল ভাই নেমে হনহনিয়ে সোজা চলে গেল। আমি কিছুতেই বুঝিতে ছিলাম না উনার এত রাগের কারণটা কি। বেঠিকটা কি হল। রিক্সা থেকে নেমে যেই ভাড়া দিতে টাকা বের করলাম তখন রিক্সাওয়ালা বলে উঠলো ” আফ সাবে টাকা আগেই দিয়া গেছে “। সারা শরীর যেন রাগে ক্ষোভে রি রি করে উঠলো। এই লোকটা ভেবেছে কি নিজেকে। বাসায় ঢুকতেই দেখি হাউকাউ। মনে মনে এক হাসি দিয়ে ভাবলাম যাক ভালই হয়েছে। এই সার্কাস পার্টির মধ্যে আসলে খারাপ মনও অকারণেই ভাল হয়ে যায়। প্রথমেই বড় খালাম্মা আর ছোট খালামনির দিকে নজর পড়ল। ছোট খালামনি সবার কাছে ” রয়েল বেঙ্গল টাইগার ” হলেও বড় খালাম্মার কাছে ” রয়েল বেঙ্গল ক্যাট “। জুতা খুলতে খুলতে শুনেতে ছিলাম দুই বোনের কাহিনী। ” বুঝলি রেনু বয়স হয়েছে আল্লাহ বিল্লাহ করবি। স্বামীরে সম্মান দিবি ” পান চাবাতে চাবাতে বলল বড় খালাম্মা। ” আমি তো তার প্রতিটি কথা একশতে একশ মেনে চলি ” কোন মতে বলল ছোট খালামনি। ” শোন রেনু আল্লাহর দুনিয়ায় তোর চেয়ে দুই দিন হইলেও ভাত বেশি খাইছি। আমারে শিখাইস না ” এই বলেই চিলনচিতে পানের পিক ফেললেন বড় খালাম্মা। খালামনি যেন কি বলতে যাচ্ছিল হাত উঁচু করে থামিয়ে দিয়ে বলল ” বেচারারে দেখলে মনে হয় পিছনে বাঁশ ঢুকায়ে দিলে যেই হালে মানুমানুষ ঘোরে ওই অবস্থায় ঘুরতেছে “। এদের সব কমন কথা তাও বেশ ভালই লাগল যে খালামনিরে সাইজের লোক তো অন্তত আছে। সামনে যেয়ে দেখি বড় আপু আর মানহা আপুর তুমুল ঝগড়া। জিমি মিলি দুই জনই দাঁত লেলিয়ে হাসতেছে ওদের ঝগড়া দেখে।এরা দুই জন সহযে কখনোই লাগে না আজ কি নিয়ে লাগছে কে জানে। আমি যেয়ে পাশে দাঁড়াতেই বড় আপু মানহা আপুকে বলল ” থাপ্পড় মেরে তোর চৌষাট্টি দাঁত ফেলে দেবো “। আমি খুব আগ্রহের সাথে বললাম ” বড় আপু মানহা আপুর তো বত্রিশটা দাঁত তুমি চৌষাট্টা দাঁত ফেলবা কি করে “। ” আমি জানতাম পন্ডিত তুই যখন এসেছিস এই প্রশ্নটা করবিই। তোর আর ওর দুইটার মিলায়ে চৌষাট্টিটা দাঁত ফেলবো ” হুংকার দিয়ে বলে উঠলো বড় আপু। অবস্থার বেগতি দেখে আস্তে করে সটকে পড়লাম। রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে যখন ওয়াশরুম থেকে বের হলাম ছোট মামা করুন মুখে রুমে এসে হাজির। ” কি হয়েছে মামা মুখ অন্ধকার কেন ” মুখ মুছতে মুছতে প্রশ্ন করলাম মামাকে। ” মা গো রে আমারে বাঁচা ” এই বলেই ছোট মামা হাউ মাউ করে উঠলো। তাড়াতাড়ি টাওয়ালটা বিছায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললাম ” কি হয়েছে মামা “। হাউমাউ করে মামা অনেক ক্ষন অনেক কিছু বলার পরে যে মর্ম আমি উদ্ধার করতে পারলাম তা হল। ছোট মামা অনেক আগে এবাসায় থেকে অনার্স পড়েছিলেন। তখন কলি বা টলির সাথে যেন তার রিলেশন ছিল। সেই আমলের এক চিঠি ছোট খালামনি ট্রাংক থেকে পেয়েছে। এখন মামাকে ব্লাক মেইল করছে যদি খালামনিকে স্বর্ণের চেইন কিনে না দেয় তাহলে ছোট মামিকে চিঠি দিয়ে দেবে। মামার কথা শুনে আমি কাঁদবো না হাসব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি ন্য। মামাতো ভাই একটা এবার ইন্টার পরীক্ষ দেবে তার বাপ এখন নিজের অনার্স লেভেলের আকাম নিয়ে খাবি খাইতেছে। পৃথিবীর যাবতীয় আশ্চর্য ঘটনা কোথাও না ঘটলে এখানে ঘটে। মামার পাশে বসে মামার দিকে একটা বিজাতীয় লুক দিয়ে বললাম ” এখন তুমি আমারে কি করতে বলো “। ছোট মামা খপ করে আমার হাত ধরে বলল ” তুই রেনুর কাছ থেকে আমাকে চিঠিটা যে কোন উপায়ে এনে দে “।
___ মামা তুমি বুঝে বলতেছ তুমি কি বলতেছ?
___ নিপা রে, মা গো আমি জানি আর কেউ পারুক না পারুক তুই পারবি।
নিজের অজান্তেই ফোঁস করে এক দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। ছোট খালামনির কাছ থেকে এই চিঠি আনা আর সাপের সাথে হাডুডু খেলা এক কথা। কখন যে উলটা দিক থেকে আঘাত আসবেই কে জানে। কিন্তু ছোট মামার মুখের দিকে তাকিয়ে নাও বলতে পারছিলাম না। ছোট মামাকে আশ্বাস দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে ভাবতে বসলাম কেমনে কি করা যায়৷ অনেক ভেবে হঠাৎই একটা আইডিয়া মাথায় আসলো। জিমি মিলিকে ডাক দিলাম। সব খুলে হেল্প চাইতেই দুইটাই সোজা না বঅলএ দিল।
” নিপাপু তুই কি পাগল হয়েছিস? কি বলতেছ বুঝে বলতেছ?” মিলি প্রশ্ন করল। জিমি বলল ” আপু নির্ঘাত পাগল হয়ে গেছে না হলে আম্মুর কাছে থেকে চিঠি আনার সাহস কখনও করত “। ” আচ্ছা শোন তোদের কাউকে কিছু করতে হবে না শুধু রাতের বেলা রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবি। চিঠি আমিই খুঁজে বের করব ” এই বলেই দুইটার দিকে তাকালাম। মাথ কাত করে দুইটাই সায় দিল। রাতের খাওয়াদাওয়া আগেই করা হল। আসার পর থেকে রাসেল ভাইকে খুঁজেছি অনেক কিন্তু চোখেই পড়ে নাই। গেল কই আল্লাহর বান্দায়। খালা আগেই সবাইকে বলে দিয়েছিল যেন তাড়াতাড়ি সবাই শুয়ে পড়ে কারণ পরের দিন দুপুর বেলায় বৌভাত। অনেক সকাল সকাল উঠতে হবে সবার। তারপরও শুইতে শুইতে ১২ টার উপরে বেজে গেল। মোটামুটি সবাই যখন ঘুমে আমি আস্তে করে উঠলাম।অন্ধকারে জিমি মিলিকে আস্তে আস্তে ডাকা শুরু করলাম। কিন্তু ফাজিল দুইটা গভীর ঘুমে চলে গেছে। মনে মনে বললাম যা হয় হবে আল্লাহ ভরসা আমি একাই যাব। আস্তে করে উঠে খালার রুমে যেয়ে কান পাতালাম কোন শব্দ আসে কি না। না কোন শব্দই নেই তারমানে সবাই ঘুমে। দরজা খুলে যেই ভিতরে ঢুকতে যাব অমনি টের পেলাম আমি যেন হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছি। আরে আমাকে কেন যেন আড়কোলে করে ফেলেছে। ইয়া আল্লাহ এত রাতে আমাকে কোলে নিল কে? মুখ ঘোরে টের পেলাম সেই মাতাল করা ঘ্রান। ” আপনি আমাকে কোলে নিয়েছেন কেন ” মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম। আমাকে কোলে নিয়েই সোজা মেইন গেটের দিকে হাঁটা শুরু করল। কোন উপায় না পেয়ে আমি তার গলা জড়ায়ে ধরলাম। ” এটা কি পাগলামি হচ্ছে নিচে নামান আমাকে ” এই বলেই মোচড় দিতেই আমাকে বলল ” সোজা ছেড়ে দেবো কোমর দশটুকরা হয়ে যাবে। তখন আর ওই পাদের পাদময় ভালবাসা আর পাওয়া লাগবে না “। একথা শুনে আমি আরো শক্ত করে উনার গলা জড়ায়ে ধরলাম। বলা তো যায় না কখন ছেড়ে দেয় আমাকে। যে মানুষ দিতেও পারে বিশ্বাস হয় না।মেইন গেট খুলে আমাকে নিয়ে আস্তে আস্তে ছাদে উঠে আসলো। ছাদের ঠিক মাঝ বরাবর নিয়ে আমাকে নামালো কোল থেকে । নামালো মা মনে হল যেন ছুঁড়ে ফেলল। দুহাত দিয়ে আমাকে কাছে টেনে নিল। কেন জানি না আমার মনে হচ্ছিল উমার নিশ্বাস যেন খুব ঘন হয়ে পড়ছে। এর পরে যেটা হল সেটা আমার কল্পনার বাইরে ছিল। আমার ঠোঁটে আরেক জোড়া উপ্তত্ত ঠোঁটের আবেশ পেলাম……

চলবে
মারিয়া আফরিন নুপুর