তার জন্য পর্বঃ০৪

0
842

গল্গ#তার জন্য
পর্ব#৪
লেখিকা#আফিফা আনতারা হুমায়রা

প্রায় ১৫মি. ধরে পাশাপাশি বসে আছে আয়ূশ আর আনতারা কারো মুখে কোন কথা নেই।আনতারা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আয়ূশ কে। মুখ পর্যন্ত কথা আসতেছে তার কিন্তু বলতে পারছেনা।
এখন আনতারার খুব বিরক্ত লাগতেছে।তাই বিরক্ত হয়ে বলল,,
আনতারা: আপনি কি কিছু বলবেন না আমি চলে যাব।
আয়ূশ:নিশ্চুপ
আনতারা চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাড়ায়।তখন আয়ূশ বলে ওঠে।
আয়ূশ:আমাকে ক্ষমা করে দাও আনতারা।
আয়ূশের কথা শুনে আনতারা আবার বসে পড়ে।
আনতারা:কি জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন আপনি..?
আয়ূশ:সব কিছুর জন্য। তোমার সাথে যা যা অন্যায় করেছি সব সব অন্যায় এর জন্য।প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।
আনতারা:আমি আপনাকে অনেক আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি।কোন অভিযোগ নেই আমার আপনার আর তার প্রতি।
আয়ূশ:(অবাক হয়ে)অনেক আগেই ক্ষমা করে দিয়েছ।
আনতারা:হু,অনেক আগেই ক্ষমাকের দিয়েছ।
আপনি আমার সাথে এমটা না করলে তো আর আমি গাসসান এর মত একজনকে পেতাম না।তাই ক্ষমা করে দিয়েছি।
ও হ্যাঁ আয়ূশীর কি খরব..?#তার জন্যই তো আপনি আমাকে ছেড়েছিলেন।
আয়ূশ:ভালো নেই।
আনতার:কেন..?আপনি তো ওকে ভালোবেসে বিয়ে করেছন, তাহলে ভালোবাসার মানুষকে ভালো রাখনি কেন…?
আয়ূশ:আমার আর আয়ূশীর ডিভোর্স হয়ে গেছে।
আনতারা:(কিছুটা চমকে গিয়)কেন ডিভোর্স দিয়েছেন..?
আয়ূশ:আমি না ওই দিয়েছে।
আনতারা:কারনটা কি জানতে পারি।
আয়ূশ:কেন নয়,, তুমি চলে আসার পর ১মাসের মাঝে আমরা বিয়ে করি। বিয়ের ঠিক ছয় মাস পর আমার একটা এক্সিডেন্ট হয়।আমি ঠিক হলেও ডাক্তার জানায় আমি আর কোনদিন বাবা হতে পারব না।
এক্সিডেন্ট হওয়ার ২ মাসের মাথায় আমি বুঝতে পারি আয়ূশী অন্য জনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে।ওকে বললে ও বলে যে ও আর আমার সাথে থাকবে না।আর থাকবেই বা কেন আমার কারনে সে তো আর মা হওয়ার সুখ থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখবে না।
আমিও ভাবলাম জোর করে আটকিয়ে রেখে লাভ কি তাই ডিভোর্স দিয়ে দিলাম।#তার জন্য আমি তোমাকে ছাড়লাম আর সে আমাকে ছেড়ে চলে গেল।

পরে জনতে পারলাম ও যে ছেলেটাকে বিয়ে করেছে সে বড়লোক বাপের বিগড়ে যাওয়া ছেলে।বিয়ের পরও অনেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল।আয়ূশী এ নিয়ে কিছু বললেই তার গায়ে হাত তুলত।পরে ওই ছেলেও ডিভোর্স দেয়।তার পর আর কোন খবর পাইনি।পাইনি বলব না আমিই কোন খবর রাখিনি।
আসলে আমরা আমাদের পাপের শাস্তি পেয়েছি।তুমি ক্ষমা করে দিলে কি হবে আল্লাহ তো ন্যায় বিচার করবেই।
আনতার নিশ্চুপ কি বলবে সে, বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। এত অত্যাচার সহ্য করার পরও কখন চাইনি তাদের খারপ হোক।বিশেষ করে আয়ূশের কারন প্রথম তো সে তাকেই ভালোবেসেছিল।

এদিকে,,
অনেকক্ষণ হলো গাসসান আনতারাকে দেখছেনা আর মেয়েটাও মা মা করছে তাই আনতারকে ডাকতে গেল।গাসসান আয়ূশের কেবিন থেকে আনতারার কথা শুনতে পেল।কিন্তু ভাবল আনতারা আয়ূশের কেবিনে কি করবে তাই মনের ভুল ভেবে চলে যওয়ার জন্য পা বাড়াতেই আয়ূশের কথা শুনে থমকে গেল।
আয়ূশ:আনতার আশু পরী কি তোমার মেয়ে..?
আনতারা:হ্যাঁ।কেন..?
আয়ূশ:আসলে আমি বলতে চাচ্ছি যে ওর বাবা কে…?
কারন স্যার আর তোমার বিয়ের মাত্র ৬মাস আর আশু পরীর বয়স তো ১.৫ বছর।কথাটা বলে মনে একটা ক্ষীণ আশা নিয়ে আনতারার দিকে তাকালো।
এ কথা শোনার পর গাসসান আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না।কারন এর বেশি শোনার ক্ষমতা যে ওর নেই।তাই নিঃশব্দে সেখান থেকে চলে এলো।
কিছুক্ষণ পর মেয়ের কাঁন্নার আওয়াজ পেয়ে আনতারা গাসসান এর কেবিনে এলো।এসে দেখে গাসসানএক মনে কি যেন ভাবছে আর তার পাশেই আশু কাঁদছে।আশু যে কাঁদছে সে দিকে তার কোন খেয়াল নেই।আনতারা একটু অবাক হলো কারন গাসসান কখনই আশুকে কাঁদতে দেয় না।মেয়ের কাঁন্না থামিয়ে আনতারা গাসসানকে ডাকল। কিন্তু গাসসানের কোন সাড়া পেল না তাই এবার একটু জোরে বল উঠল
আনতারা:গাসসান(চিল্লিয়ে)
গাসসান:(হকচকিয়ে গেল এত জোরে কথা শুনে।)
নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে বলল কি হয়েছ।
আনতারা:আমার কিছু হয়নি তোমার কি হয়েছে সেটা বল। কি এত ভাবছ যে মেয়ের কাঁন্নার আওযাজও শুনতে পাচ্ছনা..?
গাসসান:না কিছু হয়নি, চল বাড়ি চল।
আনতারা:আপনিও কি আমাদের সাথে যাবেন এখন। না মানে আপনি তো একবারে রাতে বাসায় যান তাই বললাম।
গাসসান:হ্যাঁ,আমিও এখন তোমাদের সাথে বাসায় যাব। বলেই মেয়েকে কোলে নিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে অফিস থেকে বের হয়ে গেল।
আনতারা গাসসান এর এমন ব্যবহার এর মনে বুঝল না।কারন গাসসান এর আগে এমন কখন করে নি।
তাহল কি হলো গাসসান এর।
………চলবে