তার জন্য পর্বঃ০৫

0
884

গল্গ #তার জন্য
পর্ব#৫
লেখিকা#আফিফা আনতারা হুমায়রা

রাতের বেলা………..

আনতারা:গাসসান খেতে আসেন।
গাসসান :আমি খাব না।তুমি খেয়ে নাও।
আশু পরী কি ঘুমিয়েছে..?
আনতারা:হু,আপনার পরীটা ঘুমিয়েছে।
জলদি খেতে চলেন আমার খুব খিদে পেয়েছে।
গাসসান :বললাম তো খাবনা।খিদে নেই আমার।

গাসসান এর না খাওয়ার কথা শুনে আনতারা গিয়ে বেডে শুয়ে পড়ল।তারপর মনে মনে গণনা শুরু করল।

আনতারা:(১.২.৩………১০)হয়েছে থাক আমাকে আর কোলে করে নিয়ে যেতে হবে না আমি নিজেই যেতে পরব,বলে পিছনে তাকাতেই অবাক কারন গাসসান আসে নি।
আসলে গাসসান যেদিন বলে যে ও খাবে না, আনতারাও না খেয়ে শুয়ে পড়ে আর ও ১০ পর্যন্ত গনার আগেই গাসসান এসে কোলে কোরে নিয়ে যায়।কিন্তু গাসসান আজ আসেনি কেন।
আনতার উঠে গিয়ে দেখল গাসসান বেলকোনিতে দাড়িয়ে একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।তাই আর তাকে ডাকলনা।সে যানে এখন যদিও গাসসান ওকে কিছু না বলে পরে ঠিকি বলবে।না বললে যে কথাগুলো গাসসান এর পেটে কিলবিল করবে।আনতারা কখন যদি শুনতে না চায় তার পরও জোর করে শোনাবে।কথাটা ভাবতেই ওর মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল।আবার চিন্তাও হচ্ছে খুব।কারন বাসায় আসার সময় গাড়িতেও চুপচাপ ছিল।যে লোক আশু পাশে থাকলে ১মিনিট কথা না বলে থাকতে পারে না সে পুরু রাস্তায় কোন কথা বলেনি।এসব চিন্তা করতে করতে আনতারা ঘুমতে গেল।

এদিক,,,
গাসসান যখন বুঝল আনতারা ঘুমিয়েছে তখন রুমে এসে মা আর মেয়ের কপালে চুমু একে দিল।তারপর ১ কাপ কফি নিয়ে আবার বারান্দায় গিয়ে দাড়াল।আর আকাশ পানে চেয়ে ওর আর আনতারার প্রথম সাক্ষাতের কথা ভাবে।

অতীত…….

ফুল স্প্রিডে গাড়ী চালিয়ে গন্তব্য স্হানে যাচ্ছে গাসসান হঠাৎ করেই তার গাড়ীর সামনে একজন এসে পড়ে। তাড়াতাড়ি ব্রেক কসারর পরও গাড়ীর সাথে ধাক্কা খায় সে।গাসসান গাড়ী থেকে নেমে দেখে একজন বোরকা পরিহিতা মহিলা। কাছে গিয়ে বুঝতে পেরছে মহিলাটি জ্ঞান ঘিরিয়েছে। তাই জলদি করে তাকে নিয়ে হাসপাতালে গেল।
গাসসান :মা,মহিলাটি কেমন আছেন এখন।
(আসলে গাসসান এর মা একজন ডাক্তার আর সে তার মায়ের কাছেই ওনাকে নিয়ে এসেছে)
গাসসানের মা:মহিলা কাকে বলছিস তুই,,আর এক্সিডেন্ট হলো কিভাবে..?নিশ্চয় ফুল স্প্রিডে গাড়ী চালিয়েছিস।
গাসসান :আমার কোনো দোষ নেই উনিই হঠাৎ করে আমার গাড়ীর সামনে এসে পড়ে।
গাসসানের মা:হু,তুই বললি আর আমি মানলাম। এ পর্যন্ত কতগুলো এক্সিডেন্ট করছিস মনে আছে।যা পরীটাকে দেখে আয়।
মায়ের কথায় গাসসান ভেবাচেকা খেয়ে যায় মা ওই মহিলাটিকে পরী বলল কেন।বয়সের সাথে সাথে চোখও গেল নাকি।ধুর তাতে আমার কি যাই গিয়ে দেখে আসি।যতই হোক আমার গাড়ীতে এক্সিডেন্ট হয়েছে বলে কথা।
কেবিনে ঢুকে গাসসান থ বোনে যায়,ও কি ভুল কোন কেবিনে এসে পড়েছে।কারন বেডে একজন মায়াবীনি অচেতন অবস্হায় শুয়ে আছে।গাসসান এর ভাবনার মাঝেই ওর মা আসে।মাকে দেখে বলে
গাসসান :মা ওই মহিলা কোথায়..?
গাসসানের মা:(অবাক হয়ে)তুই কোন মহিলার কথা বলছিস..?
গাসসান :আরে আমি যাকে নিয়ে এলাম তিনি কোথায়।
গাসসানের মা:হতোছছাড়া ফাজলামোর আর জায়গা পাসনা।তুই ওকেই নিয়ে এসেছিস।
আসলে তখন নেকাব থাকার কারনে গাসসান তার মুখ দেখতে পায়নি।
গাসসান মনে মনে বলে এই জন্য মা বলল পরী।
গাসসানের মা:ভাগ্য ভালো যে বেবির কোন ক্ষতি হয়নি।তা হলে কি জবাব দিতি মেয়েটাকে জ্ঞান ফেরার পর।
গাসসান :কি(একটু চিল্লিয়ে)ওই বাচ্চা মেয়েটা প্রেগন্যান্ট..?
গাসসানের মা:হু,তুই এখন তোর কাজে যা জ্ঞান ফিরলে আমি ওর ঠিকানা যেনে দিয়ে আসব তোর চিন্তা করা লাগবে না।
১ ঘন্টা পর মেয়েটার জ্ঞান ফেরে।
গাসসানের মা:নাম কি তোমার মা..?
মেয়েটা:আনতারা।আমি এখানে কেন..?
গাসসানের মা:তোমার এক্সিডেন্ট হয়েছিল। তাই আমার ছেলে তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
এক্সিডেন্টের কথা শুনে আনতারা ঘাবড়ে যায়।তাড়াতাড়ি বলে ওঠে আমার বেবি করুন চোখে তাকিয়ে।
গাসসানের মা:তোমার বেবি একদম ঠিক আছে।
আনতারা:Alhamdulillah বলে।
গাসসানের মা:তা তোমার বসা কোথায় মা..?
না মানে তোমাকে তোমার বাসায় দিয়ে আসতাম আর কি।না হলে বাসার লোক চিন্তা করবে।
একথা শুনে আনতারার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে।আনতারার চোখে পানি দেখে উনি ঘাবড়ে যান।
গাসসানের মা:কি হয়েছে, তুমি কাঁদছ কেন..?
আনতারা:আমার কেউ নেই যে আমার জন্য চিন্তা করবে।আপনি কি আপনার বাসায় আমাকে থাকতে দিবেন,আশা নিয়ে তাকালো ওনার দিকে।
গাসসানের মা:হু নিয়ে যাব তবে আমার একটা শর্ত আছে।
আনতারা:কি শর্ত..?
গাসসানের মা :আমাকে মা বলে ডাকতে হবে।জানো আমার না মেয়ে নই।তুমি হবে আমার মেয়ে।
আনতারা:(হাসি মুখে) কে বলল নেই। এইতো তোমার মেয়ে মা,বলে ওনাকে জড়িয়ে ধরল।
গাসসানের মাও পরম মমোতায় তাকে জড়িয়ে নেয়।

রাতে গাসসান বাসায় ফিরলে ওর মা জানায় যে আজ থেকে আনতারা ওদের সাথে থাকবে।
গাসসান :এই নামে তো আমাদের কোন আত্মীয় আছে বলে তো আমার মনে পড়ছেনা।কে এই আনতারা শুনি।
…..চলবে।