তুই আমার কাব্য পর্ব-০২

0
941

#তুই_আমার_কাব্য 🍂

#writter: Anha Ahmed 🍂
#Part: 2
.
🍁
.
দরজা খুলে যেই পা বাড়ালো তখনই মনে হলো কেউ যেনো কাঁধে হাত রেখেছে। পেছন ঘুরতেই দেখে তনু। উফ্ যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো। ভয়ে আত্না কেঁপে ওঠেছিলো মেঘলার। ভেবেছিলো এই বুঝি সিনিয়রদের র‍্যাগ খেতে হয়। ভার্সিটিগুলায় এই হলো এক প্রবলেম এক চুল এদিক থেকে ওদিক হলেই র‍্যাগ খেতে হয়। ভ্রু কুচকিয়ে তনুর দিকে তাকিয়ে একটু ভাব নিয়ে বললো,

– কি চাই? কিছু বলবেন আমায়?

– তোকে চাই ( বত্রিশটা দাঁত কেলিয়ে)

এমনিতেই তনুর উপর ৩০৪ ড্রিগ্রি রাগ ওঠে আছে। তার মধ্যে ওর এভাবে দাঁত কেলানো দেখে মেঘলার ইচ্ছা করছে হকি স্টিক দিয়ে ওর মাথাটা ফাটিয়ে দেই। কিন্তু আপাতত এই ইচ্ছাটা দমিয়ে রাখতে হবে। না হলে পাবলিক প্লেসে ওকে মারতে যেয়ে নিজেই গণধোলায়ের স্বিকার হয়ে যাবে। তাই মাথা ঠান্ডা রেখে হাটতে শুরু করে তনুকে বললো,

– এতো দাঁত দেখানোর ইচ্ছা থাকলে ক্লোজ আপের এড করলেই তো পারিস।

মেঘলার কথা শুনে পাশে থেকে লাফিয়ে হঠাৎ সামনে এসে দাড়ালো। ওর এই বিহেভিয়ারে সামন্য চমকিয়ে ওঠে কোমরে হাত দিয়ে একটু রাগি ভাব নিয়ে তাকালো। কিন্তু তাতে তনুর সামান্য খেয়াল নেই। শুরু করে দিলো নিজের ভাভ্গা রেকর্ড। সামনে সামনে হাটতে লাগলো আর মেঘলা একটু পিছিয়ে,

– মেঘু! এইটা কিন্তু বেষ্ট আইডিয়া ছিল। তুই তো জানিস আমি মডেলিং কতোটা লাভ করি কিন্তু ড্যাড করতে দিল না। বললো ওইটা আমার স্টেন্ডারের না। আমিও ভাবলাম আমি যদি মিডিয়ায় যাই তাহলে অন্যরা মার্কেট পাবে না। তাই ওদের উপর দয়া করে আর মডেলিং করলাম না।

ভাব নিয়ে কথা গুলো বলছিল আর মেঘলা না চাইতেও ওর কথাগুলো শুনছিলো। পেট ফেটে হাসি বের হয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু খুব কষ্টে আটকিয়ে রেখেছে আর ওর চেহারার এক্সপ্রেশনগুলো দেখছে । এতো এনার্জি এ মেয়ে পায় কোথায় ভেবেই মেঘলা ক্লান্ত। তনুর রেকর্ডিং এখনোও বাজচ্ছে।

– আচ্ছা মেঘু.. আআআআআ

কোনো পিছলানো জাতীয় পদার্থ থাকায় তনু মেঘলার দিকে ঘুরতেই ঠাস করে পরে যায়। ওর পরে যাওয়া দেখে মেঘলা আর হাসিটা কনট্রোল করে রাখতেই পারলো। এবার হেঁসেই ওঠলো। হাপিয়ে যাচ্ছে হাঁসতে হাঁসতে তবুও হাসি কমছে না। এবার মনে হচ্ছে পেট ব্যাথার ওষুধ খেতেই হবে। আর এদিকে মেঘলার হাসি দেখে তনু হাত পা ছড়িয়ে কেঁদেই দেবে এমন অবস্থা। হাত বাড়িয়ে দিয়ে টেনে তুললো। এ মূহুর্তে তনুর ডিকশনারিতে যত বকা আছে সব মেঘলাকে দিয়ে দিচ্ছে।
.
.
বটগাছের নিচে বসে মেঘলা, পাশে তনু। উদ্দেশ্য তনুর রাগ ভাঙ্গানো। ভিষণ রাগ করে আছে। কেউ মেঘলার উপর রেগে থাকুক এটা সে হজম করতে পারে না আর তা যদি তা হয় কাছের কারো তাহলে তো বদহজম হয়ে যায়।

– তনু আই এম সরি বেবি

-……………

– এই দ্যাখ কানে ধরছি। এখন কি তুই চাস আমি এই পাবলিক প্লেসে কান ধরে ওঠবস করি?

তনু বেশ রেগেই বললো,

– ন্যাকামি করতে হবে না তোর। তোকে কি আমি বলছি কান ধর। আমাকে জোকার বানিয়ে এখন রাগ ভাঙাতে আসছিস? কোনো দরকার নেই।

মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলো। বেশ বোঝা যাচ্ছে প্রচন্ড রাগ করেছে। বেচারির ইগো হার্ড হয়েছে। যাই হোক এখন যে করেই হোক মেঘলাকেই বরফ গলাতে হবে। ওকে বসিয়ে রেখে চলে গেলো ক্যাফেতে। বড় এক বক্স আইসক্রিম নিয়ে তনুর পাশে বসে পরলো। তবে বক্সটা ওকে দিলো না। নিজেই খাওয়া শুরু করলো আর তনুকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো,

– বুজলি তনু যা গরম পরেছে এর মধ্যে এমন জিনিস পেলে মনে হয় স্বর্গে ভাসছি। আহা কি যে মজা!!

তনু আড় চোখ দিয়ে যে দেখছে সেইটা বেশ বুজতে পারছে মেঘলা। তনুর অবস্থা দেখে মেঘলা মনে মনে হাসছে আর তনু ঠিক তার উল্টো। এমনিতেই রেগে আছে আর এখন রীতিমতো ফুসছে। তনু আর মেঘলার মধ্যে সবথেকে কমন জিনিস মন খারাপের অথবা রাগি মুডে আইসক্রিম পেলে সব নরমাল হযে যায়। তনুকে আরেকটু বেশি উশকানোর জন্য মেঘলা বললো,

– আহা কি টেষ্ট! একদম নতুন ফ্লেবার। আগে তো খাই নি। মনে হচ্ছে যেনো ৩/৪ বক্স একাই খেয়ে নিতে পারবো।

তনুর একবার মনে হচ্ছে খাবে আবার মনে হচ্ছে খাবে না। রাগ করেছে বলে কথা। বেচারি দোটানায় পরে আছে। তবে কিছুক্ষণ পর আর চুপচাপ বসে থাকতে পারলো না। মেঘলার হাত থেকে ছু মেরে বক্সটা নিয়ে রাগান্বিত হয়ে বলে,

– পাশে একজন মেয়ে বসে আছে সেইটা কি তোর খেয়াল নেই? নির্দয়ের মতো একা একা খাচ্ছিস। জানিস না ভালো জিনিস সবার সাথে শেয়ার করে খেতে হয়। সব ম্যানারস কি ভুলে গেসিস?

যাহ বাবা এখানে ম্যানারসের কি আসে সেইটাই বুঝলো না মেঘলা । তবে রাগ যে ভাঙাতে পেরেছে এই অনেক। কিছু না বলে ওর খাওয়া দেখতে থাকলো। তারপর ওঠেই আবার ক্যাফেতে গেলো টিস্যু কিনার জন্য। ফিরে আসার পথে কোনো একটা কিছুর সাথে বেজে পরে যাচ্ছিলো। সাথে সাথে অনুভব করলো কেউ তার হাত টেনে ধরেছে। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পেছন ঘুরে দেখলো ফর্সা গায়ের রংয়ের একজন ছেলে। কালো শার্ট-জিন্স পড়া , সামনের চুলগুলো বাতাসে উড়ছে এক হাতে মেঘলার হাত ধরে রেখেছে আর আরেকহাতে রিচ ব্রান্ডের ঘড়ি আর সেই হাতেই একটা সানগ্লাসের হ্যান্ডেল ধরে আছে। মেঘলাকে দেখেই একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,

– বি কেয়ার ফুল। পরে যেতে না ধরলে।

মেঘলা নিজেকে সামালে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। ছেলেটি সামান্য ঝুকে আস্তে আস্তে আবার বললো,

– পরে গেলে ফুলে ময়লা লেগে যেতো, বিউটি কুইন।
বলেই চোখ টিপ মেরে দিলো।

ছেলেটির এমন কথা আর কাজ দেখে মেঘলার চোখ বেড়িয়ে আসার উপক্রম। ইচ্ছা করছে মাথাটা ফাটিয়ে দিতে। কি বাত্তামিজ ছেলে রে বাবা। হাতটা ছাড়িয়ে চলে আসবে। তখন আবার সামনে গিয়ে দাড়ালো মেঘলার।

– এটা কি হলো? আমি তোমার উপকার করলাম তুমি কিছু না বলেই চলে যাচ্ছো যে। এক থাংকস তো বান্তাহে।

মেঘলা চোখ দুটো খিচে বন্ধ করে নিজের ভুল বুঝতে পারলো। ছেলেটার শেষের ব্যবহারে সে আসলেই ভুলেই গিয়েছিলো। যেমনই হোক থেংকস দেওয়া উচিৎ। জোরপূর্বক একটা হাসি দিয়ে থেংকস জানালো। মেঘলার হাসি দেখে ছেলেটিও হেসে দিল। ছেলেটা হেসে দেওয়ার পর মেঘলা খেয়াল করলো হাসিটা বেশ সুন্দর, বেশ প্রানোচ্ছল। মেঘলার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে উঠলো,

– ওয়েলকাম। বাই দা ওয়ে আই এম আবির আহমেদ। সিভিকস্ ডিপার্টমেন্ট, ফোর্থ ইয়ার।

ছেলেটির হাত বাড়ানো দেখে মেঘলা সামান্য ইতস্তত বোধ করলো। সৌজন্যতার খাতিরে শুধু নাম বলে চলে আসলো দ্রুত পায়ে।

এসে দেখে তনু পুরো বক্স খালি করে ফেলেছে। অবশ্য ওর কাছে এর থেকে বেশি এক্সপেক্ট করা যায় না। একটা টিস্যু এগিয়ে দিয়ে ওখান থেকে দুজনেই ওঠে আবাব হাটতে লাগলো। ভাবছে পুরো ভার্সিটি টা ঘুরে দেখবে। এরি মধ্যে তনু কোক নিয়ে এলো। তনুর একটু পর পর এতো খিদে থাকে কই এইটা নিয়ে সামান্য চিন্তায় পড়ে গেলো মেঘলা । প্রতি পনেরো মিনিট পর পর কিছুনা কিছু খেতেই থাকে। এতো খেয়েও শরীরের ফিটনেস নষ্ট হয় না। ওর খাওয়া খাবারগুলা কি ওর শরীরে লাগে না? কোক টা খেতে খেতে হেঁটে যাচ্ছে আর কথা বলছে। কোক খাওয়া শেষে কোকটা পাশে ডিল দিয়ে ফেলে দিলো পাশে । মেঘলার মনে বেশ একটা খুশির আমেজ তৈরী হয়েছে চারপাশের পরিবেশ দেখে। কি সুন্দর সবাই হেসে খেলে বেড়াচ্ছে। কোথাও কোথাও একজোট বেধে আড্ডার আসর আবার কোথাও বা লাভ বার্ডদের প্রেমের দৃশ্য। এদের দেখে মেঘলার মনের ভেতর কেমন কেমন জানি প্রেম প্রেম ফিলিংস হয়। সে যখনই ভাবে লাইফে একটা প্রেম করা প্রয়োজন তখনই তার মনে পরে হুমায়ূন আহমেদের বলা সেই কথা ‘ প্রেম এমন একটা জিনিস যা অন্যেরটা দেখলে হিংসা হয় আর নিজে করলে জন্মের শিক্ষা হয় ‘।
কথাটা ভেবেই নিজে নিজে হেসে ওঠলো মেঘলা।
মেঘলা আর তনু কথা বলতে বলতে আপন মনে হেঁটে যাচ্ছে। হঠাৎই তাদের রাস্তা আটকিয়ে সামনে একদল ছেলেমেয়ে এসে হাজির। এভাবে আসা দেখে মেঘলা আর তনু দুজনেই ঘাবড়ে গেলো। কয়েকটা মেয়ে মেঘলা আর তনুকে টানতে টানতে একটা ক্লাস রুমে নিয়ে আসলো। ভয়ে তো ওদের প্রাণ পাখি যায় যায় অবস্থা। তনু তো কান্নাই করে দেবে কিছুক্ষণ পর এমন অবস্থা । মনে মনে আল্লাহর নাম নিচ্ছে শুধু। ওদের দুজনকে অপরাধীর মতো করে দাড় করিয়ে দিল। মেঘলা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। সামনে থেকে একজনের গলার ভয়েজ পেয়ে মাথা তুলে তাকেই আহত হয়ে গেলো মেঘলা। একটা ছেলে চেয়ালে পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছে। ওফ্ দেখেই মনের ভেতর থেকে ব্রাশ থুক্কু ক্রাশ ক্রাশ বলে ডাকছে। সাদা শার্ট প্রথম দুই বুকের বোতাম খোলা , ডার্ক ব্লু জিন্স, সিল্কি চুলগুলো কপালের সাথে ঘেমে লেপ্টে আছে, হাতে ঘড়ি। তবে মাথা থেকে সামান্য রক্ত বের হচ্ছে। পাশে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটা কিছু বলছে তা এতক্ষণ কানে না গেলেও ধমক খেয়ে ঠিকই মেঘলার মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেলো।

– এই মেয়ে, তোমাকে কিছু বলছি কানে কি ডুকছে না?? কানার সাথে সাথে কি কানে কালাও নাকি?

মেয়েটার কথা শুনে প্রচন্ড রাগ ওটে গেলো মেঘলার।

– আমাকে বলে কিনা কানা। এতো বড় বড় চোখ থাকতেও কানা বলে। একেই তো এভাবে টেনে নিয়ে আসছে তার মধ্যে আবার কানা বলছে। তাতেও থেমে নেই কানে কালাও বলছে। ( মনে মনে)
মেঘলা আর চুপ করে থাকতে পারলো না। রাগান্বিত ভাবেই বলে ওঠলো,

– আপু চোখ কানা আমার না। আমার মনে হচ্ছে আপনার চোখ কানা। না হলে সুস্থ চোখের অধিকারীকে কানা বলতে পারতেন না।

-হে ইউ যা বলবে ..

কিছু বলতে যাবে তার আগে মেয়েটাকে থামিয়ে চেয়ারে বসে থাকা ছেলেটা বলে উঠলো,

– স্টপ রাহি। তুই চুপ থাক। আমি দেখছি।

ছেলেটা ওঠে এসে আস্তে আস্তে মেঘলার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। ছেলেটি এগিয়ে আসা দেখে আত্নার পানি শুকিয়ে যেনো শুকিয়ে যাচ্ছে মেঘলার। ভীত হয়ে মাথাটা নিচু করে ফেললো মেঘলা। হঠাৎ পেটে ঠান্ডা কিছু অনুভব করায় পেটের দুকে তাকাতেই দেখে ছেলেটি মেঘলার পেটের দুই সাইডে দুই হাত দিয়ে ধরে রেখেছেন। ছেলেটির এমন কাজে তো ফ্রিজড হয়ে আছে মেঘলা। এরপর ওইভাবে উচু করে মেঘলাকে বেঞ্চের উপর বসিয়ে দিলো। মেঘলার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেনো কেউ ওর মুখ সেলাই করে দিয়েছে। তারপর ছেলেটা মেঘলাকে ছেড়ে দিয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে দাড়িয়ে বললেন,

– তো মিস..

পাশে থেকে তনু বলে উঠলো মেঘলা। তনুর কান্ড দেখে মেঘলা আরেক দফা অবাক হয়ে গেলো। তনুর কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত ভয় লাগলেও ছেলেটিকে দেখে সব ভয় চলে গেছে। উল্টো এক প্রকার খুঁশিই লাগছে। নাম শুনার পর ছেলেটি তনুর দিকে তাকিয়ে থেমে আবার বলে ওঠলো ,

– মিস মেঘলা। আপনি অন্ধ নন তাই তো।

– এই ছেলে বলে কি? আমি অন্ধ হলে চলাফেরা করি কি করে? আজিব ধরনের প্রশ্ন। ( মনে মনে)

চোখে মুখে বিরক্তি ভাব নিয়েই বললো,

– জ্বি না।

– আচ্ছা তাহলে এটা কি করে হলো? তাহলে কি বলবো আপনি ইচ্ছা করে করেছেন।

ছেলেটি তার কপালের কাটা দাগ দেখিয়ে কথাটা বলে। মেঘলা অবাক হয়ে উত্তর দিলো,

– আপনার কপালে ওটা কিভাবে হয়েছে তা আমি কি করে বলবো? আর আমি ইচ্ছা করে কি করার কথা বলছেন?

– ওহ্ আচ্ছা আপনি বুঝতে পারছেন না তাই তো?

পাশ থেকে আবার মেয়েটা বলে উঠলো,

-বুঝতে পারছে কিন্তু ঢং করছে। এই মেয়ে তুমি বুঝতে পারছো না তোমার ঢিল দেওয়া ক্যান কাব্যের কপালে লেগে কপালটা এই ভাবে কেটে গেছে।

রাহির কথা শুনে এতক্ষণে মেঘলা বুঝতে পারলো তাকে এর জন্য কেনো দায়ি করা হচ্ছে। ব্যাপার টা বুঝতে পেরে মেঘলার নিজেও খুব খারাপ লাগছে। কিন্তু এটাও সত্য যে সে তো ইচ্ছে করে করে নি। তবে ভুল অবশ্যই করেছে। মাথাটা নিচু করে অনুতপ্ত সুরে বললো ,

– আমি বুঝতে পারি নি ওইটা ওইভাবে আপনার কপালে লাগবে। এ্যাম সরি।

ছেলেটি কিছু একটা ভেবে আবার গিয়ে চেয়ারে বসে পরলো। পাশে থাকা এক ছেলে ইশারা করতেই ছেলেটা চলে গেলো। এরপর ছেলেটি মেঘলাকে ডাক দিয়ে নিজের সামনে আসতে বললো । ব্রেঞ্চে থেকে নেমে গুটি গুটি করে মেঘলা ছেলেটির দিকে আগাচ্ছে আর ভাবছে পা ধরে আবার ক্ষমা চাইতে বলে কিনা। কথাটা ভাবতেই চোখের কোনে পানি জমে গেলো মেঘলার । এতো মানুষের মধ্যে থেকে এতো বড় অপমান সহ্য করা অসম্ভব। যত কাছে যাচ্ছে ফিল করলাম তখন যে গিটারের শব্দ শুনে দরজাটার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় যেভাবে হার্ড বিট করছিল এখনো ঠিক সেভাবেই বিট করছে। ছেলেটের দিকে তাকাতেই দেখি ছেলিটি রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেঘলার দিকে । আর মেঘলার তা দেখে মনে হচ্ছে মাটির নিচে ভুমিকম্প হচ্ছে।

চলবে…❤