তুই হবি আমার পর্ব-১০

0
1852

#তুই_হবি_আমার??
#DîYã_MôÑî
#পর্ব__১০

মেঘ রোজের দিকে তাকিয়ে দেখলো রোজ কপাল কুচকে ওর পা টানছে। আজব তো পা টানছে কেন.? রোজ এবার জোরেই মেঘের পা ধরে টানলো আর মেঘ নিজেকে সামলাতে না পেরে রোজের ওপলো।

মেঘ : জ্বরের মধ্যেও এই মেয়ে গায়ে এতো জোর পায় কি করে.? হায় হায় ওর ওর পড়ছি এটা যদি দেখে ফেলে তাহলে তো নেগেটিভ কিছু ভেবে ফেলবে।

মেঘ উঠার চেষ্টা করতেই রোজ মেঘকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।
রোজ : এই নীল নড়ছো কেন চুপ করে ঘুমাও।

রোজের মুখে ছেলেদের নাম শুনে মেঘের রাগ সপ্ত আসমান স্পর্শ করলো। ও এক ধাক্কায় রোজকে পাশে ফেলে দিয়ে উঠে দাড়ালো। রোজ ঘোরের মধ্যে ধাক্কা অনুভব করে চোখ মেলে তাকালো।

রোজ : আমি এখানে কেন.? নীল কোথায়.?
মেঘ : নীল কে.?( দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করলো)

রোজ : তুমি এখানে কি করছো.? আমি কোথায়.? আমি বাড়ি যাবো। তুমি আমাকে ধরে আনছো কেন.?

মেঘ : সোহাগ করার জন্য। আগে বল নীল কে.? নীলের সাথে তোর কি সম্পর্ক.? কোথায় থাকে এই নীল।

রোজ : আমার হোস্টেলে আমার রুমে।
মেঘ : কি..? তুই রুমের মধ্যে ছেলে নিয়ে,,, ছি!

রোজ : ছেলে? কোথায় ছেলে.? নীল আমার পাশবালিশ। নিভি আমার পাশবালিশের নাম নীল রাখছে। আমার নীল এনে দাও।

ভ্রু কুচকে তাকালো মেঘ। পাশবালিশের নাম নীল.? এটা কেমন নাম.? বেঁছে বেঁছে নীল নামই রাখতে হলো.? কিছুক্ষন ভাবার পর মেঘের মনে পড়লো রোজের প্রিয় রং নীল। হতেই পারে ফাজলামি করে নাম রেখেছে আর ঘুমের ঘোরে সেটাই মনে করে বিরবির করছে।

মেঘ : চুপ করে ঘুমা।
রোজ : তুমি আমার ঘুম ভাঙলে কেন.? এখন আমার নীল চাই। হয় নীলকে আনো না হলে,, না হলে,, গান শোনাও। আমার গান শুনে ঘুমানোর অভ্যাস।

মেঘ : এতো রাতে গান দাড়া, ফোন দিচ্ছি।
রোজ : তুমি গাও। গিটার আনো।

মেঘ : দেখ রোজ ফাজলামি করিস না এতো রাতে এসব কি বাহানা.?
রোজ : সবাই আমার সাথে এমন করে। কেউ ভালোবাসে না আমাকে। লাগবে না তোমার গান। আমি চলে যাবো এখন।

রোজ বিছানা থেকে নামতে গেলেই মেঘ ধমক দিয়ে ওঠে। ” এক পা নিচে নামলে পা কেটে রেখে দেবো। চুপ করে শুয়ে পড় আমি গিটার আনছি।” কথাটা শোনা মাত্র রোজ বাচ্চাদের মতো তাড়াতাড়ি শুয়ে গলা অবধি ব্লাংকেট টেনে চোখের ইশারায় মেঘকে যেতে বললো।

মেঘ বাগান থেকে গিটার এনে সোফার ওপর বসলো।
রোজ : আমার কাছে বসলে কি তোমাকে খেয়ে ফেলবো যে সোফায় বসছো.? নাকি আমার চর্মরোগ আছে যে আমার থেকে দূরে থাকতে হবে।

মেঘের কাছে রোজের কথাগুলো ঠিক ১০বছর আগের রোজের মতো লাগছে। তাই ভয়টা ওকে আরো আষ্টেপিষ্ঠে ধরছে। তাহলে কি রোজেরও মেঘের ওপর আগেরমতোই দূর্বলতা আছে.? মেঘ চুপ করে কট ঠিক করতে লাগলো।

রোজ : আজব তো,,, এখানে আসতে কি সমস্যা..? দুই মিনিটের মধ্যে এখানে আসবা নাহলে আমি করিডোর থেকে লাফ দিবো।
মেঘ : দে।

রোজ রেগে বিছানা থেকে নেমে করিডোরের দিকে হাটা ধরলো। মেঘ আড়চোখে সবটা দেখছে। ও ভাবছে রোজ ওকে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু না রোজ সত্যি সত্যি করিডোরে গিয়ে গ্রিলের ওপর পা তুলে দিয়েছে। মেঘ গিটার রেখে দৌড়ে ওর কাছে গেলো। রোজকে হ্যাচকা টান দিয়ে কোলে তুলে নিলো মেঘ। তারপর বিছানায় ওকে শুইয়ে দিয়ে গিটার এনে ওর পাশে বসলো। রোজ চোখ পিটপিট করছে। আর নেশালো চোখে মেঘের দিকে তাকাচ্ছে।

মেঘ : কি দেখছিস্.? চোখ বুজে ঘুমা।
রোজ : নাহ।
মেঘ : কি না.? ঘুমাতে বলছি ঘুমা। তোর শরীর ভালো না। কোনো কথা বলবি না আর। নে চোখ বোজ।

রোজ : আমি চোখ বুজলে তুমি আবার চলে যাবে আমি জানি। এতোবছর আমি তোমাকে খুজেছি তোমার বাড়ির সামনেও গেছি কিন্তু তোমাকে পাইনি। আপিলাকে যখন এই কলেজে এডমিট করে কুশান চৌধুরি তখন খোজ নিয়ে জানি এটা তোমাদের কলেজ। তাই এই কলেজে আসি। আর তুমি? আগের মতোই দূরে দূরে থাকো। থাকো তুমি তোমার ইগো নিয়ে আমি কখনো বলবো না যে আমি তোমাকে,,

মেঘ : কি.?
রোজ : বলবো না। আমি তো খারাপ মেয়ে। আমাকে এখানে এনেছো কেন.? তুমি তো আমাকে পছন্দ করোনা। জ্বর হয়েছে বলে দয়া দেখাচ্ছো.?

রোজের কথায় মেঘ মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলো। মেঘ সবকিছু মানতে পারবে কিন্তু রোজের কাছ থেকে এমন কিছু শোনার জন্য যে ও তৈরি না। রোজ পা নাড়াতেই মেঘ দেখলো ওর পায়ের ব্যান্ডেজ থেকে রক্ত চুইয়ে পড়ছে। করিডোরে তাকাতেই দেখলো বেশখানিকটা রক্ত মেঝেতে লেপ্টে আছে। মেঘের মাথা গরম হয়ে যায়। কেউ এতো কেয়ারলেস হয় কিভাবে.? মেঘ উঠে ফার্স্ট এইড বক্স আনে। কিন্তু রোজ পা বের করছে না।

রোজ : ওই ওসুদ দেবো না। জ্বালা কলে।
অনেকদিন পর সেই তোতলানো ঘোর লাগা কন্ঠ শুনলো মেঘ। রোজের ঠোটের দিকে তাকাতেই ওর চোখ স্থির হয়ে যায়,,, গোলাপী ঠোটজোড়া অদ্ভুদ সুন্দর ভাবে কাঁপছে। মেঘ উঠে রোজের মাথার কাছে আসলো,, আঙ্গুল দিয়ে রোজের ঠোট স্পর্শ করতেই চোখ বুজে নিলো রোজ। শরীরটা থরথর করে কাঁপছে। মেঘ ধীরে ধীরে রোজের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো,, ওদের দুজনের ঠোটের মাঝে ২সে.মির গ্যাপ।

রোজ : মেঘরোদ্দুর তুমি আমাকে কিস করবা নাকি.?
রোজের বলা কথাটা মেঘের বুকে তীরের মতো বিধলো। মেঘ দ্রুত সরে যেতে গেলেই রোজ মেঘের কাধ ধরে হেসে উঠলো।

রোজ : মেঘরোদ্দুর গান শোনাও।
মেঘ : শোনাচ্ছি। আগে আমাকে ছাড় নাহলে গিটার ধরবো কিভাবে..
রোজ : ও তাইতো। তুমি বাজাও আমি ঘুমাই। আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনবো।

বলেই মেঘের কাধ থেকে হাত সরিয়ে মেঘের কোলে মাথা গুজে শুয়ে পড়লো। মেঘ মুচকি হেসে গিটার রেখে রোজের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো আর ভাবতে লাগলো যে ও কি করতে যাচ্ছিলো,,, রোজ যে এখন নিজের চেতনায় না। এখন একটা ভুলে যে অনেক বড় মাশুল গুনতে হবে।

মেঘ : ভালোবাসি তোকে কিন্তু আমার জীবনে তোকে আনতে পারবো না রোজ। আমার পরিচয় তুই জানিস না। আমি যে একজনন,,,, তুই আমার জীবনে আসলে সবার নজর তোর ওপর পড়বে। তুই বলেছিলি এক রাজকুমার এসে তোকে নিয়ে যাবে। দেখিস তোর ইচ্ছাটাই পূরন হবে। কোনো এক রাজকুমার এসে তোকে বউ সাজিয়ে নিজের করে নিয়ে যাবে। আমি নাহয় তোর স্বৃতিতেই থাকবো।

সকালে,,কারোর হাতের স্পর্শ পেটের ওপর টের পেয়ে ঘুম ভেঙে যায় রোজের। কাধে কারোর গরম নিঃশ্বাস পড়ছে। মাথাটা কাত করে পেটের দিকে তাকাতেই নিজের পেটে একজনের হাত জরিয়ে রাখতে দেখলো রোজ। বুকটা ধুকধুক করছে। পরিবেশটা অচেনা, মনের ভেতর অজানা ভয় কাজ করছে রোজের। হঠাৎ হাতটা আরো শক্ত করে রোজের পেট চেপে ধরলো আর মুখটা রোজের কাধের সাথে। দাড়ির খোচায় হাতপা কাঁপতে শুরু করেছে। রোজ একটু নড়তেই মেঘ ঘুম জরানো কন্ঠে বলে উঠলো।

মেঘ : ঘুমোতে দে রোজ। সারারাত তো ঘুমোতে দিলি না। আমার ঘুম পাচ্ছে।

মেঘের গলা শুনে রোজের মাথায় বাজ ভেঙে পড়লো। মেঘ এখানে এভাবে কি করছে। রোজ উঠতে গেলে মেঘ আবার টেনে বুকে সাথে চেপে ধরে।

মেঘ : আই নিড এ নরম তুলোর বালিশ। সারারাত আমাকে বালিশ বানিয়েছিস কিচ্ছু বলিনি। এখন চুপচাপ ঘুমা। নাহলে শুয়ে থাক।

রোজ : আমাকে এখানে এনে আপনি আমার সাথে,,, আপনি কি করেছেন,,, আমার রুমে কি করছেন,,

মেঘ : চিল্লাস না। কাল রাতে যা হয়েছে তা বললে তুই নিজেই লজ্জা পাবি। তার চেয়ে যেমন আছিস কেমন থাক। আই নিড এ ডিপ স্লিপ উইথ ইউর বডি।

রোজ : বডি.? কি করেছেন আমার সাথে..?? আমার বাড়ি যাবো আমার ভালো লাগছে না।

রোজের কান্না শুনে মেঘের ঘুমের ২৪টা বেজে গেলো। মেঘ চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসলো। মেঘ উঠতেই রোজ কিছুটা দুরে সরে বসলো। মেঘ সেটা দেখে ঠোট বাঁকিয়ে হাসে। আর মজা করার জন্য বলে,,

মেঘ : এখন সরে কি লাভ যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে।
ভয়ে রোজের মুখ শুকিয়ে যা। ঢোক গিলে নিজের জামা কাপড়ের দিকে তাকায়।

রোজ : ( না সব তো ঠিকই আছে। তাহলে উনি কি ইঙ্গিত করছে.? রাতে কি হয়েছে.? আমার কিছু মনে পড়ছে না কেন.? গায়ে ব্যাথা, মাথাটাও ঝিমঝিম করছে। কি হয়েছে আমার.? ) কি হয়েছে কাল.?

মেঘ : একটা প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে আর একটা কিশোরী মেয়ে রাতের বেলা এক ঘরে এক বিছানায়,, মানে এমন সিচুয়েশন তারওপর রাতে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, এমন রোম্যান্টিং ওয়েদার যা যা হয় তাই হয়েছে। বাকিটা তুই ভাব আমি ফ্রেস হতে যাচ্ছি।

মেঘ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে ওয়াসরুমে চলে গেলো। এদিকে রোজ কাঁদো কাঁদো ফেস করে বসে ড্রেসিং টেবিলের বড় আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে দেখছে। আর ভাবছে “কেমন রোগাটে লাগছে আজ নিজেকে”। তারপর আয়ানার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে জিজ্ঞাসা করতে লাগলো

রোজ : উনি সত্যি সত্যি আমার সাথে,,,এটা কেন করলো..? কিন্তু আমার কেন মনে হচ্ছে যে উনি কিছু করেননি। উনি তো বললো করেছে। তাহলে.? কিভাবে বুঝবো রাতে কি হয়েছে.? আপিলারা কোথায়.? ওরা আমাকে একা রেখে চলে গেলো কিভাবে.? সবগুলো খারাপ। বদের হাড্ডি। আয়না,, তুমি কিরনমালার যাদু আয়না হতে পারো না.? যেখান থেকে আমি সব দেখতে আর জানতে পারবো।

মেঘ ওয়াসরুমের দরজার আড়াল থেকে রোজের বিরক্তি মাখা নাজেহাল মুখটা দেখছে আর মিটিমিটি হাসছে। ফ্রেস হয়ে ওয়াসরুম থেকে বের হলো মেঘ।

মেঘ : কি রে এখনো বসে আছিস্ কেন.? কলেজে যাবি না? যা গিয়ে ফ্রেস হয়ে নে। ব্রেকফাস্ট করেই বের হবো আমরা.?

রোজ : তুমি আমার সাথে কি করছো,,,, এ্যা এ্যা এ্যা তুমি আমার সাথে খারাপ করছো কেন.? আমি ছোট।

মেঘ : দুইদিন পর তো কোলে ঘাড়ে দুইতিনটা বাচ্চা নিয়ে ঘুরবি আর এখনো নিজেকে ছোট বলে দাবি করছিস্.? লজ্জা করে না.? যা গিয়ে ফ্রেস হয়ে নে। নাহলে এবার তোকে

রোজের দিকে তেড়ে যেতেই রোজ বিছানা ছেড়ে নেমে দৌড় দিতে যায় ওমনি ধপাস করে ফ্লোরে পড়ে।

রোজ : আল্লাহ আমার পা..? আমার মাথা।
মেঘ তাড়াতাড়ি রোজের কাছে যায়। ওর তো মনেই ছিলো না রোজের পায়ে ব্যাথার কথা। মেঘ রোজকে কোলে নিতে গেলেই রোজ মুখ ভেংচি দেয়।

রোজ : আমার সাথে যে খারাপ করে তার সাথে থাকবো না আমি। আমাকে টাচ করবা না।
মেঘ : অকে

মেঘ রোজকে কোলে তুলে নিলো।
রোজ : বলছি না টাচ করবা না তাহলে কোলে নিচ্ছো কেন.?
মেঘ : টাচ করতে মানা করেছিস্ কোলে নিতে না। আর তুই একবার আপনি একবার তুমি বলিস কেন.? যেকোনো একটা বলবি।

রোজ : টাচ আর কোলে নেওয়া আলাদা নাকি.?
মেঘ : ভেবে দেখ আলাদা কিনা।

রোজ চোখ উপরে তুলে ভাবতে লাগলো। মেঘ রোজের দিকে একবার তাকিয়ে ওকে বেসিনের ওপর বসিয়ে দিলো। তারপর একটা ব্রাশে টুথপেস্ট দিয়ে রোজের হাতে ধরিয়ে দিলো।

মেঘ : নে তাড়াতাড়ি ব্রাশ কর। আমি এখনো ব্রাশ করিনি। শুধু মুখ ধুয়েছি।
রোজ : তো করো। আমাকে বলছো কেন.

মেঘ : তোর ব্রাশ করা শেষ হলে তোর ব্রাশটাই নিবো।

কথাটা ঠিক হজম হলো না রোজের। ভীষম খেয়ে মুখের সমস্ত ফ্যানা মেঘের শার্টের ওপর ফেলে দিলো। মেঘের গলা থেকে পেট অবধি ফ্যানায় ভরপুর। রোজ ভয়ে ভয়ে মেঘের দিকে তাকালো। মেঘ ভ্রু কুচকে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। রোজের কাজে খানিকটা ভ্যাবাচেকা খেয়েছে তারই ফলস্বরূপ এই অদ্ভুদ চাহুনি। মেঘের তাকানো দেখে রোজ কাঁশতে শুরু করে। মেঘ নিচ থেকে মগে করে পানি উঠিয়ে রোজের হাতে দিলো।

মেঘ : দেখে কাজ করতে পারিস না.? এটা কি করলি তুই.? তোর জন্য এখন আবার গোসল করতে হবে।

রোজ কুলি করে চোখমুখ ধুয়ে নিলো। তারপর মেঘের দিকে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো ছেলেটার মুখে রাগের কোনো চিহ্ন নেই বরং অসহায়তার ছাপ। মনে হচ্ছে একটা ঘোড়ার কাছে গাধা এনে দিয়ে তাকে বলা হচ্ছে পিটিয়ে ঘোড়া বানাও। আর ঘোড়াটা এটা ভাবতেই ব্যাস্ত যে এই অসম্ভব কাজটা কিভাবে সম্ভব করবে।

রোজ : সরি। আসলে তুমি আমার ব্রাশ নিবে বলেছিলে তাই,,, ব্রাশ তো আগেই তোমার কাছে ছিলো তো নিজে আগে ব্রাশ করোনি কেন.? আমাকে দিলে কেন.?

মেঘ : তুই কি আমার ইউজ করা ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজবি.? খারাপ লাগতো না তোর.?
রোজ : তো তুমি এখন এই ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজবা। তোমার খারাপ লাগবে না.?

মেঘ : দাঁত মাজা শেষ এবার বের হ। আমি শাওয়ার নিবো।
রোজকে বাইরে দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাড় করিয়ে শাওয়ার নিতে চলে গেলো মেঘ। রোজ এখনো মেঘের কথা ভাবছে। ছেলেটা এমন কেন.?

কলেজে,, রোজকে নিয়ে আনাচে কানাচে কানাকানি চলছে কারন রোজ মেঘের সাথে এক গাড়িতে এসেছে। হোস্টেলে থাকা সাধারন একটা মেয়ে কলেজের ওনার + টপ ক্রাশের সাথে কি করে.? মেঘের কি এবার রোজকে মনে ধরেছে.? রোজের কাছে এসব কথা একেবারেই মূল্যহিন। ও কখনো কারোর কথা কানে নেয় না। কিন্তু মেঘের আচরন যে সন্দেহজনক। এমন সময় নিভি দৌড়াতে দৌড়াতে আসলো,,

নিভি : এই রোজ কোথায় ছিলি তুই..?? কাল ফিরিস নি কেন.? তোকে মেঘ ভাইয়াকে আলিজা আপুকে নিয়ে নানারকম কথা হচ্ছে। ওরা নাকি আলিজা আর আরাভ ভাইয়াকে এক গাড়িতে দেখেছে। তুই তো জানিস আরাভ ভাইয়াকে নিয়ে কতো কি হয়।

রোজ : কি বলছিস এসব..? আচ্ছা আমার সাথে আয়।
নিভিকে টেনে নিয়ে আরাভদের ক্লাসের সামনে আসলো রোজ। মেঘ আরাভ তখন কুহুর সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো।

রোজ : আসতে পারি.?
রোজের গলা শুনে ফেছনে ফিরে তাকালো মেঘ। রোজের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে ও ভীষন রেগে আছে।

আরাভ : আরে তুমি.? এখানে.? আসো। আসো
রোজ : হুম। কিছু কথা বলার ছিলো।

আরাভ : বলো।
রোজ : মেবি ৮দিন পর আপিপু(কলির) বিয়ে। আপনাকেও সেদিন আপিলাকে বিয়ে করতে হবে। আর কলেজে প্রচলিত প্রতিটা কথা থেকে আপিলার প্রস্টিটিউট নামটা মুছতে হবে। দেখুন আমি জানি ব্যাপারটায় তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। কিন্তু যেটা আপিলার জন্য বেস্ট সেটা আমায় করতেই হবে। তাছাড়া বাপির সমস্ত কিছু আপিলার। সো আপনি বসে থাকলেও আপনাদের দিন চলে যাবে।

আরাভ : তুমি কি আমাকে অপমান করতে এসেছো.?
রোজ : কথার ধরনে এমন মনে হলেও কথার প্রায়রিটিতে না। আমি শুধু আমার আপিলার ওপর আসা ভুলভাল অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করতে এসেছি। আমি চাইলে এটা বলতে পারতাম যে আপনি আপিলাকে প্রপোজ করেন কিন্তু সেটাতে আরো বেশি রিস্ক। তখন মানুষ বলবে আপনি প্রেমের জালে আপিলাকে ফাসিয়েছেন। তাই আপনাদের দুজনের কথা ভেবেইইই

রোজের কথা লেগে লেগে আসছে । কোনো কথাই ও ঠিক করে বোঝাতে পারছে না। ওদিকে আরাভও রোজকে ভুল বুঝছে। কুহু রোজকে সাইডে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওর হাত ধরতেই গরম তাপে শিউরে উঠলো,, অসম্ভব রকমের গরম ওর শরীর। চোখগুলো লাল হয়ে আছে।

কুহু : মেঘ আমার মনে হয় রোজের জ্বর। শরীরটা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। আর দেখ ঢুলছে। এমনিতেই তোকে আর রোজকে নিয়ে নানা কথা চলছে এখন যদি তুই রোজকে টাচও করিস তাহলে সেটা পাপার কাছে পৌছে যাবে। আর পাপার রুমে কোনো কথা হলে সেটা পিয়ন কাকু কলেজে ভাইরাল করে দেবে। তাতে রোজের রিস্ক বেশি।

মেঘ : তুই রোজকে নিয়ে যা। আমি আরাভ আর আলিজার ব্যাপারটা দেখছি। আমার মনে হয় রোজ আবার ডিপ্রেশনে চলে যাবে। মেয়েটা ওর আপুর বিরুদ্ধে একটা কথাও শুনতে পারেনা।তারওপর জ্বর ট্রোমা ক্রিয়েট হতে পারে।

কুহু : আমাদের বাদ দিয়ে আরাভের বিয়ে দিস্ নানা আবার। তাহলে কষ্ট পামু দোস্ত।
মেঘ : শুরু হয়ে গেলো। তোর এই লেটের জন্য আমার রোজের যদি কিছু হয় তাহলে,,,

কুহু : রাগিস কেন বেয়াদব পোলা। যাইতাছি তোর রোজরে নিয়া।

রোজের মাথাটা ঝিমঝিম কররছে। কুহু আর নিভি রোজকে ধরে কমনরুমের দিকে নিয়ে যেতে লাগলো। পিছু পিছুছু আসছে মেঘ আর আরাভ।

আরাভ : ভাবছি বিয়েটা করেই নেই। আর কতোকাল একা একা শীতের রাত কাটাবো.? তোর সাথে কাজ করাও বাদ দিবো নাহলে কোনদিন ঠুসস করে উপরে পাঠিয়ে দেবে ওরা বুঝতেই পারবো না। অকালে বউটা বিধবা হয়ে যাবে।

মেঘ: হুম আমিও সেটাই ভেবেছি। তোর আর কুহুর জন্য এটাই ভালো হবে।

আরাভ : এই যে মিস্টার হিরো,, আমি তোর কথাও বলছি। রোজকে বিয়ে করে নিজেও ওসব কাজ বাদ দে। বুঝিস না কেন ওই কাজে প্রতিটা সেকেন্ডে রিস্ক। জানি তুই কে? তবে তোর ওপর রোজ ডিপেন্ড করে ওর কথাটা তো ভাব।

মেঘ : রোজকে আমার জীবন থেকে অনেক দূরে পাঠিয়ে দিবো। যতদিননা আমার মিশন কমপ্লিট হবে ততদিন কেউ জানবে না রোজ আমার কে.?

আরাভ : আমার জানের ওই ডেন্জারাস বোন হাসতে হাসতে তোকে ছেড়ে যাবে এটা কি তোর জ্যোতিষ বিদ্যা থেকে জেনেছিস.? বাচ্চা মেয়ে আবেগ বেশি,,,দেখ যেকোনো সময় তোকে প্রপোজ না করে বসে। এখনকার দিনে মেয়েরা অনেক এগিয়ে আছে। বুঝলি।

মেঘ : সেটার অপেক্ষাতেই আছি।
আরাভ : শালা লেডিস। জীবনে মারপিট ছাড়া আর কিছু শিখিস নি..? একটা মেয়ে তোর সাহস, যোগ্যতার ওপর আঙ্গুল তুলে তোকে প্রপোজ করবে আর তুই মেয়েদের মতো লজ্জাবতী লতা হয়ে সেটা এক্সেপ্ট করবি..?

মেঘ আরাভের কথা শুনে ওর দিকে রাগি চোখে তাকালো,, আরাভ এক হাত দিয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে আলিজার ডিপার্টমেন্টের দিকে এগোতে লাগলো। ওদিকে মেঘ রেগে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো একজনকে অনুসরন করতে।

চলবে,,