তুই হবি আমার পর্ব-১২

0
1839

#তুই_হবি_আমার??
#DîYã_MôÑî
#পর্ব__১২

তিন দিন পর,, রোজ অনেকটা সুস্থ এখন। আর সবটাই হয়েছে মেঘের জন্য। রোজকে মেঘ নিজের বাড়ি নিয়ে এসেছে। কিন্তু মৃন্ময়ের মুখে হাসি নেই।কারন সে জানে ছেলের প্রতিটা কাজের পেছনের ঘটনা। রোজের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য ভালোবাসা দেখে মৃন্ময় যতটা মুগ্ধ হয়েছে ততটাই রাগ হয়েছে মেঘের প্লানিং শুনে। কিন্তু কি বলবে সে.? মাফিয়া কিং যে কারোর কথা শোনে না। মৃন্ময় বললে হয়তো শুনতো কিন্তু মৃন্ময়ের কাছেও যে রোজের জীবন আগে।

রোজ আজ ফিরে যাবে হোস্টেলে। তাই মৃন্ময় সকাল বেলা উঠে রেডি হয়ে বসে আছে। মেঘের সাথে গেলে সবাই সন্দেহ করবে তাই মৃন্ময় নিজে রোজকে নিয়ে যাবে। কলেজটাও দেখা হয়ে যাবে এই সুযোগে। রোজ রেডি হয়ে নিচে নামলো এখনো ঠিকভাবে হাটতে পারছেনা ও।

রোজ : আংকেল মেঘরোদ্দুর কোথায়..? সকাল থেকে দেখলাম না তো ওকে।

মৃন্ময় : একটা কাজ ছিলো তাই ও সকালেই বেরিয়ে গেছে। তোমাকে বললাম আরো কিছুদিন থাকতে তুমি শুনলে না,, কষ্ট দিলে এই বুড়ো আংকেলটাকে।

রোজ : এমনিই পড়াচোর আমি তারওপর যদি এখানে এতো ভালোবাসার মধ্যে থাকি তাহলে জীবনেও বই ছুঁয়ে দেখবো না। পাশ করবো কিভাবে..?

মৃন্ময় : হোস্টেলে যাচ্ছো ঠিক আছে তবে এখন ক্লাস করার দরকার নেই আমি প্রিন্সিপালকে বলে দিবো। তুমি রেস্ট নিও কিছুদিন।

রোজ : আংকেল আমি আজ একটু NgO তে যাবো। অনেকদিন যাওয়া হয়নি।

মৃন্ময় : ওহ হ্যা আমার ছোট্ট মামনির তো একটা NgO ও আছে। চলো তোমার NgO থেকে ঘুরে যাবো। ওখানে কে কে আছে আমার মামনি কিভাবে গুছিয়েছে সবাইকে দেখতে হবে না.?

রোজ : ঠিক আছো চলো।

রোজকে নিয়ে সোজা NgO তে আসলো মৃন্ময়। দোতলা একটা বাড়ি,, বাড়ির সামনে ছোট একটা বাগান। আর সেখানে ১০-১২টা বাচ্চা খেলছে,, রোজ গাড়ি থেকে নামতেই ওরা চিল্লিয়ে রোজকে ঘিরে ফেললো,, রোজ সবাইকে শান্ত করে দাড় করিয়ে মৃন্ময়ের দিকে ইশারা করলো,,

রোজ : ওটা আমার আংকেল আজ থেকে তোমাদেরও আংকেল। আংকেলকে ওয়েলকাম করো।

বাচ্চারা : ওয়েলকাম আংকেল। ওয়েলকাম টু রেড রোজ হাউজ।
একটা ৪বছরের মেয়ে এগিয়ে এসে মৃন্ময়ের দিকে চকলেট এগিয়ে দিলো “ওয়েলকাম আনকেল,, তোমার চকলেট “মৃন্ময় মুচকি হেসে মেয়েটাকে কোলে তুলে নিলো।

মৃন্ময় : থ্যাংক ইউ। নাম কি তোমার?
মেয়েটি : পাপড়ি। রোজ আপু রেখেছে। ভালো নাম না.?

মৃন্ময় : তোমাদের রোজ আপু রেখেছে যখন তখন ভালো না হয়ে পারে.? খুব ভালো আর সুন্দর নাম ঠিক তোমার মতো।

পাপড়ি : রোজ আপু নীল ভাইয়া তোমাকে অনেক খুজেছে। অনেক কেঁদেছে। তুমি ভাইয়ার সাথে দেখা করে আসো।

নীল নামটা শুনে মৃন্ময় রোজের দিকে তাকালো। রোজও অবাক হয়ে পাপড়ির দিকে তাকালো নীলয় রোজের জন্য কাঁদবে কেন.? হয়তো রোজ ছাড়া কাউকে চেনে না তাই।

মৃন্ময় : নীল কে মামনি.?
রোজ : আংকেল নীলয়। একটা এক্সিডেন্টের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলাম ওকে। মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলো তাই এখানে নিয়ে এসেছিলাম। চলো দেখাচ্ছি।

রোজ সবাইকে নিয়ে ভেতরে গেলো। নীলয় তখন পরোটা বানাচ্ছিলো। আজ নাকি ও সবাইকে পরোটা বানিয়ে খাওয়াবে। রোজকে দেখতেই নীলয় রেগে মুখ ঘুরিয়ে নিলো,,

রোজ : ভাইয়া,,,, ভাইয়া রাগ করেছো আমার উপর..
নীলয় : আমি রাগ করলে তোমার কি.? তুমিও নিভির মতো চলে যাবে আমাকে ছেড়ে আমি জানি।

নিভি নাম শুনতেই রোজের চোখ বড় হয়ে গেলো। রোজের বন্ধু নিভি আর নীলয়ের নিভি এক না তো.? নিভিও তো সেদিন কিছু লুকিয়েছিলো। রোজ ওর লাইফে ইন্টারফেয়ার করবে না বলে কিছু বলেনি। রোজ ফোন বের করে নিভির ছবি খুজতে লাগলো,, একটা পেয়েও গেলো। রোজ ছবিটা নীলয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেখাতেই নীলয় ছো মেরে ফোনটা কেড়ে নিয়ে জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো,,

নীলয় : নিভি আমার নিভি। আমি নিভির কাছে যাবো। আমার নিভিকে তুমি চেনো আপু.? আমাকে আমার নিভির কাছে নিয়ে চলো।

রোজ : ( এতো বড় কোএন্সিডেন্ট। সবার জীবনটা আমার সাথে জুরে যায় কিভাবে.? আমি যতো এগুলো থেকে দূরে যেতে চাই ততই আরো সবকিছুর গভীরে ঢুকে যাই। ) হ্যা চিনি। তুমি শান্ত হয়ে বসে আমার কথা শোনো।

নীলয় চুপচাপ বসে পড়লো,, রোজ ফোনটা নিয়ে,, নীলয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে ওকে শান্ত গলায় বললো,,

রোজ : আমি জানি তোমার মেন্টালি প্রবলেমটা অতোটাও সিরিয়াস না। তুমি চাইলেই সব মনে করতে পারবে। বলতে পারবে । তোমাদের কি হয়েছিলো সেটা বলবে আমায়..? কেন সবাইকে এতো ভয় পাও..?

নীলয় : জানি না। জানি না আমি। আমার শুধু নিভিকে চাই। ওকে আমার কাছে এনে দাও। তুমি তো আমার ভালো আপু এনে দাও না ওকে।

রোজ : আচ্ছা কাল এনে দিবো । এখন কান্নাকাটি বন্ধ। যাও গোসল করে খেয়ে ঘুমাও।

নীলয় চলে যেতেই মৃন্ময় এগিয়ে আসে।
রোজ : আমাদের তাড়াতাড়ি কলেজে যেতে হবে আংকেল। নিভির সাথে দেখা করতে হবে। ওখান থেকে আরো একটা কাজের জন্য যেতে হবে।

মৃন্ময় : কি কাজ..?
রোজ : রওশন আর ঈশাপুর ঝামেলা মেটাতে হবে। কেন জানি না মনে হচ্ছে আমার কাছে সময় বেশি নেই। সবকিছু তাড়াতাড়ি করতে হবে। নাও চলো।

কলেজে এসে রোজ নিভির কাছে গেলো। নীলয়ের নাম নিতেই নিভির চোখে পানি চলে এসেছে। রোজ নিভিকে জোর করেনা কিছু বলতে,, শুধু বলে,

রোজ : একটা কথা মনে রাখবি নিভি কখনো নিজের করা ভুলের শাস্তি অন্যকে পেতে দিস না। আমাকে কিছু বলতে চাস্ না ঠিক আছে কিন্তু নীলয়ের কাছে একবার হলেও যাস্।

নিভি : ৬মাস আগে আমি হোস্টেলে আসি। তুই জিজ্ঞাসা করেছিলি নাহ আমি কেন হোস্টেলে থাকি,, কারনটা নীলয়। আমরা ছোট থেকেই একে অপরকে ভালোবাসতাম। কিন্তু নীলয় গরীব হওয়ায় কেউ ওকে মেনে নিতে চাইতো না। ৬মাস আগে আমি নীলয়ের সাথে শেষ বারের জন্য দেখা করতে যাই আর সেটা কাকু দেখে ফেলে। কাকু বাবা আর ভাইয়াদের ডেকে সেদিন রাস্তায় বিনাকারনে, বিনাঅপরাধে নীলয়কে মারে,,, আধমরা নীলয়কে মেইনরোডের মাঝে ফেলে দেয় আর আমাকে টেনেহিচড়ে বাড়ি নিয়ে আসে। দুইবার সুইসাইড করতে চেয়েছি কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস দেখ বেঁচে গেছি ।

রোজ : নীলয়ের এখন যা অবস্থা,, পারবি ওকে সামলাতে..? পারবি ওর পাশে থাকতে.? পারবি ভালোবাসতে.?

নিভি : বাড়ি জানলে ওকে আবাররর
রোজ : রেড রোজ NgO. টা তোদের দিয়ে দিবো আমি। দুজন ওখানে থাকবি। তোরা এখন এডাল্ট কোনো সমস্যা হলে পুলিশকে ইনফর্ম করবি। মেঘরোদ্দুরকে জানাবি। এই তোর তো ১৮+ তাইনা.?

নিভি : হুম। কিন্তু NgO টা তো তোর ভালোবাসা। তোর সবচেয়ে প্রিয় জাগয়া ওটা আমাদের কেন দিবি.? আমাদের থাকতে দিলেই হবে। আমাকে আজ ওর কাছে নিয়ে যাবি প্লিজ,,,

রোজ : ৫লক্ষ টাকা আর একটা বাড়ি খুজে দিলে তোরা একা থাকতে পারবি.? মনে হয় নীলয় ভাইয়ার জন্য একটা আলাদা পরিবেশ প্রয়োজন। আর তোদেরও একটু একা থাকা প্রয়োজন। তোরা নাহয় ওখানের কলেজে এডমিশন নিবি।

নিভি : আজ তোর হয়েছেটা কি রোজ.? সবকিছু দিতে চাচ্ছিস কেন.? ওগুলো তোর জিনিস তোর কষ্টের ফল আমি কেন নিবো ওসব.?

রোজ : জানিস মনে হচ্ছে আমার সময় ফুরিয়ে আসছে। আমি বোধ হয় বেশিদিন তোদের মাঝে থাকবো না মনটা খচখচ করছে।

নিভি : রোজ এবার কিন্তু বেশি বেশি বলছিস। অসুস্থ ছিলি তাই মনটা খারাপ লাগছে ব্যাস এটুকুই। বাজে বকা বন্ধ কর।

রোজ : এড্রেস তো চিনিস। চলে যাস্ তুই। আমার একটা কাজ আছে। আমি আসছি।

কফিশপে বসে আছে রোজ। বসে আছে বললে ভুল হবে অপেক্ষা করছে ও। কিছুক্ষন পরই সেখানে আসলো অভি। হ্যা অভির জন্যই অপেক্ষা করছিলো রোজ।

অভি : কেন ডেকেছো.?
রোজ : আমার তোমাকে কিছু বলার আছে অভি। প্লিজ আমার কথাটা শোনো।

অভি : হঠাৎ নাম ধরে ডাকছো.? কি বলবে তুমি.?
রোজ : তুমি কি সত্যিই বোঝো না আমার মন কি চায়.? ছোট থেকে তোমাকে ভালোবাসি আর তুমি ঈশাপুর জন্য আমাকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছো.? তুমি খুব ভালো করেই জানো যে রওশনের সাথে আমার কিছু নেই তবুও কেন এমন করলে ঈশাপুর জন্য.?

অভি : কি বলছো এসব.?
রোজ : ঠিকই বলছি। আচ্ছা ঈশাপু কি আমার চেয়েও সুন্দর.? আমি কি দেখতে অতোটাই খারাপ.? আমাকে কি ভালোবাসা যায়না.? তুমি কেন আমাকে বুঝতে চাও না.?

অভি : কাঁদছো কেন.? দেখো কেঁদো না মানুষ দেখছে।
রোজ : দেখুক। তাতে আমার কি.? তুমি ঈশাপুকে বিয়ে করলে আমার কি হবে.? আমি যে তোমাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি চাই। বোঝোনা এটা.? সবসময় শুধু ঈশা ঈশা করো। সেদিন যদি আমার কথায় সায় দিতে তাহলে ঈশাপুর বদলে আমি তোমাকে পেতাম। তুমি কেন সায় দিলে না.?

অভি : তুমি কি সত্যি বলছো.?
রোজ : তোমার প্রমান চাই তাইনা..?

রোজ টেবিলের ওপর থেকে একটা গ্লাস নিচে ফেলে দিলো তারপর ওখান থেকে একটুকরো কাঁচ নিয়ে হাতে আচড় দিলো। কাঁচটা শিরার ওপর পড়তেই ফিনকি দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়লো চারপাশে। অভি অবাক হয়ে রোজকে দেখছে। মেয়েটা এতো পাগলী টাইপের আগে জানা ছিলো না ওর। ও ওয়েটারকে ডেকে ফাস্টএইড বক্স আনালো তারপর রোজের হাতে ব্যান্ডেজ করতে লাগলো,,

রোজ : এবার বিশ্বাস হলো তো.?
অভি : কিন্তু ঈশার কি হবে..?

রোজ : আবার ঈশা.? ওর জন্য ওই রওশন আছে তুমি বিয়ে ভেঙে দিলে দেখবে ও ঠিক রওশনকে বিয়ে করবে। তুমি শুধু বলো তুমি আমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না।

অভি : আচ্ছা ঠিক আছে। আর কেঁদো না। আমি এখনই বলে দিচ্ছি যে আমি ঈশাকে বিয়ে করতে পারবো না। হ্যাপি.?

রোজ : হুম বলো।
অভি রোজের সামনে বসে ঈশার বাবাকে ফোন দিয়ে বলে দিলো যে ও ঈশাকে বিয়ে করতে পারবে না। ও অন্য একজনকে ভালোবাসে। ঈশার বাবা প্রথমে না মানলেও ঈশা ওর বাবাকে ছেড়ে দিতে বলে সব। অভি রোজের মাথায় হাত বুলিয়ে ওর কপালে ছোট্ট একটা চুঁমু দিয়ে চলে গেলো। অভি যেতেই দাড়িয়ে যায় রোজ। ওয়াসরুমে গিয়ে মুখটা ধুয়ে নেয় বিশেষ করে কপালটা। হাতের ব্যান্ডেজটাও খুলে ফেলে,, রক্ত এখনো চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে।

রোজ : একদিন নিজের অজান্তে তোমাদের সম্পর্ক ভেঙেছিলাম আমি। আজ সজ্ঞানে তা ফিরিয়ে দিলাম ঈশাপু। জানি তোমরা কখনো বুঝতে পারোনি আমাকে। ভালোবাসতে পারোনি এই অনাথ মেয়েটাকে। জানো তো আমারও নিজেকে অনাথ ভাবতে কষ্ট হয়,, কুশান চৌধুরি তো আছেই। কিন্তু তিনি কি সত্যিই বাবা হওয়ার যোগ্য.? হয়তো যোগ্য নাহলে আপিলার বাপি হলো কিভাবে.? আসলে আমিই কারোর মেয়ে হওয়ার যোগ্য না। কি আর করার আছে.? যেমন আছি তেমনই নাহয় চলে যাবো।

রোজ খবরটা মেঘকে দেওয়ার মেঘকে ফোন দিতে লাগলো। আর মেঘ বারবারই ওর ফোন কেটে দিচ্ছে। রোজ আরাভকে কল দিলো। আরাভ রিসিভ করছেনা। রোজ শেষে কুহুকে কল দিলো। কুহু রিসিভ করতেই রোজ অস্থির গলায় বললো,,
— মেঘরোদ্দুর কোথায়.? আমার ফোন ধরছে না কেন.?
— ও তো। তুমি কোথায়.?
— কফিশপে। আসলে মেঘরোদ্দুর কে একটু দরকার ছিলো।
— হোটেল সেভেন স্টারে,,, ওর বন্ধুদের সাথে আছে। আমিও যাবো দরকার ছিলো তুমি চাইলে তোমায় পিক করে নিবো.?
— হুম আসো। আমি তো চিনি না হোটেলটা। আমি কফিশপের এড্রেস টেক্সট করে দিচ্ছি।

কুহু রোজকে নিয়ে আসলো হোটেলে। রোজের হাতে ব্যান্ডেজ করতে চাইলেও রোজ করতে দেয়নি। বলেছে আগে মেঘরোদ্দুরের কাছে যাবে। কুহু বারবার আড়চোখে রোজকে দেখছে। রোজের চেহারায় আজ উজ্জ্বল ভাবটা বেশি বোঝা যাচ্ছে। কুহু রিসেপশন থেকে রুম নাম্বার শোনা মাত্র রোজ লিফটে উঠে যায়

রোজ : আজ অনেক খুশি আমি মেঘরোদ্দুর। অনেক খুশি। রওশন আর ঈশাপুর মধ্যের সব ঝামেলা মিটে যাবে। নিভি নীলয়কে পেয়ে যাবে। আমিও আজ তোমাকে বলবো যে তোমার সেই ছোট্ট রোজ বড় হয়ে গেছে। সে তোমার কাছেই থাকতে চায় সারাজীবনের জন্য। এইদিনটার জন্য অনেক অপেক্ষা করেছি। অবশেষে বলতে পারবো তোমায় আমি কতটা ভালোবাসি তোমাকে। হি হি এবার তো তিলের বার্গার খেয়ে তাবেই ছাড়বো।

আনমনে বকতে বকতে, রোজ ডুবলিকেট চাবি দিয়ে মেঘের রুমের দরজা খোলেস দরজা খুলতেই ওর হার্টবিট থেমে যায়। চোখদুটো স্থির হয়ে যায়। মেঘ আর একটা মেয়ে ব্লাংকেটের নিচে ঘনিষ্ঠ অবস্থায়। মেয়েটি রোজকে দেখেই কিছুটা সরে গিয়ে ব্লাংকেটটা ভালো করে গায়ে জরিয়ে নেয়। মেঘ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে রোজের দিকে তাকিয়ে আছে। রোজের হাতপা অবশ হয়ে আসছে। চোখের সামনে সবটা ঝাপসা হয়ে আসছে। গলা কাঁপছে তবুও মুখে বললো,,

রোজ : কুহু আপু আসছে,, এভাবে আপনাদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখলে এই আপুটার বদনাম হবে। বিয়ে করে নিয়েন আপুটাকে। আসছি আমি।

কাঁপা কাঁপা গলায় কথাটা বলেই পেছনে ঘুরলো রোজ। ঢুলছে রোজের শরীর,, মেঘ ততক্ষনে দাড়িয়ে গেছে। মেঘের চোখেও পানি। রোজ আর পেছনে না তাকিয়ে সোজা হাটতে লাগলো। যাওয়ার সময় কুহুর সাথে দেখা হলো রোজের। রোজ নরমাল ভাবে তাকিয়ে মুচকি হেসে বাইরে চলে গেলো। রোজের কাজে কুহু হতবাক। একমনে রোজের দিকে তাকিয়ে আছে। রোজের হাত বেয়ে রক্ত পড়ছে। পায়ের ব্যান্ডেজটাও খুলে পড়ে আছে ফ্লোরে । মেঘ নিজের রুমে বসে রক্তচক্ষু দিয়ে ফ্লোরের ওপর তাকিয়ে আছে। রোজের পা থেকে ট্রান্সফরমেশন চিপটা খুলে ওখানেই পড়ে আছে। মেঘ উঠে গিয়ে সেটা চেপে ধরে ভেঙে ফেললো।

নুরিন : কাজটা কি ঠিক করলে মেঘ.? মেয়েটা হয়তো কষ্ট পেয়েছে। বাচ্চা মেয়েটাকে বুঝিয়ে বলতে,,

মেঘ : এই চিপটার জন্যই তো এতো নাটক। আমি এখনই গিয়ে রোজকে সবটা বলে দিবো।

কুহু : আর সময় নেই। রোজ চলে গেছে ,,, কিন্তু স্যার একটা কথা বলুন তো. এটা যদি রোজের ওপর করা আপনার শেষ অন্যায় হয় তখন কি করবেন.?

মেঘ : কুহু… কি বলছিস এসব.? এই চিপটার জন্য ওরা আমার আর রোজের সবকথা শুনতো। রোজের প্রতি নজর রেখে সবটা দেখতো সেজন্যই এসব করেছি আমি। আমি জানি আমি বললে আমার রোজ ঠিক বুঝবে। ও জানে ওর মেঘরোদ্দুর ওকে কতটা ভালোবাসে। ও কোথায় গেছে..? আমাকে বল। আমি ঠিক ওকে বুঝিয়ে আনবো।

কুহু : রাস্তার দিকে। মেয়েটা অসুস্থ তারওপর হাত কেটেছে আজ। আর এখন এতো বড় শক। ও নিজেও তো মানুষ আর কত সহ্য করবে.? পরিবার থেকে কষ্ট পেয়ে ভেবেছিলো তোর কাছে থাকবে। আর আজ.?

এদিকে রাস্তার মাঝ দিয়ে আনমনে হাটছে রোজ। হঠাৎ দাড়িয়ে যায় ও। আকাশের দিকে তাকিয়ে চিল্লিয়ে বললো,,
রোজ : আমার ভাগ্যটা এভাবে কেন বানিয়েছো.? এতো কষ্টই যখন পেতে হবে তখন জন্মের আগে মেরে ফেলো নি কেন.? অন্ততো আমার আম্মু বেঁচে থাকতো । ভালো থাকতো । তুমি সবাইকে কিছুনা কিছু ভালোখারাপ দাও.?তাহলে আমাকে শুধু খারাপ দিলে কেন.? কখনো কি তোমার কাছে কিছু চেয়েছি.? চাইনি। কিন্তু আজ চাই,,, আমি আমার মৃত্যু চাই। মুক্তি চাই আমি। সেটুকু অন্ততো দাও। আমি আমারররর

কথাটা শেষ করতে পারেনা রোজ তার আগেই একটা ট্রাক এসে পিষে ফেলে রোজের নরম শরীরটা। রোজের চোখ তখনো আকাশের দিকে। আস্তে আস্তে চোখটা বুজে যায় রোজের।

এদিকে মেঘ পাগলের মতো খুজে চলেছে রোজকে। রাস্তায় একটা মেয়ের এক্সিডেন্ট হয়েছে কথাটা কানে যেতেই আতকে ওঠে মেঘ। মানুষের কাছে জানতে পারে মেয়েটা স্পট ডেথ হয়েছে। আর একজন এসে মেয়েটার শরীর নিয়ে গেছে। মেঘ মেয়েটার বর্ণনা চাইলে সবাই যা বলে তাতে মেঘের দম আটকে আসে।

মেঘ : রোজ,,,, আমার রোজ…

চলবে,,,