তুমি নামক যন্ত্রণা পর্ব-০১

0
987

#তুমি_নামক_যন্ত্রণা
লেখকঃ আবির খান
পর্বঃ ০১

রাত প্রায় ১ঃ৫৪ মিনিট। আবির একটা বড়ো ডিল ফাইনাল করে সিগারেটের বিষাক্ত ধোয়া টেনে টেনে ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি টেনে বাসার দিকে যাচ্ছিল। এই মধ্যে রাতে রাস্তায় নিশিকন্যারা ছাড়া আর কাউকে সচারাচর দেখা যায় না৷ আজও তার ব্যাতিক্রম হলো না। হাতিরঝিলে এসে স্পিড ব্রেকার পড়লে আবির বাধ্য হয়ে গাড়িটা স্লো করে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই একটা মেয়ে এসে ওর গাড়ির সামনে দাঁড়ায়। আবির অনেক দামী গাড়ি চালাচ্ছিল। ফলে হার্ড ব্রেক কষতেই গাড়ি পাথরের মতো থেমে যায়। মেয়েটা দ্রুত ওর গাড়ির জানালার কাছে এসে টোকা দেয়। আবির অন্যসব দিনের মতো হয়তো চলে যেত। কিন্তু আজ কেন জানি না গিয়ে জানালাটা নামায়। সারি সারি ল্যাম্পপোস্টের আলোতে পুরো পিচঢালা রাস্তাটা আলোকিত হয়ে আছে। জানালা নামাতেই সে আলোতে আবির মেয়েটাকে স্পষ্টভাবে দেখে৷ সে অনেক মেকাপ করেছে। যাতে পুরুষের কাছে আকৃষ্ট হয়। ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক। অবশ্য এটা আবার আবিরের পছন্দের। চোখ দুটো বড়ো বড়ো ভাসানো। ফরসা গায়ের রঙ। আর দেহের গঠনটাও মনকাড়া। আবির মেয়েটাকে দেখতে দেখতে সে বলে উঠে,

~ স্যার নিবেন?

আবিরের ভাবনাই সত্যিই হলো। সে একরাতের নিশিকন্যা। টাকার বিনিময়ে পুরুষজাতির চাহিদা পূরণ করে। আবির কখনোই এধরণের মেয়েকে নিবে না। কারণ ওর ক্লাস অনেক উপরে। রাস্তা থেকে এধরণের মেয়েদের নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না৷ কিন্তু আজ কেন জানি সব ব্যাতিক্রম হচ্ছে। আবির আস্তে করে জিজ্ঞেস করে,

– কত দিতে হবে? পুরো রাত থাকবে তো?

মেয়েটার ঠোঁট কাঁপছে। সে একটু ভেবে কাঁপা গলায় বলে,

~ জি স্যার থাকবো। দশ হাজার টাকা দিয়েন?
– নাহ! অনেক বেশি। এত দিতে পারবো না। থাক চলে যাই।

আবির রীতিমতো বার্গেডিং শুরু করেছে মেয়েটার সাথে। মেয়ে টা জোর গলায় বলে উঠে,

~ না না স্যার প্লিজ যাবেন না। আচ্ছা পাঁচ হাজার দিয়েন প্লিজ।

আবির মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার চোখেমুখে অনুনয়ের ছাপ। আবির সামনে তাকিয়ে বলে,

– নাহ! তিন হাজার টাকা দিব৷ রাজি হলে গাড়িতে উঠে পড়ো।

মেয়েটা এক মুহূর্ত দেরি না করে ঘুরে গাড়িতে এসে বসে পড়ে। আবির মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। সে চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে আছে। আবির সামনে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দেয়। জানালাটা বন্ধ করে আবার গাড়ি চালাতে শুরু করে। ওর গাড়ির ভিতরের লাইটটা সবসময় বন্ধ থাকে। ও কি যেন ভেবে সেটা আজ জ্বালিয়ে দেয়। আর লুকিং গ্লাসটা মেয়েটার দিকে করে দেয়, যাতে ওকে দেখতে পারে। মেয়েটা সব বুঝেও চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে আছে। আবির গাড়ি ঘুরিয়ে বাসার দিকে না যেয়ে ওর একটা পরিচিত ফাইফ স্টার হোটেলের দিকে যাচ্ছে। বেশ দূরেই হোটেলটা। আবির গাড়ি চালাতে চালাতে লুকিং গ্লাসের দিকে তাকায় মেয়েটাকে দেখার জন্য। ও খেয়াল করে মেয়েটার ঠোঁটটা এখনো কাঁপছে। আবিরের বেশ মজাই লাগছে দেখতে। মেয়েটার ঠোঁটটা একদম ওর মনের মতো। ফাঁকা রাস্তা সো সো করে টপ স্পিডে গাড়ি ছুটছে। আর একরাশ নিরবতা ওদের মাঝে। আবির হঠাৎই এই নিরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করে,

– নাম কি তোমার?

আবিরের এই হঠাৎ কথা বলায় মেয়েটা রীতিমতো লাগিয়ে উঠে। আবির গাড়ির স্পিড কমিয়ে দ্রুত বলে উঠে,

– একি! ভয় পেলে নাকি? এভাবে কেউ লাফিয়ে উঠে?
~ সরি স্যার সরি। আমার নাম, জান্নাত।
– বাহ! বেশ সুন্দর নাম। কিন্তু কাজকর্ম তো সুন্দর না। নামের মতো কাজ করলে তো নামটাই মিলত।

জান্নাত কিছু বলে না। সেই আগের মতো মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে। আবির আবার বলে,

– তা এই লাইনে কত দিন হলো?
~ অনেক দিন স্যার। (দ্রুত স্বরে)
– দেখে তো মনে হয় না। (সন্দেহ জনক কণ্ঠে)

জান্নাত দ্রুত মাথা তুলে আবিরের দিকে তাকিয়ে শুকনো হাসি দিয়ে কাঁপা কণ্ঠে বলে,

~ না না স্যার আমার অনেক দিনের এক্সপেরিয়েন্স আছে৷ বিশ্বাস করুন।
– তাহলে তো ভালো। আমার আবার ননএক্সপেরিয়েন্স মেয়ে ভালো লাগে না।
~ ওহ!

আবির কথা শেষ করে আড় চোখে জান্নাতের দিকে তাকিয়ে আছে। ও খেয়াল করে মেয়েটার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। বারবার তা মুছার চেষ্টা করছে। আবির এসিটা জান্নাতের দিকে করে দেয়৷ এবার মেয়েটা একটু শান্ত হয়। এরপর ও আর কিছু বলে না। একটানে হোটেলে চলে আসে। গাড়ি হোটেলের সামনে থামিয়ে আবির নেমে পড়ে। সাথে জান্নাতও নামে। হোটেলের দারোয়ান ওকে সালাম দেয়। আবির গাড়ির চাবিটা তার হাতে দিয়ে সাথে ৫০০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দেয়। দারোয়ান খুব খুশি হয়ে ওর গাড়িটা পার্ক করতে নিয়ে যায়। এটা আবার জান্নাতের চোখ দিয়ে এড়ালো না। ও মনে মনে ভাবছে, আবির দারোয়ানকে কোন কারণ ছাড়াই ৫০০ টাকা দিয়ে দিল। আর ওর সাথে কিভাবে দাম কষাকষি করলো! ওর শরীরটার মূল্য কি এতই কম? জান্নাত ভেবে পায় না৷ আবির জান্নাতের ভাবতায় ব্রেক লাগিয়ে বলে উঠে ,

– আসো আমার সাথে।

বলেই আবির ওর হাত ধরে। জান্নাত মুহূর্তেই কেঁপে উঠে। আবির আরও শক্ত করে ওর হাতটা ধরে ওকে নিয়ে রিসেপশনে যায়৷ আবির দাঁড়াতেই ওকে সবাই সালাম দিয়ে বলে,

– আরে স্যার আপনি? বলুন কি সেবা করতে পারি আমরা?
– আমাকে বলতে হবে? (জান্নাতকে দেখিয়ে)

রিসেপশনিস্ট জান্নাতের দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে বলে,

– ওহ! সরি স্যার বুঝেছি বুঝেছি। আপনি কোন চিন্তা করবেন না৷ এই যাও স্যারকে ৮০৪ নং রুমটায় দিয়ে আসো।
– আমাকে দিন কাউকে আসতে হবে না।
– ওকে স্যার। এই যে কার্ড।

আবির কার্ডটা পকেটে রেখে জান্নাতকে নিয়ে সোজা লিফটে ওঠে। তারপর ওর হাতটা ছেড়ে দেয়। জান্নাত এতক্ষণে বুঝে লোকদের জন্য ওর হাতটা ধরেছিল আবির। আবির লিফটে উঠে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে জান্নাতকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখছে। জান্নাত আড় চোখে তাকিয়ে দেখে আবির ওকে দেখছে। শুধু দেখছে বললে ভুল হবে মুচকি হাসছে। জান্নাত বুঝতে পারে আবির মনে মনে কি ভাবছে। ও চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। লিফট আট তলায় চলে আসলে আবির জান্নাতকে নিয়ে বেড়িয়ে আসে৷ এসে ওদের রুমের সামনে চলে যায়৷ কার্ড স্ক্যান করাতেই দরজা আনলক হয়ে যায়। আবির জান্নাতকে বলে,

– আসো।

জান্নাত বাধ্য মেয়ের মতো রুমের ভিতরে ঢুকে পড়ে৷ আবির দরজা লাগিয়ে দিয়ে দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে জান্নাতকে দেখতে থাকে। আর এদিকে জান্নাত রুমটা দেখে পুরো হা করে আছে। বিশাল বড়ো রুম। সোফা আছে বড়ো একটা বেড আছে, ওয়াশরুম আছে, বারান্দাও আছে। কত কিছুই না আছে। এছাড়া আলোতে ঝলমল করছে পুরো রুমটা। জান্নাত যখন এই সুন্দর ডিলাক্স রুমটা দেখতে ব্যস্ত হঠাৎ আবির এসে জান্নাতকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। জান্নাত একলাফে ওকে ছেড়ে অনেক দূরে সরে গিয়ে বলে,

~ একি! কি করছেন আপনি?

আবির অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে,

– হ্যাঁ কি বললে? শুনি নি? আবার বলো তো।

জান্নাত থতমত খেয়ে যায়। আবিরের কাছে এসে মাথা নিচু করে বলে,

~ না না কিছু না। সরি। ভুল হয়েছে।

আবির হাসি দিয়ে জান্নাতের কাছে আসে। জান্নাতের বুকের ভিতর কে যেন এখন ড্রাম পিটাচ্ছে। আবির কিন্তু তা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। ও কাছে এসে জান্নাতের কোমড়ে হাত রেখে ওর থুতনি ধরে ওর দিকে মুখ তুলে। জান্নাতের ঠোঁটটা সেই আগের মতো থরথর করে কাঁপছে। ওর চোখ বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ আবির জান্নাতের কাঁপা মিষ্টি ঠোঁটটার দিকে তাকিয়ে আছে। জান্নাত অপেক্ষায় আছে কখনো আবির ওর উপর ঝাপিয়ে পড়বে৷ ওর পুরো শরীর এখন কাঁপছে। মনে হচ্ছে জ্ঞান হারাবে৷ আবিরের গরম নিঃশ্বাস জান্নাতের মুখের উপর বারবার পড়ছে৷ ও আর নিতে পারছে না। ওর চোখ গুলো জ্বলছে৷ হঠাৎ আবির বলে উঠে,

– যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। আর যে মেকাপটা করেছো সবটা ধুয়ে তারপর বের হবে৷

বলেই আবির জান্নাতকে ছেড়ে দিয়ে সোফায় বসে শার্টের হাতার বোতাম খুলতে থাকে। জান্নাত স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। আবির এরকম কিছু বলবে ও বুঝতে পারে নি। ও ভেবে এই বুঝি আবির ওকে আপন করে নিবে। কিন্তু এসবের কি প্রয়োজন! জান্নাত বাধ্য মেয়ের মতো আবিরের কথায় ফ্রেশ হতে চলে যায়৷ ১৫ মিনিট পর বাইরে এসে দেখে আবির এক গাদা খাবার নিয়ে বসে আছে। অসম্ভব মুখরোচক খাবারের ঘ্রাণ আসছে। ঘ্রাণে জান্নাতের পেটে ডাক দেয়৷ গত দুদিন হলো ওর পেটে এক নলা ভাত যায় নি। এত খাবার দেখে জান্নাতের খুব কষ্ট হচ্ছে ক্ষুধায়।

এদিকে আবির জান্নাতকে বের হতে দেখলে বলে,

– ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন এখানে এসে বসো।

জান্নাত কিছুক্ষণ আবিরের দিকে তাকিয়ে থেকে তোয়ালেটা রেখে আস্তে আস্তে হেঁটে আবিরের সামনে এসে দাঁড়ায়। আবির এবার মেকাপ ছাড়া জান্নাতের দিকে তাকায়৷ ফরসা মুখ আর মায়ায় পরিপূর্ণ। তবে মুখটা এখন ক্লান্ত, চিন্তিত আর মলিন হয়ে আছে। আবির হাসি দিয়ে বলে,

– বাহ! বেশ সুন্দর আছো তুমি। মেকাপ করার কি প্রয়োজন এমনিই সুন্দর লাগে বেশি। যাই হোক বসো।

জান্নাত মাথা নিচু করে মাটিতে বসতে নেয়। আবির খপ করে ওকে ধরে বলে,

– তোমার মাথা ঠিক আছে? কই বসতে ছিলে? বলেছি আমার পাশে এখানে বসতে।

জান্নাত বেশ অবাক হয়ে আবিরের পাশে বসে। তবে একটু দূরত্ব রেখে বসে৷ আবির বলে উঠে,

– তুমি কি সত্যিই এই লাইনের? আমার ত মনে হচ্ছে না?

জান্নাত আবার অস্থির হয়ে বলে,

~ কেন কেন এরকম বলছেন কেন? আমি সত্যিই এই লাইনের। বলেন কি করবো?
– এই লাইনের হলে তুমি দূরে বসেছো কেন? তুমি আমার কাছে বসবে। কিন্তু…

জান্নাত আবিরের দিকে তাকিয়ে মুখটা অসহায় ভাবে করে দ্রুত ওর কাছে ওর সাথে মিশে বসে। আবির খপ করে ওকে একহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে আর বলে,

– হ্যাঁ এবার ঠিক আছে।

জান্নাতের মাথা আরও নিচু হয়ে আসে। একদিকে ক্ষুধার্ত পেট, অন্যদিকে শরীরের ক্ষুধার্ত আবির। আর জান্নাত তার মাঝে। আবির খাবার গুলো দেখিয়ে বলে,

– নেও এবার আমাকে তোমার হাত দিয়ে একটা পিজ্জা খাইয়ে দেও৷

জান্নাত অবাক হয়ে আবিরের দিকে তাকায়। আবির একটা মুচকি হাসি নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। জান্নাত কিছু না বলে একটা পিজ্জার টুকরো হাতে নিয়ে ওর দিকে না তাকিয়ে খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আবির না খেয়ে বিরক্ত নিয়ে বলে,

– নাহ! তোমাকে দিয়ে হচ্ছে না। তুমি অন্যদিকে তাকিয়ে আছে, মুখে কোন হাসি নেই কিরকম মনমরা হয়ে আছো। এগুলো তো আগে কখনো দেখি নি। নাহ! তুমি মনে হয়…
~ সরি সরি। এই যে খাইয়ে দিচ্ছি। হা করেন প্লিজ।

জান্নার হাসি দিয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে ওকে খাইয়ে দেয়৷ আবির খেতে খেতে জান্নাতের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। জান্নাত মুখে হাসি নিয়ে আবিরের মুখের খাবার শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে৷ আবির আরেকবার খেয়ে জান্নাতকে ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে পানি খেয়ে বলে,

– আমি বারান্দায় স্মোকিং করতে যাচ্ছি। এসে যেন এই খাবার একটাও না দেখি। নাহলে কিন্তু..

বলেই আবির বারান্দায় চলে যায়। জান্নাত বাকরুদ্ধ হয়ে বসে থাকে খাবার নিয়ে। ও আবিরকে বুঝতেই পারছে না৷ ও যেমনটা ভেবেছিল ঠিক তেমনটা হচ্ছে না৷ ও ভেবেছিল ওর শরীরটা আবির পাগলের মতো ভোগ করতে থাকবে৷ ওর কোন কথা শুনবে না৷ ওর কোন কষ্ট দেখবে না৷ কিন্তু তার কিছুই হচ্ছে না৷ আবির ক্লোজ হচ্ছে কিন্তু পরক্ষণেই আবার সরে যাচ্ছে৷ জান্নাত ভাবে হয়তো এরকমটাই হয়। তবে এখন ও আর কিছু ভাবতে চায় না৷ প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে ওর। ও হাতের কাছে যে খাবার পাচ্ছে সেটাই খাচ্ছে৷ এত মজার খাবার ও আগে খায় নি। চোখগুলো বারবার ভিজে আসতে চাইছে। কিন্তু ও ভিজতে দিচ্ছে না৷ আবির দেখলে যদি ওকে ফিরিয়ে দেয় তাহলে টাকাটা হয়তো আর পাবে না। তাই খেতে খেতে চোখ দুটো মুছে আবার খাওয়ায় মনোযোগ দেয়।

এদিকে আবির বারান্দায় এসে সিগারেটে টান দিতে দিতে লুকিয়ে লুকিয়ে জান্নাতকে দেখছে আর মুচকি হাসছে৷ জান্নাতের খাওয়া শেষ হলে আবির কতক্ষণ পর রুমে আসে। এসে খুব খুশি হয়ে বলে,

– বাহ! সব দেখি খেয়ে ফেলেছো। আমার জন্য একটু রাখতে পারতে।

জান্নাত ভীষণ লজ্জা পায়। লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে থাকে আর আস্তে করে বলে,

~ সরি।

আবির অট্টো হাসি দিয়ে ধপ করে জান্নাতের পাশে বসে ওকে জড়িয়ে ধরে ওর সাথে মিশিয়ে বলে,

– আরে মজা করছি। আমিই তো তোমাকে সব খেতে বললাম।

আবিরকে জান্নাতকে জড়িয়ে ধরায় ও খেয়াল করে জান্নাত মোড়াচ্ছে। আবির আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,

– চলো এবার আমাদের আসল কাজ শুরু করা যাক। আর অপেক্ষা করতে পারছি না৷

জান্নাত এবার আর নড়াচড়া করে না। চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে আছে। একদম নিস্তব্ধতা চারপাশে। আবির জান্নাতের কিছু বলার অপেক্ষায় আছে। আবিরকে হতাশ না করে জান্নাত বলে উঠে,

~ একটা রিকোয়েস্ট করি? রাখবেন?
– হুম বলো।
~ আপনার তো অনেক টাকা। আমি যদি আপনাকে আজকে অনেক খুশি করতে পারি আমাকে দশ হাজার টাকা দিবেন প্লিজ? তাহলে খুব ভালো হতো।
– দশ হাজার না তোমাকে উমমম, যাও পঞ্চাশ হাজার টাকা দিব৷ খুশি?
~ না না আমার মতো সামান্য মেয়ের শরীরের জন্য এত টাকা দিতে হবে না৷ দশ হাজার দিলেই হবে৷
– আচ্ছা। আসো। (গম্ভীর গলায়)

বলেই আবির উঠে পড়ে। জান্নাত আবিরের দিকে তাকিয়ে থাকে। আবির আবার বলে,

– কি হলো বসে আছো কেন আসো।

জান্নাত আস্তে আস্তে উঠে। আবির ওকে নিয়ে বেডের কাছে যায়। জান্নাতের পা যেন সামনে আগাচ্ছে না৷ আবির ওকে টান মেরে ঠাস করে বেডের উপর ফেলে দেয়। জান্নাত ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। ওর ভাবনা গুলো এবার আস্তে আস্তে বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। ওর চোখগুলো আবার জ্বলতে শুরু করেছে। আবির একমুহূর্ত সময় নষ্ট না করে জান্নাতকে জড়িয়ে ধরে বেডের উপর। ওদের দুজনের মাঝে এখন আর কোন দূরত্ব নেই। জান্নাত আবার চোখ বন্ধ করে আছে। আবির ভারি গলায় বলে উঠে,

– এই আমার দিকে তাকাও। একদম চোখ বন্ধ করবা না। না হলে জান নিয়ে আজকে বাসায় যেতে পারবানা।

জান্নাত আঁতকে উঠে। এটা ত আবির না। আবিরের রূপ মুহূর্তেই পরিবর্তন হয়ে গেল! ওর কথার স্বর এমন হলো কেন? জান্নাত ভীষণ ভীতু ভাবে আবিরের দিকে তাকায়। ও দেখে আবিরের চোখগুলো লাল হয়ে আছে৷ যেন রক্ত এসে জমেছে। আবিরকে এখন হিংস্র পশুর মতো লাগছে৷ জান্নাতের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে৷ আবির হঠাৎ জান্নাতের মিষ্টি….

চলবে..?