তুমি_যে_আমার পর্ব :- ০৩

0
2241

গল্প :- #তুমি_যে_আমার
পর্ব :- ০৩
Writer :- Kabbo Ahammad
.
.
-:”মিরার আজকে মনে কেমন যেন অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করছে। আর কাব্যর উপরে খুব হাসি পাচ্ছে, সারাদিনের কথা মাথায় আসছে তার।
বিশেষ করে তখনকার কথা যখন কাব্যকে মিরা ফোন করার পরেও রাতে বাসায় নামিয়ে দেবার সময় কাব্য মিরার ফোন নাম্বর চাইলো। মিরা তখন ইচ্ছে করেই কাব্যকে কিছু বলেনি পরে এই কথা বলে মজা করার জন্য।

কিন্তু এখন তো মিরার কানের দুলটা পাচ্ছেনা। মনে হয় কাব্যর গাড়িতে পরে গিয়েছে, কিন্ত তাও সিউর না।
এই দুলটা অনেক বেশি আপন মিরার কাছে, কারণ এটা মিরার নানুর শেষ চিহ্ন ছিলো, এসব ভাবতে ভাবতে রাত প্রায় ২:৩০ বাজে, তখন মিরা কাব্যকে মেসেজ করে…

-“আসসালামু আলাইকুম। (মিরা)

-“ওয়ালাইকূম আসসালাম। (কাব্য)

-“ঘুমান নি?

-“নাহ, কিছু বলবেন?

-“হুম, আমার একটা কানের দুল পাচ্ছিনা সেটা আপনার গাড়িতে পরে গেছে কি না জানা খুব দরকার। এটা আমার নানুর শেষ চিহ্ন ছিলো এই দুলের জোড়াটা।

-“আচ্ছা, আমি দেখে আপনাকে জানাচ্ছি…

এই বলেই কাব্য ফোন রেখে নিচে গাড়িতে গিয়ে দেখলো মিরার দুলটা গাড়ির ভেতরেই পরে গেছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত প্রায় ৩টা বাজে, এখন মিরাকে ফোন করা ঠিক হবে কি না নাকি মেসেজ করবে?

তারপর একটা মেসেজ পাঠালো মিরাকে

-“আপনার দুল টা পেয়েছি, কাল দিয়ে দিবো চিন্তা করবেন না।

এই বলেই কাব্য ঘুমাতে যাবে তখনই মিরা খুশি হয়ে কাব্যকে কল দিয়ে ফেলে।

আর কাব্য ফোন রিসিভ করতেই মিরা খুশিতে আত্নহারা হয়ে বললো।

–“থ্যাংক্স এলট…
আপনি জানেন না এই দুল আমার জন্য কত বেশি স্পেশাল। (মিরা)

–“ইটস ওকে, মাই প্লেজার।

–“হুম, তো ঘুমান নি কেন হ্যাঁ? এত রাতে কেউ জেগে থাকে নাকি?

–“আপনার দুলই তো খুঁজতে গেলাম তাই ঘুমাই নি।

–“তাই না? এর আগে তো মেসেজ দিলাম তখন ও জাগনা? তখন আমার দুল খুঁজছিলেন বুঝি?

–“না?

–“দেখেন এতো রাত জাগা আমার পছন্দ না। এখন যেহেতু বিয়ে করতে হবে তাহলে আমার হবু বরের চোখ কালো পান্ডার মত দেখা যাবে বিয়ের দিন এইসব আমি মেনে নিতে পারবোনা। আপনার কারণে আমার কাপল পিক গুলো খারাপ হবে, এটা কি কিছু হলো?

এক নিঃশাসে মিরা সব গুলো কথা বলে ফেললো কাব্যকে..

এরকম কথা শুনার জন্য কাব্য হয়তো মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা। তাই হ্যাঁ বা না কি বলবে তাই ভেবে পাচ্ছেনা।

–“কি ব্যাপার কথা বলেন না কেন? আপনি চান আমার বিয়ের প্রোগ্রামটা খারাপ হোক? বলেন হ্যাঁ?

–“না আমি চাইনা, আচ্ছা ঠিক আছে আপনার বিয়ের দিন যারে আমাকে ভালো লাগে আমি সেদিকে নজর দিবো।

–“হ্যাঁ এবার ঠিক আছে,,

–“হুম

–“এখন শুনুন, কাল আমাকে ১১ টায় নিতে আসবেন।

–“ওকে। রাখছি তাহলে।

–“হুম বাই..

–“আরে দাড়ান..

–“হুম?

–“একটা কথা তো বলতে মনেই নেই।

–“কোনটা?

–“আপনার কি শর্ট মেমোরি লস সমস্যা আছে?

–“মানে?

–“আহা? মানে বুঝেন নাই?
অল্প কিছুক্ষন পর পর কথা ভুলে যাওয়ার রোগ আছে নাকি?

–“হ্যালো বাংলা ইংরেজির মানে আমিও বুঝি।
এমন কিছুই নেই আমার আমি আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো আছি সব দিক থেকেই।

–“ওহ তাই নাকি?

–“কেন আপনার সন্দেহ হচ্ছে?

–“হ্যা, নাহলে কি বলতাম নাকি? যদি এমন থাকে তবে আমার আবার আপনাকে সকালে কল দিয়ে উঠাতে হবে তো তাই বললাম।

–“নাহ তা কেন?

–“এইজে দিনে আপনাকে কল দিলাম আমি, তারপরেও রাত্রে নামিয়ে দেওয়ার সময় আমার নাম্বার চাইলেন এইজন্য।

কথাটা শেষ করতে না করতেই মিরা হেসে ফেললো।
ওদিকে কাব্য একদম লজ্জায় শেষ।

–“না এমন সমস্যা নেই আমার। আর এখন আপনিও ঘুমান। নাহলে বিয়ের দিন আপনার নিজের জন্যেই সব ছবি পচা আসবে ?

–“হ্যাঁ, হ্যাঁ গুড নাইট।

বলেই মিরা হাসছে,,

মিরার আম্মু-আব্বু তখন দরজার ওপাশ থেকে কথা গুলো শুনতে পেলেন..

তাদের এখন মনে হচ্ছে যে না সম্পর্কটা আস্তে আস্তে আগে বাড়তে পারে, তারা হয়তো নিজের মেয়েকে অসময়ে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে ফেলেনি। হয়তো মিরা মানিয়ে নিতে পারবে ঠিকি।

এদিকে কাব্য ভাবছে মিরার কথা। মেয়েটা এরকম অদ্ভুত কেন? তখন আমাকে বলতে পারতো। যে তার ফোন নাম্বার আমার কাছে আছে। আর আমিও কি ধরনের বোকা! তার নাম্বার তো আমার কাছে ছিলোই,
তারপরেও আমি কেন চাইতে গেলাম আবার?

থাক এখন থেকে মেয়েটার সাথে বুঝে শুনে কথা বলতে হবে। এখন বরং ঘুমাই। না ঘুমালে আবার ম্যাডামের বিয়েতে আমাকে খারাপ দেখা যাবে। তখন তার আবার কমপ্লেইন শুরু হবে..

এদিকে মিরাও ঘুমিয়ে পড়লো।
.
.
.
সকাল এগারোটা বাজে। নিশি এসে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে মিরাকে বললো।

–“আপু জলদি ওঠ! তুই না আজকে শপিংয়ে যাবি?

–“হ্যাঁ, যাবো তা সকাল এগারোটায়। এখন আমাকে ঘুমাতে দে…

এই বলে মিরা কাথা টেনে মুখ গুঁজে আবার ঘুমিয়ে পড়লো।

–“তাই নাকি? আপু বলতো এখন কয়টা বাজে?

–“আটটা কি নয়টা হবে। তুই যা তো আমাকে ডিস্টার্ব করিস না।

–“ম্যাডাম এখন 11 টা বাজে আর আপনার জামাই নিচে এসে বসে আছে…..

মিরা তখন ঘুম-ঘুম চোখে ঠিক আছে বলে শুয়েই ছিলো ঠিক কয়েক সেকেন্ডে মুখ থেকে চাদর সরিয়ে নিশির দিকে তাকালো..

–“এখন তাড়াতাড়ি করে উঠে পর..

–“উফ কি বলিস এগারটা বেজে গেলো?

–হুম……

এ এক কথায় যেন মিরার টনিকের মতো কাজ করলো। মুহুর্তে ঘুম উড়ে হাওয়া সে দৌড়ে বাথরুমে চলে গেলো। তারপর ফ্রেশ হয়ে হালকা বেগুনি আর সবুজ মিলানোর একটা খুব সুন্দর থ্রি-পিস পড়ে চুলগুলো ছেড়ে ঠোঁটে হালকা বেগুনি লিপস্টিক আর চোখে কাজল দিয়ে, হাতে সুন্দর চুড়ি আর কানের সেই একটি দুলই পড়ে মিরা নিচে নেমে আসলো..

মিরাকে আজ অপরূপ সুন্দর লাগছে। কাব্য তখন ড্রইংরুমে বসে ছিলো। সে মিরার দিকে তাকাতেই যেন তার চোখ মিরার ঐ খোলা চুল আর সুন্দর হাসির মধ্যে আটকে গেলো..

আর চোখ পড়বে না কেন? মিরা দেখতে অসম্ভব রকম সুন্দরী একজন মেয়ে। যাকে দেখলে যেকোন ছেলেরই ভালো লাগবে। ভালো লাগতে বাধ্য..

কাব্য আগে তেমন ভাবে খেয়াল করে দেখেনি মিরাকে, দেখলেও তার তেমন ইচ্ছেই হয়নি মিরাকে দেখার..
কিন্তু আজকে ভালোমতো খেয়াল করে দেখলো মেয়েটাকে…..

নিশা ঠিক ওই সময় কাব্যর মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে জিজ্ঞেস করলো।

–“কি দুলাভাই? এভাবে কি দেখছেন? কয়েকদিন পরে তোমার ঘরেই যাবে। তখন মন ভরে দেখো…..

কাব্য তখন একদম লজ্জা পেয়ে গেলো। আর তা শুনে মিরাও হেসে দিলো। তারপর মিরা হেসে বললো!

–“তার আমাকে দেখার টাইম কোথায়?

এ কথা শুনে কাব্যর চোখ বড় বড় হয়ে গেলো ও মনে মনে ভাবছে…

কি না কি উল্টাপাল্টা বলে মেয়েটা এখন নিশি সামনে.. যার ফলে ওকে লজ্জা পেতে হবে। তখন মিরা আর কিছু বললো না। কাব্যর দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো।

–“চলুন বের হওয়া যাক….

ঠিক তখন মিরার আম্মু-আব্বু বলে উঠলেন।

–“না তোমরা খাওয়া-দাওয়া করো তারপরে বের হও

এরপর মিরা এবং কাব্য একসাথে খাওয়া-দাওয়া করতে বসলো। কিন্তু কাব্য তো কিছুই খেতে চাচ্ছিলো না কারণ ও বাসা থেকেই খেয়ে বের হয়েছে..

কিন্তু সবার জোড়াজুড়িতে টেবিলে বসলো এবং খাওয়া-দাওয়া করে কাব্য আর মিরা বেড় হয়ে গেলো..
ঠিক গাড়িতে উঠার পরেই কাব্য মিরার কানের জিনিসটা ওকে দিলো তখনই না মিরাও দুলটা নিয়ে পরে নিলো। এরপর কাব্য বলে উঠলো।

–“এইযে ম্যাডাম। আপনার ও কি শর্ট মেমোরি লস এর সমস্যা আছে?

–“মানে?

–“মানে হচ্ছে ভুলে যান নাকি?

–“জ্বী না। তা কেন হবে?

–“এইজে আমাকে সকালে ১১টায় আসতে বলে নিজেই ঘুমে বেহুশ ছিলেন।

–“আচ্ছা হয়েছে, এখন সামনের দিকে দেখে ড্রাইভ করুন।

মিরার কথাটা শুনে এর বেশি কিছু বললো না কাব্য শুধুই হাসছে মিটিমিটি করে, আর মিরা এদিকে ভাবছে..

নিশির বাচ্চার খবর আছে আজকে। কি দরকার ছিলো কাব্যকে বলার যে আমি ঘুমিয়ে আছি।
.
.
চলবে………………..
.
(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো)