তোমাকে চাইবো বলে পর্ব-১০ এবং শেষ পর্ব

0
461

#তোমাকে_চাইবো_বলে
#শেষপর্ব

রাত পোহালেই মুনার প্রথম এক্সাম। এদিকে সে পড়েছে মহা মুশকিলে।কিছুতেই মাথায় পড়া ধরে রাখতেই পারছেনা।এমন টা কখনোই হয়নি আর। সে রীতিমতো ভালো মানের ই স্টুডেন্ট ছিলো। রেজাল্ট ও সবসময় ভালোই করে।কিন্তু এবার ভীষণ ভয় হচ্ছে।পড়তে বসলেই মনে হচ্ছে এক কান দিয়ে ঢুকে আরেক কান দিয়ে সব বেরিয়ে যাচ্ছে।এ থেকে আরো চিন্তা বেড়ে গেলো যে কিভাবে কি করবে।পড়তে বসলেই খালি ডিপ্রেশনে ভুগে।শরীর ও সায় দেয়না আগের মত। মন খারাপ করে টেবিলে মুখ গুজে রইলো। রেবা বেগম এলেন তখনি।হাতে কফির মগ।
“মুনা,নে এটা খা।মাথা হালকা লাগবে।
” কফি। ইচ্ছে করছেনা তো মা।
“খেয়ে নে,সহজে ঘুম আসবেনা।পড়তে পারবি জেগে।
” কি আর পড়বো। আমার কান্না পাচ্ছে খালি বই ধরলেই।কি এক যন্ত্রণা, এখনো কিছুই শেষ করতে পারিনি।
“ওহো, শান্ত থাক একটু।রেস্ট নিয়ে নিয়ে পড়।দুনিয়ার কাজের মানুষ উনি,মাথায় হাজার চিন্তা নিয়ে বসে আছে।নাদিবের সাথে কথা বল না। দেখবি হালকা লাগবে।
” তোমার ছেলে কবে আসছে?
“তা তো বলেনি।আজ জিজ্ঞেস করবো একবার।কাজের অনেক চাপ পড়েছে।
” হুহ!কাজ না ছাই।তুমি ওসব অজুহাত বুঝবে না।না আসার ফন্দি সব।
“হাহাহা।তুই এতই জেনে বসে থাকলে কথা বলেই জিজ্ঞেস কর না,কি সমস্যা তার।
” আর কি কাজ নেই আমার? আমার পরীক্ষা নিয়ে চিন্তিত আমি,আর কিছুই না,বুঝলে।যাও তুমি এখন,ছেলের হয়ে কথা বলতে হবেনা।
“আচ্ছা বেশ চললাম।কিন্তু এই যে চেহারার হাল করেছিস,বাইরে লোকে দেখলে তো বলবে স্বামী নেই, শ্বাশুড়ি খেতে দেয়না।
” কি হাল করেছি আবার?
“চোখের নিচে কেমন গর্ত পড়ছে খেয়াল আছে? শরীরের হাড় গোণা যাবে। কেমন রোগা লাগে তোকে বলতো।
” কচু হয়েছে।তুমিও আমার মায়ের মত,খালি এসব বলো। পরে যখন খেয়ে খেয়ে ইয়া মটু হবো,মেদ জমে জমে কোমর টা হারাই যাবে, তখন তো আর তোমার ছেলে ভালোও বাসবেনা।
বলেই মুনা শ্বাশুড়ির বড় বড় চোখ দেখে লজ্জা পেয়ে গেলো। কি বলতে যে কি বলছে আজকাল।

“রেবা বেগম হাসতে হাসতে বললেন,তা সেজন্যই বুঝি জিরো ফিগার বানাচ্ছো বাপু? তা সে যাই বানাও,তার চক্করে আমার ছেলে ওই গর্তওলা চোখ দেখলে ভুলেও ফিরে তাকাবেনা কোমরের দিকে। এখন নিজেই ভাবো কোনটা আগে জরুরী।
” মা!সত্যিই কি গর্ত পড়েছে।
মুনা উঠে ছোট আয়না টা নিয়ে বারবার দেখছে চোখের নিচ।রেবা বেগম মিটিমিটি হাসছেন।
“ও তুই দেখবিনা।অন্যরা দেখবে।নাদিব আসার আগে ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া কর,ঘুমা। পরে কিন্তু বলতে পারবিনা, মা তোমার ছেলে আমার দিকে তাকায় না।
” তুমি দেখছি আমার মাথাটাই খারাপ করে দিবে,উঠে যাও তো এখন।পড়ি একটু।
হেসে উঠে চলে গেলেন রেবা বেগম।মুনা তখনও বারবার আয়নাই দেখছে।পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলেন রেবা। নিজের রুমে গিয়ে ছেলেকে মেসেজ করলেন।মুনা টা সত্যিই এই কদিনে বেশ শুটকি টাইপ হয়ে গেছে।প্রচন্ড চিন্তা করে বুঝা যায়।খায় না,ঘুমায় না,পড়াও হচ্ছেনা।কাউকে মেয়েটা বলতেও পারছেনা এসব। সব ই বুঝেন রেবা বেগম। তার ছেলেটা যে কেন ত্যাড়া হলো সেটাই মাথায় আসেনা। গেছিস ভালো কথা,দু মাস হতে চলেছে,মেয়েটা অভিমান করে কথাও বলছেনা,এবার তো ফিরে আয়।নতুন বউ ছেড়ে কিভাবে থাকছে সেই জানে।আজ ফোন করলেই বকবে।ভাবতে ভাবতেই নাদিবের কল এলো।
“হ্যাঁ মা, কেমন আছো তুমি।শরীর খারাপ নাকি তোমার?
” না বাবু,আমি ঠিক আছি।তুই কবে ফিরবি রে?
“মা আসলাম তো মাত্র দুমাস হচ্ছে।অথচ কাজ এখনো অর্ধেক ও সামলে উঠতে পারিনি।কি যে অসহ্য লাগছে মা।
” মুনার সাথে কথা বলিস না কেনো,কিভাবে আছিস এতগুলো দিন এভাবে? তুই কি আমার ছেলে বাবু?
“হাহাহ,মা তোমার কি ডাউট আছে নাকি আমি আর কারো ছেলে।এই কথাটা কি তোমার বউ কে গিয়ে বলতে লজ্জা পাও? ওর ফোন চেক করিও।কয় হাজার কল দিছি।
” হাজার?
“তো।শুনো,ওর পেছনে যত ধৈর্য খরচ করছি এত টা নিজের জন্য করলে এতদিনে কাজ শেষ করে ফিরেও যেতাম।হাহ
” হ্যাঁ, শুধু তুমি একাই মহাভারত শুদ্ধ করে ফেলতেছো।সে তো খাচ্ছে আর ঘুমাচ্ছে তাইনা।মাত্র ওর রুম থেকে এসেছি।কি চেহারা হয়েছে মেয়েটার।কিচ্ছু বলেনা মুখ ফুটে।সব কিছু কেনো তোকে আমাকেই বলে বলে হুশ করাতে হবে? কবে বড় হবি তুই।
“হতেও চাইনা।আমি বড় হয়ে গেলে তোমার কি হবে হু।কাকে এমন করে করে শাসাবে।
“থাক।এসব বলে মিসিং বাড়াস না আমার।তুই যত তাড়াতাড়ি পারিস ফিরে আয়।আমার আর ভালো লাগছেনা মুনাকে এভাবে দেখতে।
” মা!
“কিছু বলবি?
” মুনা কি করছে?
“অহ,মিসিং?
” তুমি না। আমার সাথে কথা বলতে তার কি সমস্যা বলো তো।
“বলবেনা।অভিমান হয়েছে তার বুঝিস না কেন? মুনা পড়ছে এখন।কাল থেকে এক্সাম শুরু ওর। মেয়েটা সত্যিই ভালো নেই বাবু।তুই চলে আয়।

মায়ের সাথে কথা বলে মনটা হালকা যতটা না তার অধিক ভার ই হলো। মুনার ফাইনাল এক্সাম চলছে।সেদিন রাতে কান্না শুনেই বুঝেছে মুনা ভালো নেই।এই মেয়েটা কাছে নেই,মেয়েটার আধিপত্য নেই এই রাজ্যে তবু কি ভীষণ ভাবে মেয়েটার ছায়া বুকের ভেতর খেলা করছে।মেয়েটা উচ্চারণ করছেনা তবু কি ভীষণ ভাবে ডাকছে। মনটা হু হু করে কেঁদে উঠলো নাদিবের।তবু ছেড়ে ছুড়ে ফেরার উপায় ই নেই এখন।

..
মুনা এক্সাম দিয়ে সোজা বাসায় চলে আসলো।খুব ক্লান্ত লাগছে।ফ্রেন্ডসরা নাস্তা করতে বললেও করলোনা।
বিকেল বেলা এক্সাম হওয়ায় ক্যাম্পাস ছাড়তেই সন্ধ্যে হয়ে গেলো। ড্রাইবার কে জোর করেই শ্বাশুড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলো মুনার জন্য গাড়ি নিয়ে ওয়েট করতে।তাই আর সমস্যা হয়নি ফিরতে।বাসায় এসে এফ্রোন খুলতেই রেবা বেগম ঠান্ডা জুস এনে দিলেন।
“কেমন হলো রে এক্সাম?
” যতটা চিন্তা করেছি তার চেয়ে ভালো হয়েছে মা।
“তুই শুধুই চিন্তা করছিলি।নে ফ্রেশ হয়ে আয়।খাবার দিচ্ছি।
” ঘেমে গেছি প্রচুর,গোসল করে নিই।তুমি যাও।
“আচ্ছা,আয় তুই।ও হ্যাঁ বেয়ান কল করেছিলো তোর ফোন অফ পেয়ে।কল দিস।
আচ্ছা।

গোসল করে এসে মা আর ভাইয়ের সাথে কথা বলতেই মনটা চাঙা হয়ে উঠলো।খেয়ে এসে শুতেই চিরচেনা শূণ্যতার আনাগোনা। ফোনটা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে নাদিব কে মনে মনে কিছুক্ষণ বকে ঘুমিয়ে পড়লো।

সকালে সুফিয়ার ডাকে রেবা বেগমের ঘুম ভাঙলো। চোখ খুলেই সুফিয়াকে দেখে অবাক হলেন।প্রায় এক মাস পর এলো সুফিয়া।খোজ খবর না দিয়েই উদাও হয়েছিলো সে।আজ হঠাৎ উপস্থিত। তারপর শুরু হলো অবাকের পর অবাক হওয়ার পালা।সুফিয়ার সাজ সজ্জা আর বিস্তারিত ব্যাখ্যার পর রেবা বেগম বুঝলেন সুফিয়ার হুট করেই ঘরোয়া আয়োজনে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয় তার মা।অনেক মানা করেও লাভ হলোনা।বিয়ের পর ই জামাই সাথে করে নিয়ে যায়,আর আসতে দেয়নি। কাল ই এলো। আর এই সুযোগে দেখা করতে এলো।
রেবা বেগম তাজ্জব বনে গেলেন। সুফিয়ার চোখ মুখে উচ্ছ্বাস। দেখেই মনে হচ্ছে সুখেই আছে।

রেবা বেগম হেসে বললেন,তাহলে তো আজ তুই আমার গেস্ট।তুই মুনার কাছে গিয়ে গল্প কর,আমি নাস্তা বানাচ্ছি।ওকে জাগিয়ে দে যা।

সুফিয়া গিয়ে মুনাকে কয়েকবার ডেকে গা ধরে জাগাতেই চমকে গেলো। মেয়েটার জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। সুফিয়া চিৎকার করতে করতে কিচেনে এলো। রেবা বেগম ও দেখে ভয় পেয়ে গেলেন।ভাগ্যিস আজ গ্যাপ ছিলো, কাল আবার পরীক্ষা, এখনি মুনার এমন জ্বর।দেরি না করেই সুফিয়া বাসায় রেখে ডক্টরের কাছে নিয়ে গেলেন।ডক্টর সব শুনে বললেন অতিরিক্ত মেন্টাল প্রেশারের কারণে এমন হচ্ছে। জ্বর যাতে পড়ে যায় তাড়াতাড়ি সেজন্য ওষুধ দিয়ে বললেন ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া করতে।গাড়িতে বসে ইচ্ছেমতো বকলেন মুনাকে।বাসায় এসে নাস্তা করে ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়লো মুনা।জ্বরের সাথে সাথে অদ্ভুত মিসিং হচ্ছে।চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে। নাদিব কে কল করার জন্য ফোনটা হাতে নিতেই দেখলো সমস্ত শরীর অবশ হয়ে আসছে।হুশ হারিয়ে ফেলছে সে।আর কিছুই মনে নেই।


নাদিবের আজ কিছুতেই কাজে মন বসছে না।বার কয়েক মুনাকে কিছু না ভেবেই কল করে বসলো।কোন রেসপন্স পায়নি। হতাশ হয়ে বসে রইলো নাদিব।

দুপুরে সুফিয়া সহ রান্না সেরে মুনাকে জাগালেন রেবা বেগম।কিছুটা ঝিরঝিরে লাগছে শরীর এখন মুনার।উঠে ফ্রেশ হয়ে সুফিয়া কে দেখে চমকে গেলো। চেনাই যাচ্ছেনা তাকে আজ।
“বাব্বা।সুফিয়া তুই যে একেবারে চিনতেই পারছিনা আমি।
” সে তো আমিও তোমাকে চিনতে পারছিনা।কেমন শুকিয়ে গেছো।
“আরে তুই তো কি স্মুদলি শুদ্ধ বলছিস।আমাদের তো বড় ভুলেই গেলি।হুট করে হাওয়া।
” হাহা,মুনা।ও আর আগের সুফিয়া নেই। বিয়ে হয়ে গেছে মেয়ের। জোর করে ওর মা বিয়ে করিয়ে দিলো এই বয়সেই।
“সিরিয়াস্লি? তুই বিয়েও করে ফেললি? তুই তো চাসনি বিয়ে।ভালো আছিস তো?
” কি যে বলোনা ভাবী।আল্লাহ খুব ভালো রেখেছে গো।উনি তো আমারে আসতেই দিচ্ছিলো না ওখান থেকে।দুদিনের নাম করে আসলাম।আমারো এখন ভালো লাগেনা এখানে।
মুনা হা করে সুফিয়ার কথা শুনছে।সত্যিই বদলে গেছে সে।
“বাহ,বিয়ে হতে না হতেই এত দরদ। আগে ত বেশ নারাজ ছিলি।
” বিয়ের পর সব বদলে যায় ভাবী।এই যে ভাইজান নাই,তুমি কেমন চিমসে গেছো,এমনি এমনি? তার জন্য তোমার মন পোড়ে বলেই। বিয়ার পর ওই অচেনা মানুষ টা সবচাইতে আপন হয়া যায় ভাবী।

মুনার লজ্জা পেলো।নাদিবের জন্য তার মনখারাপি একে একে সবার নজরে পড়ছে।শুধু নাদিব ই দেখছে না।দেখবেও না। লোকটা আসবেও না আর।যদি না আসে,যদি আমি মরে যাই এভাবে থেকে থেকে? তখন নিশ্চয়ই খুশি হবে।মুনার চোখ ভরে এলো। খেয়ে উঠে বারান্দায় বসে রইলো। কি মনে করে ফোন নিতেই নাদিবের অনেকগুলো কল দেখলো। ব্যাক করতেই নাদিব এর কন্ঠ।
“মুনা তুমি কল কেনো ধরোনা বলোতো।মা বললো তোমার ভীষণ জ্বর? জানো কত বাজে অবস্থায় আছি আমি।কি চাও তুমি,আমি টেনশন করে করে মরে যাই?
মুনা চুপ করে আছে,যেনো তার নিঃশ্বাস ও আর পড়ছেনা।সুফিয়ার কথা গুলো মাথায় ঘুরছে।কি অদ্ভুত, যে লোকটাকে কখনো দেখেই নি,বিয়ের পর সেই লোকটার গায়ের গন্ধ ছাড়া ঘুম আসতে চায়না।সে লোকটার নড়াচড়ার শব্দে জীবন অভ্যস্ত হয়ে যায়।লোকটার অনুপস্থিতি একেক মুহুর্তে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।সত্যিই অদ্ভুত।

” মুনা প্লিজ।একবার কথা বলো।আমি জাস্ট একবার তোমার ভয়েস টা শুনতে চাই মুনা প্লিজ বলো। নাদিব কাঁদছে।মুনাও কাঁদছে।কিন্তু গলা দিয়ে একটা শব্দ বের হচ্ছেনা।এ যেনো প্রকৃতির ও শত্রুতা।
“মুনা,আমি সারাক্ষণ অপেক্ষা করে থাকি কখন একটা কল আসবে,কখন কথা শুনবো তোমার। তুমি অসুস্থ,একটা বার বললেনা আমাকে। আমি এতই পর মুনা? বলোনা মুনা প্লিজ
মুনা কেদে কেদে হিচকি তুলে ফেলেছে।নাদিবের নিরব কান্না মুনাকে আরো বেসামাল করে তুলছে।ইচ্ছে করছে ধমক দিয়ে বলতে,এই ছেলে,একদম কাদবেনা।আমার কষ্ট হয়।
তারপর যখন সে জিজ্ঞেস করবে কোথাও কষ্ট হয়,তখন বুকের বা পাশ টা দেখিয়ে দিবে মুনা।
“আমি আর কক্ষনো তোমাকে ভালোবাসতে জোর করবোনা।বাসতে হবেনা আমাকে।আমি যে বেসে ফেলেছি শুধু সেটা মেনে নাও একবার,আমি কিচ্ছু চাইবোনা আর। এবার তো কিছু বলো।
রাগে ক্ষোভে মুনার আরো কান্না পাচ্ছে,বদ লোক একটা। ভালোবাসিয়ে নেয়ার পর এখন আবার বলতেছে চায়না কিছু।আয় একবার,থাব্রায়া বুঝাবো কি চাই না চাই। সাধুর গোষ্ঠী কিলাই।রাগে মুনা ফোন রেখে দিলো।নাদিব এর দুচোখ লাল হয়ে আছে। কিভাবে আর চেষ্টা করলে মুনা কথা বলবে।

..
দেখতে দেখতে মুনার পরীক্ষা শেষ হয়ে এলো। অসুস্থ থাকায় গাড়ি করে আসে আর ফেরার সময় রেবা বেগম নিজেই গাড়ি নিয়ে গিয়ে অপেক্ষা করেন।দুজনে একসাথে ফিরে।আজ লাস্ট এক্সাম।বেশি গ্যাপ না থাকায় বেশি দিন লাগেনি এবার।মুনা বের হওয়ার সময় মাকে বললো বারবার,আজ তুমি যেওনা।আমি ঠিক আছি এখন।চলে আসবো। শ্বাশুড়ি বললো দেখা যাবে সেটা।তুই যা এখন।মুনা বেরিয়ে গেলে রেবা বেগম রান্না বসালেন।মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছে আজ।

গোধূলির আলো খেলা করছে চারপাশে। এই সময় টা মুনার বেশ প্রিয়।এক্সাম শেষ হতেই হল থেকে বেরিয়ে ফ্রেন্ডস দের বললো কিছুক্ষণ আড্ডা দিতে।এখনো সন্ধ্যা হয়নি,তাছাড়া গাড়ি পাঠাবে বাসা থেকে,চিন্তা নেই। ফ্রেন্ড রা মিলে হাসি মজা করতে করতে অনেক্ষণ পেরিয়ে গেলো হুশ নেই।সন্ধ্যা হয়ে গেছে,রাস্তার নিয়ন বাতি জ্বলে উঠেছে। লাল হলুদ কমলা রঙা শহর টা বড্ড মোহনীয় লাগছে আজ।ফিরতেই ইচ্ছে করছেনা।ফ্রেন্ড রা একসময় তাড়া দিতেই মনে পড়লো, গাড়ি এসে কি অপেক্ষা করছে? ফোন ও তো অফ,ড্রাইবার কল দিলেও তো পাবেনা। ফ্রেন্ডদের সাথে নিয়ে এগিয়ে আসছে মুনা।এবার বাসায় যেতে হবে।
সামনে আসতেই গাড়ি নজরে পড়লো। মুনা নিজের সময়জ্ঞান নিয়ে নিজেকে বকতে বকতে এগিয়ে গেলো গাড়ির দিকে।দূর থেকে ড্রাইবার কে দেখা যাচ্ছেনা, কোথাও চা খেতে চলে গেলো নাকি।মুনা এগোতে এগোতে ফোন অন করছে আর ড্রাইবার কে খুঁজছে।যখনি ড্রাইবার কে কল দিতে যাবে তখন আবার চোখ গেলো গাড়ির দিকে।গাড়ির গায়ে হেলান দিয়ে দুহাত ভাজ করে একজন লোক দাড়িয়ে। দেখে ভদ্রলোক ই মনে হচ্ছে।দূর থেকে এই আলোছায়ায় স্পষ্ট না বুঝলেও এই দাড়ানোর ভঙি টা মুনার চেনা।মুনার বুক কেপে উঠলো। সে কি স্বপ্ন দেখছে? নাকি ভুল দেখছে।কিভাবে সম্ভব এটা।মুনার মনে হচ্ছে এখনি সে এখানেই কেঁদে ফেলবে।এগোনোর শক্তি নেই আর।নিজেকে শক্ত করে ফ্রেন্ডস ছেড়ে দ্রুত এগিয়ে গেলো মুনা।তার আর ধৈর্য নেই এক মুহুর্ত। অনেকটা সাহস সঞ্চার করে একটু কাল বিলম্ব না করেই ঝাপিয়ে পড়লো নাদিবের বুকে।এত শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে যে নাদিব হাত গুলোর ভাজ অব্দি ছাড়ানোর স্পেচ পাচ্ছেনা।মুনার জমিয়ে রাখা উষ্ণ নিঃশ্বাসের তাপে নাদিবের কান গলা পুড়ে যাচ্ছে প্রায়। কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো নাদিব।কি হচ্ছে এসব তার নিজের ই বিশ্বাস হচ্ছেনা।এ কি সত্যিই মুনা? আমার বউ ই তো? বিস্ময় কাটলো মুনার গোঙানির শব্দে,হিচকি তুলে কেঁদেই চলেছে জড়িয়ে ধরে।এদিকে মুনার বান্ধবী রা হা করে তাকিয়ে।কি হচ্ছে এসব,ভর সন্ধ্যায় সাক্ষাৎ রোমাঞ্চকর সীন চলছে।নাদিব হাত দুটো আস্তে আস্তে ছাড়িয়ে মুনাকে দুহাতে শক্ত করে চেপে ধরলো বুকে। কারো মুখে কোনো কথা নেই,কোন ভূমিকা,ব্যাখ্যা বা সংকোচ কিছুই নেই আজ। ব্যস্ত নগরীর এই রংচঙে সন্ধ্যায় কোনো এক প্রেমিক যুগল অপেক্ষার সীমা পেরিয়ে সন্ধিতে মেতেছে সেদিকে কার নজর আছে বা নেই সেই পরোয়া নেই দুজনের।যদিও ক্যাম্পাস এরিয়ায় হওয়ায় জায়গাটা এখন ফাকা অনেকটা। মুনা নাক টেনে টেনে কেঁদেই চলেছে।নাদিব সেভাবেই ধরে আছে,ইচ্ছেমতো কাদুক আজ।জমে থাকলে আবারো কাদবে,তা আর হচ্ছেনা ম্যাম।পেয়েছি তো পেয়েছিই। অনেক্ষণ পর মুনা একটু শান্ত হলো, কিন্তু এবার ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে।রাত হয়ে যাওয়ায় সুবিধাই হলো। লজ্জা টা কম ধরা পড়বে।
“কি শেষ? এটুক জমিয়েছিলে দুমাসে?
ওভাবে জড়িয়ে থেকেই নাদিবের পিঠে কিল দিয়ে বলল মুনা,
” এটুক তাইনা? দু মাস কি করেছি তাহলে?
“এই ব্যাস ব্যাস।প্লিজ আর কেদোনা এখন।দেখো তোমার ফ্রেন্ড রা তামাশা দেখে চলে গেলো ।
” দেখুক,আমার কি। বলেই মুনা আবার কাঁদতে লাগলো।
নাদিব টেনে মুনাকে দাড় করালো সোজা,প্লিজ কেদোনা।
“না,কাঁদবো আমি।তুমি একদম মানা করবেনা আমায়।বাজে লোক একটা।

“হ্যাঁ খুব বাজে তো।দেখি চোখ মুছে দিই।কষ্ট হচ্ছে খুব?
” হু,মাথা নাড়ালো মুনা
“কোথায়?
” এখানটায়,বুকের বা পাশ দেখালো মুনা।নাদিব আবছায়ালোয় তাকিয়ে রইলো মুনার দিকে।এই মুখটাকে এত ভালোবাসতে হলো কেন।ভালোবাসতে না পারায় যন্ত্রনায় পাগল হয়ে যাচ্ছিলো প্রায়। নাদিব চোখ সরিয়ে নিতেই মুনা আবার কাঁদতে শুরু করলো।
নাদিব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, কি আবার শুরু? শেষ হবে কখন শুনি?
“এখানটায়… মুনা হিচকি তুলতে তুলতে আর বলতেই পারলোনা।নাদিব এই সম্মতি টুকুই খুজছিলো এতগুলা মাস। ঝিরিঝিরি হাওয়া বইছে,একটু দূরের ল্যাম্পপোস্ট এর হালকা আলোয় মুনার মুখটাই দেখা যাচ্ছে শুধু।অদ্ভুত মাদকতা ছড়াচ্ছে মেয়েটা।নাদিব সেই মাদকে ডুব দিতে যাচ্ছে ক্রমশ। মাথা টা নিচু করে মুনার গলা স্পর্শ করলো সে।

একটু একটু করে এখন সবটা নিজের নামে করে নেয়ার পালা।নাদিবের খোচাখোচা দাড়ির স্পর্শ মুনার জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় উপক্রম করছে। এক মিনিট দু মিনিট করে কত সময় গেলো খেয়াল নেই কারো।সারাটা রাত এভাবে দাঁড়িয়ে থেকেই কেটে যাক।কারো আপত্তি নেই আজ।শব্দ নয়,অনুভূতি দিয়ে উপলব্ধি করার দিন আজ।চারপাশে কি ঘটছে কারোর ই হুশ নেই।সারা রাস্তা মুনা একটা ও কথা বলেনি আর।চুপ করে নাদিবের কাধে হেলান দিয়ে হাত হাত রেখে বসে ছিলো। কথা বলাই বা কি প্রয়োজন।

..
বাসায় আসতেই সমস্ত লজ্জা পেয়ে বসলো মুনাকে,শ্বাশুড়ির সামনে কি বলবে সে।দরজা খুলে ভেতরে আসতেই অবাক হলো মুনা।ছেলেকে দেখে একটুও অবাক হননি মা।তার মানে আগেই জানতেন।দুজনকে একসাথে দেখে হাসছেন মা।
“যা দুজনে ফ্রেশ হয়ে নে।একজন তো এসেই গাড়ি নিয়ে ছুটলেন।একটা কিছু মুখেও দেয়নি।
নাদিব মাকে জড়িয়ে হাসলো, মুনা তাকিয়ে রইলো মুগ্ধ নয়নে।
” মা তুমি তো বললেই না আমাকে উনি আসবে,তুমি সব জানতে তাইনা।
“হাহা,কেমন দিলাম হু? ছেলেটা কার দেখা লাগবে তো। খুব তো অনশন চালাইছিস,এবার এনে দিলাম।সামলে রাখ।
” হুহ,বয়ে গেছে আমার।কাজ শেষ তাই এসেছে মা।ওসব তুমি ধরতে পারবা না।
“ওই একদম না।আমার অর্ধেক কাজ ই কম্পলিট হয়নি। আরেকজনকে ভার দিয়ে ইমার্জেন্সি তে এসেছি।দুদিন থেকেই ফিরতে হবে আবার।বউয়ের অসুখ বলে কথা। না আসলে হয় মা? বলো ওনাকে।
” হ্যাঁ তাইতো। আমার ছেলের দায়িত্বজ্ঞান প্রচুর মানতেই হবে আজকের পর।
“হয়েছে,দুদিনের জন্য এসে উদ্ধার করেছেন আমাকে।মা ছেলে আড্ডা মারো,আমি ফ্রেশ হই।
মুনা যাওয়ার পর মা ছেলে মিটিমিটি হাসছেন।মুনা ফ্রেশ হয়ে কিচেনে এলো খাবার দিতে টেবিলে।নাদিব কে মা ঠেলে ঠেলে রুমে পাঠালেন।গোসল সেরে টেবিলে এসে বসলো।ঠিক যেনো আগের দিনগুলো ফিরে এসেছে।মাঝখানের দুটি মাস যেনো ছিলোই না বাসায়।সেই খুনসুটি, মা ছেলের হাসি মজা সব ফিরে এসেছে।।


নাদিব মায়ের সাথে বসে কথা বলছে,মুনা এসে রুম গোছালো।মনটা একটু ভার।দুদিনের জন্য এত কষ্ট করে কেন এলো নাদিব।এখন তো আরো কষ্ট হবে থাকতে।ধ্যাত।মুনা মেজাজ খারাপ করে বাথরুমে গেলো। কিছুক্ষণ পর একটা সুতি শাড়ি পরে বের হলো। বিয়ের পর থেকেই মুনা টের পেয়েছে নাদিব শাড়ি পছন্দ করে।এলোমেলো করে হলেও তাই মুনা বারবার পড়তো।মনে পড়তেই হাসলো সে।আয়নার সামনে এসে চুল গুলো কাঠি দিয়ে খোপা করে নিলো। ঠোঁট এ হালকা লিপজেল আর কপালে একটা ছোট্ট টিপ পড়লো।ব্যাস।এটুক ই অনেক। ব্লাউজের পেছনের ফিতা টা বাধতে বাধতে হঠাৎ কানে হালকা ভলিউমে গানের শব্দ বাজলো।ইংলিশ গান,মুনা বুঝতে পারলো নাদিব এসেছে।ওর ল্যাপটপেই গান বাজছে।বারান্দায় উঁকি মারতেই নজর পড়লো। মুনা নিঃশব্দে পাশে দাড়ালো। বাতাসে হালকা হালকা উড়ছে আঁচল। মুনা তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে,নাদিব হেলান দিয়ে মুনার দিকে তাকিয়ে রইলো। এক হাত দিয়ে মুনার কোমর স্পর্শ করলো। একদম নির্ভয়ে,নিঃসংকোচে।মুনা চমকে উঠলো আচমকা স্পর্শ পেয়ে।আস্তে আস্তে নিজের দিকে টেনে নিলো মুনাকে।একদম বুকের সাথে লেপ্টে।মুনা চোখ নামিয়ে ফেললো।হাতটা মুনার হালে রেখে আলতো করেই টিপটা তুলে নিলো।তারপর সেখানটায় শক্ত করে চুমু দিলো নাদিব।সাথে আলতো করে টেনে চুল গুলো খুলে দিলো।মুনা চোখ তুলে তাকালো।
” জানো মুনা,এটা হলো শান্তির চুমু।অর্জনের চুমু।আমি তোমাকে ঠিক আমার মত করেই পেয়েছি । আর শুনো আজ থেকে আর কখনোই টিপ পরবে না।
“পরবো না?
” উহু।সবসময় এই টিপ টা আমিই হতে চাই।এভাবে.. আরেকটা চুমু।
মুনা আহ্লাদী হয়ে গেলো নিমেষে।
“তুমি কিভাবে পারলে আমাকে রেখে যেতে? একবার ও জানতে চাইলে না আমি যেতে দিতে চাই কিনা।
” আমি জানি তুমি মানা করতে। কিন্তু যাওয়াটা সত্যিই জরুরী ছিলো। যদিও কম ভুগিনি সেখানে তুমি ছাড়া।কিভাবে কেটেছে একেকটা রাত আমিই জানি।অবশ্য ভালোই হলো, নাহলে তো বুঝতেই পারতাম না আমার বউ টা এত বেশি ভালো বেসে ফেলেছে আমাকে।
“আর বাসবোই না।দুদিনের জন্য বেসে কি লাভ?
” কেন,দু দিনে হবেনা?
“না হবেনা।দুইদিনে আমার অভিমান গুলাই বলে শেষ হবেনা।
” তো কতদিন চাই?
“সারাজীবন।।
” তবে তাই হোক,আপনার নামেই বাকি জীবন।
“কাজ?
” পাগলী।বউ এর ভালোবাসা অর্জনের থেকে কাজ বেশি? আমি সব গুছিয়ে ওদের দিয়ে এসেছি।বাকিটা ওরাই করবে।তোমার কান্না টা আমাকে শান্তি দিচ্ছিলোনা।কিভাবে যে এসেছি..চেহারার কি করেছো নিজের যত্ন না নিয়ে।হু
নাদিবের বুকে আঙুল ঘোরাতে ঘোরাতে মুনা বলল।
” আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। আমি তোমাকে ছাড়া এই ঘরটায় দম বন্ধ হয়ে মরেই যেতাম।আমি বুঝতেই পারিনি এত কাছাকাছি থেকেও,এত ভালো বেসে ফেলেছি কখন।

“মরতে দিলেই তো। দুহাতে মুনার কোমর আঁকড়ে ধরলো নাদিব।জানো মুনা, বিয়ের পর যখন তুমি অগোছালো শাড়ি পরে ঘুরতে,আমার বেশ মজা লাগতো।হাসতাম নিজেই। ইচ্ছে হতো হাত ধরে কাছে দাড় করিয়ে নিজেই শাড়িটা পরিয়ে দিই। কিন্তু কিছুদিন যাবার পর সেই ইচ্ছেটা আর রইলো না।একেবারেই না।

মুনা অবাক হয়ে বললো কেন?
” কারণ ততদিনে আমি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি তোমার এই অগোছালো শাড়ির ফাকে উদাম হয়ে থাকা কোমর দেখতে দেখতে। এই মুগ্ধতা আমি হারাতে চাইনি।
“ওরে পাজি।আমি তাহলে ঠিক ই ধরেছি।তুমি চুরি করে করে দেখতে।
” বউ হোন।হক বানতাহে মেরা।হুম
“ওরে বউ রে।এতদিন কিভাবে ছিলেন বউ ছেড়ে?একটুও কষ্ট হয়নি বাব্বা।
“হয়নি? বিয়ের দ্বিতীয় রাতে যখন ভয় পেয়ে অন্ধকারে জড়িয়ে ধরেছিলে শক্ত করে,কেদেছিলে এখানে মাথা রেখে? সেদিন থেকে নিজেকে কতটা শাসনে রেখেছি নিজেই জানি।

“অনেক জ্বালিয়েছি তাইনা?
” বড্ড বেশিই।
“আমি নিজেই টের পাইনি কখন এত ভালো বেসেছি।যখন চলে গেলে,তখন একটাই ভয় আমাকে ঘুমাতে দিতোনা।যদি না ফিরো আর? যদি আদিবের মতো তোমাকেও…
মুনা শীতল হয়ে গেলো। মুখের কথা মুখেই ফিরিয়ে নিতে চাইলো।এত সুন্দর একটা মুহুর্তে সে কেন আদিবের নাম নিলো।নাদিব আবার ভুল বুঝবে।
মুনার স্তব্ধ হয়ে যাওয়া দেখে নাদিব অভয় দিলো।
” কি? আমাকেও আদিবের মতই হারিয়ে ফেলবে?
“মুনা দু চোখএর জল ছেড়ে দিলো।আমি আদিবের কথা শুধু বলার জন্যই বলেছি।তুমি ভুল বুঝোনা আমাকে আর।
” নাদিব হেসে মুনার দুগালে হাত রেখে বললো, তুমি এমন ভীতু কেন? আদিব এর কথা বলতে এত সংকোচ কেন? আদিব ই আমাকে তোমার জীবনের অংশ করে রেখে গেছে।আমি শুধু চেয়েছি আমাদের নিজস্ব একটা প্রেম আসুক।সেটুক আমি পেয়েছি,আর কি চাই?
“আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম জানো।আমি আদিব কে ভুলতে যতদিন চেষ্টা চালিয়েছি ততদিনে তুমি আমার ব্যক্তিগত দুনিয়ায় ঢুকে যাবতীয় লুটপাট করে বসে আছো।অথচ আমি টের ই পাইনি।
” কাউকে ভুলাতে হবেনা জোর করে।থাকুক কিছু ধূসর স্মৃতি।আমাদের ভালোবাসাবাসির যন্ত্রণায় আর সব এম্নিই পালিয়ে বেড়াবে।তাইনা?
“হুম।
” চুপ! মুনা ভয়ার্ত চোখে তাকালো।নাদিব ঘাড় নিচু করে মুনার চুলে নাক ডুবিয়ে মুনার চিবুক টা আরো এগিয়ে নিলো।মুনা লজ্জায় চোখ বন্ধ করে নিতেই নাদিব হেসে ফেললো।এই মায়া উপেক্ষা করার শক্তি পৃথিবীর কোনো পুরুষের ই নেই।মুনার দুচোখ ছুয়েছে নাদিবের ঠোঁট। দু গাল ছুতেই নাদিব আর সহ্য করতে পারলো না।বুকের ভেতর ধুমড়ে মুছড়ে সমস্ত অপেক্ষার বাধ ভেঙে অশ্রু হয়ে বেরিয়ে এলো।শক্ত করে মুনার দু গাল চেপে ধরে অশ্রুস্নাত হয়ে আদর করছে সে। মুনার গাল বেয়ে বুকে এসে পড়ছে সেই জল।মুনা চমকে উঠে চোখ মেলে তাকালো নাদিবের চোখে।সে দুচোখ বন্ধ এখনো। মুনা নাদিবের মুখ টা তুলে ধরলো নিজের দিকে।

“কাঁদছো কেন তুমি?
“তোমার জন্য..
” আমি..
“হ্যাঁ তুমিই।তোমাকে চাইবো বলে আমি হয়তো নিজেকেও এভাবে চাইনি নিজের জন্য।তোমাকে চাইবো বলে আমার কতগুলো বসন্ত অহেতুক কেটেছে,প্রেম হয়নি উছাড় করে।
তোমাকে চাইবো বলেই হয়তো বেঁচে থাকাটা এত প্রিয়,তোমাকে চাইতে এসেই বুঝেছি বিষাদ ও কতটা অমৃত। ভালোবাসি মুনা।
” অনেক বেশিই ভালোবাসি আপনাকে,বলেই মুনা নাদিবের দিকে উঁচু হয়ে নিজের ঠোঁটে নাদিবের ঠোঁট সপে দিলো।নাদিবের দুহাত মুনার পিঠে খেলা করছে।মুনার হিংস্র নখ বিক্ষোভ চালাচ্ছে নাদিবের বুকে পিঠে।সেভাবেই মুনাকে কোলে তুলে নিয়ে এলো নাদিব।শূণ্য একটা ঘরটাকে পূর্ণ করার সময় হয়েছে।আনাচে কানাচের সমস্ত বিষাদ আজ দুজন মানব মানবীর প্রেমের হিংসেয় জ্বলে পুড়ে বিদায় হবে।আলো নিভে যাক,পৃথিবীর প্রয়োজনীয় সকল ব্যস্ততার সমাপ্তি ঘটুক, সব নিরব হয়ে আসুক।বারান্দায় এখনো গান বেজে চলেছে মোহনীয় সুরে,নাদিবের খুব প্রিয় গান।
“so Honey now..take me into ur loving arms..kiss me under the light of a thousand stars..place ur head on my beating heart…….may be we found love right where we are…..”এ ছাড়া এই মুহুর্তে এ শহরে আর কোনো শব্দ নেই,কোনো কোলাহল নেই।নাদিবের উষ্ণ আলিঙ্গনে তলিয়ে যাচ্ছে মুনা।কার সাধ্যি তাকে রুখে।একে অন্যের বুক ছুঁয়ে ভালোবাসার দখলিস্বত্ব আকঁছে।যে প্রেম মাদকতা মাথায় চেপেছে তা চুল থেকে পা অব্দি শরীরের প্রতিটি বিন্দু ছুঁয়ে ছুঁয়ে নামছে।একে অন্যকে যেনো মুক্ত করে আনছে গভীর গিরিখাদ থেকে।দুজন মানুষের পরিপক্ক ভালোবাসা খেলা করছে প্রতিটা লোম লোম ছুঁয়ে।ভোর হতে বেশি দেরি নেই..তখনো আবছা বারান্দায় বেজেই চলেছে…
” “and darling i, will be loving you,til we’re 70..and baby my heart,still fall as,hard,23…..and i’m thinking ’bout,how people fall in love in mysterious ways….

_______শেষ
লিখাঃ Mehtarin A Hiya