তোমাতেই আমি পর্বঃ১০

0
1848

তোমাতেই_আমি
#পর্ব_১০
#Tabassum_Kotha

চোখে মুখে পানি দিয়ে নিজেকে যথেষ্ট স্বাভাবিক করে নিচে গিয়ে দেখি অর্ণব বাবা আর সিদরাতের সাথে বসে আছেন। অর্ণবকে দেখে বুকের চিনচিনে ব্যথাটা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। আমি কিভাবে পারবো অন্যকাউকে মেনে নিতে। না না এসব আমি কি ভাবছি,, এতোটা স্বার্থপর আমি হতে পারবো না।

— মীরা! কালই তোর গায়ে হলুদের প্রোগ্রাম টা সেড়ে ফেলতে চাই। সিদরাতের ফ্যামিলি আর ওয়েট করতে চায় না।

আবরারের কথা শুনে মীরা অর্ণব দুজনেই হতবাক হয়ে যায়। তারা দুজনেই জানে দুজন দুজনকে ভালোবাসে। কিন্তু পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তাদের দুজনেরই সময়ের প্রয়োজন ছিল।

— কিন্তু বাবা এতো তাড়া কিসের! কয়েকটা দিন আমরা ওয়েট করতে পারতাম।

— এমনিতেও তো বিয়ে করতেই হবে তাই না, তাই কিছুদিন আগে করলে কোনো প্রব্লেম হবে না। (সিদরাত)

— সিদরাত ঠিক বলছে মীরা। আমিও অসুস্থ কখন কি হয়ে যায়! তুই বরং জলদি বিয়ে টা করে নে। (আবরার)

অর্ণব কিছু না বলে সেখান থেকে চলে যায়। মীরা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অর্ণবের যাওয়ার দিকে। মীরা জানে অর্ণব কষ্ট পেয়েছে, তার মনেও আগুন জ্বলছে। কিন্তু সে কি করবে তা সে জানে না। আবরার খান অর্ণবের বাবা অঙ্কুর কে ফোন করে মীরার বিয়ে প্রিপোন্ড হওয়ার বিষয় টি জানিয়ে দেয়। সময়ের সাথে সাথে তাদের সম্পর্কটাও শুধরে গেছে।

মীরা দরজার দিকেই দৃষ্টি স্থির করে রেখেছিল তখন সিদরাত মীরাকে ডাকলো,
— মীরা চলো আমি তোমাকে অফিসে পৌছে দেই।

— আসলে,, সিদরাত তুমি যাও। আমার কিছু কাজ আছে তাই আমি অন্য জায়গায় যাচ্ছি।

— ওকে। কিন্তু বিকেলে আমরা সবাই শপিং এ যাচ্ছি। টাইম বের করে নিও।

— হুম।

মীরা সিদরাতকে বিদায় জানিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরলো।

বেপরোয়াভাবে ড্রাইভ করছে অর্ণব। সবকিছু কেমন হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে তার। যখনই তার কাউকে প্রয়োজন ছিল তখন সেই মানুষটা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। প্রথমে তার মা, তারপর বাবা আর এখন মীরা। সে জানে না মীরা তার জীবনে না এলে সে কিভাবে বাঁচবে। সে শুধু এটুকুই জানে মীরাকে সে হারাতে পারবে না।

অর্ণব তার বাড়িতে পৌঁছৈ ভিতরে ঢুকতেই দেখে দিয়া তার বাড়ির সার্ভেন্ট নিতা কে এক বান্ডেল টাকা দিচ্ছে। অর্ণব দরজার সামনে আর দিয়া ভিতরে থাকায় তারা দেখতে পায় না অর্ণবকে। অর্ণব ধীর পায়ে এগুতেই দিয়া পিছনে ফিরে। অর্ণব কে দেখে দিয়া দৌড়ে এসে তাকে জরিয়ে ধরে।

— এসেছো তুমি! আমি সেই কখন এসেছি জানো! নিতা বললো তুমি নাকি কাল থেকে বাড়ি ফেরো নি। জানো আমার কতো চিন্তা হচ্ছিল!

— রিল্যাক্স দিয়া আই এম ফাইন। আসলে আমার মামার বাড়িতে ছিলাম কালকে।

— অর্ণব! আই মিস ইউ। ক্যান উই বি টুগেদার আগেইন?

— লুক দিয়া,, আমি তোমাকে সব বলেছি। এর পরেও এসব কথার কোনো মানে হয় না।

দিয়া আবারও অর্ণবকে জরিয়ে ধরলো।
— আমি জানি। কিন্তু বিশ্বাস করো। আমি এখন বুঝতে পারছি আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। আই লাভ ইউ।

— লিভ মি দিয়া।

— কেনো অর্ণ? এখন কি আমার এই অধিকার টুকুও নেই?

— এমন নয় দিয়া। লুক আই অলসো লাভ ইউ বাট এস আ ফ্রেন্ড।

— আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।

— প্লিজ দিয়া। সব ক্লিয়ার করার পর আবার এই কথা ভালো লাগছে না।

— সরি অর্ণ।

— নিতাকে তুমি কিসের টাকা দিচ্ছেলে?

— ওহ ওটা! আসলে নিতার টাকার খুব দরকার ছিল আর তুমি বাসায় ছিলে না তাই আমি দিয়েছি।

— তুমি হুটহাট এখানে এসো না দিয়া।

— ওয়াইফ না বানাতে পারো,, ফ্রেন্ড হয়ে সাথে থাকার অনুমতি টা দাও।

অর্ণব কিছু না বলে উপরের ঘরে চলে গেলো। এদিকে অর্ণবের বাড়ির দরজা দিয়ে পাগলের মতো ছুঁটে বের হচ্ছে মীরা। এই মাত্র সে অর্ণবের বুকে দিয়াকে দেখে এসেছে। অর্ণবের ওভাবে তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর সে পিছন পিছন এসেছিল। অর্ণবের সাথে কথা বলতে। কিন্তু সে ভাবতে পারে নি অর্ণব আর দিয়াকে এতো কাছাকাছি দেখবে।

একটু আগেই তো অর্ণব আমাকে বলেছিলেন সে আমাকে ভালোবাসে, তাহলে এখন দিয়াকে বুকে জরিয়ে ধরে রাখার মানে কি! এই তার ভালোবাসা? খনিকেই রূপ পাল্টে ফেলেছে!! না আর অর্ণবের কথা চিন্তা করবো না। কেনো করবো ওই স্বার্থপরটার চিন্তা। আমাকে যদি ভালোইবাসে তাহলে অন্য মেয়ের কাছে কেনো যাবে! আর এমনিতেও আমি অন্যকারো হবু বউ, আমি পরপুরুষের কথা ভাববো না।

অর্ণবের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা অফিসে চলে এলাম। কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখলে মাথা থেকে এসব ফালতু চিন্তা চলে যাবে। কিন্তু আমার সব ভাবনায় পানি পরে গেছে। কোনো কাজেই মনযোগ দিতে পারছি না। ঘুরে ফিরে শুধু অর্ণবের কথাই মনে পরছে। কেমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে যে পরেছি!!



বিকেলে আবরার খান অর্ণবকে ফোন করে খান বাড়িতে ডেকে আনে। সেখান থেকে সবাই বিয়ের শপিং এ যায়। আশ্চর্যজনক হলেও অর্ণব খুব নরমাল বিভেব করছিল। যেনো মীরা আর সিদরাতের বিয়েতে তার কোনো সমস্যা নেই। অর্ণব বিয়ের জন্য শাড়ি দেখছে, সিদরাতের জন্য শেরওয়ানি পছন্দ করছে। দিয়া আর অন্তিও সাথে এসেছে। মীরা এক কোনায় বসে কয়েকটা শাড়ি পছন্দ করছে। পছন্দ বললে ভুল হবে, শাড়ি নাড়াচাড়া করছে আর অর্ণবকে দেখছে। অর্ণব দিয়াকে শাড়ি পছন্দ করে দিচ্ছে। অর্ণবকে দেখে তো মনে হচ্ছে মীরার বিয়েতে সবচেয়ে খুশি সে।

অর্ণবের এতো কুল বিহেভিয়ার আমি মানতে পারছি না। যদিও আমি এটাই চাইতাম যে সে আমাকে ভুলে যাক, আর আমার বিয়েটা হয়ে যাক। কিন্তু এখন আমি মানতে পারছি না যে সে বিয়েতে হ্যাপি!

অনেক শাড়ির ভিরে একটা নীল শাড়ির উপর আমার চোখ আটকে গেলো। যদিও আমি শাড়ি পরতে পছন্দ করি না, জিন্সেই আরাম পাই। তবুও কেনো যেনো নীল শাড়িটা দেখে পরার লোভ লেগে গেলো। শাড়িটা হাতে নিয়ে নিজের শরীরে রেখে আয়নাতে দেখছিলাম তখনই অর্ণব ছোঁ মেরে শাড়িটা আমার হাত থেকে নিয়ে নিলেন। আমি বেকুবের মতো তাকিয়ে আছি। অর্ণব কেনো করলেন এটা? অর্ণব আমার গায়ে থেকে শাড়িটা নিয়ে দিয়ার গায়ে জরিয়ে দিলেন। অর্ণবের এহেম কান্ডে ধপ করে আমার মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো। সারাদিন এই শাকচুন্নির সাথে চিপকাচিপকি করে কি তার স্বাদ মিটে নি,, যে আবার এখন লুতুপুতু শুরু করে দিয়েছে!! অর্ণব আসলেই একটা খচ্চর,, সকাল পর্যন্ত আমাকে ভালোবেসে এখন দিয়ার প্রতি দরদ উতলে উঠেছে। ইচ্ছে করছে দিয়া পেত্নির সবগুলো চুল টেনে টেনে ছিড়ে ফেলি। অনেক কষ্টে সেখানে রাগ নিয়ন্ত্রণ করলাম।

বাবা জেদ করে দিয়াকেও আমাদের সাথে নিয়ে এলেন। বাবার আর অর্ণবের এতো কিসের আদিক্ষেতা দিয়ার প্রতি বুঝি না। তারা কি বুঝতে পারে না আমি দিয়াকে সহ্য করতে পারি না?

নিজের ঘরে ঢুকার সময় দেখলাম দিয়া অর্ণবের ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। যাক বাবা এমনেই আমার মনে আগুন জ্বলছে আর এই মেয়েটা সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিলো। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। অর্ণব হঠাত করে দিয়াকে এতো ইমপোর্ট্যান্স দিচ্ছে কেনো!! ঘরে ঢুকেই শপিং ব্যাগগুলো ছুড়ে ফেলে দিলাম। রাগে মাথার সবগুলো তার ছিড়ে যাচ্ছে।






রাত ১২:২৬ বাজে,, ব্যালকোনিতে দাড়িয়ে স্মোক করছে অর্ণব। সিগারেটের ধোয়ার সাথে সাথে ভিতরের যন্ত্রণা গুলো উড়িয়ে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে হালকা ম্লান হাসছে। হঠাত কেউ অর্ণবকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরলো। আচমকা জরিয়ে ধরাতে অর্ণব খানিকটা ঘাবড়ে গেলেও পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিলো। একটা ম্লান হাসি দিয়ে আকাশের পানে চেয়ে রইলো। সে জানে তাকে মীরাই জরিয়ে ধরে আছে। মনের হাতে বাঁধা পরে ছুঁটে এসেছে। অর্ণব চোখ বন্ধ করে মুহূর্তটা অনুভব করছিল। কিন্তু তার মনে হচ্ছে টিশার্ট টা পিছন দিয়ে ভিজে যাচ্ছে। মীরা কি তাহলে কাঁদছে!

অর্ণব পিছন দিকে ঘুরতেই বেশ অবাক হয়। মীরা একটা নীল শাড়ি পরে আছে, হাতে কাঁচের চুড়ি, দু চোখ ভর্তি কাজল। কান্না করার কারণে কাজল চোখে লেপ্টে গেছে। কোনো অপ্সরীর থেকে কম লাগছে না মীরাকে। অর্ণবের ইচ্ছে করছে সময় এখানেই থমকে যাক আর সে এই পরীকে চোখ ভরে দেখুক। কিন্তু পরক্ষণেই অর্ণব নিজেকে সামলে নিলো।

— এতো রাতে তোমার এখানে এভাবে আসা ঠিক হয় নি মীরা। চলে যাও।

— চলে যাবো! কি বলছো এসব! তুমিই তো বলছিলে আমাকে ভালোবাসো! আমি তোমার হবো,, তাহলে কেনো তুমি দিয়ার এতো কাছাকাছি যাচ্ছো! তুমি কি বুঝতে পারো না তোমার সাথে অন্যকোনো মেয়েকে দেখতে আমার কতো কষ্ট হয়।

— এসব কথার কোনো মানে নেই এখান থেকে চলে যাও। কালকে তোমার হলুদের ফাংশন। পরশু বিয়ে। কেউ যদি এতো রাতে আমার সাথে তোমাকে দেখে ফেলে খারাপ ভাববে। যাও।

— কে কি ভাবলো আই ডোন্ট কেয়ার। এতোদিন তো খুব ভালোবাসার গান গাইছিলে! এখন তোমার কি হলো? এসব কেনো বলছো?

— এতোদিন আবেগে ভাসছিলাম। আজকে বাস্তবতা বুঝে গেছি।

— বাস্তবতা মাই ফুট। এখন খুব বাস্তবতা বোঝানো হচ্ছে তাই না। যখন আমি আমার দায়িত্ব আর বাস্তবতা মেনে বিয়ে করছিলাম।তখন কেনো আমাকে এতোটা অসহায় করলে!! এখন আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না আর এখন তুমি বাস্তবতা শিখাচ্ছো আমাকে!

— তুমি আমাকে ভুলে বিয়েটা করে নাও মীরা।

— ইচ্ছে করছে তোমার গলা চেপে তোমাকে মেরে তারপর নিজেও মরে যাই। কেনো এসব বলছো! দেখো আমি শাড়ি পরেছি। তোমার শাড়ি পছন্দ,, কাঁচের চুড়ি, কাজলে নিজেকে সাজিয়েছি। প্লিজ অভিমান ভুলে যাও। প্রমিজ আর কখনও চুল কাটবো না। তোমার জন্য চুল সবসময় বড় রাখবো। তবুও এমন করো না। আমি সহ্য করতে পারছি না।

অর্ণবের দুচোখে পানি টলমল করছে। এ কদিন সে যেই মীরাকে দেখেছে সে সেই মীরা ছিল স্ট্রং। আর এই মীরা! ভালোবাসায় দিওয়ানি হয়ে গেছে। নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে অর্ণবে মীরাকে বুকে জরিয়ে নিলো।

— মীরা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু আমি দেরি করে ফেলেছি। পরশু তোমার বিয়ে, মামা তোমার বিয়ে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছেন। তাকে আরেক দফায় কষ্ট দেওয়ার মতো শক্তি আমার নেই। আমার মা-বাবা যেই ভুলটা করেছিল সেই ভুলের মাশুল নানাভাইকে তার জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে। আমি চাই না আমাদের জন্য মামাকেও সেই অপমান সহ্য করতে হোক।

— অপমানিত কেনো হতে হবে? আমরা বাবাকে বলতে পারি যে আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। তাহলেই বাবা রাজী হয়ে যাবেন।

— বিয়ের কার্ড বিতরণ হয়ে গেছে, সব মেহমানকে জানানো হয়ে গেছে। একটু ভেবে দেখো মামার সম্মাণ টা কোথায় থাকবে! মামা হার্ট পেশেন্ট। আল্লাহ না করুক যদি!!

— তোমার এই লেইম যুক্তি আমি মানতে পারছি না। আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি। এর চেয়ে বেশি আর কি হতে পারে?

— তোমার বাবার জীবন! আমরাও তাকে সেই কষ্ট টা দিতে পারি না যা আমার বাবা-মা দিয়েছে।

— আমি পারবো না,, তোমাকে ছাড়া আমি সত্যি পারবো না।

— চলে যাও মীরা। নতুন বউয়ের চোখের নিচে কালো দাগ ভালো লাগবে না।

অর্ণব আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ঘর থেকে বের করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। উনার ঘরের দরজায় বারবার ধাক্কা দিচ্ছি। মিনতি করছি যাতে আমাকে এভাবে ফিরিয়ে না দেয়। কিন্তু না অর্ণব দরজা খুলছেন না। বুকের ভিতরটা ফেঁটে যাচ্ছে কষ্টে। এতোদিন মনে মনে ফুপি আম্মুকে ভুল ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম ফুপি আম্মু স্বার্থপর হয়েছিল। এখন বুঝতে পারছি কেনো ফুপি আম্মু স্বার্থপর হয়েছিল।

রুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে অর্ণব আরেকটা সিগারেট জ্বালালো। দুচোখ বেয়ে পানি পরছে তার। কিন্তু মুখে লেগে আছে তাচ্ছিল্যের হাসি।

“আমি মামার সাথে তোমার আর আমার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়েছিলাম মীরা। কিন্তু মামার সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছি তার মনে কতোটা কষ্ট লুকিয়ে আছে। আম্মুর বিয়ের দিন পালিয়ে যাওয়াতে পুরো সমাজের সামনে তাদের মাথা নত হয়েছিল। সেই অপমান নানাভাই মানতে পারে নি। আজকে আমি তোমাকে নিজের করে নিলে কি তফাত রইলো! সেই একই অপমানের বোঝা মামা কে সহ্য করতে হবে। তার শেষ বয়সে পুনরায় তাকে এতোটা কষ্ট কিভাবে দেবো বলো!!”

?

সকালের আলো ফুঁটে উঠেছে, চারপাশে মিষ্টি রোদ ছরিয়ে পরেছে। ভোর রাতের দিকে হালকা বৃষ্টি হওয়াতে গাছের পাতায়, ফুলের পাপড়িতে পানি জমে আছে। এক ফালি রোদ এসে পরাতে পানির ফোঁটা গুলো মুক্তোর মতো লাগছে। সেই সাথে রোদ টা অর্ণবের চোখে তির্যক ভাবে বিঁধছে। একটা নির্ঘুম রাত্রি শেষে ব্যালকোনিতেই ছিল সে। বেশ ভালোই যাচ্ছিল তার সময় কিন্তু এই রোদের টুকরো যেনো আবারো মনের ক্ষতগুলো তাজা করে দিলো।

অর্ণবের ঘরের দরজার সামনে পরে আছে মীরা। কাল রাতে কাঁদতে কাঁদতে সেখানেই ঘুমিয়ে পরে। কাঁধে কারো আলতো চাপ আর নাম ধরে ডাকাতে ঘুম ভেঙে যায় তার। ধরফরিয়ে উঠে বসতেই দেখে অঙ্কুর চৌধুরী হাটু ভাজ করে বসে আছে মীরার মাথার কাছে।

— মীরা মা! এভাবে এখানে শুয়ে আছো যে? আর একি অবস্থা তোমার?

— ককিছু ননা। আপনি রেষ্ট করেন আআমি আসছি।

মীরা কোনোরকমে অঙ্করের দৃষ্টিসীমার বাইরে পালিয়ে যায়। অঙ্কুর এখনও সন্দেহের চোখে তাকিয়ে আছে মীরার যাওয়ার দিকে। তখনই অর্ণব দরজা খুলে দেয়। অঙ্কুরের সন্দেহ আরও গাড়ো হয়ে যায় অর্ণবের চেহারা দেখে। চোখ মুখ ফুলে লাল হয়ে আছে। গা থেকে সিগারেটের বিশ্রি স্মেল আসছে।

— অর্ণ! শাওয়ার নিয়ে নাও।

অর্ণব হু হা কিছু না বলে সেখান থেকে চলে যায়। অঙ্কুর কিছু একটা ভেবে আবরারের ঘরের দিকে পা বাড়ায়।

চলবে..