তোমাতে আমাতে পর্ব-১৮

0
1221

#তোমাতে_আমাতে
লেখা আশিকা জামান
পার্ট ১৮

ইমন বিস্ময়ের সপ্তম চুড়ায় পদার্পন করে একবার আমার দিকে আরেকবার ইউশার দিকে তাকাচ্ছে। ওর চোখেমুখে বিস্ময় ফেটে পড়ছে। ও হয়তোবা ভাবতেই পারেনি আমার মত এইরকম একটা ছিঁচকাঁদুনে মেয়ে এইরকম একটা স্টেপ নিতে পারে। প্রয়োজনে আরো ভয়ংকর স্টেপ নিতেও আমি দু বার ভাববো না। অবশ্য বাসা থেকে আসার সময় মনকে এইগুলাই বুঝিয়ে আসছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কি হয় শেষপর্যন্ত এটা ভেবেই আমি ঘামতে লাগলাম। কলিজাটা খচখচ করতে লাগলো।
আমি ইউশার দিকে তাকালাম মেয়েটাও নিচের দিকে তাকাচ্ছে উপরের দিকে তাকানোর সাহস হারিয়ে ফেলেছে। মুখটা কাচুমাচু করে ফেলেছে। এই সিচুয়েশনে নরমাল হওয়ার জন্য কি বলা উচিৎ আমার মাথায়ই আসছেনা। হঠাৎ ইমনের চিৎকারে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। অগ্নিচোখে আমার দিকে তাকিয়ে একহাত শক্ত করে মুঠোর মধ্যে নিয়ে নিলো।
আমি চরম ভয়ে ওর দিকে তাকালাম,
— আদৃতা! এই মেয়েটা এখানে কি করছে? হুয়াই? আন্সার মি?
আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। লাস্ট মুহূর্তে যে এইরকম একটা কাজ যে আমি করবো সেটা ভালো করেই জানা ছিল। আমি বোধ হয় এখন আর কিছুই বলতে পারবো না।
ইমন আমার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ইউশার দিকে তাকালো,
— এখানে কি দরকার? ছিঃ ছিঃ ছিঃ আমার লজ্জা হচ্ছে বলতে তারপরো বলতে হচ্ছে।
কি ডক্টর ইয়াসিনকে দিয়ে বুঝি আর পোষাচ্ছে নাহ! তাই আমার লাইফে আবার এন্ট্রি নেয়ার ধান্ধায় ঘুরা হচ্ছে। বাট আ’ম সরি টু সে আমি তোমাকে জাস্ট ঘেন্না করি। আই হেট ইউ। গেট লস্ট!
ইউশা অশ্রুসজল চোখে ইমনের দিকে তাকায়,
— এই শোন আমার এখানে আসার বিন্দুপরিমাণ ইচ্ছা ছিলো না।
তোমার বউ যেচে আমাকে এখানে ডেকে নিয়াসছে। এই কালকেইতো আমার হাতে পায়ে ধরে একরকম জোড় করেই রাজি করিয়েছে তোমার সাথে সব মিট মাট করে নেওয়ার জন্য।
তাছাড়া তুমি যে আমাকেই ভালোবাসো সেটা তুমি স্বীকার করো আর না করো আমার আফসোস নেই। কিন্তু তোমার ওয়াইফ যাকে নিয়ে তুমি ঘরসংসার করছো সে খুব ভালোভাবেই জানে এই কথাটা। মাথা ঠান্ডা করে বিষয়গুলো ভাবো কেমন।
— আদৃতা!
বলেই আবার চিৎকার করে আমার দিকে অগ্নিচোখে তাকায়।
আমি আমতা আমতা করে ওর দিকে তাকাই,
— ইমন, প্লিজ শান্ত হও। আমি জানি তোমরা দুজন দুজনকেই ভালোবাসো। প্লিজ আজকে অন্তত দুনিয়ার সব কিছু ভুলে নিজের মনের কথা শোন। হয়তবা এমন সুযোগ জীবনে বার বার আসবেনা।
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই ইমন আমার গালে ঠাস করে চড় মারে। আমার কান ভারী হয়ে গেছে। চারপাশ ঘোলাটে লাগছে। নিমিষেই চোখের কোণায় জল গড়িয়ে পড়লো। আশেপাশে মানুষ আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। লজ্জায় অপমাণে আমি শেষ হয়ে যেতে লাগলাম। জীবনে কোনদিন আমার গায়ে কেউ হাত তুলেনি। এই প্রথম তাও আমার ভালবাসার মানুষ। আমি ছলছল চোখে দৌড়ে সেখান থেকে চলে আসি। আর একমুহুর্ত দাড়ানোর সাহস আমার নেই।

— দেখুন আদৃতা আপনার সব কিছু শুনে আমার মনে হচ্ছে। আপনার আর ইমনের মাঝে ইগো টা বেশী কাজ করছে । ভালবাসার চেয়ে ইগোটা বেশী প্রাধান্য পেলেতো সমস্যা। আমার মনে হয় আপনি আপনার নিজের মনগড়া বিষয়টাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। আপনি প্র‍্যাক্টেলি চিন্তা ভাবনা করেননি। আপনি যেমন ভাবছেন আপনার যায়গা থেকে আপনি ঠিক তেমনি উল্টোদিকে ইমনও কিন্তু তার যায়গা থেকে ঠিক। দেখুন ইমনের যদি কোন জি এফ থেকেই থাকে তাহলে ওর অন্যায়টা কোথায়। আর আপনি ওর জীবনে আসার পর ইমন আমার মনে হয় আপনাকে নিয়েই ভেবেছে। কিন্তু আপনি মনে হয় ইমনকে ভুল বুঝেছেন। ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আপনি একটু ঠান্ডা মাথায় বিষয়টা ভেবে দেখলেই বুঝতে পারেন। আসলে আপনার স্বামীর ভালবাসা প্রকাশ করার ধরণটা একটু অন্যরকম যা আপনার চাওয়া পাওয়ার সাথে ম্যাচ করেনি। ইটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার কারণ প্রত্যেকটা মানুষ যেমন ডিফারেন্ট তেমনি তাদের টেস্ট, ডিমান্ড সম্পূর্ন আলাদা।
— ডক্টর আমি বুঝলাম সব আমার দোষ। তাহলে আজ ১৫ দিন যাবৎ আমি আমাদের বাসায় আসছি। একটাবার কি ও আমার খবর নিতে পারলো না?
— আদৃতা আপনি ভুল ভাবছেন আমি কিন্তু একবারো বলিনি সব দোষ আপনার। একটা কথা ভেবে দেখুনতো আপনি এখন যে কথাটা ধরে নিয়ে বসে আছেন উল্টোদিকে আপনার স্বামীওতো ঠিক এই কথাটাই ভাবছে।
আমি নিশ্চুপ হয়ে গেলাম। কিছু ভাবতে পারছি না।
— আদৃতা আপনি হয়তোবা জানেন না আপনার ফ্যামিলির সবাই কতটা টেনশন করছে আপনাকে নিয়ে। আপনি কারো সাথেই কোন কথা বলছেন না। নিজেকে কেমন গুটিয়ে রেখেছেন। ঠিকমত খাচ্ছেন দাচ্ছেন না, নিজের মনে নিজেই কথা বলছেন, হাসছেন একটা ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আপনার উচিৎ ছিলো সবার সাথে মন খুলে সব কিছু শেয়ার করা। কিন্তু আপনি তা করেণনি। আপনাদের ফ্যামিলির সবার মন মানষিকা কতটা ব্রড বুঝতে পাচ্ছেন?
তারা চাইলেই আপনাদের এই বিষয়টাতে হস্তক্ষেপ করতে পারতো একটা অনেক বড় সিনক্রিয়েট হয়ে যেত । কিন্তু করেননি কেন জানেন আপনাদেরকে সময় দিয়েছিলো যাতে আপনারা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই স্লোভ করতে পারেন। কিন্তু পরিস্থিতি আরো করুন হয়ে দাঁড়িয়েছ। আপনি যে পরিমাণ ড্রিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলেন সেখান থেকে আপনাকে ফিরিয়ে আনা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আহির আমাকে সেদিন আপনার বিষয়েই কথা বলছিলো। ও কতটা কষ্টে আছে ইনফ্যাক্ট বাড়ীর সবাই ইউ হ্যাভ ইমাজিন?
আপনি আমার চেম্বারেও আসতে চাইছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে আমার এখানে আসতে হলো। আমার মনে হয়েছিল জাস্ট একটা কাউন্সিলিং এই আপনি অনেকটা ঠিক হয়ে যাবেন। আর আহির আমার স্কুল জীবনের ফ্রেন্ড ওর রিকোয়েস্ট আমি ফেলতে পারিনি। আপনি আমার বোনের মত। তাই বলছি প্লিজ রিলেশনশিপটাকে কম্পিকেটেড করে ফেলবেন না অহেতুক মনগড়া দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কেমন!
আমি আজকে উঠছি।

সাইক্রিয়াটিস্ট প্রভাত রয় উঠে দাড়ালেন।
আমি আমার দৃষ্টি অবনত করে এখনো ফ্লোরের দিকেই তাকিয়ে আছি। হয়তবা ভুলটা আমারি আমার ওর থেকে পুরো বিষয়টা শোনা উচিৎ ছিলো।

— এই ভরদুপুর বেলা এইভাবে ছাদে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
ভাইয়া আমার পিঠে হাত রাখে আলতো করে।
— এমনি শীত করছিলোতো ভাইয়া।
— আচ্ছা চল লাঞ্চ করার সময় হয়ে এসেছে। মা বসে আছে।
— হুম চলো।
— তুই যে কালকে থেকে ঠিক করে খাওয়া দাওয়া করছিস আমার যে কি ভালো লাগছে তোকে বুঝাতে পারবো না।
এইকয়েকদিনে মায়ের মধ্যে অনেক চেঞ্জ দেখা যাচ্ছে আমাকে আর দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে কিছু বলেনা। না খেতে চাইলে জোড় করেনা। অযথা কথা শোনায় না। সারাদিন কথায় কথায় মামনী ডাকে। কোনকিছু করে হলেও আমাকে হাসানোর চেষ্টা করে। সত্যি বলতে আগে আমি যেমন যেমন চাইতাম ঠিক তেমন আচরণ করতে লাগলো। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো আমি মায়েই ওই শাসনগুলোই বেশি মিস করতেছিলাম।
আজকে খাওয়ার সময় মাকে আমি বলেই ফেললাম,
— মা, তুমি বোধ হয় আমাকে আর আগের মত ভালোবাসোনা।
— কেন মা এইগুলা কেন মনে হচ্ছে।
— তাহলে তুমি আমাকে আগের মত শাসন করো না কেন? বকো না কেন?
মা আমার কথা শুমে মৃদু হাসলো।

আজকে অনেকদিন পর বই পড়তে ইচ্ছে হলো। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর “পরিহাটির হরিণ ” বইটা অনেকদিন যাবৎ পড়ে রয়েছিলো। সময়ের অভাবে পড়তে পারিনি আজকে পুরোটা পড়ে ফেললাম এক নিঃশ্বাসে। বইটা পড়ে আবার খারাপ লাগতে লাগলো। স্বামীর থেকে অবহেলার কষ্টটা আবার একটু একটু করে ফিল করতে লাগলাম। অনুভুতিটা বেশিক্ষন স্থায়ী হলোনা ফোনকলের শব্দে আমার সমস্ত ইন্দ্রিয় জেগে উঠলো। ইমন কি ফোন করেছে! কথাটা মনে হতেই আমি ফোন খোজার জন্য উথালপাতাল করতে লাগলাম। অবশেষে বিছানার নিচে ফোন খুজে পেলাম। তাড়াতাড়ি করে রিসিভ করলাম কিন্তু আফসোস ইমন নয় অন্যকেউ।
— হ্যালো আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন?
— ওয়ালাইকুম সালাম। আমি ইউশা।
— আপনি?
— হ্যা আপনাকে আমার কিছু বলার আছে। সেদিন এইগুলা বলা আমার উচিৎ ছিলো তাহলে হয়তোবা আজকের দিনটা আপনাদের দেখতে হতো না। এক্সট্রেমলি সরি পারলে ক্ষমা করবেন। আমি আর ইমন একি মেডিকেলে পড়াশোনা করেছি। আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে লাজুক ছেলে ছিলো ইমন। ওর মেয়েদের একদম ভালো লাগতো না, মিশতো চাইতো না এইরকম। ওর উপর অনেক মেয়েই ক্রাশ খেতো। কিন্তু কাউকে পাত্তা দিতো না। হঠাৎ করেই থার্ড ইয়ারে উঠে ইমন আমার ভালো ফ্রেন্ড হয়ে যায়। আমরা একসাথে লাইব্রেরিতে যেতাম, ক্লাসে পাশাপাশি বসতাম, গ্রুপ স্টাডি করতাম এইভাবে মিশতে মিশতে আমরা দুইজন দুইজনের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ি। ওর ভালবাসার প্রতি কোন বিশ্বাস কোনদিনই ছিলো না একটু অন্যরকম ছিলো। সেই ভুলাভালা বইপোকা ইমন আমার কাছেই ভালবাসা শিখে। আমরা নিজেরা জানতাম আমরা দুইজন দুইজনকে ভালোবাসি কিন্তু কখনো প্রকাশ করিনি। কিন্তু তারপর পঞ্চম বর্ষে উঠার সময়…
এটুকো বলেই ইউশা কাঁদতে লাগলো।
আমার কি রকম একটা দমবন্ধ লাগছে। নিজেকে সামলে নিলাম কোনরকমে,
— এরপর কি? প্লিজ বলুন..
কিছুক্ষন থেমে উনি বলতে লাগলেন,
— আমাদের নতুন প্রফেসর ডাক্তর ইয়াসিন আহমেদ এলেন। প্রথম দেখায় ক্লাসের সব মেয়ে ফিদা। যেমন চেহারা তেমন এটিটিউড। আমিও এর ব্যাতিক্রম ছিলাম না। আমি মরিচিকার পিছে ছুটতে লাগলাম ক্ষনিকের মোহে পড়ে। ইমনকে টোটালি অবহেলা শুরু করলাম। ও আমার থেকে এই অবহেলা নিতে পারছিলো না। আস্তে আস্তে একটা ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলো। কিন্তু ততদিনে আমার আর ডাক্তার ইয়াসিনের মাঝে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি নিজেকে খুবি দাম্ভিক হিসেবে প্রমাণ করলাম। ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করলাম। ইমনের অবস্থা ততদিনে খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। আংকেল আন্টি টেনশনে শেষ হয়ে যাচ্ছিলো। ও ওর সমস্ত পড়াশোনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলো। তখন আংকেলের ওইরকম একটা অসুখ হয়। ইমন তার বাবার ক্যান্সারের কথা শুনে নিজেকে সামলাতে পারেনি। এরপর ওর মধ্যে সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠার টেন্ডেন্সি কাজ করে। ও নতুন উদ্যোমে পড়াশোনা শুরু করে আর আমাদের সবার থেকে ভালো রিজাল্ট কিন্তু ওরই হয়।। এরপরে তোমাদের বিয়ে হয়। তুমি চিন্তাও করতে পারবানা ইমনের এই অবস্থায় মানে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে নিয়ে কত ট্রল করতাম। তারপর তুমি তখন ইন্টারমিডিয়েট এ পড়তে তাই কত ট্রল করতাম। বলতাম অশিক্ষিত মেয়ে বিয়ে করছে! তিন বাচ্চা নিয়ে ইন্টার পরীক্ষা দিবে!
আর ইয়াসিন ও ইমনকে পাইলেই পচাইতো। বলতো “তোমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার, জীবনেও ভালো কিছু করতে পারবা না।
নাহ সরি পারবাতো বউ বাচ্চা সহ একসাথে পড়বা। এইরকম কপাল কয় জনের হয়”
এইগুলো ওর মাঝে জিদ কাজ করতো।
এরপর আমি বুঝতে পারি ইয়াসিন আমাকে ইউস করেছে ভালোবাসেনি। ব্যাবহার শেষে নর্দমার কীটের মত আমাকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেয়।
জানোতো ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়। আমার বেলায়ই তার ব্যাতিক্রম হয়নাই।
সেদিন তুমি যখন বললে ইমন আমাকে ভালোবাসে! এক মূহূর্তের জন্য হলেও আমার মাঝে চরম লোভ কাজ করছিলো। ইমনকে পাওয়ার লোভ। আমি যে বড় ভুল করেছিলাম খাটি সোনা ছেড়ে কয়লার দিকে হাত বাড়িয়ে।
কিন্তু আমি ভুল! ইমনের চোখে তোমার প্রতি যে অকৃত্রিম ভালবাসা দেখেছিলাম তা আমার প্রতি কোনদিনই ছিলো না। ইমন তোমার ও শুধু তোমাকেই ভালোবাসে। প্লিজ ওকে আর কষ্ট দিও না ও অবহেলা জিনিসটা একদম নিতে পারে না। বড্ড অভিমানী। আচ্ছা রাখছি। অনেক কথা বলে ফেললাম। ক্ষমা করে দিও।
ইউশার শেষোক্ত কথাগুলো শুনেই আমার দুচোখে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো।খুব কষ্ট দিয়ে ফেলেছি ওকে। ওর ওই নষ্ট অতীত ঘাটাঘাটি করাটা আমার মোটেই ঠিক হয়নি। সরি ইমন!
চলবে…