দুইমুখী পর্ব:১

0
488

#দুইমুখী
#পর্ব:১
#লেখক:ঐশি

“আমি প্রেগনেন্ট ,ফাহিম।আমার মাঝেও একজন বেড়ে উঠছে,,,”.
.
তিন বছরের সম্পর্ক আমাদের ।কখনো তাকে জড়িয়ে পর্যন্ত ধরিনি আর সে কি না এখন বলছে সে মা হতে চেলেছে ।সে নিশ্চই মজা করছে হয়তো ।তাই বললাম,,
–এ কেমন মজা ,প্রীতি ?সব কিছুর একটা লিমিট থাকে ।আর এসব বিষয়ে ফাজলামো করার তো প্রশ্ন ই উঠে না তাই না ?(ফাহিম)
–এটা একদম সত্য ।বিশ্বাস না হলে এই যে রিপোর্ট গুলো ধরো ।আর এই যে উপরে দেখো আমার নাম টা ই লেখা ।(প্রীতি)
প্রীতির সব কাগজ পত্র দেখে মাথা ঘুরাতে শুরু করলো ।এ কিভাবে সম্ভব ?ওর সাথে তো আমি শারীরিক কোনো সম্পর্ক করিনি ।তার মানে কি সে অন্য কারো সাথে,,।এসব ভাবতে ভাবতেই বললাম,,
–তা আমার সাথে টাইম পাস করে কি মজা পেলে ?(ফাহিম)
প্রীতি একদম নিশ্চুপ ।আমি ভালো মতো খেয়াল করলাম সে কাদঁছে ।জানি এই কথার কোনো উওর আসবে না ।আমি একগাল হাসি দিয়ে বললাম,,,
–কি সমস্যা ?কাদঁছো কেনো ?তোমার বফ তোমাকে রেখে চলে গেছে তাই না ?কোনো চিন্তা করো না ।এই গরীব ছেলেটাই তোমাকে বিয়ে করবে ।আর তুমি তো তাকে বিশ্বাস করেছিলে তাই না ?ঠকেছো তো কি হইছে আমি তো আছি না ?এই একবার বিশ্বাস রাখো আমার উপর তোমার সব ঠিক হয়ে যাবে ।(ফাহিম)
–ফাহিম,তুমি এটা মোটেও আশা করোনি তাই না ।তুমি না বুঝেই এমন করছো ।আগে আমার পুরো কথাটা শুনো ,,,,(প্রীতি)
–আমার অতীত শুনতে ভালো লাগে না ।আমি তোমাকে নিয়েই থাকবো ।চিন্তা করো না ।শুধু তোমার বাবা মা কে একটু ম্যানেজ করো ।আমার পরিবার আমি নিজেই বুঝবো ।(ফাহিম)
–তুমি সব কথা না শুনেই এমন সমস্যায় কেনো জড়াচ্ছো ?(প্রীতি)
–তুমি বাসায় যাও তো এখন সব ঠিক হয়ে যাবে ।(ফাহিম)
এভাবেই দিন যাচ্ছিলো ।আমি প্রীতিকে এতো ই ভালোবাসতাম যে তার সকল কিছু ই মেনে নিয়েছি ।সে তার সেই প্রেমিক এর কথা বলবে ,কিন্তু সেটা শুনতে চাই না ।আমি নতুন করেই সব কিছু সাজাতে চাই ।প্রীতি তার ফ্যামিলিকে বুঝাতে পেরেছিলো ।সে তার পরিবারকে বলেছিলো যে এটাই ফাহিমের বাচ্চা ।দুই পরিবারের কেউ ই মেনে নেয়নি ।সবাই তাদের সম্মানের কথা ভেবে ই বিয়েটা দিয়ে দেয় ।সব কিছু ভালো ই চলছিলো তাদের ।কিন্তু ফাহিম বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই প্রীতির সাথে খুব একটা কথা বলে না ।অফিস যায় আসে ।দরকার ছাড়া কেউ কথা ই বলে না ।এভাবে কি থাকা যায় ?বিয়ের প্রায় দুই মাস পর এক রাতে দুজনেই ঘুমাচ্ছিলো হঠাৎ প্রীতি চোখ মেলে দেখে ফাহিম নেই ।সে ভাবে হয়তো ওয়াশ রুম গেছে কিন্তু অনেকক্ষন হলো ফিরছে না ।সে একটা অজানা চিন্তায় পড়ে যায় ।সে বিছানা থেকে উঠে ধীর পায়ে বারান্দায় যায় ।যেয়ে দেখে ফাহিম কার সাথে যেনো ফোন এ কথা বলছে ।প্রীতি ফাহিম এর একটা কথা শুনে পুরো থমকে গেলো ।সে বলছিলো,,
–মামুনি,তোমার পরিক্ষা ভালো করে দিও ।ভালো রিজাল্ট করলে চকলেট কিনে দিবো,,
প্রীতি এই কথাটা একদম ই মেনে নিতে পারেনি ।তার মানে কি ফাহিম এর আগেও বিয়ে করেছে ?তাহলে কি সে আমাকেও পন্য হিসেবে ব্যাবহার করছে ?প্রীতির মনে হাজার প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে ।কিন্তু কোনো কিছুর সমাধান পাচ্ছে না ।প্রীতি তারাতারি ঘুমিয়ে যায় ।সকালে শুধু তার মাথায় এই একটা কথা ই আসছে ।কি করবে এখন সে ভেবে ই পাচ্ছে না ।সেদিন সকালে প্রীতি ফাহিমকে বললো,,
–তুমি কি আমার কাছে কোনো কিছু লুকাচ্ছো ?
–কই না তো ।তোমাকে আবার কি লুকাবো ?এত কিছুর পরও তোমাকে ভালোবাসি বলেই তো বিয়ে করেছি তাই না ?
প্রীতি ভাবে আসলেই তো এটা তো ঠিক ।কিন্তু সে এমনও করতে পারে যে ভুগ করার জন্য আমাকে ব্যাবহার করছে ।প্রীতির প্রশ্নের সমাধান খুজেঁ পায় না ।সেদিন সন্ধায় ফাহিম ফোন বাসায় রেখে বাহিরে গেছিলো ।হঠাৎ একটা কল আসে তাতে লিখা তাসফিয়া,,।প্রীতি ভেবেছিলো হয়তো সে অফিসের কোনো পরিচিত কেউ ।কিন্তু কল রিসিভ করতেই সে যা শুনলো তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না ।তার মানে প্রীতির সব ধারনাই ঠিক ।ফাহিম আগেও বিয়ে করেছে ,তার আরেকটা পরিবার আছে ।সে যা শুনলো তা হলো,,,
–আব্বু,আমি ভালো পরিক্ষা দিয়েছি চকলেট কিনে দিতেই হবে ।কবে আসবে আব্বু?
প্রীতি কোনো কিছুর সমীকরন মেলাতে পারছিলো না ।সে ভাবছিলো ফাহিম এমন বেঈমানিটা কিভাবে করলো ?সে শুধু এটাই ভাবছিলো সমাজে হয়তো বেচেঁ থাকার কোনো রাস্তা নেই ।এসব ভাবতে ভাবতেই সে অনবরত কান্না করছিলো ।তখন ই ফাহিম এসে বলে,,
–তুমি আমার ফোন ধরলে কেনো ?
প্রীতি ভয়ে একদম নিশ্চুপ হয়ে গেলো,,,
চলবে,,,