দুই হৃদয়ে সন্ধি পর্ব-০৬

0
104

#দুই_হৃদয়ে_সন্ধি
#পর্বঃ৬
#Nova_Rahman

‘ শীত বিদায় নিতে চাইছে না। গ্রীষ্ম জোর করে এন্ট্রি নিতে চাইছে। বর্ষা রোজ সন্ধ্যায় একবার করে থ্রেট দিয়ে যাচ্ছে। এটা কি ওয়েদার নাকি যাত্রাপালা ঠিক বুঝার উপায় নেয়। তেজ বিরক্ত হয়ে পাশে রাখা দোলনায় হাত পা মেলে বসে পড়ে। তেজের কাছে এই মুহূর্তে এতো আরামদায় স্থান অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে মনে হয় না।’

তরু ছাদের এক কোনে রেলিংয়ের পাশে দাড়িয়ে আনমনা হয়ে আকাশ পানে তাকিয়ে আছে। চারিপাশে সবকিছু কেমন শূন্য শূন্য লাগছে। বাড়ির ভেতরটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। মনটা কেমন অশান্ত লাগছে। এইতো ঘন্টা খানিক আগে হাওলাদার বাড়ির লোক বিদায় নিলো চৌধুরী বাড়ি থেকে। তখন থেকেই তরুর মন আকাশে মেঘ জমেছে।

তরু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মন খারাপের কারণটা খুঁজতে লাগল, পরক্ষণেই তরুর মনে হলো। সে রোদসীকে মিস করছে। রোদসী বড্ড মিশুকে একটা মেয়ে। প্রথম সাক্ষাৎতেই রোদসী কি সুন্দর তরুর সাথে ভাব জমিয়ে ফেললো। তরুর প্রথম সাক্ষাৎতে কারো সাথে ভাব জমাবে দুরের থাক, ঠিক মতো কথাটাও পর্যন্ত বলতে পারে না। অথচ তরুকে চঞ্চলহরিণী বলা হয়।
তরুর ভাবনার মাঝেই, তরুর মন তরুকে প্রশ্ন করলো, তরু তুই কি শুধু রোদসীকেই মিস করছিস? আর রোদ! রোদকে মিস করছিস না। তরু এবার নিজেই নিজের মনকে শাসিয়ে বলতে লাগল , চুপ! একদম চুপ। তুই রোদকে ভালোবাসলেও রোদ তকে ভালোবাসে না। তর ভালোবাসা একতরফা ভালোবাসা। তরু তুই একদম বেহায়াপনা করবি না। একতরফা ভালোবাসা সুন্দর, ভয়ংকর রকমের সুন্দর! তবে এই একতরফা ভালোবাসা দিয়ে আর যায় হোক ঘর বাদা যায় না। তরু একদমে নিজেই নিজের মনকে এতো গুলো কথা শুনিয়ে শান্ত হলো।

সকাল সকাল সব কাজ কাম ছেড়ে ছুড়ে চৌধুরী বাড়ির সামনে এসে দাড়িয়ে আছে মেহু। কাল থেকে মেহুদের স্কুলে টেস্ট পরিক্ষা শুরু হবে। ঐ দিকে সবার পড়াশোনা অবস্থা খুবিই বাজে। পরিক্ষার প্রস্তুতি তুলনামূলক খারাপ হওয়ায় টেনশনে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে মেহুর। তাই তো সকাল সকাল মেহু চৌধুরী বাড়িতে এসেছে তেজ আর তরুর সাথে টেনশন ভাগাভাগি করতে। মেহু নিজেই নিজেকে উদ্দেশ্য করে বলল, আমি কেনো একা একা টেনশন করব? আমি তো আর একা পরিক্ষা দিচ্ছি না। আমার সাথে তেজ আর তরুও পরিক্ষা দিচ্ছে। তাই আমি পরিক্ষার জন্য টেনশন করলে তরু আর তেজকেও টেনশন করতে হবে। মানে যা হবে ফ্রেন্ড সার্কেল, সব ভাগাভাগি হবে সমানে সমানে।

চৌধুরী বাড়িতে ঢুকতেই সর্বপ্রথম জাহানারা চৌধুরীর সাথে দেখা হয় মেহুর। মেহু দৌড়ে গিয়ে সালাম দিয়ে জাহানারা চৌধুরীর হাতে ছোট্ট করে একটা চুমু খেলো। মেহুর সালাম দেওয়ার পর, হাতে ছোট্ট করে চুমু খাওয়াটা জাহানারা চৌধুরীর কাছে খুব ভালো লাগে। মেহুর গাল টেনে দিয়ে জাহানারা চৌধুরী বলতে লাগল, ভারি মিষ্টি মেয়ে তুমি মেহু। জাহানারা চৌধুরীর কথার বিপরীতে মেহু শুধু শরীর দুলিয়ে হাসল।
মেহু এবার জাহানারা চৌধুরীকে প্রশ্ন করলো, আন্টি তেজ আর তরু কোথায়? জাহানারা চৌধুরী মেহুর প্রশ্নের বিপরীতে উত্তর দিলো। দুইটা বাঁদরেই ছাঁদে আছে। ছাঁদে গেলেই দুইটা কে পেয়ে যাবে। মেহু আর দেরি না করে দৌড় লাগায় ছাদের উদ্দেশ্য।

মেহু এক দৌড়ে ছাঁদে এসে থামলো। হাঁটুতে ভর দিয়ে অনবরত শ্বাস নিচ্ছে মেহু। নিজেকে একটু স্বাভাবিক করে তরুর পাশে এসে দাড়াল মেহু। আচমকা পিছনে কাউকে দাড়াতে দেখে ভয়ে লাফিয়ে উঠলো তরু। তরুকে লাফাতে দেখে মেহু নিজেও লাফিয়ে উঠলো।

সকাল সকাল এ বাড়িতে মেহুকে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকাল তরু। তেজ দোলনা থেকে উঠে এসে মেহুর পাশে এসে দাঁড়াল। তরু আর তেজকে নিজের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে তাকতে দেখে মেহু কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। মেহু এবার তরু আর তেজকে উদেশ্য করে বলল, কালকে থেকে তো আমাদের পরিক্ষা শুরু হবে। বাড়িতে বসে একা একা টেনশন করছিলাম। তাই ভাবলাম একা একা টেনশন করে মাথা খারাপ না করে। তদের বাসায় এসে তদের সাথে বসে টেনশন করি। যেনো আমার সাথে সাথে তদের মাথাটও নষ্ট হয়। একটাই মাথা তাও আবার নষ্ট। এখন তদের মাথাটাও নষ্ট হলে পাবনায় তিনটা সিট বুকিং করতে পারবো। পাবনার হসপিটালের লোকদেরও কিছুটা আয় হবে। চল! টেনশন করি, পড়াশোনা না হয় পরিক্ষার পরেও করা যাবে।

মেহুর কথা শুনে তরুর কুঁচকানো ভ্রু আরো কুঁচকে যায়। তেজ এবার মেহুকে উদ্দেশ্য করে বলল, মেহু তর এতো কষ্ট করে দাড়িয়ে থেকে টেনশন করতে হবে না। আমি বরং ছাদে একটা মাদুর পেতে দিচ্ছি। তুই আর তরু মিলে একসাথে বসে গলাগলি করে টেনশন কর। ব্যাপারটা জোসস্ লাগবে দেখতে। আর টেনশন করতে করতে পাগল হয়ে গেলে, আমি নিজে তদের জন্য পাবনার দুইটা সিট বুকিং করে দিবো। সো এইদিক দিয়ে টেনশন ফ্রি তাক।

তরু এবার মহা বিরক্ত। এই দুই টেপরেকর্ডারের কথা শুনে নিজেকে এখন ভিনগ্রহ প্রাণী মনে হচ্ছে তরুর। তরুর বিরক্তির মাঝেই, পাশের বাসার ছাদ থেকে বাবলু নামের একটা ছেলে হাত উচিয়ে তরুকে ডাক দেয়। কারো মুখে নিজের নাম শুনে, তরু তড়িঘড়ি করে তাকাল পাশের বাসার ছাদের দিকে। তেজ হইচই করে তরুকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো, এই দেখ তরু তর মটকা হিরো চলে এসেছে। তেজের কথায় তরু বিরক্তিতে চ উচ্চারণ করল।

৩২ ইঞ্চি ভুড়িওয়ালা হাতির মতো নাদুসনুদুস দেখতে ছেলেটার নামেই বাবলু। বাবলু, তেজ, তরু আর মেহু একি ক্লাসে পড়ে। ভাঙা হাতে এলোমেলো শব্দ দিয়ে অনেকবার তরুকে প্রেমপত্র লিখেছে বাবলু। বরাবরেই বাবলুর লেখা চিঠিখানা বিরক্তির তালিকায় রেখে দিয়েছে তরু। তরুর মতে, বারবার রিজেক্ট করার পরেও,এমন আদিম কালের মতো চিঠি দেওয়া বিরক্তিকর ব্যাপার ছাড়া বরং কিছুই নয়।

তরুর ভাবনার মাঝেই, পাশের বাসার ছাঁদে হেলেদুলে বাবলুর পাশে এসে দাড়াল,বাবলুর বড় বোন ডাবলি। মাশাল্লাহ, দুই ভাই বোনেই ছোটখাটো দুইটা হাতির বাচ্চা। দেখতে পুরাই নাদুসনুদুস রসগোল্লা ওয়াও! মেহু এই দুই ভাইবোনকে কুনজরেও দেখতে পারে না। ভাই বাবলু পড়ে আছে তরুর পিছনে। আর বোন ডাবলি পড়ে আছে তার থেকে কয়েক বছরের ছোট তেজের পিছনে। মেহুর নিজেকে এখন খুব অসহায় মনে হচ্ছে। মেহু এবার আফসোস করে বলতে লাগল, ইশশ! আমার যদি কোনো ক্ষমতা থাকতো। তাহলে এই দুই ভাই বোনকে চড়িয়ে মুখের ডিসপ্লে পরিবর্তন করে দিতাম। এভাবে সেভাবে আমার ননদ আর জামাইয়ের দিকে তাকানো বের করে দিতাম।

মেহুর অতশত ভাবনার মাঝেই, পাশের বাসার ছাদ থেকে ফ্লায়িং কিস ছুঁড়ে মারার কম্পিটিশন শুরু হয়ে গেছে। দুই ভাই বোন লাগাতারে ফ্লায়িং কিস ছুঁড়ে মারছে তেজ আর তরুর দিকে। তরুর ধৈর্য্য বাদ যেনো এবার ভেঙে গিয়েছে। তরুর পাশেই পড়ে থাকা একটা লাঠি নিয়ে ছুড়ে মারের বাবলু দিকে। বাবলুকে উদ্দেশ্য করে অস্রাব ভাষায় গালিগালাজ করতে তাকে তরু। বাবলুর যেনো এতে কোনো হেলদোল নেয়। বাবলু যেনো আজকে পন করে নিয়েছে, যায় হয়ে যাক কিস ছুঁড়ে মারা বন্ধ করা যাবে না।

ডাবলিকে নিজের দিকে এইভাবে কিস ছুঁড়ে মারতে দেখে তেজের মনের ভিতর লাড্ডু ফুটে উঠলো। কথায় আছে, ছেলেদের মতিগতি বোঝা বড় দুস্কর। তেজের ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই। মেহুকে সাইডে রেখে, নতুন করে যেনো ডাবলির প্রেমে পড়ে গিয়েছে তেজ। ডাবলির এমন ফ্লায়িং কিস দেখে, তেজ তার গালটা এগিয়ে দেয় ডাবলির দিকে। তেজকে এমন লুচ্চামি করতে দেখে,মেহুর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। ডাবলির দিকে বাড়িয়ে দেওয়া তেজের গালে স্বজোড়ে এক থাপ্পড় লাগিয়ে দেয় মেহু। আচমকা বা কানের নিচে স্ব জোরে থাপ্পড় লাগার কারনে, তাল সামলাতে না পেরে দু পা পিছিয়ে যায় তেজ। মেহুকে এমনভাবে নিজের গালে থাপড়া দিতে দেখে ফুস করে উঠে তেজ। তেজ হাত উচিয়ে তেড়ে আসে মেহুর দিকে। মেহু তেজকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে আজুংবাজুং বুঝাতে লাগল।

মেহু এবার তেজকে উদ্দেশ্য করে বলল, তেজ তুই আমার উপর রেগে যাচ্ছিস কেনো ভাই। আমি তো তকে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাচিয়ে দিলাম। আর তুই কিনা আমাকেই মারতে আসছিলি। মেহু হতাশ হয়ে বলতে লাগল, আসলেই এখন মানুষের উপকার করে নাম পাওয়া যায় না। মানুষ নিতান্তই সার্থপর। তেজ কিছু বুঝতে না পেরে মেহুকে উদ্দেশ্য করে বলল, মেহু আমি তর কথা বুঝতে পারছি না। এখানে ভাইরাস আসল কোত্থেকে? বুঝিয়ে বল আমাকে।

তেজের প্রশ্নের বিপরীতে মেহু এবার ইনিয়েবিনিয়ে বলতে লাগল, তেজ তুই কি জানিস, এই ডাবলির নাক দিয়ে সারাবছর হিং’গা’ল পড়ে। আর এই ভাইরাসজনিত হিংগাল আস্তে আস্তে ঠোঁটে এসে লেপ্টে পড়ে। আর এই দূষিত ঠোঁট দিয়ে তকে ফ্লায়িং কিস ছুঁড়ে মারছিল। ভাবা যায়। কি সাং’ঘা’তি’ক কান্ডকারখানা!

মেহুর কথার বিপরীতে তেজ হতভম্ব হয়ে মেহু কে জিজ্ঞেস করলো, মেহু এই হিং’গা’ল’টা কি? এটা কি কোনো নতুন ভাইরাস? তেজের প্রশ্নের বিপরীতে মেহু বিরক্ত হয়ে বলল, আরে না __ এটা কোনো নতুন ভাইরাস না। এটা আদিম কালের পুরোনো ভাইরাস। এই ভাইরাসকে শুদ্ধ ভাষায় সর্দি বলা হয়। আর আঞ্চলিক ভাষায় হিং/গা/ল। সর্দি নিয়ে মেহুর এমন ডে’ঞ্জা’রা’স বিশ্লেষণ শুনে বিষম লেগে যায় তেজের। তেজ মেহুকে দেখলো, ভাবলো আর বলল, তুইও মারাত্মক ডেঞ্জারাস মেহু। সবশেষে আমি তেজ তেজপাতা হতে, তর মতো ডেঞ্জারাস মেয়েকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভাবা যায় আমি কত্তো সাহসী।

নীহারিকা সেই সকাল থেকে অনবরত কল দিয়েই যাচ্ছে রোদকে। রোদ এবার বিরক্ত হয়ে ফোনটাকে বন্ধ করে রাখে। আজকে রোদের ছুটির শেষদিন। আজকেই রোদকে মেডিক্যালে ফিরতে হবে। রোদ রেডি হয়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে একেবারে নিচে আসে। চৈতালি হাওলাদারের আজ ভীষণ মন খারাপ। আদরের ছেলেটা আজ চলে যাবে মেডিক্যালে। যে কয়দিন বাড়িতে ছিল রোদ, বাড়িটা যেনো প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। আজকে রোদ চলে যাওয়ায় বাড়িটাও যেনো মন খারাপ করেছে।

হাওলাদার বাড়ি থেকে মেডিক্যাল কলেজ অনেকটা ধুরে। তাই ছেলেকে দেখতে বা নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ানোর শখটা ঠিক হয়ে উঠে না চৈতালি হাওলাদারের। চৌধুরী বাড়ি থেকে মেডিক্যাল কলেজ খুব কাছে হওয়ায় জাহানারা চৌধুরী চৈতালি হাওলাদারকে টেনশন করতে মানা করেন। জাহানারা চৌধুরী চৈতালি হাওলাদারকে আশ্বাস দিয়ে বলল, আপা আপনি একদম রোদের খাবার-দাবার নিয়ে টেনশন করবেন না। আমি প্রতিদিন তরুকে দিয়ে খাবার পাঠাবো রোদের কাছে। জাহানারা চৌধুরীর এহেন কথায় একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো চৈতালি হাওলাদার।

রোদ মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পরে মেডিক্যালের উদ্দেশ্য। গাড়ি এসে থামলো একদম মেডিক্যাল গেইটের সামনে। রোদ গাড়ি থেকে নামতেই নীহারিকা দৌড়ে এসে জাপ্টে ধরে রোদকে। আশেপাশের সব মেডিক্যাল স্টুডেন্ট তাকিয়ে আছে রোদ আর নীহারিকার দিকে। নীহারিকার যেনো এতো কোনো হেলদোল নেই। নীহারিকা এবার রোদকে উদ্দেশ্য করে বলল, এতোদিন বাড়িতে কি করছিলি রোদ? তকে কতবার কল করেছি। তুই আমার একটা কলও রিসিভ করিসনি কেনো? তুই জানিস না তকে ছাড়া আমার কেমন দমবন্ধ দমবন্ধ লাগে। রোদকে এমন চুপ থাকতে দেখে নীহারিকা রোদকে উদ্দেশ্য করে বলল, কিরে রোদ কথা বলছিস না কেনো? বাড়িতে কি বউ রেখে এসেছিস। বউ কি মানা করছে অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলতে। নীহারিকা কিছুটা তামাশার চলে বলে কথাখানি।

নীহারিকার মুখে বউ কথাটি শুনা মাত্রই তরুর হাসোজ্জল মুখটা ভেসে উঠে রোদের সামনে। নীহারিকাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রোদ আনমনে বলতে লাগল, হ্যাঁ বাড়িতে আমার বউ আছে। আমার ছোট্ট বউ তরু।

চলবে__ইনশাআল্লাহ