পিচ্চি বউ পর্বঃ০৫

0
1998

পিচ্চি_বউ
পর্বঃ০৫
লেখাঃ রাইসার_আব্বু

কথাকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম। এদিকে সাথী বলল,যে কথাকে আমাদের দুজনের মাঝ থেকে সরিয়ে ফেলবে।

.

আমি অনেক বুঝানোর পর কথা বলল, সেদিন কক্সবাজার মেয়েটা যা বলেছে সব শুনেছি। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো,মেয়েটাকে তোমার বাবা অনেক স্নেহ করে। আমি তোমাদের বাড়ি রহিমের কাছে খবর পেয়েছি যে তোমার বাবা নাকি তোমার সম্পত্তি কথার নামে লিখে দিবে! তাই আমাদের ভবিষতের জন্য কথাকে আমাদের পথ থেকে সরিয়ে দিবে। আমি তোমাকে না বলেই প্রফেশনাল কিলার এর সাথে কন্টাক্ট করেছি।

.

নাহ্ এ হতে পারে না, আমাদের ভালোবাসার জন্য একটা নিষ্পাপ জীবনকে হত্যা করবো? নাহ্ সাথী এটা করা ঠিক হবে না। ( আমি)

.
বাবু দেখ, আমি চাইনা কিন্তু তোমার বাবা কখনো কথা বেঁচে থাকতে আমাকে মেনে নিবে না! আর তোমাকে না পেলে আমি বাঁচবো না। সত্যি মরে যাবো তুমি আমার নিঃশ্বাস, তুমি আমার প্রান। জানো তুমি কথাকে বিয়ে করার পর একটি রাতো শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। এতটা ভালবাসার পরও কেন আল্লাহ্ তোমার আর আমার মাঝে এতো বড় দেওয়াল তুলে দিল। প্লিজ তুমি আমাকে খুন করে ফেল। নয়তো, আমাকে তোমার বুকে টেনে নাও। তোমার বুকটাই যে আমার শেষ ঠিকানা। তোমার বুকেই আমি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চাই! ( কথাগুলো কান্না করতে করতে সাথী বলল)

.

প্লিজ কান্না করো না, আমি সব সইতে পারি কিন্তু তোমার কান্না সহ করতে পারি না। তোমাকে যে বড্ড ভালবাসি। কিন্তু আমাদের ভালবাসার জন্য একটা নিঃশ্বাপ জীবনকে কেমনে সরিয়ে ফেলি? আল্লাহ্ কি ক্ষমা করবে আমাদেরকে?

.

“হুম, জানি এটা অন্যায়, কিন্তু এ ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই, “কথাটা বলে হাতটা নিয়ে সাথীর গলা চেপে মেরে ফেলতে বললো। plz kill me. আমাকে গলা চেপে মেরে ফেল। তোমাকে ছাড়া বাঁচতর পারবো না। জানো রাজ, মেয়েরা সব ভাগ দিতে পারে, তবে একটা ভাগ ছাড়া, তাহলো তাঁর ভালবাসার ভাগ। আমার সহ্য হয় না কথাকে, যে বুকে আমার থাকার কথা সে বুকে সে মেয়েটা থাকে, যে স্বপ্ন তোমাকে নিয়ে দেখেছি, সে স্বপ্ন পূরণ করছে, মেয়েটা। আমাকে তুমি হত্যা করতে পারবে না! পারবে না তোমার সে স্ত্রী কথাকেও হত্যা করতে। কিন্তু তোমাকে আমায় হত্যা করতে হবে না! তুমি হীনা আমি এ জীবন দিয়ে কি করবো? কথাটা বলে কাদতে কাঁদতে, ব্লেড দিয়ে হাত পোচ দিল। হাত থেকে ফেড়কি দিয়ে রক্ত বের হতে লাগল। সাথীর চোখ দিয়ে টুপ-টাপ করে পানি পড়তে লাগল। সাথীর রক্ত দেখে, নিজের কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে। ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলাম ” সাথীর গালে! আমার থাপ্পর খেয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগল। শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম সাথীকে। সাথীকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলাম” কেন এভাবে পাগলামো করছো? তোমাকে ছাড়া আমি কেমনে বাঁচবো। কথাকে তাহলে খুব শীঘ্রই আমাদের মাঝ থেকে সরিয়ে আমার ময়নাপাখিটাকে আপন করে নিবো। বুকের ভেতর চাপা কান্নার আওয়াজ পেলাম।

.

সাথীকে আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার কপালে ভালবাসার স্পর্শ এঁকে দিলাম। সাথীকে বাসায় ডপ করে, বাসার আসতে দেখি, কথা খাবার নিয়ে বসে আছে, রাত প্রায় দশটা। আমি কিছু না বলে শুয়ে পড়লাম।

.

আপনি খাবেন না? কিছু খেয়েছেন? মন খারাপ আপনার? ( কথা)

.

হ্যাঁ বাহির থেকে খেয়ে এসেছি ! আর হ্যাঁ মনখারাপ আমার আর তাঁর কারণ তুই।

.
পিচ্চিটার দিকে তাকিয়ে দেখি, কাঁদবে কাঁদবে ভাব। কম্বলটা টান দিয়ে শুয়ে পড়লাম। মাঝরাতে ঘুম ভাঙতেই দেখি, কেউ একজন শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে আমায়! চোখ খুলেই, দেখি পিচ্চিটা আমার বুকে, চাঁদের আলো পিচ্চিটার মুখে এসে পড়ছে। চুলগুলো রঙ পাল্টাচ্ছে! হঠাৎ নিচের দিকে তাকাতেই চোখ কপালে উঠলো!

পিচ্চিটা শাড়ি খুলে নিচে ফেলে দিয়েছে। আমি জানি কথা শাড়ি পড়ে ঘুমাতে পারে না। কিন্তু, থ্রিপিচ তো পড়ে ঘুমায় তাহলে আজ ইচ্ছা করেই এমন করছে। আজ পিচ্চিটাকে এতো সুন্দর লাগছে, মাথার চুলগুলো কপাল পেরিয়ে মুখে এসে পড়ছে, মন চাচ্ছে ফুঁ দিয়ে চুলগুলো কপাল থেকে সড়িয়ে আলতো করে কথার কপালে ভালবাসার পরম স্পর্শ এঁকে দেয়।

একি আমার গাঁয়ে লিপিস্টিক এর দাগ, মনে মনে ভাবছি, আজ মনে হয় পুরুষ ধর্ষণ করেছে।
আমার বুকে লিপিস্টিকের দাগ দেখে বিস্মিত হলাম। কথার ঠোঁটের দিকে তাঁকিয়ে দেখি, ঠোঁটে একবিন্দু লিপিস্টিক নেই! মনে মনে ভাবছি পিচ্চিটা কি সর্বনাশ করছে। তবে আজ কেন পিচ্চিটাকে এতো সুন্দর লাগছে?
মন চাচ্ছে সারাজীবনের জন্য আপন করে নেই। হয়তো কথার সৃষ্টিই হয়েছে আমার জন্য।
কিন্তু না আমার বুকে সাথী ছাড়া কারো জায়গা নেই। আমার মন প্রাণ জুড়ে শুধু সাথী! তাই কথাকে কয়েকবার ডাক দিলাম উঠলো না। তাই জোরে ধাক্কা দিতেই চোখ কচলিয়ে কচলিয়ে উঠলো। আমি বললাম কি ব্যাপার আমার গাঁয়ে লিপিস্টেকের দাগ কেন? আর তুমি কেন আমার বিছানায় শুয়েছো? ( আমি)

.

আমার না খুব ভয় করছিল! আর রাতে অামি কিছুই করিনি সব আপনি করছেন। অামি তো আপনার সাইটে ঘুমিয়ে ছিলাম, আপনি জোর করে বুকে টেনে নিয়েছেন। আপনাকে মনে করেছিলাম এমনে অনেক ভালো, কিন্তু ঘুমের ঘরে আপনি যে এতো ডেবিল,। না ডেবিল না শুধু ডেবিলের বস, আমার লিপ কিস করেছেন, ঘাড়ে কিস করেছেন, বুকে কিস “”

.
এই চুপ অসভ্য মেয়ে, আর কিছুক্ষণ
পর বলবে আমার নাভিতে,আরো কত জায়গায় করেছি! বলতে হবে না! ( আমি)

.

আপনি ঘুমাননি তাহলে? সব জেগে থেকে ইচ্ছা করেই করেছেন? ( কথা)

.

এই পিচ্চি চুপ করবে, মিথ্যা বলতে লজ্জা করে না। তোমার শাড়ি কে খুলেছে? শাড়ি কেন খাটের নিচে ফেলে রেখেছ। শাড়ি পড়তে পারো না বিয়ে বসেছো কেন? ( আমি)

.

হুম, আমি না হয় শাড়ি পড়তে পারি না, নিজে তো লুঙিটাও পড়তে পারো না। আবার অন্যকে শাড়ি পড়ার কথা বলে। পিচ্চিটার কথা শুনে নিজের দিকে তাকাতেই চোখ বন্ধ করে ফেললাম। চাদরটা গাঁয়ে জড়িয়ে কষে একটা থাপ্পর দিলাম কথাকে। থাপ্পরটা খেয়ে, মাটিতে পড়ে গেল। আমার রাগ চরমে উঠে গেছে। রাগের মাথায় বলতে লাগলাম ” তুই মরতে পারিন না, আমার জীবনটাকে নষ্ট করে দিয়েছিস।জন্ম নিয়েই তো মা- বাবাকে খেয়েছিস এখন আমাকেও নাকি খাবি? আর তোকে না বলছি, ডির্ভোস দিবো তাঁরপর কেন আমার বিছানায় আসিস! ” আরেকদিন যদি আমার বিছানায় আসিস তাহলে প্রযোজনে তোকে খুন করে জেলে যাব। ”

.

আপনাকে খুব কষ্ট দিয়েছি তাই না? আপনার কোথাও লাগেনিতো? আপনার হাতে কি ব্যাথা পেয়েছেন? জানেন আল্লাহ কেন যে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ছোট বেলার অনাত আশ্রমে বড় হয়েছি, দেখিনি মায়ের মুখ, মা ডাকটাও কখনো ডাকতে পারিনি। পারেনি বাবার কাছে আবদারের সুরে কিছু চাইতে। কখনো বাবার কাঁধে চড়ে, ঘুরতে পারিনি। পারবোই বা কীভাবে? বাবাকে তো কখনো দেখিইনি। আর এখন আসছি আপনাকে জ্বালাতে। জানেন আত্মহত্যা মহাপাপ সে জন্যই হয়তো বেঁচে আছি। তা না হলে কখনোই আপনার পথের কাঁটা হতাম না। আপনার বাড়ির দাসী করে রেখে দিয়েন, পারিশ্রমিক হিসাবে, সকাল বিকাল রাতে এভাবে থাপ্পর দিয়েন। তবুও তো দাসী হয়ে আপনার হাতের স্পর্শটা পাবো। আসি, কি করবো ভয় পায় তো, তাই আপনার বুকটাকে নিরাপদ মনে করে শুয়েছিলাম। ক্ষমা করে দিবেন এই এতিমটাকে। ( নিচের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলতেছিল, আর চোখ থেকে আষারো শ্রাবণ ঝরণা ধারায় মতো জল গড়িয়ে পড়ছে চোখ থেকে)

.

পিচ্চিটার কথা শুনে নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগছে, এভাবে মারাটা ঠিক হয়নি। সব চেয়ে খারাপ লাগছে, যখন দেখলাম পিচ্চিটার ঠোঁট কেঁটে রক্ত পড়ছে।

.

পরের দিন মা- বাবা জান্নাত কে নিয়ে নানী বাড়ি চলে গেলে, সাথীকে ফোন দিলে সাথী বাড়িতে আসে।

.

এদিকে সাথী আজ পিংক কালারের একটা শাড়ি পড়েছে। হালকা লিপিস্টিকের সাথে চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছে। সাথী আসলেই সাথীকে নিয়ে বেডরুমে ঢুকে পড়ি। কথা অবাক নয়নো তাকিয়ে আছে চোখটা ছলছল করছে। মনে হচ্ছে কখন জানি বৃষ্টি নামবে।

.

কি হলো দরজার দাঁড়িয়ে আছো কেন? আজ তুমি জান্নাতের রুমে থাকবে। আর আমাদের এই রুমে আজ রাতে আমাদের এই রুমে আসবে না বিরক্তি করতে। আর হ্যাঁ আমাদের দুজনের জন্য খাবার দিয়ে যেয়ো।

.

এদিকে কথা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক জবাব দিল।

.

কথা চলে গেল, সাথী এসে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে, কবে যে পাবো তোমায় সারাজীবনের জন্য। কবে তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো। এদিকে আমার হাতটা সাথীর স্পর্শকাতর জায়গায় সাথীর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। ঠোট জোড়া সাথীর ঠোঁট জোড়াকে আবদ্ধ করে ফেলবে ঠিক তখনি, কথা খাবার নিয়ে রুমে ঢুকে পড়ে,কোন প্রকার নর্ক না করে। আমি সাথীকে ছেড়ে দেয়। কথার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম কাঁদছে। কথা ভাবেনি আমি এতটা নিচে নেমে যাবো কিন্তু কথা জানতো না, আমার কলিজার টুকরা হচ্ছে সাথী! সাথীই আমার জীবন মরন। আমার ভালবাসা। আমার ভালবাসা সব সাথীর জন্য। কথা খাবার রেখে চলে গেল। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে দেখা গেল কথার।

.

এদিকে সাথীর সাথে গল্প করতে করতে কখন যে আমি আর সাথী ঘুমিয়ে যায় খেয়াল নেই। সাথীর সাথে ফিজিক্যালি রিলেশন করতে চাইলেও সাথী বিয়ের পরের কথা বলে, আমরা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এক সপ্তাহ পর বিয়ে করবো। তাই আর জোর করিনি। এদিকে মাঝরাতে কারো চাঁপা কান্নার আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। চোখ খুলতেই দেখি, সাথী আমার বুকে, সাথীকে বুক থেকে সরিয়ে, কান্নার আওয়াজ কোথায় থেকে আসছে তা দেখার জন্য রুমের বাহিরে বের হতেই যা দেখলাম তা দেখার একেবারেই প্রস্তুুত ছিলাম না “”””

চলবে “”””””””””

বিঃদ্রঃ ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।।