পিচ্চি বউ পর্বঃ০৬

0
1944

♥♥ পিচ্চি বউ♥♥
পর্বঃ০৬
লেখাঃরাইসার_আব্বু!

.

এদিকে সাথীর সাথে গল্প করতে করতে কখন যে আমি আর সাথী ঘুমিয়ে যায় খেয়াল নেই। সাথীর সাথে ফিজিক্যালি রিলেশন করতে চাইলেও সাথী বিয়ের পরের কথা বলে, আমরা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এক সপ্তাহ পর বিয়ে করবো। তাই আর জোর করিনি। এদিকে মাঝরাতে কারো চাঁপা কান্নার আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। চোখ খুলতেই দেখি, সাথী আমার বুকে, সাথীকে বুক থেকে সরিয়ে, কান্নার আওয়াজ কোথায় থেকে আসছে তা দেখার জন্য রুমের বাহিরে বের হতেই যা দেখলাম তা দেখার একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না!

.

কথা জায়নামাযে বসে আছে, দেখে মনে হচ্ছে মোনাজাত ধরে আছে। মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ আসছে রুম থেকে । আমি আর একটু কাছে যেতেই শুনলাম কথা বলছে ” হে আল্লাহ্ আমার পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালা!

.

তোমার দরবারে দুটি হাত তুলে ধরেছি,

আল্লাহ শুনেছি, মাঝরাত নাকি তুমি প্রথম আসমানে এসে বান্দাদের ফরিয়াদ শুনো? আচ্ছা আল্লাহ এতিম বলে কি আমার ফরিয়াদ শুনবে না? জানো আল্লাহ্ দুনিয়াতে মানুষ কষ্ট পেলে মা-বাবাকে বলে। তুমি তো আমার মা- বাবাকেও উঠিয়ে নিয়েছো। তুমি ছাড়া যে আসমানের উপরে, জমিনের নিচে কেউ নেই আমার। শুনতে পাচ্ছো কি আমার কথা? দুনিয়াতে সন্তান কান্না করে দিলে মা দৌঁড়ে আসে, সন্তানকে কুলে তুলে নিয়ে গালে -মুখে চুমু দিয়ে বলে, কি হয়েছে, আমার লক্ষী সোনা কাঁদে না। হে আল্লাহ্ তুমি তো দুরিয়ার মায়েদের চেয়ে লাখো কোটিগুণ তোমার বান্দাদের বেশি ভালবাসো। তুমি তো সব দেখো,হে মাবুদ। আমার স্বামী আজ অন্যের বুকে শুয়ে আছে, আমার কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে। আল্লাহ্ আমার মা-বাবাকে তুমি তোমার কাছে নিয়ে নিলে, আমায় কেন রেখেছো?
আমাকে কষ্ট দিতে তোমার যদি ভালো লাগে দাও আরো কষ্ট। আল্লাহ্ আমি যে আর সইতে পারছি না। একজন পতিতা নারীও তাঁর স্বামীর ভাগ অন্য কাউকে দিবে না, আর আমি এতটাই অভাগী জন্ম নেওয়ার পর না পেলাম বাবা-মার ভালবাসা। না পেলাম, স্বামীর ভালবাসা। আজ আমার স্বামী আমাকে বের করে দিয়ে, অন্য মেয়ের সাথে রাত্রি যাপন করছে। হে আল্লাহ আর কতো কাঁদবো? কত কাঁদলে তোমার রহমতের সাগরে টান লাগবে।আর কত অশ্রু বির্সজন দিলে, তোমার আরশ কুরসী কেঁপে ওঠবে? কত কাঁদলে তোমার রহমান – আর রহিম নামের দয়ার সাগরে টান লাগবে। তুমি না বলেছে এতিমদের অবিভাবক তুমি। তুমি না বলেছে যার কেউ নেই তাঁর তুমি আছো।আল্লাহ এতিম মানুষের চোখের পানি তোমার দেখতে কি খুব বেশি ভালোলাগে? আর যে আমি পারছি না! হে রহিম রহমান আমার আল্লাহ্। আমার স্বামীকে আমার করে দাও। আমার স্বামীকে তোমার জান্নাতে নিয়ে একসাথে থাকতে চাই। ও আমার আল্লাহ্ তোমার এতিম গোনাহ্গার বান্দী কাঁদে তুমি দেখ না গো আল্লাহ? কষ্ট দিবে দাও, আরো দাও আমার স্বামীকে আলাদা করে দিয়ো না, আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন কেড়ে নিয়ো না। হে আল্লাহ্ আমার স্বামী আমাকে এতো মারে, এতো কষ্ট দেয়, তুমি তো দেখেছো, আমাকে তিনবার থাপ্পর দিয়েছে তিনবারই আমার ঠোঁট কেঁটে রক্তবাহির হয়ে গেছে। ও আমার আল্লাহ্ তুমি আমার স্বামীর উপর গজব দিয়ো না, আল্লাহ্ আমি কিন্তু খুশি আছি তবুও, তুমি রাগ করো না। আমাকে মেরেছে আল্লাহ্ তোমায় কিন্তু মারেনি, আল্লাহ্। আমি কিন্তু খুশি আছি, তুমি রাগ করো না। আমার স্বামীকে তুমি হেদায়েত দাও। আল্লাহ্ তুমি আমার স্বামীকে হেদায়াত দাও। গজব দিয়ো না। আমার স্বামীর বুকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার তৌফিক দান করো আল্লাহ্। তোমার এতিম গোনাহ্গার বান্দী এই ফরিয়াদ রেখে তোমার দরবার থেকে হাত নামাচ্ছে আল্লাহ।আমিন।

.

এদিকে দরজার ওপাশ থেকে কথার মোনাজাত শুনে, নিজের অজান্তে চোখের পানি এসে গেল। পিছন দিকে তাঁকিয়ে দেখি সাথী।

.

তুমি এখানে আর আমি সারা বাড়ি তোমার খুজতেছি। এই তুমি কাঁদছো কেনো? কথাটা বলে সাথী কান্না করে দিয়ে বললো” কখনো আমায় ছেড়ে যাবে নাতো? আমি ভয়ানক একটা স্বপ্ন দেখলাম তোমায় নিয়ে, তুমি আমাকে যদি ছেড়ে যাও, তাহলে ফল কাঁটা ছুরি নিয়ে বলো, এটা আমি আমার গলায় চালিয়ে দিবো, তুমি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে আমাকে খুন করে আমার লাশের উপর দিয়ে যাবে।

.

এদিকে সাথী আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। আমি অনুচ্ছা সত্ত্বেও সাথীকে বাহুডুরে আবদ্ধ করে নিলাম। সাথী কান্না করতে করতে শার্ট ভিজিয়ে ফেলছে, সাথীকে ছাড়িয়ে বললাম ভয় পেয়ো না ” তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না! তাহলে আমার মাথা ছুয়ে প্রমিজ করো আমাকে ছেড়ে যাবে না?

.

আমার হাতটা কাপছে, আমার চোখে বারবার পিচ্চিটার মায়াবী চেহারাটা ভেসে ওঠছে। চোখ দিয়ে নিজের অজান্তেই পানি আসতে লাগল। কি করবো কিছু বুজতে পারছি না।

.

জীবনটা এমন কেন কখনো হাজার বছর বেঁচে থাকার ইচ্ছা জাগায় আবার কখনো এক মূর্হুতের জন্যও নয়।

.

ওই রাজ তুমি আমার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করবে না? কখনো আমায় ছেড়ে যাবে না? প্লিজ প্রমিজ করো, তোমাকে হারালে সত্যি আমি যে বাঁচবো না! মরে যাবো সত্যি। প্লিজ প্রমিজ করো, নইতো ছুরিটা গলায় চালিয়ে দিবো

.
প্লিজ, তুমি যে আমার ভালবাসা। তুমি যে আমার জীবনের একটা অংশ। এই যে তোমার মাথা ছুঁয়ে প্রমিজ করছি, কখনো কোনদিন তোমায়

ছেড়ে যাবো না। তুমি যে আমার ভালবাসা। তুমি যে আমার জীবনের একটি অংশ। প্লিজ মরার কথা বলবে না আর। আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো।

.

আচ্ছা রাজ, তুমাকে একটা কথা বলি রাগ করবে না তো?

.

কি বলবে বলো?

.

আমায় একটা পাপ্পি দিবে?

.

আচ্ছা কাছে এসো, কাছে আসার কথা শুনেই সাথী এতটা কাছে এসে পড়লো, সাথীর নিঃশ্বাস আমার মুখে পড়ছে। আমার ইচ্ছে করছে না তবুও নিজের অজান্তেই সাথীর কপালে ভালবাসার স্পর্শ এঁকে দিলাম। এদিকে সাথী আমাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল। তার পর আর কিছু মনে নেই।তবে কে যেন দরজাটা চাপিয়ে দিল। হঠাৎ বিছানাটা কাঁপছে, চোখ খুলতেই দেখি, ফোন এসেছে।

.
ফোনের স্ক্রীনের দিকে তাকাতেই দেখি, হিটলারটার ফোন, ” আমি ভয়ে ভয়ে ফোন তুলতেই ওপাশ থেকে বলতে লাগল!

” কখন থেকে ফোন দিচ্ছি,ফোন ধরার কোন নাম নেই! কয়টা বাজে এখনো ঘুমাচ্ছিস। তাড়াতাড়ি এসে গেট খুলে দিয়ে যা!

.
কাম সারছে, সাথী এখনো আমার বুকেই শুয়ে আছে। এতো সকালে বাসায় সাথীকে দেখলে আমাকে কুরবাণী করবে। মাথা কাজ করছে না!

.

এই সাথী, আর কতো ঘুমাবে! এবার উঠো?

হু, বাবু আর একটু ঘুমায়!

.

উঠবা তুমি, তাড়াতাড়ি ওঠো।

.
সাথী চোখ কঁচলিয়ে কঁচলিয়ে ওঠে বললো” কী হয়েছে?”

.

আমি বললাম” বাবা এসেছে বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে, কুরবাণী করবে আজ আমাদের “!

.

‘এখন কী হবে?

.
যা হবার হবে, বুক থেকে সরো, শাড়িটা পড়ে নাও!

.

সাথী শাড়িটা ঠিক করে রুমের বাহিরে এলো। আমি ভয়ে ভয়ে বাসায় গেট খুলতেই বাবা বললো” গেট খুলতে এতো সময় লাগে?

.

আর ওই মেয়ে এখানে কেন? কেন এসেছে এতো সকালে?

.
আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না, খুব ভয় হচ্ছে।

হঠাৎ! কথা বলতে লাগলো” বাবা সাথী আমার বান্ধবী, এদিক দিয়ে যাচ্ছিল, আর আমাকে ফোন দিলে আমি আসতে বলি। বাসায় আসার পর দেখি, রাজ আর সাথী পূর্ব পরিচিত! ( কথা)

.
সাথী তুমি কিছু মনে করো না, রাজের বাবা এমনি, সবকিছু সন্দেহের চোখো দেখে! ( মা)

.

” আন্টি আমি কিছু মনে করিনি, আমার আজ তাড়া আছে, এখন তাহলে উঠি, অন্য দিন আবার আসবো ” ( সাথী কথাটা বলে চলে গেল”)

.

সাথী চলে গেলে, কথাকে ছোট্ট করে ধন্যবাদ দিলাম। কথা করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো।

.
কথার কলেজে ক্লাস শুরু হয়েছে! কথাকে বাবা কলেজে দিয়ে আসতে বললো।

.

বাবার কথা মতো, কথাকে কলেজে নিয়ে যাবার জন্য বের হলে, সাথী ফোন দেয় এবং বলে, কথাকে গাড়ি করে যেন কলেজে পাঠায়। সাথীর কথা মতো তাই করলাম।

.

দুপুরে বসে আছি, হঠাৎ কথার নাম্বার থেকে , ফোন আসল। আমি ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে অপরিচিত কণ্ঠে কেউ একজন বললো” ফোনটা যার তিনি, দুর্ঘটনায় মারা গেছে, লাস্ট ডায়ালে আপনার নাম্বারটা ছিল। প্লিজ মেয়েটি যদি আপনার পরিচিত হয়ে থাকে তাহলে,শেরপুর সরকারি হসপিটালে আসুন”!

.

কথাটা শুনে কিছুক্ষণের জন্য, পাথর হয়ে গেয়েছিলাম! কি থেকে কি হয়ে গেল। হসপিটালে গিয়ে দেখি, মাথাটা কেমন থেতলে গেছে। নাক দিয়ে রক্ত বের হয়ে আছে! মুখটা অনেক মায়াবী লাগছে। আজ কেন জানি বুকটা ফেটে কান্না আসছে। আজ তো আমার সুখের দিন। আমার পথের কাঁটা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। তবে কেন এতো কষ্ট হচ্ছে মনে হচ্ছে প্রাণটা দেহ থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। হে আল্লাহ্ ভালবাসা পাওয়ার জন্য নিজের স্ত্রীকো খুন করে ফেললাম। কিছুক্ষণ পর বাবা- মা আসলো তারাও কাঁদছে। বাবা সবচেয়ে বেশি কাঁদছে।

.

আজ কথার দাফন, কথার লাশটা কাঁধে নিয়েছি। মনে হচ্ছে কলিজাতে কেউ ছুরি চালিয়ে দিয়েছে। দূরে সাথীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। সাথীও আজ কাঁদছে। আকাশ-বাতাস আজ কাঁদছে মনে হচ্ছে।

.

কথাকে দাফন করে আসলাম।

.

সাথী আমাকে নির্জনে ডেকে নিয়ে অনেক কান্না করলো। ক্ষমাও চাইলো। সরাসরি আমার পায়ে পড়ে বলতে লাগলো” রাজ আমাদের ভালবাসার জন্য একটা নিষ্পাপ জীবনকে হত্যা করে ফেললাম”?

.

আমি সাথীকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বললাম” তুমি কিছু অন্যায় করোনি। যদিওবা করে থাকো সব তোমার ভালবাসাকে পাওয়ার জন্য!

.

সাথী চলে গেল। কথার ছায়া মনে হয় প্রতিনিয়ত আমার পাশে ঘুরে। কেমন যেন উদাসীন লাগে। আজকে ভাবলাম সাথীর কাছে যাই এভাবে আর পারছিনা! আজ রাতটা সাথীর সাথে থাকবো। সাথীকে ফোন দিয়ে না পেয়ে বাসায় গেলাম! বাসায় গিয়ে দেখি দরজা খুলা আমি সরারসি সাথীর রুমে চলে গেলাম! সাথীর রুমের কাছে যেতেই দরজার ভেতর থেকে পুরুষ কণ্ঠের আওয়াজ শুনলাম! আমি ভেতরে কি হচ্ছে তা দেখার জন্য জানালার পর্দা সরিয়ে রুমের ভেতরে তাকাতেই, চমকে উঠলাম! সাথী আর তাঁর ভাই রথক্রিয়ায় ব্যাস্ত। হঠাৎ সাথী যা বললো তা শোনার জন্য একেবারেই অপ্রস্তুত ছিলাম।

চলবে “”””

বিঃদ্রঃ ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।