পিচ্চি বউ পর্ব- ০৭

0
2151

♥♥ পিচ্চি বউ♥♥
পর্ব- ০৭

লেখাঃ রাইসার_আব্বু।

সাথীর রুমের কাছে যেতেই দরজার ভেতর থেকে পুরুষ কণ্ঠের আওয়াজ শুনলাম! আমি ভেতরে কি হচ্ছে তা দেখার জন্য জানালার পর্দা সরিয়ে রুমের ভেতরে তাকাতেই, চমকে উঠলাম! সাথী আর তাঁর ভাই রথক্রিয়ায় ব্যাস্ত। হঠাৎ সাথী যা বললো তা শোনার জন্য একেবারেই অপ্রস্তুত ছিলাম! বাবু কতদিন ধরে আদর করো না, প্লিজ আর একটু কাছে এসো। উম্মাহ্ আমার বাবুটা কি হট!( সজিব)

.

ইসসস আমার বুঝি লজ্জা করে না( সাথী)

.

ওমা তাই বুঝি, কোথায় লজ্জা করে? কথাটা বলে কিস করতে লাগলো। আর বলতে লাগল বাসর রাতে কে আগে জড়ায় ধরেছিল। আর আমরা তো স্বামী স্ত্রী? স্বামী স্ত্রীর মাঝে কিসের লজ্জা। পৃথিবীর সবাই জানে আমরা ভাই – বোন তবে আমরা দুজন ছাড়া, কথাটা বলে সাথীর ঠোঁট জোড়ার সাথে সজিবের ঠোঁট জোড়া মিলিয়ে দিল।

.

এসব দৃশ্য দেখে আমার পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝরছে। যার জন্য আমার নিষ্পাপ বউকে হারালাম। মন চাই কালনাগিনীকে খুন করি। কথার মুখটা বার বার চোখের সামনে ভেসে ওঠছে।

ওগো শুনছো আমাদের প্ল্যান সাকসেস ফুল হওয়ার পথে। আমাদের পথের কাঁটা কথাকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছি। মেয়েটা রাজকে অনেক ভালোবাসত। কিন্তু আমার অভিনয়ের কাছে, সব ভালবাসা চাঁপা পড়ে গেছে।
.
হুম আমার বউটা অভিনয়ে এওয়ার্ড পাবে, তুমি একদম পারফেক্ট অভিনয় করেছো
। সবচেয়ে রেলল গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মরার প্ল্যানের সাথে সাথে অভিনয়টা একদম সুপারহির্ট হয়েছিল। দেখতে হবে না বউটা কার?

এখন শেষ একটা কাজ হচ্ছে আমার জন্য পাগল রাজকে বিয়ে করে কৌশলে তার সমস্ত সম্পত্তি লিখে নিয়ে আমার বাবুটাকে নিয়ে আমেরিকা চলে যাওয়া। আর তা, এ মাসেই পূরণ হবে। হাসতে হাসতে কথাগুলো বললো!

.
কথাগুলো, শুনে বুকটা চিনচিনে ব্যথা করছে। মন চাচ্ছে দুইটাকে খুন করি। এদের জন্য আমার স্ত্রী কথা আজ পরপারে। কিন্তু, না এদেরকে এভাবে মারলে ফেসে যাবো। তাই কৌশলে আমার স্ত্রী হত্যার প্রতিশোধ নিতে হবে।

.
আজ বাইক চালাচ্ছি, আর কথার কথা ভাবছি,মনে হচ্ছে কথা আমার পাশে বসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। চোখ দিয়ে নিজের অজান্তেই পানি আসছে।

.
বাড়িতে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে ছোট বাচ্চার মতো কান্না করে দিলাম। খুব কষ্ট হচ্ছে বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো” আল্লাহর উপর ভরসা রাখ, তিনিই সবকিছু ঠিক করে দিবেন।

.
রুমে এসে শুয়ে পড়লাম! চোখ বন্ধ করলেই পিচ্চিটাকে দেখতে পাই। খাইতে গেলেও মনে হয় কে যেন বলে” তুমি খাবে না? তুমি না খেলে আমিও খাবো না “! পারছি না এভাবে আর থাকতে।

.

হঠাৎ ক্রিং ক্রিং করে ফোনটা বাজছে,

ফোনের দিকে চেয়েই দেখি, কালনাগিনীটা ফোন দিয়েছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোন ধরলাম!

.

আমার বাবু টা কেমন আছে? আমার বাবুটাকে বড্ড বেশি মিস করছি! বাবুটা একটু আমার সাথে দেখা করবে কি পার্কে। আমার যে বুকটা চিনচিনে ব্যথা করছে। উম্মাহ্ এত্তোগুলা। আর অল্পদিন পরেই আমার বাবুটাকে আপন করে পাবো। প্লিজ এসে পড়ো পার্কে!( সাথী)

.

আমি কালনাগিনীটার ফোনটা কেটে। পার্কে চলে গেলাম, পার্কে গিয়ে চুপচাপ পাশে দাঁড়িয়ে আছি! নীল শাড়ি পড়েছে, নোংরা শরীরটাকে ঢেকে রেখেছে, নীল পোষাকের আড়ালে, যদি কেউ নোংরা মনেন কার্যকলাপ দেখতে পারতো মনে হয়, কেউ থুথু পর্যন্ত দিতো না এ শরীরে।

.

কি হলো বাবু তোমার পছন্দের শাড়ি পড়েছি, কেমন লাগছে বললে না তো?

.
কি বলবো?

.

আচ্ছা বাদ দাও, আমার পথের কাঁটা তো নেই চলো না বিয়ে করে নিই। তোমাকে ছাড়া রাতগুলো আমার নির্ঘুম কাটে! তুমি যে আমার স্পর্দন। খুব ইচ্ছে তোমাকে আপন করে নেওয়ার আল্লাহ্ আমার সেই ইচ্ছা পূরণ করবে না? আমি যে তোমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালবাসি।

.
কথাটা বলার সাথে সাথে ঠাস ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলাম। আর সহ্য হচ্ছে না। এই তুই আমাকে ভালোবাসিস? তাহলে সজিব কে?

.
কি বলছো এইসব, সজিব তো আমার ভাইয়া! ( চোখের পানি ফেলে দিয়ে কথাটা বললো)

.

যে কেউ দেখে, কালনাগিনীটার মায়ার পড়ে যাবে কিন্তু আমি নয়। ছি তোর লজ্জা করে না নিজের স্বামীকে ভাই বলতে। স্বামীকে ভাই বানাতে। আমি সেদিন তোর বাসায় গিয়ে সব দেখেছি, আর শুনেছি! তোদের দুটোকে আমি নিজের হাতে খুন করে আমার ফুলের মতো নিঃষ্পাপ স্ত্রী হত্যার প্রতিশোধ নিবো।

.
হা হা হা, তাঁর আগে দেখ ভিডিওটা, যদি সাথীকে বিয়ে না করিস, বলবো সাথীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সর্বনাশ করেছিস। আর সাথী অন্তঃসত্ত্বা। তাই বুঝে নে কি করি তুই।

.

পিছন দিকে তাকাতেই দেখি, সজিব মোবাইল ফোনে, সাথীর আর আমার হোটেল রুমের ভিডিও এবং বাসার ভিডিও তুলে রাখছে। এসব দেখে নিজেকে আর কন্টোল করতে পারছি ফোনটা আচাড় দিয়ে ভেঙে ফেললাম।

.

বাবু খুব রাগ করেছো, এমন হাজারো ভিডিও আছে। বাবু রাগ করে না আগামি সপ্তাহে আমাদের বিয়ে। তুমি কাজি অফিস এসো নয়তো, থানাতে পাঠাবো বাসর করতে!

.

আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। এসব আমার পাপের ফল!

.
বাসায় এসে কথার ছবিটা বুকে নিয়ে কান্না করতে ঘুমিয়ে গেলাম!

.

পরের দিন সকাল বেলা টেলিভিশন অন করতেই যা দেখলাম তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম

.

.না ” কারণ খবরে দেখলাম কাল রোড একসিডেন্ট এ সজিব আর সাথী দুজনেই মারা গিয়েছে। মনে মনে ভাবলাম, আল্লাহর বিচার সবচেয়ে বড় বিচার। যার হাত থেকে কারো রেহাই নেই।

.

পরের দিন, কথার পছন্দের নীল শার্টটা বের করতে আলমারি খুলে একটা ডাইরি পেলাম” ডাইরিটা হাতে নিয়েই বুঝতে পারলাম এটা কথার লিখা ডাইরি!

” না পড়া সেই ডায়রিটা, ”

প্রথম পাতা উল্টাতেই নীল কালিতে লিখা দেখলাম!

.
কাল আমার বাসর রাত ছিল। বাসর রাত সব নারীর জীবনে শেষ্ট রাত থাকে, কিন্তু আমি বাসর রাতে স্বামীর হাতের স্পর্শে, ঠোঁটের রক্ত ঝরিয়েছি।

.
মা- বাবাকে হারিয়ে, ভেবেছিলাম স্বামীর পায়ের নিচেই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিবো, কিন্তু আল্লাহ যার কপালে সুখ রাখেন সে কীভাবে সুখী হবে!

.
প্রতিদিন মাঝরাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকতো, একা ঘুম থেকে উঠে পড়তাম! আল্লাহর কাছে মাঝরাতে স্বামীকে চেয়ে কান্না করতাম।

.
যেদিন আমার স্বামীর সাথে প্রথম যৌনসভ্রম হলো, সেদিন সব কষ্ট ভুলে গেয়েছিলাম। মনে মনে আল্লাহর দরবারে লক্ষ কোটি শুকরিয়া জানিয়েছিলাম আমার বরকে আমার করে দিয়েছে। কিন্তু পরের দিন যখন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নিয়ে এসে খেতে বলে, মুর্হূতে পৃথিবীটা উলট- পালট হয়ে যায়। বাধ্য করে আমাকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়ার! আল্লাহর কাছে কত কেঁদেছি। সন্তানটাকে গর্ভধারণ করার জন্য।

খুব কষ্ট হতো, বুকের ভেতরটা ফেটে কান্না আসতো যখন দেখলাম ” আমার স্বামী সাথী নামে মেয়েটার সাথে অবৈধ কাজ করে! নিজে যখন তাদের কুকর্ম ঢেকে রাখার জন্য দরজা টেনে দেয়। বাবাকে বলি, যে সাথী আমার ফ্রেন্ড! নিজের স্বামীকে বাঁচাতে নিজের ভালবাসা অধিকার বির্সজন দিয়েছি!

.
সবচেয়ে কষ্ট লেগেছে সেদিন, যেদিন শুনেছি আমাকে মারার জন্য আমার স্বামী আর সাথী প্ল্যান করছে, সব জেনেও মনকে এ বলে সান্ত্বনা দিয়েছি যে, রাজ যদি আমার জীবনের বিনিময়ে সুখে হয় তাহলেই আমি স্বার্থক!

.

ডাইরিটা পড়ে, নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না। পিছন দিকে তাকাতেই দেখি, কথা কান্না করছে!

.

এই কথা কাঁদো কেন? তোমাকে কষ্ট দিয়েছি, তার ফল ভোগ করছি।

.

এই রাজ কি হয়েছে কার সাথে কথা বলিসস?

.

মা কথা বলো না, কথা কান্না করছে। ওকে আমি না খুব কষ্ট দিয়েছি মা!

.

মা বাবাকে নিয়ে হসপিটালে নিয়ে গেল। এখন আমার কোন চিন্তা নেই কথাকে সাথে নিয়েই ঘুমাই!
সালার ডাক্তার নাকি বলে আমি পাগল হয়ে গেছি! সালার পড়ালেখা করে পাগল হইছে আমাকে পাগল বলে কত্তোবড় সাহস। আরেকবার যখন পাগল বলছে তখন, গলা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছি। আমাকে জোর করে এক রুমে আকঁটে রেখেছে। রুমে শুধু আমি আর কথা। নার্সকে জিজ্ঞেস করলাম ” আমি এখন কোথায়?

নার্স বললো ” আপনি এখন পাবনায় আছেন, আপনার বউ কথার সাথে! কখাটা বলে একটা কিসের যেন ইনজেকশন দিয়ে দিল!

চলবে””””””””

বিঃদ্রঃ ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।