প্রিয় অসুখ পর্ব ৬

0
313

প্রিয় অসুখ
পর্ব ৬
মিশু মনি
.
ট্রেনের জানালা দিয়ে শিরশির করে হাওয়া আসছে। শ্রবণা একবারও মাথা তুলছে না। জানালায় হাতের উপর মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। কতক্ষণ এভাবে কেটে গেছে কেউই জানেনা। হঠাৎ শীতুল শ্রবণা’র বাহু টেনে ধরে ওকে নিজের দিকে টেনে নিলো। আচমকা এরকম আচরণে চমকে উঠলো শ্রবণা। অবাক চোখে শীতুলের দিকে তাকিয়ে রইলো।

শীতুল বললো, ‘আপনি কি পাগল? এভাবে হাত বাইরে দিয়ে রেখেছেন। এক্ষুনি তো গাছের ডালে হাত ছিলে যেতো।’
শ্রবণা নিষ্পলক ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইলো। শীতুলের চোখে মুখে যে অন্যরকম আভা মিশে আছে সেটাই লক্ষ করছে ও। শীতুল দেখতে অনেক স্নিগ্ধ। ওর নাম শীতুল না হয়ে স্নিগ্ধ হলে ভালো হতো। স্নিগ্ধ চোখের চাহনিতে শ্রবণা খুন..

শীতুল বললো, ‘আমি কিছু বলছি। শুনতে পাচ্ছেন না?’
শ্রবণা মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, ‘জ্বি।’
– ‘এতক্ষণ পর আপনার হুঁশ হলো? আপনি এমন অদ্ভুত কেন বলুন তো?’

শ্রবণা ফ্যালফ্যাল করে শীতুলের দিকে তাকিয়েই আছে। এত বছরের কঠিন অসুখটা আবারো কঠিনভাবে জেগে উঠতে আরম্ভ করেছে। এই অসুখে যে পড়েছে, তার আর নিস্তার নেই। প্রেমেই বাঁচন, প্রেমেই মরণ। প্রিয় অসুখের যে জ্বালা, যে এই অসুখে মরেছে সেই জানে। একবার পড়বে তো মরবে। বেঁচে থেকেও মরণ। যে প্রেমে নিজের বলতে কিছুই থাকে না, সমস্ত সত্তাটাই সেই একজনকে নিয়েই পড়ে থাকে। সে প্রেম তো মরণের সমানই।

একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো শ্রবণা। শীতুল কপালে ভাঁজ ফেলে শ্রবণার দিকে তাকালো। অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে বললো, ‘বিশ্বাস করুন, আপনার মত মেয়ে আমি আর একটাও দেখিনি। অদ্ভুত মেয়ে আপনি!’

শ্রবণা নির্বিকার ভঙ্গিতে বললো, ‘অনেক বিরক্তিকর তাই না?’
– ‘হ্যাঁ। না মানে বিরক্তিকর না, কিন্তু কেমন যেন। অসহ্য লাগে আমার। গা খিচমিচ করে।’

শ্রবণা হেসে বললো, ‘আপনিও তো কারো প্রেমে পড়েছেন। নিজেও টের পাবেন এর জ্বালা কেমন। পুড়বে, জ্বলবে, এই দাগ আজীবন থেকে যাবে। কখনো কমবে, ভুলে যাবেন। আবার হঠাৎ কেউ ক্ষতটা খুঁচিয়ে দিলে বুঝবেন এই দহনের ঝাঁঝ কত। এই ক্ষত কখনো পুরোপুরি শুকায় না।’

শীতুল অবাক হয়ে বললো, ‘কি যে আজগুবি কথাবার্তা বলছেন কিছুই বুঝতে পারছি না। কেউ কি আপনাকে ছ্যাঁকা দিয়েছে?’
– ‘ছ্যাঁকা কি কেউ দিতে পারে? ছ্যাঁকা নিজে নিজে খেয়েছি। নিজের দোষেই পুড়ছি।’
– ‘আপনার কথার মাথামুণ্ডু কিছুই আমি বুঝতে পারছি না। তবে খুব আঘাত পেয়েছেন এটা শিওর।’

শ্রবণা হাসার চেষ্টা করে বললো, ‘আঘাত পাইনি। আসলে একটা রোগে ভুগছি।’

শীতুল চমকে উঠে বললো, ‘মনের রোগ তো? এই রোগে আমিও আক্রান্ত। আচ্ছা, এই রোগের ভাইরাসের নাম কি বলুন তো?’
– ‘প্রেম কিংবা অভ্যেস।’
– ‘ঠিক বলেছেন। আগে প্রেম, পরে অভ্যেস আর তারপর নেশা। আমারও দিনদিন নেশায় পরিণত হচ্ছে।’

শ্রবণার বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠলো। এতক্ষণ শীতুলের দিকে তাকিয়েই কথা বলছিলো। এই কথাটা শোনার পর আর তাকিয়ে থাকতে পারলো না। প্রিয়জন অন্য কারো কথা বললে সেটা সহ্য না হওয়ারই কথা। তবে এটাই তো স্বাভাবিক। নিজেকে সামলে নিয়ে শ্রবণা বললো, ‘আমার তো কয়েক বছর ধরেই এই নেশা।’

শীতুল আগ্রহী হয়ে উঠলো। সেদিন শ্রবণা’র সাথে কথা বলতে অনেক ভালো লাগছিলো। মেয়েটা এমন যে, যেকেউ ওর সাথে কথা বলে তৃপ্তি পাবে। মাঝেমাঝে কিছুটা অদ্ভুত হয়ে যায় কিন্তু যখন স্বাভাবিক থাকে তখন কথা বলে আরাম পাওয়া যায়। যেকোনো ব্যাপার সহজে বুঝতে পারে মেয়েটা।

শীতুল বললো, ‘কিন্তু আমি কারো প্রেমে পড়েছি এটা আপনি কি করে জানলেন?’

শ্রবণা হাসলো কিন্তু কোনো কথার জবাব দিলো না। শীতুল কপালে ভাঁজ ফেলে তাকিয়েই রইলো। শ্রবণা কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক গলায় বললো, ‘আপনার বন্ধু আয়াশের কাছে শুনেছি।’
– ‘হোয়াট! আয়াশ? আয়াশকে আপনি কিভাবে চেনেন?’
– ‘আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে ট্যাগ করা ছিলো।’
– ‘মানে! আপনি আমার ফেসবুক একাউন্টও খুঁজে বের করেছেন! কিন্তু কেন!’

শীতুলের চোখে বিস্ময় ফুটে উঠলো। শ্রবণা ওর দিকে না তাকিয়েই বললো, ‘আপনি হঠাৎ চলে যাওয়ার বিষয়টা আমাকে খুব ভাবায়। আপনি আমার কারণে ওভাবে চলে যাবেন এটা আমি মানতেই পারছিলাম না। আমি তো কোনো খারাপ মেয়ে নই। তাহলে? আমার তো খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক তাই না?’

শীতুল মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, ‘হুম। স্বাভাবিক। কিন্তু আমি আপনার কারণে চলে এসেছি এটা কে বললো?’
– ‘এটা বলতে হবে কেন? বুঝে যাওয়াটাই কি স্বাভাবিক না?’
– ‘এটা যদি স্বাভাবিক হয় তাহলে আপনার আচরণের অস্বাভাবিকতা নিশ্চয়ই বুঝতে অসুবিধা হয় নি?’

শ্রবণা শীতুলের চোখের দিকে তাকালো। শীতুল শ্রবণা’র চোখে অলৌকিক মায়া দেখতে পাচ্ছে। চমকে উঠলো ও।
শ্রবণা বললো, ‘মানুষ যখন কারো প্রতি আসক্ত হয়ে যায়, তার আচরণ আপনা আপনি অস্বাভাবিক হয়ে যায়। সত্যি বলতে তখন তাকে বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রকৃত অর্থে মনের ভেতর যে কি দহন চলে সেটা শুধু সে ই জানে।’

শীতুল মাথা ঝাঁকালো। শ্রবণা আবারো একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। শীতুল শ্রবণা’র দিকে তাকিয়ে বললো, ‘আপনি যে ছেলের প্রেমে এত পাগল হয়ে আছেন তাকে জানান নি? আপনি তো মেয়ে হিসেবে অনেক ভালো, সুন্দরী, সেন্স অব হিউমার ভালো, চেহারা বুদ্ধিদীপ্ত। যেকোনো ছেলেই প্রেমে পড়বে আপনার।’
– ‘আপনিও?’

শীতুল ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললো, ‘না। আমার যদি একজন না থাকতো তাহলে হয়তো আমিও পড়তাম। আমার তো প্রিয়জন আছে।’

শ্রবণা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো, ‘এটাই তো কপাল।’
শীতুল আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলো, ‘তাহলে কি আপনি যাকে ভালোবাসেন সে অন্য কাউকে…?’

শ্রবণা এমনভাবে শীতুলের দিকে তাকালো যে শীতুল লজ্জায় মাথা নামিয়ে ফেললো। মৃদুস্বরে বললো, ‘সরি।’

শ্রবণার কষ্টে হাসি পাচ্ছে। যে মানুষটাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে নিজেকে অসুস্থ বানিয়ে ফেলেছে, আজকে সেই মানুষটাই বলছে আপনি যাকে ভালোবাসেন সে অন্য কাউকে ভালোবাসে কিনা.. অদ্ভুত!’

শীতুলের ভালো লাগছে না। এরকম ফুটফুটে একটা মেয়ে কাউকে ভেবে কষ্টে থাকবে সেটা বেখাপ্পা দেখায়। শীতুল সহজ স্বাভাবিক গলায় বললো, ‘ঝালমুড়ি খাবেন?’
শ্রবণা চমকালো বেশ। বললো, ‘এখানে ঝালমুড়িওয়ালা কোথায় পেলেন?’
– ‘আমার ব্যাগে আছে। প্রাণ ঝালমুড়ি।’
– ‘প্যাকেট ঝালমুড়ি খাবো না।’
– ‘চকোলেট?’
– ‘আমি চকোলেট খাইনা।’
– ‘তাহলে চিপস? পপার্স?’

শ্রবণা হেসে বললো, ‘আচ্ছা দিন।’

শীতুল গুণগুণ করে গান গাইতে গাইতে ব্যাগ থেকে চিপস বের করে শ্রবণার দিকে এগিয়ে দিলো। শ্রবণা চিপসের প্যাকেট নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বললো, ‘আপনি অনলাইনে আসেন না?’
– ‘আসি। বাসায় থাকলে বেশিরভাগ সময়েই অনলাইনে থাকা হয়। কেন?’
– ‘নাহ এমনি।’

শ্রবণা চিপসের প্যাকেট খুলে শীতুলের দিকে এগিয়ে দিলো। শীতুল হাত ঢুকিয়ে দুটো চিপস নিয়ে চিবোতে চিবোতে বললো, ‘আপনি আমার ফোন নাম্বার কোথায় পেয়েছেন?’
– ‘ম্যানেজারের কাছে নিয়েছি।’
– ‘ওহ হো, রিসোর্ট টা তো আবার আপনার মামার।’
– ‘আপনি কিন্তু অনেক কথা বলতে পারেন। সহজে মিশতেও পারেন। অথচ সেদিন দেখে ভেবেছিলাম একেবারে নিশ্চুপ একা থাকতে পছন্দ করে এরকম কোনো ছেলে।’
– ‘আসলে সেদিন আমিও একটা জটিল রোগে ভুগছিলাম তাই ওরকম মনে হয়েছে। তবে ধারণাটা একেবারে মিথ্যে না। আমি অনেক শান্ত টাইপের ছেলে। সহজে কারো সাথে মিশতে পারিনা। আপনি কথা বলে সহজ করে দিয়েছেন বলেই সম্ভব হয়েছে।’

শ্রবণা চিপস কামড় দিয়ে বললো, ‘ওহ আচ্ছা।’
– ‘আপনার মন ভালো হয়েছে?’

শ্রবণা হাসার চেষ্টা করে বললো, ‘হুম।’

কিন্তু ওর মনের ভেতর প্রবল বেগে ঝড় বইছে। মনকে শান্ত করতে পারাটা অনেক কঠিন একটা বিষয়। না চাইতেই অনেক সময় বিষণ্ণতা এসে ভর করে। শ্রবণা মনেপ্রাণে বিষণ্ণতা ঢাকার চেষ্টা করছে।

চিপস খাওয়া শেষ করা পর্যন্ত কেউ কথা বললো না। শ্রবণা বারবার শীতুলের দিকে চিপসের প্যাকেট এগিয়ে দিচ্ছিলো। শীতুল দু’বার নেয়ার পর আর নিতে চায় নি। শ্রবণাও আর জোর করেনি। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আনমনে চিপস খেতে লাগলো।

রাতের অন্ধকারে বাইরে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তবুও তাকিয়ে আছে শীতুল। ধানের ক্ষেতে ট্রেনের ছায়া দেখতেও ভালো লাগছে। শীতুল পাওয়ার ব্যাংকে ফোন চার্জে লাগিয়ে ফেসবুকে লগ ইন করে ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ পর শ্রবণা’র দিকে অবাক ভঙ্গিতে তাকালো।

শ্রবণা বললো, ‘কি?’

শীতুল কিছু বললো না। শ্রবণা শীতুলের মেসেঞ্জার টোন শুনে ভালোভাবে বুঝতে পারলো শীতুল ফেসবুকে লগিন করেছে। আর ওর অনেকগুলো মেসেজ দেখেই ওর দিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছে। শ্রবণার ভীষণ লজ্জা লাগলো। এভাবে দেখা হয়ে যাবে জানলে কখনোই এত গুলো মেসেজ পাঠাতো না ও। কিন্তু ছেলেরা তো বোকা, অবুঝ। যেকোনো মেয়ে হলে বুঝে যেত মানুষটা আমাকেই পছন্দ করে। অথচ ছেলেটা এতকিছুর পরও বুঝলো না। উলটো জিজ্ঞেস করেছে, আপনি যাকে ভালোবাসেন সে কি অন্য কাউকে.. ছেলেরা যে কেন এমন হয়! মন বুঝতে পারে না।

শীতুল শ্রবণার দীর্ঘশ্বাস শুনে বললো, ‘একটা রিকুয়েস্ট করবো?’
– ‘জ্বি।’
– ‘আপনি এভাবে বড় বড় নিশ্বাস ফেলবেন না প্লিজ। এ নিয়ে অনেকবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে দেখেছি। এভাবে নিশ্বাস ফেলা ঠিক না কিন্তু।’

শ্রবণা হেসে বললো, ‘আচ্ছা ঠিকাছে। নিশ্বাস ফেললেও তো কপাল যেমন আছে তেমনই থেকে যাবে।’
– ‘আপনি সবসময় এত হা হুতাশ করেন কেন বলুন তো? আমিও একজনকে পছন্দ করি। আমি এখনো তাকে পাইনি। কই আমি তো এত হা হুতাশ করছি না।’
– ‘আপনি তো তাকে পেয়ে যাবেন। কিন্তু আমি তো তাকে পাবো না।’

শীতুল মনেমনে বললো, ‘আমি যেন সত্যি সত্যি তাকে পেয়ে যাই।’

শ্রবণা বাইরে তাকালো আবার। শীতুল ফেসবুকে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। শ্রবণা’র মেসেজের উত্তরে লিখলো, ‘আমি আপনার উপর রাগ করিনি। আর আপনাকে খারাপও ভাবিনি। আপনি অনেক ভালো একটা মেয়ে। খুব লক্ষী আর সুন্দর মনের। আপনি জীবনে অনেক ভালো কাউকে পাবেন। যার জন্য কষ্ট পাচ্ছেন, পারলে তাকে ভুলে নিজেকে নতুন করে সাজান। দেখবেন, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমিও একজনকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু এখনো বলাই হলো না। যাকগে আমার কথা, টেক কেয়ার ইয়োর সেলফ। এত সুন্দর একটা মেয়েকে মন খারাপে মানায় না। ভালো থাকবেন, বাই বাই।’

মেসেজটা সেন্ড করে দিয়ে শীতুল একবার শ্রবণা’র দিকে তাকালো। শ্রবণা নিশ্চয় পরে মেসেজটা দেখবে। যখনই দেখুক, শ্রবণা’র মেসেজের উত্তর মেসেজেই দিতে পেরে ভালো লাগলো শীতুলের।

শ্রবণা চিপস শেষ করে শীতুলকে জিজ্ঞেস করলো, ‘পানি হবে?’

শীতুল ফেসবুকে শ্যামলতাকে খুঁজছে। শ্রবণা’র ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকলেই দেখতে পেতো ওর নিকনেম shyamlota দেয়া আছে। কিন্তু ভুল করেও শীতুল একবারও শ্রবণা’র ওয়ালে ঢুকলো না। শ্রবণার প্রতি কোনো আগ্রহ ই বোধ করলো না। বরং বাংলায় শ্যামলতা লিখে সার্চ করতে লাগলো। শ্রবণা আবারো জিজ্ঞেস করলো, ‘পানি হবে?’

শীতুল এবারও শুনতে পায়নি। কিছুক্ষণ পর শীতুলের মনে হলো শ্রবণা হয়ত কিছু বলছে। ও শ্রবণার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘কিছু বললেন?’
শ্রবণা বললো, ‘আপনি বোধহয় ব্যস্ত। থাক লাগবে না।’
– ‘আরে বলুন তো?’
– ‘পানি আছে কিনা জিজ্ঞেস করেছিলাম। ব্যস্ত থাকলে লাগবে না।’
– ‘আরে না না, ব্যস্ত না। আমার প্রিয়জনকে খুঁজছিলাম।’

শ্রবণা চমকে উঠে ভ্রু কুঁচকালো। শীতুল বললো, ‘ও বোধহয় ফেসবুক চালায় না। তাই খুঁজে পাচ্ছি না।’

শ্রবণা আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না। শীতুলের কাছে অন্য কারো কথা শুনতে ওর একদমই ভালো লাগে না। আর কথা বলতে চায় না ও। শীতুল ব্যাগ থেকে পানি বের করে দিলে শ্রবণা প্রথমে নিতে চায় নি। পরে বোতল নিয়ে দুই ঢোক পানি গিলে বোতলটা ফিরিয়ে দিয়েই সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করলো।

শীতুল বোতল রেখে আবারো ফেসবুকে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। শ্রবণা শীতল হাওয়ায় ধীরেধীরে ঘুমে তলিয়ে গেলো।

ফেসবুকে খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে শীতুল যখন ফোন পকেটে রাখলো, হঠাৎ চোখ গেলো শ্রবণার দিকে। শ্রবণার মুখের উপর কয়েকটা চুল উড়ে এসে পড়ছে। দেখতে দারুণ লাগছে তো!

চলবে..