প্রেমপিপাসা পর্ব – ১০

0
976

প্রেমপিপাসা❤
পর্ব – ১০
writer_শিফা_আফরিন_মিম
.
.
?
জেরিন ফোন টা হাতে নিয়ে রেহান কে কল করে।
২ বার কল দেয়ার পরও রেহান কল রিসিভ করে নি।

জেরিন – হলো টা কী? ফোন তুলছে না কেনো? আরেকবার দিয়ে দেখি…
ভাবতে ভাবতেই জেরিন আবার রেহান কে কল করে। এবার রেহান সাথে সাথেই ফোন টা রিসিভ করে নেয়।

রেহান – হ্যা বলো…

জেরিন – তিশান ভাইয়ার ফোন নাম্বার আর এডড্রেস টা পেয়েছি।

রেহান – ওকে ম্যাসেজ করে দাও।

জেরিন – ওকে। — রেহান ফোন কেটে দিতেই জেরিন নাম্বার আর এডড্রেস টা পাঠিয়ে দেয়।

রেহান নাম্বার টা পেয়ে সাথে সাথেই নাম্বারে ফোন দেয়।

— হ্যালো… কে?

রেহান – আমি কে সেটা পরে জানতে পারবে। তুমি নিশ্চয় তিশান?

— হ্যা।

রেহান – গুড। ফ্রি আছো আজ?

তিশান – হ্যা আছি। কিন্তু কেনো?

রেহান – মিট করবো তাই।

তিশান – কিন্তু আমি আপনার সাথে মিট করবো কেনো?

রেহান – এতে তোমারই ভালো হবে।

তিশান – ওকে কোথায় আসবো বলুন।

রেহান তিশানকে একটা ঠিকানা ম্যাসেজ করে পাঠিয়ে দেয়। আর বলে আগামিকাল সকাল ৯ টায় চলে আসতে।

পরের দিন….

জেরিন আজ খুব খুশি নিশ্চয় তার মনের মতো কিছু ঘটবে আজ!

কুহু রেডি হয়ে ভার্সিটিতে চলে যায়। গেইটে ঢুকতেই কেউ কুহুর হাত চেপে ধরে। কুহু তাকিয়ে দেখে রেহান।

কুহু – হাত ধরলেন কেনো?

রেহান – ওহহ আমি ধরলেই যতো সমস্যা! আর তিশান ধরলে বুঝি খুব ভালো লাগে তোমার? (রাগি লুক নিয়ে)

কুহু – বাজে কথা কম বলুন। কে তিশান? আমি কোনো তিশান কে চিনি না আর কতো বার বলবো বলুন তো?

রেহান – এইসব নাটক করতে হবে না আর। তোমার তিশান আসছে তখন সামনাসামনি না হয় বলে দিও তুমি ওকে চিনো না। (বাঁকা হেসে)

কুহু এবার বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। কি হচ্ছে এসব! কে তিশান? যাকে আমি চিনিই না নামও জানিনা সে সামনে আসলেই কি বা না আসলেই কি আজিব!

রেহান কুহুর হাত আগের মতোই চেপে ধরে আছে।
গেইটের সামনে কেউ এসে অনেক খন ধরেই কাউকে খুঁজছে। ফোন টা হাতে নিয়ে কল দিতেই রেহানের ফোন না বেজে উঠে।

রেহান – চলে এসেছো?

— হ্যা। আমি তো ভার্সিটির গেইটের সামনেই আছি। আপনি কোথায়?

রেহান গেইটের সামনে তাকাতেই একটা ছেলেকে দেখতে পায় কানে ফোন নিয়ে দাড়িয়ে আছে। রেহান কুহুর হাত টা ধরে রেখেই ছেলেটার কাছে যায়।

রেহান – হ্যালো তিশান!

— ওহহ হাই। আপনিই রেহান?

রেহান – হুমম।

— তা কেনো ডেকেছেন?

রেহান – এভাবে রাস্তায় কথা না বলে আমার মনে হই কোনো কফিশপ বা রেস্টুরেন্টে গিয়ে কথা বলা যাক।

— এজ ইউর উইশ।

কুহুর মাথায় কিছুই ঢুকছে না কে এই ছেলে? সে তো স্বপ্নেও এই ছেলে কে দেখেনি বাস্তবে দূরে থাক!
রেহান কুহুর হাত টা আগের মতোই ধরে আছে।

রেহান কুহু আর ছেলেটা একটা কফিশপে যায়।

রেহান – তা তিশান তুমি কোন বর্ষে?

ছেলেটা – জ্বী আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়া

রেহান – ওহহ গুড।

ছেলেটা রেহান কে দেখেই কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। কারন রেহানের চোখ গুলো ভয়ংকর রকমের হয়ে আছে। তাছাড়া রেহান ওর সিনিয়র।

ছেলেটা – আচ্ছা আপনার সাথে উনি কে? নিশ্চয় আপনার গার্লফ্রেন্ড?

এবার কুহু বড়সড় শক খেলেও রেহান যেনো একদমই স্বাভাবিক আছে। কুহু রেহানের দিকে তাকিয়ে দেখে রেহানের কোনো রিয়াকশন নেই।
এটা কিভাবে সম্ভব! তিশান নাকি আমার বফ! অথচ আমি তাকে চিনতাম না। এখন তো দেখছি এই তিশান ও আমাকে চেনে না!!
তাহলে উনি বার বার কেনো বলে যাচ্ছেন তিশানের সাথে আমার রিলেশন আছে!
ওহহ আল্লাহ এতো কনফিউশন আর ভালো লাগছে না!

রেহান – সেকি! তুমি তোমার গার্লফ্রেন্ড কে চিনতে পারছো না! হাউ ফানি! (বাঁকা হেসে)

রেহানের কথা শুনে মিস্টার তিশান পুরাই হাম্বা বলদ টাইপ হয়ে গেছে!

ছেলেটা – ( তার মনে এই কুহু! এর জন্যই হিয়া আমকে রাজি করিয়েছিলো? কিন্তু আমিই বা কি করবো আমি তো এই মেয়েকে কখনো দেখিই নি। ঐ হিয়ার বাচ্চা হিয়াও তো আমাকে কোনো পিক দেয়নি। এখন কি করি? ধরা তো পরে গেলাম!…মনে মনে)

রেহান – কি হলো মিস্টার তিশান? আপনি এতো ঘামছেন কেনো? বেশি গরম লাগছে? (দাঁতে দাঁত চেঁপে)

ছেলেটা – জ্বী…. না মানে আমি ঠিক আছি। আপনি কেনো ডেকেছেন বললেন না তো?

রেহান – কতো পেয়েছিস? (রাগি কন্ঠে)

রেহানের রাগ দেখে কুহুর হাত পা রীতিমত কাঁপছে।
আর সাজানো তিশান তো ভয়ে চুপসে গেছে।

ছেলেটা – (এখন কি করি? ধরা পরে গেলাম! কিন্তু হিয়া তো বলেছে সাকসেস হতে না পারলে আমাকে ব্রেকাপ করে দিবে! ধুরর করলে করুক আগে নিজে বাঁচি। এই ছেলে যা রাগি। মেরে আমাকে মাটির নিচে পাঠিয়ে দিবে মনে হচ্ছে। বেঁচে থাকলে কতো গার্লফ্রেন্ড পাবো!!… মনে মনে)

রেহান – কত টাকা পেয়েছিস বল? (কিছুটা চিৎকার করে)

রেহানের চিৎকার শুনে আশেপাশের সব মানুষ ওদের দিকে তাকায়।

রেহানের এমন ভয়ংকর রুপ দেখে ছেলেটা সাথে সাথে রেহানকে হাত জোর করে বলতে থাকে…

ছেলেটা – ভাইয়া আমাকে মাফ করে দিন প্লিজ। আমার কোনো দোষ নেই বিশ্বাস করুন আমি প্রথমে রাজি ছিলাম না। কিন্তু হিয়া আমাকে ব্রেকাপ করার কথা বলায় রাজি হয়েছিলাম। (কেঁদে দিয়ে)

রেহান – হিয়া টা কে?

ছেলেটা – আমার গার্লফ্রেন্ড। জেরিন নামে ওর ফ্রন্ড আছে৷ সেই ওকে বলেছে ওর কোনো ফ্রেন্ডকে তিশান সাজিয়ে দিতে। তাই ও আমাকে দিয়ে এই সব করিয়েছে। আমায় মাফ করে দিন ভাইয়া।

রেহান – ওকে তুমি যাও। —- বলেই কুহুর হাত ধরে হাটা শুরু করে।

রেহান কুহুকে নিয়ে ভার্সিটির ছাঁদে চলে আসে।
কুহু একপাশে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে আরেকপাশে রেহান।
রেহানকে দেখতে শান্ত মনে হলেও এই মূহুর্তে কুহুর অনেক ভয় করছে। কারন রেহানের এই চুপ থাকার পেছনে কি পরিমাণ রাগ লুকিয়ে আছে তা বুঝার ক্ষমতা হয়তো কুহুর নেই।

কুহুর এটা ভেবেই খারাপ লাগছে জেরিন এই কাজটা করেছে! যাকে কিনা নিজের আপন বোনের মতো ভালোবাসতো! কুহুর চোখ বেয়ে দু ফুটা পানি বেরিয়ে আসে।
হটাৎ রেহান কুহুর কাছে এসে কুহুকে জড়িয়ে ধরে…

রেহান – আমায় মাফ করে দিও সোনা। সত্যিই যখন শুনেছি তুমি রিলেশন এ আছো আমার মাথা ঠিক ছিলো না। হ্যাঁ মানলাম রিলেশন থাকতেই পারে তোমার। কিন্তু আমি যে তোমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছিলাম। তোমাকে ছাড়া থাকতেও পারবো না। তাই তোমাকে পাওয়ার ইচ্ছা টা এতোটা তীব্র হয়েছে।

কুহু – কে বলেছিলো আমি রিলেশন করি?

রেহান কুহুকে হালকা ছেড়ে দিয়ে দাড়ায়।

রেহান – তোমার আদরের বোন জেরিন।

কুহু ভাবতেও পারছে না জেরিন এতোটা নিচ।
কুহু – আপনিও বিশ্বাস করে নিলেন? (করুন ভাবে)

রেহান – আমি বিশ্বাস করলে নিশ্চয় এই প্লান টা করতাম না।

কুহু – মানে? (অবাক হয়ে)

রেহান – মানে জেরিনের কথাটা আমি ঠিকঠাক ভাবে বিশ্বাস করতে পেরেছিলাম না।
আমার প্রথমই সন্দেহ হয় কেনো জানো?,
ঐ দিন ছাদে ইশারা করে আমি তোনার ফোন নাম্বার টা চেয়েছিলাম। তুমি বাসায় চলে যাওয়ার পর জেরিন নিচে এসে ওর নিজের ফোন নাম্বার টা দেয়।
আমি চেয়েছিলাম তোমার নাম্বার কিন্তু ও মিথ্যা বলে নিজের নাম্বার টা তোমার বলে আমাকে দিয়ে দেয়। আমিও ভেবেছিলাম নাম্বার টা হয়তো তোমারই। কিন্তু ফোন দিয়ে বুঝতে পারি নাম্বার টা জেরিনের।
আর তখনই বুঝলাম তোমার এই বোন মিথ্যে বলার জন্য একদিন নিশ্চয় নোবেল পাবে!

তাই ওর বলা কথা গুলো বিশ্বাস করি নি। তাছাছা ওর সাথে মিট করার সময় ওর হাবভাব দেখেও আমি বুঝেছি ও মিথ্যা বলছিলো।

কুহু – তাহলে আমাকে এতো কথা শুনালেন কেনো? (কিছুটা রেগে)

রেহান – জানপাখি সবই যদি প্রথমে বলে দিতাম তাহলে বিষয় টা ঝাপসা থাকতো। আমি প্রমান ছাড়া কিছু করতে পারি না। তাই তোমাকে কষ্ট দিয়েছি।

কুহু – তাই বলে এই রকম বিহেভ? (অভিমান করে)

রেহান – আহারে কতো কষ্ট পাইছে আমার জানপাখি টা। বাই দ্য ওয়ে তুমি কি আমার প্রেমে পড়ে গেলা নাকি? আমি তো জানতাম তুমি আমাকে সহ্যই করতে পারো না। এখন তো দেখছি সামথিং সামথিং! (চোখ মেরে)

কুহু – হুহহ বয়েই গেছে (মাথা নিচু করে)

রেহান – প্রেমে না পড়লে এতো লজ্জা পেতে না বুঝলে?
মুখে না বললেও আমি কিন্তু ঠিকই বুঝতে পেরেছি।

কুহু – হয়েছে এবার চলুন এখান থেকে। কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হয়ে যাবে।

রেহান – কুহু আমার একটা কথা রাখবে?

কুহু – বলুন…

রেহান – তুমি জেরিন কে কিছুই বলবে না। যা বলার আমিই বলবো। আমি যে সত্যি টা জানতে পেরেছি তা যেনো জেরিন বুঝতে না পারে।

কুহু – কিন্তু কেনো?

রেহান – কারন আছে তাই। বেশি প্রশ্ন করো না।

কুহু – আচ্ছা ঠিক আছে। চলুন এবার।

কুহু চলে যেতে নিলে রেহন কুহুর হাত ধরে কাছে আনে

কুহু -আবার কি হলো?

রেহান কিছু না বলে কুহুর কপালে চুমু দেয়।

রেহান – ব্যাস… এবার চলো।

কুহু মুচকি হাসে সাথে রেহানও!

চলবে…