প্রেমপিপাসা পর্ব – ২

0
1108

প্রেমপিপাসা❤
#পর্ব – ২
#Writer_শিফা_আফরিন
.
.
?
জেরিন – আপি এই সব কেনো বলো? আমি তো এখানেই কথা বলছি। এই ছেলে শুনবে কিভাবে এতো দূর থেকে।

কুহু – আমিও তো সেটাই ভাবছি।

জেরিন – আপি মনে তো হচ্ছে আমাদের দিকেই এগুচ্ছে। এবার কি হবে?

কুহু – চুপচাপ বসে থাক বেয়াদব মেয়ে। এতক্ষন এই সব বলছিলি কেনো হ্যা? (ধমক দিয়ে)

রেহান কুহু আর জেরিনের দিকে এগিয়ে আসে।

রেহান – হেই বিউটি কুইন…. নাম কী তোমার?

জেরিন – জ্বী জেরিন। জেরিন আমার নাম। (খুশিতে গদগদ করে)

রেহান – আমি কি তোমায় জিগ্যেস করেছি? (চোখ রাঙ্গিয়ে)

রেহানের কথা শুনে কুহু এদিক সেদিক তাকায়। নাহ…. এখানে তো আপাতত আমি আর জেরিন ছাড়া কেউই নেই। তাহলে?
এই ছেলে কার নাম জিগ্যেস করছে?

রেহান – হ্যালো মিস…. আমি আপনাকেই জিগ্যেস করছি। (কুহুকে উদ্দেশ্য করে)

কুহু এবার হা করে রেহানের দিকে তাকায়।

কুহু – (কিহহহ এত্তো বড় সাহস এই ব্যাটার!! আমার নাম জিগ্যেস করে আবার আমাকে বিউটিকুইন ডাকে!)

রেহান – কথা বলতে পারো না তুমি? কখন থেকে জিগ্যেস করছি নাম কী নাম কী কিছু বলছো না কেনো?

কুহু – আপনাকে আমার নাম কেনো বলবো? আপনি কে? কোথ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে নাম জিগ্যেস করছে… যত্তসব।

রেহান – হোয়াট….! আমি উড়ে এসে জুড়ে বসেছি মানে? এই পার্ক টা কি তোমার নামে রেজিস্ট্রি করা নাকি?

কুহু – ফালতু কথা কম বলবেন। যদি আমার নামে রেজিস্ট্রি করা থাকতো তাহলে আপনার মতো লোকদের ঢুকতে নিষেধ দিতাম।
পার্কে এসে মেয়েদের বিরক্ত করা!!

প্রণয় – দোস্ত এই মেয়েটা বেশি বক বক করছে। আমার ভীষণ রাগ হচ্ছে। ইচ্ছে করছে ঠাটিয়ে চর মারি।

রেহান – চুপ কর। (প্রণয় কে ধমক দিয়ে)

রেহান – নাম টা বলো কুইক। (দাঁতে দাঁত চেপে)

কুহু এবার রেগে বসা থেকে উঠে পড়ে।

কুহু – জেরিন চল…. এখানে আর এক সেকেন্ড ও থাকতে চাই না। এই সব ফাজিল অসভ্য ছেলেদের জন্য পার্কে আসাও নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

কুহু জেরিনের হাত ধরে টেনে চলে যেতে নিলেই রেহান কুহুর হাত ধরে ফেলে….

রেহান – তোমায় আমি কিছু জিগ্যেস করেছিলাম। আমার কথার উত্তর না দিয়ে এখান থেকে যাওয়ার সাহস হলো কিভাবে তোমার?

রেহান কুহুর হাত ধরায় কুহু মারাত্মক রেগে যায়।

কুহু – ইউউ…! আপনার সাহস হলো কিভাবে আমাকে টাচ করার? আর এতো প্রশ্নই বা করছেন কেনো?
কে হোন আপনি আমার?

প্রণয় – এতো কথা না বারিয়ে নাম টা বলে ফেলো।

কুহু – বলবো না। হাত ছাড়ুন বলছি।

রেহান আরও শক্ত করে কুহুর হাত টা চেঁপে ধরে। এবার কুহু হাতে ব্যাথা পেয়ে কেঁদে দেয়ার অবস্থা হয়ে যায়।

কুহু – লাগছে আমার হাতে। ছাড়ুন প্লিজ।

রেহান – নাম বলো। (রেগে)

কুহু – কুহেলিকা কুহু।

বলার সাথে সাথেই রেহান কুহুর হাত টা ছেড়ে দেয়।
কুহু বেচারি যেনো প্রাণ ফিরে পায়। আর এক সেকেন্ড সময় ও নষ্ট না করে কুহু একপ্রকার দৌড়ে জেরিন কে নিয়ে পার্ক ত্যাগ করে।

প্রণয় – দোস্ত প্রেমে পড়লি নাকি?

রেহান – জানিনা। তবে ওকে আমার চাই। আট এনি কস্ট।

কুহু আর জেরিন দৌড়ে এসে রিকশায় উঠে।

কুহু – বাবা গো বাবা বাঁচলাম। এ কোন রাক্ষসের মুখে পড়েছিলাম আমি।

জেরিন – ধুরর কি থেকে কি হয়ে গেলো। ভেবেছিলাম আমাকে নাম জিগ্যেস করবে! তা না ঐ ছেলে তো দেখছি তোমার উপর ক্রাশ খাইছে। আপি যেভাবেই হোক তুমি ওরে বইলো যে তুমি ওরে ভালোবাসো না। আমি ভালোবাসি। প্লিজ আপি।

কুহু জেরিনের কথা শুনে রেগে কটমট করে জেরিনের দিকে তাকায়।

কুহু – ফাজিল মেয়ে। অমন লুচু পোলার উপর ক্রাশ খাইছিস ক্যান? দেখলি না আজ কি একটা অসভ্যতা করলো! ঐ ছেলে নিশ্চয় সব মেয়েদের সাথেই এমন করে। নাম জিগ্যেস করে না বললেই হাত ধরে ফেলে।
ওরকম একটা ছেলের উপর তুই ক্রাশ খাইবি আর আমি তাকাই তাকাই দেখমু!! অসম্ভব!

জেরিন – আরে আপি!! ও যাই করোক আমর দেখার বিষয় না। ওকে এখন থেকে আমি ভালোবাসবো। ব্যাস ও আগের সব ভুলে আমাকেই ভালোবাসবে।

কুহু – আর একবার যদি এই কথা বলিস তোরে কি করবো নিজেও জানিনা।

কুহুর রাগ দেখে বেচারি জেরিন একদম চুপ।

তারপর দুজনেই বাসায় আসে।

রেহানের কান্ডে কুহুর রাগ টা এখনো কমেনি।
বাসায় এসেই রুমে গিয়ে দরজা লক করে দেয়।

জেরিন এখনো বোকার মতো ড্রয়িং রুমে দাড়িয়ে আছে।

কুহুর মা – কিরে জেরিন। কুহুর কি হয়েছেও এতো রেগে আছে যে?

জেরিন – কই? কিছু হয়নি তো। তুমি শুধুশুধু চিন্তা করছো মামুনি।

কুহুর মা – ঠিক আছে তুই রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে যা।

জেরিন – আচ্ছা।

এদিকে কুহু নিজের রুমে এসে রেগে বসে আছে।

কুহুর মা অনেকক্ষন ধরে ডেকে যাচ্ছে কিন্তু কুহুর কোনো সাড়া নেই।

কুহুর মা এবার চিন্তায় পড়ে যায়। হলো কী মেয়ে টার।

কুহুর মার ডাকাডাকির শব্দ শুনে কুহুর বাবাও চলে আসে।

কুহুর বাবা – কী হয়েছে? এভাবে ডাকছো কেনো ওকে?

কুহুর মা – দেখো না কখন থেকে ডাকছি সাড়া দিচ্ছে না।

কুহুর বাবা – আরে ও হয়তো ঘুমাচ্ছে। তাই দরজা খুলছে না।

কুহু এবার দরজা খুলে দেয়…

কুহু – কী হলো মা? এভাবে ডাকছো যে?

কুহুর মা – এতো খনে তোর দরজা খুলার সময় হলো তাইনা? কখন থেকে ডাকছি। চিন্তায় আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম।

কুহুর বাবা – নাও। এবার শান্তি তো? সব কিছুতে বেশি বেশি ভাবো তুমি। — বলেই চলে যায়।

কুহুর মা – কী করছিলি এতোখন? দরজা খুলিস নি যে?

কুহু – কিছু না।

কুহুর মা – তোর কী হয়েছে বল আমায়। আসার পর থেকেই কেমন হয়ে আছিস।

কুহু – কী হবে আবার? কিছুই হয়নি। তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছো।

কুহুর মা – হ্যা সব কিছুই আমি শুধু শুধু করি। খেতে আসো এবার।

কুহুর মা চলে যায় পেছন পেছন কুহুও আসে।

সবাই একসাথে খেতে বসে যায়।

কুহুর বাবা – তো কেমন ঘুরাঘুরি হলো তোমাদের?

কুহু – ভালো আব্বু।

কুহুর বাবা – ঠিক আছে।

কুহু – আব্বু শুনো…

কুহুর বাবা – হ্যা মা বল…

কুহু – আমার কিছু টাকা লাগবে।

কুহুর বাবা – কেনো?

কুহু – শপিং এ যাবো কাল।

কুহুর বাবা – তুমি একা যেতে পারবে? জেরিন কে নিয়ে যেও।

কুহু – হ্যা ওকে নিয়েই তো যাবো। আর ওর ও কিছু কেনাকাটা করতে হবে তাই।

কুহুর বাবা – আচ্ছা ঠিক আছে।

সবার খাওয়া শেষ হলে যার যার রুমে চলে যায়।

জেরিন নিজের রুমে গিয়ে রেহানের কথা ভাবতে থাকে।

জেরিন – যেভাবেই হোক আমার ঐ হিরো কে চাই ই চাই৷
কিন্তু ও তো আপিকে পছন্দ করে মেবি। আমাকে কি পছন্দ করবে?
কোনো সমস্যা নাই আমি এখন থেকে এখানেই থাকবো আর আমেরিকা ফিরবো না। আমি চলে গেলেই আমার ক্রাশকে আপি নিয়েই যাবে। তার চেয়ে বরং আমি এখানে থেকে ওকে চোখে চোখে রাখবো। কিন্তু নাম টাই তো জানা হলো না আমার হিরোর। ধুররর….. সব হলো আপির জন্য। আমার তো এখন জেলাস ফিল হচ্ছে। আমি এতো সুন্দরী একটা মেয়ে পাশে বসা থাকতে শেষে কিনা আপির কাছেই গেলো।
জেরিন নিজে নিজে বক বক করতে থাকে।

এদিকে কুহু নিজের রুমে এসে ফোন টা হাতে নিয়ে ফেইসবুকে ঢুকে।
কুহুর বান্ধবীদের সাথে কথা বলে শুয়ে পড়ে।

কুহু – ( ছেলেটার সাহস কত বড়। আমার হাতে টাচ করে। ইচ্ছে করছিলো কষে দুইটা থাপ্পড় মারতে। মনে মনে)

কিছুক্ষন পরই কুহু ঘুমিয়ে যায়।

সকালে….

কুহু ঘুম থেকে উঠে দেরি করে যেহেতু আজ ভার্সিটি বন্ধ।

কুহু উঠে দেখে সবার ফ্রেকফাস্ট শেষ।

কুহু – এই যাহহহ!! সবাই আমাকে রেখেই খেয়ে ফেললো।

কুহুর মা কিচেন থেকে আসে।

কুহুর মা – তুই তো মাত্র উঠলি। আমি সব রেডি করেই রেখেছি। বস তুই খেয়ে নে।

কুহু – হুম। আমারও অনেক ক্ষিদে পেয়েছে।

কুহু খাওয়া শেষ করে জেরিনের রুমে যায়…

কুহু – কিরে শাকচুন্নি কি করছিস?

জেরিন ফোন টিপছিলো কুহুকে দেখে মুচকি হাসে।

জেরিন – দেখনা আপি চমার হিরো টার ফেইসবুক আইডি খুঁজছিলাম কিন্তু বেড লাক পাচ্ছি না।

কুহু – কোন হিরো? (ভ্রু কুঁচকে)

জেরিন – ঐ যে কাল দেখা হয়েছিলো।

কুহু – তুই আবার ঐ ছেলের নাম নিয়েছিস? (রেগে)

জেরিন – নাম নিলাম কোথায়? নাম জানলে তো ভালোই হতো। (হতাশ হয়ে)

কুহু – তো কিভাবে ফেইসবুক আইডি খুঁজছিলি শুনি? নাম না জানলে কি লিখে সার্চ দিয়েছিস? হিরো নাকি??

জেরিন – আপি…. মজা নিচ্ছো তুমি।

কুহু – এই সব ফালতু কাজ বাদ দে। আর মনে আছে তো আজ বিকেলে শপিং এ যাবো।

জেরিন – হ্যা মনে আছে।

কুহু – ওকে আমি তাহলে যাই।

জেরিন – আচ্ছা।

কুহু নিজের রুমে চলে যায়।

জেরিন – (হুহহহ…. এইসব ফালতু কাজ বাদ দে!
বাদ কেনো দিবো শুনি? আমার হিরো কে তো আমার করেই নিবো। যে যাই বলুক। ওকে আমার চাই। যেভাবেই হোক)

কুহু নিজের রুমে এসে বিছানায় আধশোয়া হয়ে ফোন টা হাতে নেয়। ফেইসবুকে ঢুকে দেখে অনেক গুলো ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট। কুহু সবাই কে একসেপ্ট করে না।
কয়েক জনকে করে অন্য একটা আইডিতে চোখ যেতেই কুহু চমকে উঠে।

কুহু – আরেহহ!! এটা তো ঐ ছেলেটার আইডি!
আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দিয়েছে! কিন্তু আমার আইডি পেলো কোথায়? আমার আইডিতে তো আমার পিক দেয়া নেই। সবচেয়ে বড় কথা নাম টাও ফেইক। তাহলে বুঝলো কিভাবে?
ধুরর মনে হই অন্য মেয়ে ভেবে রিকুয়েষ্ট দিয়ে ফেলছে।

দেখো কান্ড ঐ দিকে জেরিন এই ছেলের আইডি খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে যাচ্ছে আর এদিকে অসভ্য ছেলেটা আমাকেই রিকুয়েষ্ট দিয়ে রাখছে।

কুহু রেহানের টাইমলাইনে ঢুকে দেখতে থাকে।

কুহু – বাবাহ!! ছেলে টা তো সত্যিই হিরো! এতো মনে হই হাজারো মেয়ের ক্রাশ। ইয়া লম্বা দেখতে, গায়ের রং তো মনে হচ্ছে আমার থেকেও ফর্সা, চুল গুলো কি সুন্দর সিল্কি সিল্কি, সামনের চুল গুলো আবার চোখের সামনে এসে পড়ে, চাপ দাড়ি, বডি ও মাশআল্লাহ, নাম টা তো আরও সুন্দর দেখছি, রেহান ওয়াহিদ….!

চলবে…