প্রেমপিপাসা পর্ব – ৯

0
1038

প্রেমপিপাসা❤
পর্ব – ৯
writer_শিফা_আফরিন_মিম
.
.
?
রেহান – আমার সন্দেহ টাই যদি সত্যি হয় তাহলে তুমি পাড় পাবে না। এর মাশুল তোমাকে দিতেই হবে!

এদিকে জেরিন বাসায় এসে ভাবতে থাকে কি করবে? কোথ থেকে নাম্বার জোগাড় করবে। আর তিশান নামের কাউকে পাবেই বা কী করে?
হাজারো চিন্তা জেরিনের মাথায়।
জেরিন রুমে গিয়ে সোজা দরজা বন্ধ করে ভাবতে থাকে কী করা যায়।
জেরিন ওর বন্ধবী দের কাছে ফোন দিয়ে সব বলে। সবারই একটা কথা তারা এই বিষয়ে কোনো সাহায্য করতে পারবে না।
হটাৎ জেরিনের মাথায় আসে হিয়ার কথা হিয়া দেশেই থাকে। হিয়ার সাথে জেরিনের পরিচয় হয় ফেইসবুকে। যদিও ওরা ফেইসবুক ফ্রেন্ড তাও অনেক ক্লোজ।

জেরিন হিয়ার ফোন নাম্বার বের করে হিয়াকে কল করে।
কয়েকবার রিং হতেই হিয়া কল টা রিসিভ করে।

— হ্যালো.. আমার কথা মনে আছে নাকি তোর?

জেরিন – ইয়াপ বেইবি মনে আছে নিশ্চয়ই না হলে কি ফোন দিতাম বল?

হিয়া – হ্যা তা ভালো করেই জানি। এখন বল কেমন আছিস? কেমন দিন কাটছে বাংলাদেশে?

জেরিন – ভালো না রে! অনেক বড় একটা সমস্যায় পড়েছি।

হিয়া – বলিস কী? দেশে আসতে না আসতেই সমস্যা! তা কী সমস্যা জানতে পারি?

জেরিন – হ্যা অবশ্যই। তোর কাছে হেল্প চাইবো বলেই তো ফোন করা।

হিয়া – হ্যা বল। আমি যতোটা পারি তোকে হেল্প করবো।

জেরিন হিয়াকে রেহানের ব্যাপারে সব বলে।

হিয়া – বুঝলাম তুই ছেলেটাকে চাস। কিন্তু সে কি তোকে চায়? আই মিন তোকে ভালোবাসবে? নাকি অন্য কেউ আছে তার?

জেরিন – হ্যা আছে।

হিয়া – তাহলে তো আর কথাই নেই। যেহেতু ওর গার্লফ্রেন্ড আছে।

জেরিন – গার্লফ্রেন্ড না। ও আমার কুহু আপিকে বোধহয় ভালোবাসে। কিন্তু আপি ওকে একসেপ্ট করছে না। ইভেন অনেকবার আপিকে বলেছে ও তাও আপি রাজি হয় নি।

হিয়া – হ্যা তো? একসেপ্ট করেনি কী হয়েছে? করে নেবে।

জেরিন – কিন্তু আমি তো তা চাই না। আমি চাই একসেপ্ট করার আগেই জেনো রেহান আপি কে ভুল বুঝে।

হিয়া – মানে? কী বলছিস তুই? তুই কি চাস না তোর আপির রিলেশন টা হোক।

জেরিন – আমি ওকে ভালোবাসি আর আমি চাইবো ওর সাথে অন্য কারো রিলেশন হোক! আর ইউ ক্রেজি?

হিয়া – তুই আসলে কী করতে চাইছিস বল তো?

জেরিন – দেখ একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা কর। আপি যেহেতু রেহান কে একসেপ্ট করছে না তাহলে নিশ্চয় কোনো কারন আছে। যদিও সত্যি টা হলো কোনো কারন নেই কিন্তু আমি রেহান কে বলেছি যে আপির তিশান নামে একজনের সাথে রিলেশন আছে। ইভেন রেহান সেটা বিশ্বাসও করে নিয়েছে। সে ভাবছে আপির সত্যিই তিশানের সাথে রিলেশন আছে। তাই আপি ওকে একসেপ্ট করছে না।

হিয়া – তারপর?

জেরিন – রেহান আমার কাছে ঐ তিশানের এডড্রেস আর ফোন নাম্বার চাইছে। এখন প্রবলেম হলো আমি তো এই নামে কাউকে চিনিই না। তাহলে এইসব কিভাবে জোগাড় করবো?
তাছাড়া এখানকার কারো সাথে আমার তেমন কোনো যোগাযোগ ও হয়না। এখন তুই পারিস আমাকে হেল্প করতে।
তোর কোনো ছেলে ফ্রেন্ড থাকলে ম্যানেজ করে দে প্লিজ। যেভাবেই হোক তিশান নামের কাউকে আমার চাই।

হিয়া – তুই কি পাগল হয়েছিস? তুই না বলেছিস কুহু আপি আর তার বাবা মা তোকে নিজের করে দেখে। তাহলে? এঔ সব কেনো করতে চাইছিস? তাছাড়া এটা তো অন্যায়।

জেরিন – হ্যা মানছি ওরা আমাকে অনেক ভালোবাসে তাই বলে কি আমি যাকে ভালোবেসে ফেলেছি তাকে হারাতে দিবো। আর রইলো অন্যায়ের কথা! ন্যায় অন্যায় বিবেচনা করার টাইম নেই আমার সত্যি বলছি। আমার রেহান কে চাই ই চাই।
তুই আমার এইটুকু সাহায্য কর প্লিজ।

হিয়া – আচ্ছা ঠিক আছে। তোর যা ভালো মনে হই তুই তাই করিস। আমি ম্যানেজ করবো।

জেরিন – অনেক অনেক ধন্যবাদ ডিয়ার। আর হ্যা একটা কথা টাকা নিয়ে বলবি টেনশন না করতে যতো টাকা চায় আমি দিবো সমস্যা নেই।

হিয়া – ওকে। ম্যানেজ করে আমি তোকে জানাবো।

জেরিন – ওকে বাই।

হিয়া – বাই।

জেরিন ফোন টা কেটে দিয়ে খুশিতে মোবাইল টাকে একটা চুমু দেয়….

জেরিন – এখন কিভাবে বিশ্বাস না করে থাকতে পারো আমিও দেখে নিবো মিস্টার রেহান!
আপি কে অবিশ্বাস করা ছাড়া তোমার কাছে আর কোনো রাস্থা নেই।

বিকেলে…

কুহু ঘুম থেকে উঠে ছাদে চলে আসে। অনেকক্ষণ ছাদের গ্রিল ধরে দাড়িয়ে আছে। হটাৎ নিচে তাকাতেই দেখে গাড়ি করে কেউ কুহুদের বাসায় এসেছে।
মানুষ দুজন কে দেখেকুহুর চোখ আটকে যায়।

কুহু এক দৌড়ে নিচে নেমে আসে। দরজা খুলেই ফুপিইইই বলে জড়িয়ে ধরে।
কুহুর ফুপি আর ফুপা মানে জেরিনের মা বাবা এসেছে।

জেরিন ও দৌড়ে এসে তার মা বাবাকে জড়িয়ে ধরে।

জেরিনের মা – কেমন আছো আম্মুনিরা?

জেরিন কুহু দু’জনই উত্তর দেয় – ভালো আছি। তাদের উত্ততে পার্থক্য এতটুকুই জেরিন আম্মু বলেছে আর কুহু ফুপি।

জেরিনের বাবা – দেখলে তোমাকে পেয়ে আমার দুই মেয়ে আমাকেই ভুলে গেছে।

কুহু – তোমাকে ভুলবো? অসম্ভব!

জেরিনের বাবা – হ্যা হ্যা বুঝেছি পাকনি বুড়ি। তা জেরিন মামুনি কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো তোমার?

জেরিন – একদম না আব্বু। আমি অলওয়েজ ফাইন।

কুহুর মা – আপা অনেক গল্প হয়েছে এবার তো ভিতরে এসে বসুন। ভাইজান ভেতরে আসুন।

জেরিনের বাবা মা ভেতরে এসে বসে।

কুহু – ফুপি তোমরা আসবে আমাকে কেউ বলে নি কেনো?

জেরিন – আমারও তো একি প্রশ্ন!

জেরিনের মা – আমিই না করেছি ভাবিকে(কুহুর মাকে) তোদের জেনো না জানায়। কেমন লাগলো সারপ্রাইজ? (হেসে)

কুহু – সে আর বলতে হয়!

কুহুর বাবা – পথে কোনো সমস্যা হয়নি তো তোদের?

জেরিনের মা – না ভাই একদম না।

কুহুর বাবা – কুহু তুমি তোমার ফুপা ফুপি কে রুমে নিয়ে যাও কিছুক্ষন রেস্ট করুক। অনেক জার্নি করেছে।

কুহু – চলো ফুপি।

কুহুর মা – আপা কিছুর প্রয়োজন হলে ডাকবেন আমায় কেমন?

জেরিনের মা – এতো ব্যাস্ত হবেন না। তাছাড়া এই বাড়িতে কি আমি নতুন নাকি হ্যা? কোনো সমস্যা নেই বুঝলেন। (হেসে)

কুহু একটা রুম খুলে দেয়।

কুহু – ফুপি তোমরা রেস্ট করো। কোনো সমস্যা হলে আমাকে ডেকো কেমন? আমি পাশের রুমেই আছি।

জেরিনের মা – ঠিক আছে আম্মুনি।

জেরিন – মা ভাইয়া আসেনি কেনো?

জেরিনের মা – তুই তো জানিস তোর ভাইয়া কেমন। যা বলে তাই করে। বলেছে ওর একটা কাজ আছে আসতে পারবে না। এতো বার করে বলার পরও আসলো না ও নিজের কাজ নিয়েই ব্যাস্ত।

জেরিন – ওহো… ভাইয়া আসলে তো আরও ভালো হতো। (মন খারাপ করে)

জেরিনের মা – মন খারাপ করেনা। কাজ শেষ হলে আমি বলবো চলে আসতে।

কুহু – ফুপি এবার কিন্তু তারাতারি চলে যেতে দিবো না বলে দিলাম।

জেরিনের মা – এবার ৪ মাস থাকবো! খুশি তো?

কুহু – অন্নেক খুশি। (জেরিনের মাকে জড়িয়ে ধরে) আচ্ছা তোমরা রেস্ট নাও কেমন।

কুহু আর জেরিন চলে আসে। জেরিন নিজের রুমে চলে যায়। তার বাবা মা আসাতে এতোটাও খুশি হয়নি।

জেরিন – ধুরর মা বাবা আসার এখনি সময় হলো? কিছুদিন পরও তো আসতে পারতো। যদি আমার প্লান টা জানতে পেরে যায় তাহলে তো আমাকে মেরেই ফেলবে। ওফফফ এতো টেনশন আর ভালো লাগছে না। যা করার সাবধানে করতে হবে।
জেরিন ফোন টা হাতে নিতেই দেখে হিয়ার মিসডকল। ওর মা বাবার সাথে কথা বলার সময় হয়তো ফোন দিয়েছে। তাই রিসিভ করা হয়নি।

জেরিন তারাতারি করে হিয়ার কল ব্যাক করে…

হিয়া – কিরে কোথায় ছিলি? ফোনে পেলাম না যে?

জেরিন – মা বাবা এসেছে। তাই কথা বলছিলাম।

হিয়া – বলিস কি! খুশির খবর তো!

জেরিন – ধুরর খুশি না ছাই! এখন আমি আর নিজের প্লান মতো কাজ করতে পারবো না। যদি মা বাবা জানতে পারে তো আমাকে মেরেই ফেলবে।

হিয়া – তাহলে কি সব ক্যান্সেল?

জেরিন – আরে না। তুই ম্যানেজ করতে পেরেছিস তো?

হিয়া – দেখ আমার কোনো ফ্রেন্ড রাজি হয়নি। উপায় না পেয়ে আমার বফ কে বললাম। জানিস তো বেচারা আমি যা বলি তাই করে। তো ওকে সব টা বললাম। প্রথমে রাজি না হলেও আমার জন্য রাজি হয়ে যায়।

জেরিন – আরে নো প্রবলেম তোর বফ হোক বা বরই হোক আমি তো নিয়ে যাচ্ছি না। শুধু এক্টিং করবে ব্যাস।

হিয়া – ওকে। আমি ওর ফোন নাম্বার দিচ্ছি। সাথে এডড্রেস ও।

জেরিন – এই শোন শোন…. ওর বাবা মা?

হিয়া – ওর বাবা মা এখানে থাকে না। ও এখানে থেকে পড়াশুনা করছে বুঝেছিস।

জেরিন – ওহহ ওকে।

হিয়া – হুম। আমি তোকে ম্যাসেজ করে দিচ্ছি।

হিয়া ফোন টা কেটে দেয়। জেরিনের খুশি আর দেখে কে? জেরিন তো পারলে ড্যান্স করে!

রাতে…

সবাই একসাথে খেতে বসে। জেরিন আর কুহুর খাওয়া শেষ হলে ওরা রুমে চলে যায়।
আর বাকিরা ড্রয়িং রুমেই বসে কথা বলে।

এদিকে জেরিন নিজের রুমে এসে ভালো করে দরজাটা আটকে দেয়।

খাটে বসে মোবাইল টা হাতে নিয়ে রেহান কে কল করে….