বসন্তের মাতাল হাওয়া

0
1040

বসন্তের মাতাল হাওয়া

কিছুক্ষন আগে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে | চারপাশ একরকম চুপচাপ হয়ে আছে | পাতা ঝরে রাস্তায় পরে আছে ,কিছু কিছু জায়গায় চিকন কিছু ডাল ভেঙ্গে পরে আছে |

রাকিব হাত ঘড়িতে দেখে ,সাড়ে বারোটা বাজে !এই ঘড়িটা গত বছর সুমনা তাকে কিনে দিয়েছিল | সে একদিনও এই ঘড়িটা ছাড়া বের হয়নি কোনোদিন |

রাকিব আকাশের দিকে তাকায়,বসন্তের সূর্য উঁকি দিচ্ছে বৃষ্টির পরে | গাছগুলোও সতেজ হয়ে পাতা নাড়া শুরু করেছে | এই বসন্তে প্রথম বৃষ্টি | এমনিতেই বৃষ্টি ভাল লাগে তার| সুমনা পাশে থাকলে হয়ত ভিজতো সে ,ইশ সুমনা কেনো যে এখনো আসলো না ! আসার কথা অবশ্য ছিল এগারোটায় ,বৃষ্টির কারণে অর্ধেক রাস্তায় আটকা পরেছে বললো |

তিতুমীর কলেজের গেটে আবার ছাত্র ছাত্রীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে | এই কলেজের গাছ গুলো তার ভাল লাগে ,ঢাকা শহরে তো গাছ নাই বলতে | একটু ঠান্ডা একটু গরম বাতাসে সে ভাবতে থাকে সুমনার কথা|

মেয়েটা তাকে অনেক পছন্দ করে ,তিন বছর ধরে ভালো বন্ধুত্ব | সে সুমনাকে অনেক পছন্দ করে | তবে ভালোবাসার কথা বলা হয়নি কখনো |

দুইবার ফোন দেয়া হয়েছে সুমনাকে | সুমনা বলল গুলশান নাভানা টাওয়ারে বাসার জরুরি কাজ করছে,আরো কিছুক্ষন সময় লাগবে ,শেষ হলেই আসবে |

এক কাজ করলে কেমন হয় ,সে নিজেই চলে যেতে পারে সেখানে ,তাইলে কিছু সময় বাঁচবে |
রিক্সা নিয়ে নাভানা টাওয়ারের কাছে চলে আসে | ফোন দেয় আবার ,বলল সে এখানে আসছে |

সুমনা একটু বিরক্ত হয়ে বলল
-এত তাড়া কিসের ? অপেক্ষা করো ! আমি একটু পরেই আসবো বলেই ফোন রেখে দেয় |

সুমনার এরকম ব্যবহার কেমন জানি লাগে তার | সে হাটতে থাকে | কাছেই কেএফসি ,ঐখানে গিয়ে একটা কোক খেয়ে গলাটা ভিজাতে পারলে ভালো লাগবে ভাবল সে |

তারপর সুমনা কাজ শেষ করলে এখানে আসতে বললেই হবে | এখানে তারা বহুবার এসেছে |

কেএফসির দোতালায় উঠতেই বুকটা ধ্বক করে উঠে তার |

সুমনা পল্লবের হাত ধরে পাশাপাশি বসে আছে | সুমনার চোখে জল ,কেমন মলিন হয়ে আছে মুখটা| সুমনার মুখে হাসি ফুটানোর জন্য সে আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে সবসময়,এই মলিন মুখটা দেখতে সে কোনোদিন চায়নি| এইতো পল্লব তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে | টেবিলের উপর কি একটা কাগজ দেখিয়ে কি জানি বলছে | দুইজনের মুখই শুকনো দেখাচ্ছে |

সে সামনে যাবে কি যাবে না ভাবতে ভাবতেই ওদের পিছনে গিয়ে দাঁড়ায় | টেবিলের উপর কাগজটিতে সুমনার নাম লেখা ,হসপিটালের রিপোর্ট,প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ |

পল্লব তাকে দেখতে পেয়েই বলল

-কিরে রাকিব তুই !

আর সুমনা ভুত দেখার মত চমকে উঠে তাড়াতাড়ি রিপোর্টটা ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে|

চোখে চোখ পড়তেই চোখ নামিয়ে নেয় সুমনা |

সুমনা চোখ নিচু করে থাকুক এটা সে কোনোদিন চায়নি |

চিকেন ফ্রাই খেতে বলেছিল পল্লব |

অজুহাত দিয়ে চলে আসে |

সুমনার নিচু করা মুখটি দেখতে ভাল লাগছিল না তার | সুমনা তার চোখ দেখে নিশ্চয়ই কিছু বুঝেছে |
অনেকসময় কথা না বললেও অনেক কথা বলা হয়ে যায় |

রাস্তায় তেমন মানুষজন নেই | এই ভর দুপুরে বসন্তের মাতাল হাওয়া কেমন যেন লাগে তার | সে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে একটা কোকিল একটানা ডেকে যাচ্ছে |
এই ব্যস্ত শহরে কোকিল নাই সে জানে | বসন্তের মাতাল হাওয়া কোকিলকে পাগল করে সাথে মানুষকেও ,কেউ বুজতে পারে ,কেউ নিঃসঙ্গতা ভেবে এড়িয়ে যায় |

অসীম হিমেল
ছোট গল্প