বিয়ে পর্ব-৪৩ এবং শেষ পর্ব

0
307

#বিয়ে
#লেখনীতে -ইসরাত জাহান ফারিয়া
#পর্ব- ৪৩ ও শেষ

ধ্রুব কেমন করে যেন দেখলো ওকে! অদ্রির হাসফাস লাগলো। মানুষটার তাকানোতেও যেন আজকাল ওর ভেতরটা সে পড়ে ফেলতে জানে। এই সরল এবং চমৎকার ছেলেটি নিজের ইগো দূরে সরিয়ে ওর কাছে নিজের ভালো থাকার কারণ প্রকাশ করেছিলো, খুব চেয়েছিলো ওকে। এরপরই তো একটু একটু করে বোঝার চেষ্টা করতে থাকে ধ্রুবকে, মাঝেমধ্যে অবশ্য অদ্রিরও ভুল ছিলো। তবে ওর এই একঘেয়ে জীবনে ধ্রুব না এলে কোনপথে যে ওর জীবনটা এগুতো ধারণা করতে পারে না অদ্রি৷ ও দীর্ঘশ্বাস ফেলে অজান্তেই ভাবনার সেই জগতে বিচরণ ঘটায়। ধ্রুব মৃদু কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
— বললে না তো! আমাকে ছাড়া তুমি থাকতে পারবে কখনো?
অদ্রি নিজের ঠোঁট বাঁকালো। খানিক চুপ থেকে উত্তর দিলো,
— পারবো। তবে কষ্ট হবে মনে হয়…

ধ্রুব হাসলো নিঃশব্দে। স্বীকারোক্তিটা মনে গেঁথে গেলো। অদ্রি মিছে বলেনি। আসলেই আমরা ভাবি যে প্রিয় মানুষ ছাড়া বেঁচে থাকতে পারবো না, কিন্তু আমরা তা পারি। কষ্ট হয়, দুঃখ হয়, একাকিত্বের জগতে তলিয়ে যাই তবুও আমরা আমাদের সেই প্রিয় মানুষের শূন্যতা নিয়েই বেঁচে থাকি দিনের পর দিন, রাতের পর রাত।
চাঁদের আলো নেই আজ, বাইরে থেকে আসা ল্যাম্পপোস্টের হলদে মিটমিট করে আসা আলোয় ধ্রুব দেখলো ওর নিজস্ব নারীটিকে। মোহনীয় দেখাচ্ছে সবকিছু। এই মোহিনীর মনে সে যে জায়গা করে নিতে পেরেছে অদ্রির মনে, এটাতেই ও খুশি। এমন হাজারো চিন্তাভাবনার জগতে পাড়ি দিতে দিতে একসময় দু-চোখের পাতা দুটি লেগে এলো ওর। অন্ধকার কক্ষটিতে তখন একফালি ল্যাম্পপোস্টের আলো ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। ধ্রুব’র নিঃশ্বাসের শব্দ পুরো ঘরের স্তব্ধতা যেন আরো বাড়িয়ে দেয়। অদ্রি খোলা চোখে চেয়ে থাকে ধ্রুব’র মুখে। নির্জীব নয়, নিষ্পাপ। অদ্রির ঘুম আসছে না। কেমন এক শূন্যতা ওকে ঘিরে ধরে আছে। হাত-পায়ের তালু জ্বলছে। বাবার কথা, মায়ের স্মৃতি চোখ বন্ধ করলেই বেশি মনে পড়ছে। অদ্রি বালিশ থেকে মাথা তুলে, কিয়ৎক্ষণ সময় নেয়৷ এরপর ধ্রুব’র দিকে সরে এসে ওর বুকের কাছে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে, একহাত আলতো করে ওর পিঠে রাখে। নিমিষেই সব একাকিত্ব আর যন্ত্রণা যেন উবে গেলো। অদ্রি শান্তি অনুভব করলো। দীর্ঘশ্বাস ফেলে দম নিলো। বিমোহিত সুবাসে নাক টানলো। আজকাল ধ্রুব’র সবকিছুই ওর ভালোলাগে, ওকে খুব টানে । প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করে। ও অস্ফুটস্বরে বলে,
— আমাদের বিয়েটা যেনতেন ভাবেই হোক না কেন, আপনি আমার কাছে এখন যেনতেন নন। অমূল্য এক সম্পদ, যাকে না চাইতেই পেয়েছি। আপনি আমার পরবর্তী জীবনের একমাত্র বন্ধু, যাকে নিয়ে আমি পুরো একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারবো…

সম্পূর্ণ কামরায় নিস্তব্ধতা মিশে মিশে আছে। তার মাঝে ওর অস্ফুটে বলা কথাগুলো শুনে ধ্রুব’র কুঁচকে থাকা কপালের চামড়া ধীরে ধীরে সোজা হলো। ঠোঁটের কোণে দেখা গেলো বক্র হাসি। আচ্ছা অদ্রি কি জানে ধ্রুব ইতোমধ্যে সজাগ হয়ে গেছে? টের পেয়েছে ওকে? ও আলতো হেসেই প্রতিজ্ঞা ভুলে ঘুমের ঘোরে দু’হাতে বুকে আগলে নিলো তার একরোখা মনোহরিনীটিকে। উষ্ণতা পেয়ে অদ্রিও চুপটি করে মিশে গেলো ওর বক্ষে৷ নড়চড় করলো না একদম।

পরদিনই এক আজব কান্ড ঘটলো। দীর্ঘদিন পর প্রথমবার জামিউল সাহেব স্ত্রীকে নিয়ে চলে এলেন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে। মেয়েকে বোঝাতে, সম্পর্ক ঠিক করতে। অদ্রি হাসিখুশি মনে কাজ করছিলো, বাবা এসেছে জানতে পেরে প্রথমে বেশ বিস্মিত হলেও পরক্ষণেই ওর চেহারায় কাঠিন্যতা ফুটে ওঠে। শক্ত গলায় দেখা করবে না জানিয়ে দেয় শায়লাকে। এরপর সোজা নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বসে দিলো। সারাদিন বের হলো না। শায়লা, আশফাক অনেক বোঝালেন বাবার সাথে একটু দেখা করতে, কিন্তু অদ্রি কিছুতেই বের হলো না। হতাশ হয়ে শায়লা আর আশফাক সাহেব জামিউল সাহেবকে জানালেন ঘটনাটা। বললেন মেয়েকে আরেকটু সময় দিতে। জামিউল সাহেব প্রথমে মানলেও সাথী বেগমের উস্কানিতে রেগে গেলেন একটা সময়। তাদের পিঞ্চ করে কথা বলতে শুরু করলেন, রাগারাগি শুরু করে হুলস্থুল পরিবেশ সৃষ্টি করলেন। ধ্রুব অফিসে ছিলো। জরিনার ফোন পেয়ে সে দ্রুত বাড়ি ফিরে দেখলো এ বেগতিক অবস্থা। ওর ভীষণ মাথা গরম হয়ে গেলো। তবু সংযত ভাষায় সে জামিউল সাহেবকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— এতদিন মেয়ের খোঁজ নেন নি, এখন হঠাৎ কি চাই?
ওকে নিজের মতো ছেড়ে দিন, ভালো থাকতে দিন।
জামিউল সাহেব গলা নামিয়ে বললেন,
— আমার মেয়ে ও, নিজের মতো ছেড়ে দিবো বললেই তো হয় না। দায়িত্ব-কর্তব্য আছে…
ধ্রুব গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— এতদিন কোথায় ছিলেন বলুনতো? মেয়ের কথা ভুলে কি করছিলেন? তখন কর্তব্যের কথা মনে ছিলো না?
জামিউল সাহেব মাথা নিচু করে রাখলেন। তার কাছে উত্তর নেই। নিজের দুটো ছেলের মুখ দেখে দিনদুনিয়া প্রায় ভুলেই বসেছেন৷ মেয়েকে মনে পড়তো, কম। ধ্রুব উত্তর না পেয়ে গাম্ভীর্যের সঙ্গে বলল,
— চেঁচামেচি করবেন না। অদ্রি বুদ্ধিমতি, কিন্তু অভিমানী। হয়তো রেগে গিয়ে অন্যকিছু করে ফেলবে…
জামিউল সাহেব হতাশ নিঃশ্বাস ফেলে সোফায় বসে পড়লেন। তার মাথা ঘুরছে। অদ্রির এত রাগ আগে কখনো তিনি দেখেন নি। সেই কখন থেকে দরজা বন্ধ করে বসে আছে, চোখের সামনে পর্যন্ত ধরা দিতে চাচ্ছে না মেয়েটা৷ তিনি ভাবতে লাগলেন কি করা ঠিক হবে এ সময়। কিন্তু সাথী বেগম তা হতে দিলেন না। পাশ থেকে টিপ্পনী কেটে ধ্রুব’র কথার জবাবে নাকমুখ কুঁচকে বললেন,
— কি কইরালাইবো হ্যাঁ? কি? আমরা যে নিজের সময়, ইজ্জত নষ্ট কইরা আইছি আমাদের সময়ের কি দাম নাই? বাপের সাথে দেখা করতে চায় না থাপড়াইয়া দাঁত ফালাইলে সব জারিজুরি বাইর হইয়া যাইবো গা। দুই দিনের মাইয়া, ভাতেরে কয় অন্ন।
ধ্রুব’র গায়ে আগুন জ্বলে ওঠলো,
— ঠিকভাবে কথা বলুন…
সাথী বেগমের গলা চড়লো,
— কেমনে ঠিক ভাবে কথা কমু? এত দেমগী মাইয়া এহন কি তার পা ধইরা বইয়া থাকুম? মাগো চলো…
ধ্রুব রেগে গেল,
— আমার বাড়িতে, আমার সামনে দাঁড়িয়ে আপনি আমার স্ত্রীকে অপমান করছেন, সাহস হয় কি করে আপনার?
সাথী বেগম বললেন,
— তোমার বউ ধোঁয়া তুলসীপাতা না যে তারে কিছু কওন যাইবো না।
— আপনি কিন্তু লিমিট ক্রস করছেন! আমি কিন্তু এসব বরদাস্ত করবো না…
ধ্রুব তেড়ে আসতে গেলে শায়লা এসে ওকে থামানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু রাগে ফোঁস ফোঁস করতে লাগলো ধ্রুব। জামিউল সাহেব স্ত্রীকে ওঠলেন,
— থামো৷ যা বোঝো না, তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না।
সাথী বেগম গলা চড়িয়ে বললেন,
— ওহ। আমি অবুঝ? বাড়াবাড়ি করি? আমি? খুব তো মাইয়া নিয়া আদিক্ষেতা করো, সেই মাইয়া তো বড়লোক জামাই থুইয়া তোমার চেহারাও দেখতে চায় না। বুড়া বাপের দাম নাই, বুচ্ছ? লোভী, দেমাগী মাইয়া….

ধ্রুব’র হাত-পা নিশপিশ করতে লাগলো। জামিউল সাহেব এমনিতেই চিন্তায় ছিলেন, তার মধ্যে সাথী বেগম নাটক শুরু করেছেন যা তিনি সহ্য করতে পারছেন না। ওনি রাগ সামলাতে না পেরে ওঠে স্ত্রীকে প্রচন্ড এক ধমক দিলেন। শায়লা-আশফাক সাহেব হতভম্ব, জরিনা দূরে দাঁড়িয়ে হতবিহবল হয়ে আছে। এতগুলো মানুষের সামনে ধমক খেয়ে অপমানিত হলেন সাথী বেগম। শরীর জ্বলে ওঠলো, দু-চোখ ঠিকরে আগুন বের হতে লাগলো যেন। অপমানে মাথায় রক্ত চড়ে গেলো। এতদিন যতই ঝগড়া, ঝামেলা হোক, জামিউল সাহেব তার গায়ে এমনভাবে কথা বলেন নি। কিন্তু ওই দেমাগী, সতীনের মাইয়ার জন্য আজ জামিউল সাহেব তাকে এত মানুষের সামনে এভাবে বলতে পারলো? অপমান করলেন? তিনি রাগে অন্ধ হয়ে চিৎকার করে ওঠলেন,
— এতবড় সাহস? নষ্টা মাইয়ার জন্য আমার সাথে উঁচা গলায় কথা কও?
ধ্রুব রোষাগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো। ঘৃণাবোধ হলো। এই মহিলা যে অত্যন্ত খারাপ তা বুঝতে পারলো। সাথী বেগমকে আর এক মুহূর্তও টলারেট করতে পারছে না। ইচ্ছে করছে ঘাড় ধরে বের করে দিতে, কিন্তু বাবার জন্য পারছে না। জামিউল সাহেব বোবা হয়ে তাকিয়ে রইলেন, স্ত্রীকে কিছুই বলতে পারলেন না। শায়লা হাসান রেগে গেলেন,
— এসব কি আপা? ও একটা বাচ্চা মেয়ে, বাবার ওপর রাগ করেছে। সেটা সময়ের সাথে ঠিক হয়েও আসবে। আপনি ওকে নিজের কেউ না ভাবুন, তবু্ও সম্পর্কে আপনার মেয়ে তো? একজন মা হয়ে কিভাবে সন্তানকে এসব জঘন্য কথা বলতে পারলেন?
সাথী বেগম নাক কুঁচকালেন। এত জ্ঞান শুনতে তার বয়েই গেছে। সতীন যেমন শত্রু, তার অংশও শত্রুই।
আশফাক সাহেব কড়া গলায় জামিউল সাহেবকে বললেন,
— ভেবেছিলাম মেয়েটা অহেতুক রাগ-জেদ করেছে। কিন্তু আপনার স্ত্রী’র ব্যবহার দেখে তো মনে হয় না ও ভুল কিছু করেছে!
জামিউল সাহেব অস্বস্তি নিয়ে বললেন,
— যেমনই হোক, মা তো। ওমন একটুআধটু শাসন…
ধ্রুব রেগে গেল। তাচ্ছিল্যপূর্ণ কন্ঠে চিৎকার করে ওঠলো,
— ইনি মা? নাকি ডাইনি? আপনি আবার তার হয়ে কিভাবে সাফাই গাইছেন? কোনো মা তার সন্তানকে এসব কুরুচিপূর্ণ কথা বলে? আসলেই আপনি বাবা হওয়ার যোগ্যই নন।
সাথী বেগম তেতে ওঠলেন। জামিউল সাহেব রেগে বললেন,
— এখন বুঝতে পারছি, এখানে বিয়ে দেওয়াটাই আমার ভুল, ব্রেন ওয়াশ করেছেন আমার মেয়ের। আর নয়, ওকে আমি নিয়ে যাবো আজই…
ধ্রুব রোষপূর্ণ গলায় বলল,
— নিজেকে সামলান শ্বশুর মশাই। বাচ্চাদের মতো কথাবার্তা বলে নিজের সম্মান হারাবেন না। আমার স্ত্রী কোথায় যাবে, কি করবে সেসব আমার রেসপনসেবলিটি। আপনি এর মধ্যে ইনভলভ হবেন না। সেই অধিকার হারিয়েছেন।
— ধ্রুব!!
জামিউল সাহেব চেঁচালেন। তেড়ে এলেন ওর দিকে। শুরু হয়ে গেলো কথা কাটাকাটি। বেশি ইন্ধন যোগাচ্ছে সাথী বেগম। তিনি শান্তি পাচ্ছেন। মনের ঝাঁঝ মিটিয়ে তিনি অপমান করছেন ধ্রুব, অদ্রিকে। জরিনা একফাঁকে ওপরে গিয়ে দরজার বাইরে থেকে এসব জানাতেই অদ্রির চেহারায় কাঠিন্যতা নেমে এলো। ওর কারণে এ বাড়ির কাউকে অপমান করার সুযোগ দেবে না সে। গায়ের ওড়নাটা ঠিক করে সে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দেখলো ধ্রুবকে কিভাবে উল্টাপাল্টা বলা হচ্ছে। ধ্রুব শায়লার কথায় রাগ সামলানোর চেষ্টা করছে। নিচে নেমে দম নিয়ে বাবার সামনে দাঁড়ালো অদ্রি। জামিউল সাহেব মেয়েকে দেখে খানিকটা ভড়কে গেলেন, সাথী বেগমও থামলেন। স্নেহের দৃষ্টিতে তাকালেন জামিউল সাহেব মেয়ের দিকে। ক্লান্ত গলায় বললেন,
— এতক্ষণে এলে? এত রাগ বাবার ওপর? শেষমেশ না এসে থাকতে পারলে? বাবার জন্য আসতেই হতো। আমি জানি তুমি আমাকে কতোটা ভালোবাসো!
অদ্রি চোখমুখ কঠিন হয়ে এলো,
— আপনার জন্য আসিনি। ভদ্র বাড়িতে এসে চেঁচামেচি, অশান্তি শুরু করেছেন তাই বাধ্য হয়ে সাবধান করতে এলাম। আর রইলো ভালোবাসার কথা, আমি আপনাকে ভালোবাসি না। প্লিজ আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে বেরিয়ে যান।
জামিউল সাহেব মেয়ের হাত ধরে বললেন,
— মা রাগ করে না৷ আমার কথা শুনো…
— কিছুই শুনতে চাচ্ছি না। আপনারা গেলে আমি খুশি হবো!
— একটু শুনো। এত জেদ ভালো না মা…

অদ্রি নাছোড়বান্দা। কিন্তু জামিউল সাহেব কিছুতেই মেয়ের সাথে কথা না বলে যাবেন না৷ শায়লা হাসান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ধ্রুব রাগে, বিরক্তিতে শেষ। এই সাথী বেগমের দিকে চোখ পড়লেই ওর মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। এসব নাটকের অবসান ঘটাতেই সে দাঁতে দাঁত চেপে অদ্রির কাছে এলো। অদ্রি তখন রাগে ফুঁসছে, চোখের কোণে চিকচিক করছে জল। ধ্রুব ওকে একপাশে এনে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করে অনুরোধের স্বরে বলল,
— আমি, আমরা আছি তোমার পাশে। শুনো, ওনি কি বলতে চায়। প্লিজ…
অদ্রি শান্ত হলো। জেদ করলো না। সাথী বেগমের মুখও সে দেখতে চায় না, সেজন্য বাবার সাথে সে আলাদা, একা কথা বলবে। এটা শুনে সাথী বেগম বিড়বিড় করে ওকে গালিগালাজ করতে লাগলেন। অদ্রি ফিরেও তাকালো না। জামিউল সাহেব মেয়ের সামনে কেমন অপরাধবোধে ভুগলেন। কথা সাজিয়ে নিলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেন,
— কেমন আছো?
অদ্রি শক্ত গলায় জবাব দিলো,
— খারাপ নেই।
তিনি উত্তেজকপূর্ণ কন্ঠে বললেন,
— বাবা ভুল করেছে, মাফ চাচ্ছি মা। তুমি এবার ফিরে চলো আমার সাথে।
অদ্রি নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকালো। হাসলো। নরম স্বরে বলল,
— কোথায়?
— বাড়িতে, তোমার বাড়িতে।
— কিন্তু আমার বাড়ি তো এটাই। এটা ফেলে আমি তো কোথাও যাবো না।
জামিউল সাহেব রেগে গেলেন,
— ওখানে তোমার বাবা আছে, মা আ…
বাকি কথাটুকু শেষ করার সাহস হলো না। অদ্রির চোখমুখ রাগে লাল হয়ে গেলো। ঘাড়ের দিক থেকে জামা সরিয়ে দেখালো একটা ক্ষত, লালচে দাগ। যেটা আজ পর্যন্ত সে কাউকে দেখায়নি। এরপর তাচ্ছিল্য হেসে বলল,
— কেউ নেই ওখানে, কেউ না। শুনুন তবে, এখানে আমার মা আছে, বাবা আছে। সবচেয়ে বড় কথা স্বামী আছে। যে আমার বাকি জীবনের বন্ধু, যাকে শুধুমাত্র আপনার মতো কাপুরুষের জন্য আমি দূরে ঠেলেছি, দূরছাই করেছি সবসময়। অথচ দেখুন, ওনি আমাকে ছেড়ে যান নি। আর আপনি? আপনি তো আমার পৃথিবী ছিলেন, অথচ আপনি আমার মা আর আমার সেই বিশ্বাস, শ্রদ্ধাকে পায়ের নিচে পিষে আমাকে দূরে ঠেলে দিলেন নিজের স্ত্রীর কথামতো। তখন তো ভাবেন নি আমি আপনার মেয়ে। এখন কেন ভাবছেন?
জামিউল সাহেব বাক্যহারা হয়ে রইলেন কিছু সময়। অদ্রির ঘাড়ের লালচে দাগ যে তার প্রতি অত্যাচারের একটি নিদর্শন সেটা বুঝতে পারলেন। অদ্রি তো কোনোদিনও টু শব্দ করেনি এসব নিয়ে! সাথী বেগম এমনটা কিভাবে করতে পারলেন? তার হাত-পা নিশপিশ করতে লাগলো। তবুও নিজেকে সামলে বললেন,
— সব ভুল আমার। মাফ চাইছি তো। বাবা তোমাকে নতুন একটা জীবন দিতে চায়, তোমার খেয়াল রাখতে চায়। তোমাকে রেখে অতদূরে গেলে শান্তি পাবো না মা…
অদ্রি রাগে চোখ বন্ধ করে বলল,
— চাই না নতুন জীবন। আমি আমার পরিবারের সাথেই থাকবো। আপনি আপনার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকুন। অদ্রি লোভী নয় যে আপনার বিদেশের লাইফ স্যাটেলের কথা শুনে গলে যাবে। আন্ডারস্ট্যান্ড?
জামিউল সাহেব কড়া গলায় বললেন,
— বাবার চেয়ে ওরা তোমার বেশি আপন হয়ে গেলো?
অদ্রি শ্লেষাত্মক হেসে বলল,
— আপনি তো কোনোদিন আপনই ছিলেন না। তাই এসব বলে লাভ নেই। হুটহাট ভদ্র বাড়িতে এসে উৎপাত চালাবেন না। ওরা এমন কলুষিত নয়। আশা করি এ কথাটা রাখবেন। যাকগে, শুভকামনা আপনার নতুন জীবনে পদার্পন করার জন্য। আপনার মেয়ে আজ থেকে সত্যিই মৃত!
— অদ্রি!!
জামিউল সাহেব হতবাক হয়ে বললেন। অদ্রি ওঠে দাঁড়ালো। আর কোনো কথা বলতে বা শুনতে চায় না ও। দরজা দিয়ে বেরুনোর আগে ও একবার পিছু ফিরে তাকালো,
— আমি একটা কারণেই আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ যে এই হঠাৎ বিয়ে এবং এর সাথে জড়িয়ে থাকা সবকিছু এখন আমার জীবনের অংশ! সেখানে আপনার কোথাও স্থান নেই এবং আমি আপনাকে কখনোই ক্ষমা করবো না।

মেয়ের ছলছল চোখ আর ওর বলা কথাটা শুনে জামিউল সাহেব স্তব্ধ হয়ে রইলেন। এত ঘৃণা করে সে তার বাবাকে? এখন স্বামী-সংসারই তার সবকিছু? তার কোনো জায়গা নেই কি অবলীলায় বলে গেলো অদ্রি কথাগুলো! তিনি বসা ছেড়ে ওঠে দাঁড়ালেন। পা দুটি কাঁপছে। কোনোমতে বেরিয়ে আসার আগে ধ্রুব’র কাছে গেলেন। ব্যর্থ ও পরাজিত গলায় বললেন,
— আমার মতো আমার মেয়ের বিশ্বাস ভেঙ্গো না। বাড়িতে এসে খারাপ ব্যবহার করার জন্য মাফ চাইছি, পারলে করে দিও।
এই বলে তিনি বেরিয়ে এলেন। কেউ আর তাকে প্রশ্ন করলো না। সাথী বেগমও পিছু পিছু চলে এলেন। সারা রাস্তা স্বামীকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেও লাভ হলো না। জামিউল সাহেব কিছুই বললেন না। মেয়ের ঘৃণাযুক্ত চোখ তার হৃদয় খন্ডবিখন্ড করে তুলছে প্রতিনিয়ত।
বাড়ি ফেরার পরও তিনি স্ত্রীকে কোনো কথার জবাব দিলেন না। সাথী বেগম রেগে অদ্রির নামে উল্টাপাল্টা কিছু একটা বলতেই জামিউল সাহেব নিজের রাগ ধরে রাখতে পারলেন না। থাপ্পড় বসিয়ে দিলেন স্ত্রীর গালে। সাথী বেগম হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকালেন। রোষপূর্ণ গলায় বললেন,
— এত সাহস তোমার?
জামিউল সাহেব চিৎকার করে ওঠলেন,
— সাহসের দেখেছো কি? এইবার আমিবতোমাকে দেখাবো। আমার মেয়েকে তলে তলে অত্যাচার করার মাশুল তোমাকে দিতেই হবে।
সাথী বেগম ঘাবড়ে গেলেন। তিনি যে অদ্রির সাথে খারাপ ব্যবহার বা অত্যাচার করতেন এসব কিভাবে জানলেন জামিউল সাহেব? নিশ্চয়ই ওই মেয়ে বলেছে। রাগে ফুঁসে ওঠলেন তিনি,
— কি করছি আমি? কি? উল্টো তুমি ওই নিমক’হারামির জন্য আমায় চড় মারাল?
জামিউল সাহেব গর্জে ওঠলেন,
— একদম চুপ।
সাথী বেগম চুপ থাকলেন না। উলটো রাগে অন্ধ হয়ে চিৎকার করে বললেন,
— যে স্বার্থপর মাইয়ার জন্য তুমি আমারে মারছো, সেই মাইয়ারে অভিশাপ দিলাম। কোনোদিনও ভালো থাকবো না সে। জীবনে সুখ পাইবো না। সারাজীবন আমার পোলাগো ওষ্ঠা-লাত্থি খাইবো এই আমি কইয়া দিলাম।
জামিউল সাহেব হতবাক হয়ে গেলেন। এরপর ক্ষুদ্ধ হয়ে টুটি চেপে ধরলেন স্ত্রীর। সাথী বেগম ভয় পেয়ে গেলেন শান্তশিষ্ট স্বামীর এমন রুপ দেখে৷ অনেক কষ্টে তিনি অন্য ঘরে পালিয়ে গেলেন। জামিউল সাহেব রাগে ফুঁসছেন। মেয়ের বিষয়ে আর একটা বাজে কথাও তিনি শুনতে চান না। সাথী বেগমের ঔদ্ধত্য তিনি আর মানবেন না। এই মহিলা তার জীবনের ভুল। যে ভুলের কারণে মেয়েকে হারিয়েছেন, ঘৃণার পাত্র হয়েছেন। তিনি জোরালো কন্ঠে জানিয়ে দিলেন কোন বিদেশটিদেশ যাওয়া হচ্ছে না। অদ্রির প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করায় তিনি অতি শ্রীঘ্রই সাথী বেগমের ব্যবস্থা নিবেন, তালাক দেবেন। বাচ্চাগুলো একাই মানুষ করবেন। এসব শুনে সাথী বেগম স্তব্ধ হয়ে গেলেন। ভয় পেয়ে গেলেন। চেয়েছিলেন সতীনের মেয়ের দিকে তীর ছুঁড়তে, সেই তীর ঘুরেফিরে এখন নিজের দিকে আসায় তিনি কপাল চাপড়ে কাঁদতে লাগলেন। বারবার মাফ চাইতে লাগলেন। জামিউল সাহেব তার এসব ঢঙে গলে না গিয়ে হনহন করে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলেন। এই মহিলার সামনে থাকলে তিনি দমবন্ধ হয়ে মারা যাবেন যেকোনো সময়!

______

বাড়ির পরিস্থিতি গুমোট হয়ে আছে। শায়লা, আশফাক সাহেব অদ্রিকে বোঝালেন মন খারাপ না করার জন্য। এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার জন্য। শায়লাজোর করে ওকে তুলে খাইয়ে দিলেন আর এ সমস্ত কথা বোঝালেন৷ অদ্রিও চুপচাপ ওদের কথা মানলো, তবুও মনের ভেতর দগদগে ঘা হয়ে রইলো আজকের ঘটনাটা। ওর ভীষণ কান্না পেলো। ধ্রুবকে কতগুলো কথা শোনালো সাথী বেগম, ও নিতে পারছে না সেসব। তার প্রিয় মানুষটিকে এভাবে বলার কোনো অধিকারই নেই কারোর। সেজন্য ঘরে বসে চুপচাপ চোখের জল ফেলছিলো পাছে কেউ দেখে ফেলে তাই।

ধ্রুব ঘরে এসে দেখলো অদ্রি সোফায় মুখ ঢেকে বসে আছে। ওকে টের পেয়ে মুখ তুলে চাইতেই ধ্রুব দেখলো অদ্রির চোখমুখ শক্ত। চোখ জলে পূর্ণ। ও তড়িঘড়ি করে লুকিয়ে চোখ মুছলো। এরপর বসা থেকে দাঁড়িয়ে কাঠ গলায় বলল,
— সরি। বাড়ি বয়ে এসে এমন সিনক্রিয়েট করার জন্য মাফ চাইছি। আমার জন্য অহেতুক আপনাদের এতগুলো কথা শোনানোর সুযোগ পেলো ওরা।
ধ্রুব হতাশ নিঃশ্বাস ফেলে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। দু’হাতে অদ্রির মুখ তুলে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— উহু, তুমি তো কিছু করোনি। তাহলে নিজের ওপর দোষ নেবে না একদম৷
ধ্রুব’র নমনীয় কন্ঠ শুনে অদ্রি কান্না চাপাতে পারলো না৷ চোখ বেয়ে জলের ফোয়ারা নামলো। ধ্রুব ওকে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। অদ্রির কান্না ও নিতে পারে না, মাথা ভনভন করে৷ এমন কাঁদতে দেখতে ভালো লাগছে না মোটেও। ধ্রুব ওকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
— কাঁদে না।
— আমি কোনোদিনও বাবাকে ক্ষমা করবো না। আর আপনাকেও ছাড়বো না।
অদ্রি বললো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে। না চাইতেও এই পরিস্থিতিতে হাসি পেলো ধ্রুব’র। ও ঠোঁট চেপে হাসি আটকে অদ্রিকে থামাতে বলল,
— একটা চুমু খাই?
অদ্রি মুখ তুলে চাইলো। ছোটছোট চোখ করে তাকাতেই ধ্রুব থতমত খেয়ে বলল,
— এমনি বলছিলাম…

অদ্রি একটু সময় নিলো। ওকে হতবাক করে দু’হাতে ধ্রুব’র মুখটা আগলে ধরে কাছে নিয়ে এলো। এরপর ওর পুরুষালী মুখে অজস্র চুমু খায়। ঠোঁটের চুম্বনে মত্ত হয় আনাড়িভাবে। ধ্রুবও সাড়া পেয়ে ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাছে আসে। সারামুখে, ঠোঁটে চুম্বনে চুম্বনে নাজেহাল করে তুলে অদ্রিকে। ওর বুকের ভেতর বয়ে চলা ঘূর্ণিঝড়ে চূর্ণ হয় ওর এতদিনের রাগ, জেদ। প্রিয় মানুষের স্পর্শ শিহরণ জাগায় মন-মস্তিষ্কে।
বিছানায় পিঠ ঠেকতেই অদ্রি একটু হুঁশে ফিরলো। ধ্রুব মুখ তুলে চেয়ে বলল,
— আসছি…
অদ্রি ওর হাত টেনে ধরে আটকালো। অস্ফুটস্বরে বলল,
— উহু!
বলে ধ্রুব’র কপালে, নাকে অজস্র চুমু খেলো। গলা জাপটে ধরে অভিমানী গলায় বলল,
— আপনি ভালোবাসা চান না…
ধ্রুব’র শরীর উত্তপ্ত। অদ্রির অভিমানী, ঠোঁট ফুলিয়ে বলা কথাটায় একপ্রকার ঘোরে চলে গেলো ও। ফের ডুবে গেলো অদ্রি তে। তপ্ত নিঃশ্বাস আর বলিষ্ঠ চুম্বনে নেতিয়ে পড়লো অদ্রি। অনুভূতির রাজ্যে খুঁজে পেলো অন্যরকম ভালোবাসা। বৃষ্টির রাতে দু’জনের অনিচ্ছায় যেটা ঘটেছিলো, সেটা এই আলোকরোজ্জ্বল রাতে স্বেচ্ছায়, ভালোবেসে ঘটে গেলো। প্রতিটি স্পর্শ, চুমু এমনকি ঠোঁটের দংশনেও যেন ভালোলাগা। চোখ বন্ধ করে ধ্রুব’র প্রতিটা স্পর্শে অদ্রি খুঁজে পেলো বিদীর্ণ সুখ!

শেষরাতের আচমকা বৃষ্টি। ঠান্ডা পড়েছে বেশ ভালোভাবে। ধ্রুব’র বুকে গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকা অদ্রির দিকে তাকিয়ে ধ্রুব হেসে বলে,
— বিয়েটা না করলে এই পুতুলটা তো আমারই হতো না।আমি কত বোকা ছিলাম…
অদ্রি মুখ তুলে তাকায়। চোখেমুখ লজ্জায় রক্তিম হয়ে আছে। কথা বলার মতো অবস্থায়ই নেয়। চোখ বুজে আবারও মুখ লুকায় কম্বলের নিচে। ধ্রুব ওর ঘন পল্লব বিশিষ্ট চোখের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে ওঠে,
— রাগ, জেদ কোথায় গেলো?
অদ্রি কম্বলের নিচ দিয়েই ওর নগ্ন বুকে ঘুসি দিয়ে বলে,
— অসভ্য লোক।
ধ্রুব অবাক গলায় বলে,
— আদর চাইলে তুমি, অসভ্য হলাম আমি?
অদ্রি চেঁচিয়ে ওঠে,
— স্টপ ইট।
— তুমি বললেই তো হবে না, যেভাবে আমার ঠোঁটে…
অদ্রি ওর হাত কামড়ে ধরতেই ধ্রুব’র আর বাকি কথাটা বলা হয় না। চেঁচিয়ে ওঠে ব্যথায়। অদ্রি ছেড়ে দেয় ওকে। এরপর ধীর স্বরে বলে,
— অসভ্য কথাবার্তা বললে আবার দেবো।
ধ্রুব ব্যথায় চোখমুখ কুঁচকে বলে,
— নির্দয় কোথাকার। এরপরও ভালোবাসতে ভুলি না…
অদ্রি ওর গালে, হাতে কামড়ের ক্ষততে চুমু খেয়ে
মোহাবিষ্ট গলায় বলে,
— আমিও।
ধ্রুব মোহাবিষ্ট হয়। একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে বুকে আগলে নেয় অদ্রিকে। উষ্ণ আলিঙ্গনে বিমোহিত হৃদয় নিয়ে সে ভাবে এমন নরম হৃদয় আর অভিমানে ভরপুর একটা মন নিয়ে এতদিন এই মেয়েটা কিভাবে এতটা শক্ত খোলসে আবৃত থাকতো! না জানতে দিতো নিজের মন, না প্রকাশ করতো কিছু। কতশত জেদকে হার মানিয়ে আজকের অদ্রি ওর কাছে খোলা বইয়ের মতো নিজেকে প্রকাশ করছে সেটাতে ওর মনমস্তিষ্ক বিস্মিত হয়, বুঝতে দেয় না অদ্রিকে। ও শুধু এই মেয়েটার ছায়া হয়ে পাশে থাকতে চায় সহস্র বছর, ভালোবেসে যেতে চায় আজন্মকাল।

[ সমাপ্ত]

[আশানুরূপ হয়নি। বোনাস পর্ব দেবো, যদি দেখি কোনোকিছু অজান্তে বাদ দিয়ে ফেলি।]