বুকের ভিতর রাখবো তোকে পর্বঃ ০২+০৩

0
1767

বুকের ভিতর রাখবো তোকে?
#Part: 02+03
#Writer: Doraemon (Ayesha)

পাখি দেখল তার পেছন পেছন একটা ছেলে হাঁটছে।
–এই ছেলেটা আমার পেছন পেছন হাঁটছে কেন? আমি এমনিতেও একা একা হাঁটতে ভয় পাচ্ছি। এই ঝামেলাটা আবার কোথা থেকে উড়ে আসল। আচ্ছা ছেলেটা কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার পিছু নিচ্ছে নাতো। না না আমি হয়তো একটু বেশি ভাবছি।
পাখি আবার হাঁটা ধরল। কিন্তুু না যতই হাঁটছে ছেলেটা ততই তার পিছু হাঁটছে। পাখি এমনিতেই অনেক ভিতু। সাহসও নেই যে আগ বাড়িয়ে ছেলেটাকে কিছু বলবে। একসময় পাখি তার হাতে কারও স্পর্শ অনুভব করল। ফিরে তাকাতেই দেখে ছেলেটা তার হাত ধরে ফেলেছে। কিছু বলতে যাবে তার আগেই পাখির দুই বাহু ধরে হেঁচকা টান দিয়ে রাস্তার পাশে থাকা দেয়ালে চেপে দাঁতে দাঁত চেপে বলতে লাগল
–How dare you! You stupid girl. অরণ্য চৌধুরীকে তুমি ইগনোর করো। Have you any idea! কতো মেয়ে এই অরণ্যের জন্য পাগল। আর তুমি কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমার দিকে একটা বারও তাকালে না। অরণ্য চৌধুরী কারও অবহেলা পছন্দ করে না। আমাকে সবাই চায় আর তোমার মতো একটা তুচ্ছ মেয়ে কিনা আমাকে অবহেলা করো।
–আপনি কে? এভাবে আমার হাত চেপে ধরেছেন কেন? আমার হাতে ব্যথা লাগছে। ছাড়ুন আমাকে। নাহলে আমি চিতকার করব।
–তোমার এতো বড় সাহস আমাকে তুমি থ্রেট দিচ্ছ। তোমার কলেজ নির্মাতার একমাত্র ছেলে আমি। এখন তুমি বুঝতে পারছো Who i am! তোমাকে কলেজ থেকে বের করতে আমার এক মিনিটও লাগবে না। বুঝতে পারছো তুমি। আর কোনো কলেজেই যাতে তুমি পড়তে না পারো সেই ব্যবস্থাটাও আমি করব।
পাখি এবার কান্না করে দিল। এবং অরণ্যকে বলতে লাগল
–দয়া করে আমার এতো বড় ক্ষতি করবেন না স্যার। আমি খুব গরীব ঘরের একজন সাধারণ মেয়ে। আমার পড়াশোনাটা আপনি বন্ধ করবেন না। প্লিজ স্যার। আমি আসলে ছেলেদের দিকে তেমন তাকাই না। আমি ছেলেদের ভিষণ ভয় পাই। তাই আপনার দিকে ওই সময়ে তাকাই নি।
–কেন ছেলেরা বাঘ নাকি ভাল্লুক যে ভয় পাও?
–আমি জানি না স্যার। এমনি ভয় লাগে। আমার পড়াশোনাটা আটকাবেন না স্যার প্লিজ।
পাখির কান্নাটা অরণ্যের মনে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়ল। এবার অরণ্য পাখির দিকে ভালো করে কাছ থেকে লক্ষ্য করল। রাস্তার লেম পোস্টের আলো পাখির পুরো শরীরে মুখে পড়ছে। পাখিকে দেখতে অনেকটাই বাচ্চা টাইপের মেয়ে। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণের। উচ্চতা মনে হয় ৫ ফুট ২। চেহারাটা অনেক মায়াবী। চোখ দুটো বড়ো বড়ো টানা টানা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পোশাকটি পাখির পরণে। একটা গোলাপি কালারের থ্রি পিজ পরেছে পাখি। সব মিলিয়ে খুব কিউট একটা মেয়ে পাখি। অরণ্য পাখির এই বাচ্চাদের মতো কান্না দেখে নিজের রাগটা আর ধরে রাখতে পারল না। অরণ্য বলল
–ঠিক আছে। তোমার কলেজে পড়াশোনা করাটা আমি আটকাবো না।
— সত্যি স্যার! আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ স্যার।
— হুম৷ তবে তুমি এভাবে এতো রাতে একা একা রাস্তায় হাঁটছ কেন? তোমার বন্ধুরা কোথায়?
–আমাকে একা ফেলে চলে গেছে।
এবার অরণ্য পাখির হাতটা ধরে বলল
–আমি তোমাকে বাসায় পৌছে দিব। তুমি শুধু আমাকে তোমার বাসার রাস্তাটা চিনিয়ে দিবে।
–ঠিক আছে স্যার। আমার সাথে চলুন। এমনিতেও এভাবে একা একা রাস্তায় হাঁটতে আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম।
পাখি রাস্তায় লাফাতে লাফাতে হাঁটছে। একদম বাচ্চাদের মতো। আর অরণ্য তা দেখে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। রাস্তায় কুকুরদের চেচামেচি শুনে আর তার সাথে কুকুরদের দেখে পাখি ভয়ে অরণ্যর হাতটা শক্ত করে ধরল।
–কি হলো? এমন করছো কেন?
–আমি কুকুর দেখলে খুব ভয় পাই।
–ভিতু মেয়ে একটা।
–আমি ভিতু তা আমি জানি স্যার।
অরণ্য পাখির কথায় মুচকি হেসে দিল। অরণ্য সাধারণত সবসময় হাসে না কিন্তুু পাখির এই বোকা বোকা কথায় সে না হেসে পারল না।
–এটাই আমার বাসা স্যার। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
–ধন্যবাদ দেওয়ার লাগবে না। এমনিতেও আমাদের আবার দেখা হবে।
–মানে?
–বুঝবে না।

#বুকের ভিতর রাখবো তোকে?
#Part:03
#Writer: Doraemon(Ayesha)

অরণ্য চলে গেল। কিন্তুু পাখির মাথায় তো কিছুই ঢুকল না।
পরেরদিন সকালে পাখি কলেজে গেল। কলেজের বারান্দায় যাওয়ার পথে পাখিকে নিয়ে কিছু বখাটে ছেলেরা আলোচনা করছে যা পাখি কিছুটা হলেও শুনতে পায়।
–দোস্ত দেখ মালটা কিন্তুু সেই। একদম খাসা মাল।
–আরে হ্যা দোস্ত বডিটা তো পুরাই চিকনি চামেলি।
পাখির এসব কথা সহ্য হচ্ছে না তাই তাড়াতাড়ি ওখান থেকে চলে আসতে চাইল কিন্তুু পাখির সামনে তিনটি বখাটে ছেলে হুমড়ি খেয়ে দাড়ায়।
— এই যে চিকনি চামেলি কোথায় যাও। (১ম জন)
পাখি পাশ কেটে যাওয়ার সময় আরেকজন পথ আটকালো।
— এভাবে চলে যাচ্ছো কেন আমাদের একটু সময় দিয়ে তারপর যাও। (২য় জন)
পাখি আবার পাশ কেটে যেতে নিলে আরেকটা বখাটে ছেলে পাখির হাত ধরে ফেলে।
–আপনাদের সমস্যাটা কি? আমার হাত ধরছেন কেন? আমাকে যেতে দিন প্লিজ।
–যাবে আগে আমাদের একটু সময় দেও।
–আমি কিন্তুু এখন চিতকার করে লোক জড়ো করব। ভালোয় ভালোয় বলছি আমার হাতটা ছাড়ুন।
পাখিকে আর কোনো কথা না বলতে দিয়ে ছেলেরা পাখির সাথে অসভ্যতামু করতে চাইল। দুইটা ছেলে পাখির দুই হাত টেনে দেয়ালে চেপে ধরে। এবং সেই বখাটে ছেলের লিডার পাখি কাছে আসতে থাকে এমন সময়ই কেউ একজন ছেলেটার কলার ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেয়। হ্যা ছেলেটা আর কেউ নয় অরণ্য।
–স্যার আপনি এখানে? আমাকে ক্ষমা করে দিন স্যার।
–তোকে ক্ষমা করলে তো আমার নিজের প্রতিই অন্যায় করা হয়। আমার কলিজার দিকে তুই হাত বাড়িয়েছিস এর জন্য তো তোকে শাস্তি পেতেই হবে৷
অরণ্য ছেলেদের লিডারটাকে ইচ্ছে মতো পিটায় আর বাকি ছেলেগুলো পালাতে চাইলে তাদের ধরেও পিটায়। সবাই অরণ্যকে কিছু বলে নি বরং আরোও উৎসাহিত করে এদের পিটানোর জন্য৷ বখাটে ছেলেদের সবাই ভয় পায়। তাই কেউ প্রতিবাদ করতে পারে নি। কিন্তুু অরণ্য আজ ওদের ইচ্ছে মতো শায়েস্তা করল। আর ঐদিকে পাখি তো ভয়ে কাঁদছে। অরণ্য যদি আরেকটু দেরি করত তাহলে হয়তোবা তার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত। পাখি সবার সামনেই দৌড়ে এসে অরণ্যকে জড়িয়ে ধরে। অরণ্য এটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। অরণ্য রীতিমতো অবাক পাখির এই কান্ড দেখে। পাখি কাঁদতে কাঁদতে অরণ্যকে বলল
–স্যার আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আজকে যদি আপনি ঠিক সময় না আসতেন তাহলে বোধয় এই জানোয়ার গুলো আমার সাথে…পাখি আর বলতে পারল না। অরণ্যকে এখনও জড়িয়ে ধরে সে কেঁদেই যাচ্ছে। অরণ্য পাখির মাথায় হাত বুলাতে লাগল যা দেখে পাখি অরণ্যের দিকে কান্না জড়িত চোখে তাকাল
–পাগলী মেয়ে একটা। আমি থাকতে তোমার কিছু হবে না। আমি সবসময় তোমার পাশে থাকব।
পাখি কিছুটা অবাক হলো অরণ্যের এই কথা শোনে। এখন পাখির হুস ফিরল। পাখি যে অরণ্যকে জড়িয়ে ধরে আছে আর সবাই যে তাদের দেখছে পাখি বুঝতে পারল। পাখি লজ্জায় মুহূর্তেই অরণ্যকে ছেড়ে দিয়ে কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়াল। অরণ্য হেডস্যারকে উদ্দেশ্য করে বলল
–এই ছেলেগুলোকে যাতে এই কলেজে আমি নেক্সট টাইম না দেখি। এদের আজকেই বহিষ্কার করে দিবেন। It’s my order.
–জী স্যার আপনার কথা কি আমরা ফেলতে পারি। এখনি আমরা এই ছেলেদের কলেজ থেকে বিদায় করব।
অরণ্য এবার পাখিকে বলল
–পাখি তুমি তোমার ক্লাসে যাও।
–জী স্যার।
পাখি ক্লাসে যেতে যেতে ভাবতে লাগল
–আমি তো স্যারকে আমার নামটাও বলি নি । স্যার আমার নাম জানল কি করে! কি জানি কিছুই বুঝলাম না।



রাত ১১ টা। অরণ্য বেডরুমের বিছানায় শুয়ে আছে আর মনে মনে পাখির কথা ভাবছে।
–এই বোকা মেয়েটার মধ্যে কি আছে যে আমাকে বার বার ওর কাছেই টানে!
অরণ্য পাখির পুরো ডিটেইলস নিয়ে সাথে এক হাতে পাখির ছবি নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে পাখির ছবির দিকে তাকিয়ে আছে।
অপরদিকে পাখি রান্না করছে আর অরণ্যের কথা ভাবছে।
–সত্যি স্যার আপনি খুব ভালো। প্রথমে আপনাকে ভুল বুঝলেও আমি এখন বুঝতে পারছি আপনি উপর দিক দিয়ে রাগী হলেও ভিতর দিকে ততটাই নরম। আরে! আমি স্যারের কথা এতো ভাবছি কেন! না না না.. বড়লোকদের কথা বেশী ভাবতে নেই। ওদের চেনা বড়ই মুশকিল। যেকোনো সময়ই খোলস পাল্টায়৷
এদিকে পাখির মা এসে দেখে পাখি রান্না সব পুড়িয়ে ফেলছে।
–ও পাখি তুই কি করছিস? রান্নাটা পুড়ে গেল রে।
–কি বলছো মা তুমি!
পাখি দেখল হ্যা সত্যি রান্নাটা পুড়ে গেছে৷
— এখন কি করবি?
–আমি রান্না আবার বানাচ্ছি মা। তুমি যাও গিয়ে বাবার ঔষধ দাও৷ আচ্ছা মা ফুলি কি করছে?
–ও তো পড়ছে।
–ওহ। মা তুমি যাও আমি রান্নাটা করে আসছি।
পরেরদিন পাখি কলেজ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলো আর এমন সময় পাখির ফোনটা বেজে উঠল। পাখি দেখল একটা অচেনা নাম্বার থেকে কেউ ফোন করেছে।
#চলবে?