বৃষ্টিতে ভেজা সেই রাত পর্ব-১৫

0
918

বৃষ্টিতে ভেজা সেই রাত
লেখকঃ আবু সাঈদ সরকার
পর্বঃ ১৫

সাঈদঃ তোমার সাথে এখন যা করবো তা কল্পনাও করতে পারবি না কারণ এবারের শাস্তি টা অনেক ভয়ানক হতে চলেছে..

তামান্নাঃ কথাটা শুনেই বুকটা ধড়ফড় করতে লাগলো কী করতে চলেছে সাঈদ আমার সাথে…
ভাবতেই ভয় লাগছে এত বড় সর্বনাশ করার পরো আমার উপর আরো প্রতিশোধ নিবে..


সাঈদঃ তামান্নার ফোনটা নিয়ে তার ফেসবুক আইডিতে তার নেড়া মাথার ছবি আপলোড করলাম সাথে স্ট্যাটাশ দিলাম চুল গুলো বড়ো বার গেছিলো আমার কথা শুনেই না তাই আজ নাপিতের কাছে নেড়া করে নিলাম কেমন লাগছে আমায় বন্ধুরা..


বা বা পোস্টটা আপলোড করার সাথে সাথে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার শুরু হয়ে গেছে বিদ্যুৎ এর গতিতে…


তামান্নাঃ এই মুখটা আমি আর কাউকে দেখাতে পারবো সবাই আমাকে দেখলে হাসবে..


সাঈদঃ তামান্নার পোস্টে তার এক ফ্রেন্ড কমেন্ট করছে বাহ দোস্ত তোকে তো সানি লিওনের মতো দেখাচ্ছে…

আমিও শয়তানি করে রিপলাই দিলাম..
কী করবো বল যুগটাই যে এমন..


তামান্নাঃ আপনারা কাজটা ভালো করলেন না আমি আপনাদের ছাড়বো না

সাঈদঃ তোমার মতো কত এলে গেলো তাও কিছু করতে পারে নি আর এই মেয়ে নাকি আমাদের ছাড়বে না হা হা

সাঈদঃ তার পর তামান্নাকে ছেড়ে দিলাম ..

বেচারা নিজের মান সম্মান বাচাতে তাড়াতাড়ি ফেসবুক থেকে ছবি গুলো ডিলেট করে ফেললো… কিন্তু আফসোস তার ছবি গুলো ততক্ষণে ১ হাজার শেয়ার হয়ে গেছিলো তার সব বন্ধুদের কাছে এই পিক গুলো রয়েছে…


তামান্নাঃ এর প্রতিশোধ আমি নিবোই তাতে যে বাধা দিতে আসবে তাকেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে…


সাঈদঃ রাজুকে ১ লাখ টাকা দিয়ে দিলাম..

রাজুঃ দরকার লাগলে ফোনটা করবি শুধু বাকি কাজটা আমি করে দেবো..

সাঈদঃ ওকে এখন তাহলে আসি…


তার পর বাসায় ফিরে আসলাম…

আদ্রিতাঃ আপনি এত সকাল সকাল কোথায় গেছিলেন হুম ঘুম থেকে উঠে দেখি আপনি বিছানায় নেই…


সাঈদঃ কীভাবে বলবো বলো আজ সকাল বেলা যা একটা মুভি দেখলাম না তা বার বার দেখতে মন চাচ্ছে..

আদ্রিতাঃ আপনার জন্য এত সকাল বেলা কে থিয়েটার খুলে রাখছে হুম…

সাঈদঃ জানতাম বিশ্বাস করবে না তাই ভিডিওটা নিয়ে এসেছে এই দেখো..


আদ্রিতাঃ আল্লাহ এটা তো তামান্না আপু।
তামান্না আপু কেনো মাথাটা এভাবে নেড়া করলো…


সাঈদঃ তামান্না আপু মানে তুমি এই শয়তান মেয়েটাকে চিনো…


আদ্রিতাঃ হুম আম্মুকে ডাকতে প্রায় আমাদের বাসায় আসতো. কিন্তু তামান্না আপু একদমি ভালো না খুব অহংকারী ছিলো..


সাঈদঃ আজ সব অহংকার মাটিতে মিশে গেলো

আদ্রিতাঃ এই কাগজটা যায় করছে তাকে তো একটা নোবেল দেওয়া দরকার তাই না..

সাঈদঃ হুম তবে নোবেল না দিলেও মন থেকে দোয়া দাও যাতে পরবর্তীতে আরো এর থেকে ভয়ানক শাস্তি দেয়…


আদ্রিতাঃ হুম…

সাঈদঃ এখন আমাকে আবার অফিসে যেতে হবে তাড়াতাড়ি নাস্তা রেডি করো..

আদ্রিতাঃ আচ্ছা..

সাঈদঃ এর পর ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে অফিসের উদ্দেশ্য বেড়িয়ে পড়লাম..
হঠাৎ রাস্তায় মা কে দেখতে পেলাম..


মা শরীরটা আগের থেকে অনেকটাই শুকিয়ে গেছে কিন্তু মা এখানে কী করছে যাই তো গিয়ে দেখি গাড়ি থেকে নিচে নেমে একটু আড়ালে দাড়িয়ে পড়লাম যাতে আমাকে দেখতে না পায়…


মাঃ আপনি কী বলছেন এসব টাকা নেই মানে..

ব্যাংক অফিসারঃ দেখুন ম্যাডাম আপনার একাউন্টে যত টাকা ছিলো সব তো শেষ হয়ে গেছে এখন মাএ ১০০ টাকা রয়েছে..

মাঃ এই একশত টাকাই দিন খুব অভাবে মধ্যে রয়েছে ঔষধ কিনার মতো টাকা নেই..

সাঈদঃ ইসস এতটা কষ্টে মা রয়েছে আমাকে একবার বলতে তো পরতো…

সেখান থেকে অফিসে চলে আসলাম…

অফিসে এসে..

সাঈদঃ আকাশ…

আকাশঃ স্যার আমায় ডেকেছিলেন..

সাঈদঃ হুম এই নাও ১ কোটি টাকার চেক এটা আমায় বাসায় গিয়ে আম্মুকে দিবে আরেকটা কথা আমি যে এই টাকা গুলো দিচ্ছি সেটা আম্মুকে বলবে না বলবে আব্বুর একাউন্টে টাকা গুলো পড়েছিলো সে দিতে গেছো…


আকাশঃ ওকে স্যার
তার কর স্যার বাসায় গিয়ে কলিং বেলটা বাজাতে স্যার এর মা দরজাটা খুলে দিতে..


মাঃ কে আপনি..

আকাশঃ জ্বী আমি সোনালী ব্যাংক থেকে আসছি..

মাঃ কেনো..

আকাশঃ আপনার স্বামীর ব্যাংক একাউন্টে এক কোটি টাকা ছিলো কিন্তু ওনি মারা যাওয়ার পর থেকে তো একাউন্ট টা পড়ে রয়েছিলো তাই টাকা গুলো দিতে এসেছি পকেট থেকে এক কোটির টাকার চেকটা ওনার হাতে দিয়ে দিলাম..


আকাশঃ আমি তাহলে আসি এখন বলেই সেখান থেকে চলে আসলাম..


মাঃ এই টাকা গুলো পেয়ে খুব উপকার হলো না হলে তো না খেয়েই মরে যেতাম তবে আমার মন বলছে এই টাকা গুলো সাঈদ দিয়েছে যখনি চেকটা খুললাম তখনি ওর সাক্ষর দেখতে পেলাম…


সাঈদঃ আরে একটা ভুল হয়ে গেছে ওই চেকের পাতায় তো আমার সাইন করা আছে..

মাঃ আমার জন্যই এতটা দুরে চলে গেছে আমার ছেলেটা আজ বুঝতে পারছি আপন জনকে হারানোর কষ্ট টা কতটা ভয়ানক আর কত কষ্টের আচ্ছা আমার ছেলেটা কী কখনো আমায় আর মা বলে.
ডাকবে না..


সাঈদঃ অফিসে বসে ছিলাম তখনি রহিম চাচা এসে বলেন একটা ছেলে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি আমি ছেলেটাকে আমার রুমে পাঠিয়ে দিতে বললাম কিছু খন পরেই আরে এটা কালকের ছেলেটা..


ছেলেটাঃ স্যার আসবো…

সাঈদঃ হুম বসো..

ছেলেটাঃ স্যার এই চেয়ারে বসার আমার যোগ্যতা হয় নি..

সাঈদঃ ধুর বেশি কথা না বলে বসো তা তোমার নাম কী..

ছেলেটাঃ মা আমায় আদর করে নিশান বলে..


সাঈদঃ ও তা নিশান তুমি কোন ক্লাস পযন্ত পড় লেখা করছো..

নিশানঃ স্যার ক্লাস সেভেন তার পর পড়া হয় নি..

সাঈদঃ ও তা তুমি গাড়ি ধুতে পারো তো নাকি..

নিশানঃ হুম পারি..

সাঈদঃ তাহলে তোমাকে এই কাজে এপারমেন্ট করলাম রোজ বিকালে এসে অফিসের স্টাফদের গাড়ি গুলো ধুয়ে চলে যাবে..


নিশানঃ স্যার সকালে দিলে হয় না..

সাঈদঃ না সকাল বেলা রোজ স্কুলে যাবে আজ তোমাকে একটা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিবো স্কুল থেকে এসে খেয়ে কাজে চলে আসবা…

নিশানঃ সত্যি স্যার আমি আবার স্কুলে যাবো..

সাঈদঃ হুম এই নাও ১৫ হাজার টাকা তোমার বেতন এটা অগ্ররিক এক মাসের দিয়ে দিলাম….

এবার চলো স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়..

এর পর নিশানকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলাম সাথে কিছু কাপড় ও কিনে দিলাম তখন ছেলেটার চোখে মুখে একটা আনন্দের হাসি এসেছিলো তা দেখে খুবই ভালো লাগেছিলো..


এর পর নিশান কে বিদাই দিয়ে আদ্রিতার জন্য কয়েকটা ড্রেস কিনে নিলাম..

অপর দিকে…

তামান্নাঃ সাঈদ অনেক হয়েছে এবার তোকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে তোকে মরতে হবে……


সাঈদঃ শপিং মল থেকে বেড়িয়ে বাসায় আসতেছিলাম তখন হঠাৎ পিছন থেকে একটা বড় ট্রাক এসে আমার গাড়িতে ধাক্কা মারলো…

সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটা ছিটকে রাস্তার পাশের জঙ্গলে পড়ে গেলো আমার এর পর যা হলো তা হয়তো কেউ কল্পনাও করে নি…

চলবে…