বৃষ্টিতে ভেজা সেই রাত পর্ব-০৭

0
1150

বৃষ্টিতে ভেজা সেই রাত
লেখকঃ আবু সাঈদ সরকার
পর্বঃ ৭

পিছন থেকে আমি তোমাকে অনেক ভালো বাসি সাঈদ বিয়ে করবে আমায়…
.


সাঈদঃ কন্ঠটা বেশ চেনা জানা মনে হচ্ছে এর আগে অনেক বার এই কন্ঠটা শুনেছি পিছনে তাকাতেই দেখলাম এ কি এ তো সেই মেয়ে যে আমার অফিসে কাজ করে…


সাঈদঃ এই মেয়ে তোর সাহস হলো কী করে আমাকে কথাটা বলার…


মেয়েটাঃ ভালোবাসালে ভয় কীসের আমি আপনাকে ভালোবাসি সেটা বলতে লজ্জা কীসের ..


সাঈদঃ আপনার তো সাহস কম না আপনি আপনার অফিসের বসকে এই কথা বলছেন…


মেয়েটাঃ এটা আপনার অফিস না যে ভয় পাবো…

সাঈদঃ ওকে কাল অফিসে এর একটা কিছু হবে…


মেয়েটাঃ এই রে কাজ সারছে খুব জোর গলায় তো কথাটা বললাম যদি কাল চাকরি থেকে বেড় করে দেয় তখন…


মেয়েটাঃ সরি স্যার ভুল হয়ে গেছে না জেনে বলে ফেলেছি আপনি নিশ্চয়ই অন্য কাউকে ভালোবাসেন…


সাঈদঃ হুম ওই যে ওখানে দাঁড়িয়ে আছে আদ্রিতার দিকে দেখিয়ে দিয়ে..


আদ্রিতাঃ ওই মেয়েটা যখন ওই কথাটা বলেছিলো মনে হচ্ছিলো একটা ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দিয় গালে কিন্তু ওনি আমার দিকে কী দেখিয়ে দিচ্ছেন আঙ্গুল দিয়ে..


সাঈদঃ নেক্সট টাইম যদি এই রকমের কোনো বিহেব করো.. তাহলে আমি কী করতে পারি সেটা তো জানোই বলে সেখান থেকে চলে আসতেছিলাম তখনি৷


মেয়েটাঃ স্যার এক মিনিট ওই মেয়েটাকে যদি আপনি ভালোবাসেন তাহলে এই মেয়েটা কে…
তামান্নাকে দেখিয়ে দিয়ে …


সাঈদঃ আমি চিনি না এই মেয়েকে কে এই মেয়ে ..


স্যার ওই ম্যাম এ তো বললো আপনাক এই কথাটা বলতে ওনার সাথে আপনার বলে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে পরশু বিয়ে…


সাঈদঃ সব মিথ্যা কথা ( এই তামান্না মেয়েটার কিছু একটা করতে হবে)


মেয়েটাঃ সরি স্যার ওনার কথা অনুযায়ী আমি আপনাকে এই কথা বলেছি…


সাঈদঃ its ok..


তার পর আমি আদ্রিতার কাছে চলে আসলাম.


আদ্রিতাঃ কী বলতেছিলো মেয়েটা আপনাকে…


সাঈদঃ কিছু না…


তার পর যথা নিয়মে বিয়েটা শেষ হয়ে গেলো সবাই বাড়িতে ফিরলো আর আমরাও অনেক রাত হয়ে গেছে…


হোটেল থেকে খাবার খেয়ে এসেছি …

এভাবে প্রায় কিছু দিন কেটে গেলো….
.


মাঃ অনেক দিন তো হলো ছেলেটার কথা খুব মনে পড়ছে যতই হোক না কেনো আমি তার জন্ম দাতা মা…


আচ্ছা সাঈদ কী সত্যি খারাপ হয়ে গেছে নাকি আমার চোখে খারাপ বানানোর জন্য সব চক্রনাতো…


হঠাৎ সেদিনের কথা মনে পড়ে গেলো
আমি সে দিন টার কথা বলছি যে দিন ওই অচেনা নাম্বার টা থেকে কল এসেছিলো…


আচ্ছা সে কীভাবে জানালো সাঈদ পতিতালয়ে যায় তাহলে সে নিশ্চয়ই পতিতালয়ে থাকে তাই আবারো সেই নাম্বারে ফোন করলাম ঔই পাশ থেকে ফোনটা ধরতে অনেকটাই অবাক হয়ে গেলাম কেনো এটা তো তামান্না…


তামান্নাঃ আমার ফোনে দুইটা সিম আছে আন্টি যে সিম ২ এ ফোন দিচ্ছিলো সেটা বুঝতে পারি নি….
তাই হ্যালো আন্টি কেমন আছেন..


মাঃ কে তামান্না…


তামান্নাঃ জ্বী আন্টি…


মাঃ এইটা তো তামান্না…
তাহলে তামান্না জানলো কীভাবে যে সাঈদ পতিতা লয়ে যায় আর সে মেয়েটার কথা তাহলে তো তামান্না ও পতিতা লয়ে যায়…


এ কথাটা আগে কেনো মাথায় আসে নি…..


মাথাটা কিছুই কাজ করছে না অন্যর কথা শুনে নিজের ছেলেকে সন্দেহ করলাম আর কখনো জানতেও চাইলাম যে কে সেই মেয়েটা….


তার পর তামান্নার সম্পর্কে খোঁজ নিতে থাকলাম আর সে মেয়েটা সম্পর্কেও এর পর যেটা জানতে পারলাম তা শুনে তো নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছি না আমি এক জন মা হয়ে কীভাবে এই কাজ গুলো করতে পারলাম…


তামান্নাই সে মেয়ে যে কী না সেই বৃষ্টির রাতে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার ছেলেটাকে তার বাবার কাছে অপরাধী বানিয়েছিলো আর আমি কী না সে মেয়েটার সাথে ওর বিয়ে দেওয়া জন্য একটা নিরহ মেয়ের প্রাণ নিতে চাইছিলাম এটা তো সেই মেয়ে যে ওই রাতে তাকে তার বাসায় নিয়ে গেছিলো যার জন্য সাঈদ এই পৃথিবীতে বেচে আছে আমি কী না সেই মেয়েকে মিথ্যা অপবাদ দিলাম ছিঃ নিজের উপর ঘৃণা লাগছে….



সাঈদঃ আদ্রিতা….


আদ্রিতাঃ হুম বলেন…


সাঈদঃ আজ কী ভাত রান্না করবা নাকি হোটল থেকে খেয়ে নেবো…

আদ্রিতাঃ না না হোটেল থেকে রোজ রোজ খাবার খেলে পেট খারাপ করবে এক কাজ করি আমি রান্নাটা করে নিচ্ছি…


সাঈদঃ তুমি রান্না করতে জানো


আদ্রিতাঃ হুম কিছু টা তবে ভালো হবে কী তা জানি না.


সাঈদঃ আচ্ছা যেমনি হোক না কেনো আমার সমস্যা নেই


আদ্রিতাঃ আচ্ছা এই বাসায় তো কোথাও মাটির চুলো দেখতে পাচ্ছি না তাহলে কীভাবে রান্না করবো


সাঈদঃ শহরে কেউ মাটির চুলো ব্যবহার করে না সবাই গ্যাস চুলো ব্যবহার করে..


আদ্রিতাঃ গ্যাস চুলো আবার কী রকম…


সাঈদঃ রান্না ঘরে চলো সব শিখিয়ে দিচ্ছি..


আদ্রিতাঃ হুম
তার পর ওনি সহ রান্না ঘরে গেলাম…


সাঈদঃ এটা হচ্ছে গ্যাস চুলো এটা এভাবে ঘুরিয়ে দাও বাশ আগুন বেড় হতে শুরু করলো…

আদ্রিতাঃ ওয়াও এই আগুন টা কোথা থেকে আসতেছে…


সাঈদঃ আকাশ থেকে এবার তুমি রান্না করো আমি এখানেই বসে আছি…


কিছু খনের মধ্যে আদ্রিতা যে কী রান্না করলো আল্লাই জানে…


আদ্রিতাঃ খাবার রেডি আপনি খেয়ে অফিস যান…


সাঈদঃ হুম আসতেছি..
খাবার টেবিলে
এইটা কীসের তরকারি..


আদ্রিতাঃ তেলাপোকার ( মজা করলাম)


সাঈদঃ ওমা তাই এটা তো ডিম ভাজি মনে হচ্ছে বা বা সট কাট রান্না…


আদ্রিতাঃ হুম….


এর পর মেয়েটাকে খাইয়ে দিয়ে আমিও খেয়ে অফিসে চলে আসলাম..


না এভাবে আর কতো দিন চলবে আজ সব মনের কথা আদ্রিতাকে খুলে বলবো…


রাতের বেলা…


সাঈদঃ একটা কথা বলার ছিলো…


আদ্রিতাঃ জ্বী বলুন..


সাঈদঃ দেখো আদ্রিতা জানি না তুমি কথা শুনে কেমন রিয়েকট করবে কিন্তু এটাই সত্যি যে আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালো বাসি…


আদ্রিতাঃ কী বলেন…


সাঈদঃ যেটা বললাম আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি যে দিন তোমায় প্রথম দেখেছিলাম সেদিনে ভালোবেসে ফেলেছিলাম কিন্তু মুখ ফুটে বলার সাহস হয় নি …


আমি তোমার সৌন্দর্য কে নয় তোমার ভিতরে যে একটা সুন্দর মন রয়েছে সেটাকে ভালোবাসি…


রুপ যৌবন তো আজীবন থাকবে না…


তুমি ভালোবাসো না আমায়..


আদ্রিতাঃ ওনি এই কথা গুলো বলবেন তা কোন দিনও ভাবতে পারি নি সত্যি কথা বলতে আমিও ওনাকে খুব ভালোবাসি….

ভালোবাসলেও তো ভালোবাসার মানুষকে পাওয়া যায় না কেনো না আমি তার কাছে আশ্রিয়তা….



সাঈদঃ কী হলো কিছু বলছো না কেনো…


আদ্রিতাঃ পারবো না আমি বিয়ে করতে আপনাকে কেনো না আমার কোনো পরিচয় নেই তার চেয়ে বড় কথা আমি আপনার কাছে একজন আশ্রিয়তা…


সাঈদঃ সত্যি আমার জন্য তোমার মনে এতটুকু কোনো ফিলিংস নেই ..


আদ্রিতাঃ না কারণ আমি কখনো সে চোখে আপনাকে দেখেনি…
কথাটা বলতে বলতে হঠাৎ মাথাটা ঘুড়ে মাটিতে পড়ে গেলাম…


চলবে