বেয়াইনের প্রেম পর্ব_০৪

0
641

#বেয়াইনের_প্রেম
পর্ব_০৪
লেখাঃনীল মাহমুদ (পিচ্চি পোলা)

তোমার মত খাটাস মার্কা ছেলের প্রেমে পড়বো আমি?? কোনদিনই না হুহহহ

প্রেম তো দুদিনের হয়,, ভালোবাসা টা সারাজীবনের,, যাক তোমার বুদ্ধি আছে এটা ভালো একটা গুন,, তুমি যে আমাকে সারাজীবন ভালোবাসতে চাও শুনে ভালো
লাগলো বেয়াইন

ওরে শয়তান ছেলে,, ভাগো এখান থেকে এক্ষুনি

আরে যাচ্ছি যাচ্ছি এত রাগের কি আছে শুনি

না গেলে কিন্তু আপু ভাইয়াকে ডেকে বকা খাওয়াবো

তাই নাকি?? তাহলে তো যাবই না,, ডাকো ডাকো ভাই ভাবীকে দেখি কে কি বলে আমাকে??

আপপপপু,, ভাইইইইয়া

হুম ডাকো ডাকো

ভাবী এসে জিজ্ঞেস করলো,,,

কি রে ডাকছিস কেন

তিশা কিছু বলার আগেই আমি ফ্লোরে বসে এমন একটা ভাব করলাম যেন খুব বেথা পাইছি,,

উফফফ ভাবী প্লিজ আমাকে ধরে উঠাও,,, ও মা গো,,,

আরে নীল কি হইছে তোমার

আর বলো না তোমার ডাইনি বোন আমাকে আবার…..

থাক বলতে হবে না বুঝেছি,,,,
ওই পিচ্চি শয়তান কি পেয়েছিস আমার আদরের দেবরকে হ্যা একের পর এক মেরেই যাচ্ছিস,, একটা মাইর দিব যদি আবার নীলকে কিছু করিস

আপু বিশ্বাস করো আমি কিছুই করিনি তোমার ঐ শয়তান দেবরকে ও এমনি এমনি বলছে

চুপপপপপ একটা কথা বলবি না আর,,, দেখ তো কিভাবে পড়ে বেথা পাইছে

আমি আরো তোমাকে ডাকছি ওর নামে……

থাক হইছে,,, আর যদি ওর পিছনে লাগছিস তবে তোর খবর আছে,,,
নীল আসো আমার সাথে,,,

চলো ভাবি তোমার এই দজ্জাল বোন আমাকে মেরেই ফেলবে

আমি তিশার দিকে শয়তানি হাসি দিয়ে চোখ মারছি,,, আর তিশাও হাতের ইশারায় বুঝাচ্ছে আমাকে গলা টিপে মারবে।

ভাবীর সাথে রুম পার করেই ওনাকে ভাইয়ার রুমে পাঠিয়ে আবার দৌড়ে এলাম তিশার রুমে,, এখনো রাগে কটকট করছে,, আমি পিছনে থেকে জড়িয়ে ধরে মুখে হাত দিয়ে চেপে ঘাড়ে কিস করতে করতে কানের কাছে আস্তে করে বললাম,,

ডাইনি মেয়ে তোমার ঘুম আমি হারাম করবই,, তারপর তিশাকে ঘুরিয়ে ওর গোলাপি ঠোটের স্বাদটা আবার নিলাম,,, তারপর বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে চলে এলাম,,,

চলে গেলাম আম্মুর কাছে,,

আম্মু একটা কথা বলব,, রাখবা??

কি কথা

বলছি যে আমাদের সাথে তিশাকেও নিয়ে যাবা বেড়াতে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে

আচ্ছা এই বেপার?? হটাত এত টান বাড়লো যে ওর জন্য

না এমনি

দেখি বলে দেখব

না না কথা দাও

আচ্ছা আচ্ছা

খুশিতে নাচতে নাচতে চলে গেলাম ভাবীর কাছে,,

ভাবী একটা কথা বলব

হুমম বলো

কাল সকালে বাড়ি যাবা তো

হুমম

কে কে যাবা

কেন আমাদের সাথে শুধু তিশা যাবে, ও থাকবে কিছু দিন

কি বললে?? সত্যি??

হুমম কেন

না গো এমনি,, ভালোই হবে

হুমম এবার খাবার টেবিলে চলো

ওকে

মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির খবরটা পেয়ে আনন্দে আমার যায় যায় অবস্থা,,, এবার ভালো করে টাইট দিতে পারব তিশাকে।

টেবিলে বসতেই তিশা আমার বিপরীতে বসলো আমার দিকে রাগ নিয়ে তাকিয়ে আছে। খাবার খেতে শুরু করে তিশার পায়ে স্লাইড করছি,, তাতে তার চেহারাটা দেখার মত ছিল। অসাধারণ সৃষ্টি,,,,,

বেশ মাখো মাখো বেপারটা,,, আজ দুটো কিসেই তিশার ঘুম হারাম হবে কাল থেকে আরো ডোজ বাড়াবো

খাবার শেষ করে রুমে গেলাম শোবার জন্য,,, দরজা আটকানোর প্রয়োজন মনে করলাম না,,, রাত তখন ১২ টার কাছাকাছি হবে,, সবাই ঘুমে বিভোর,, হটাত জানালায় কারো উপস্থিতি টের পেলাম,, তারপর পা টিপে টিপে রুমেও প্রবেশ করলো, আমি চুপ করে আছি কিছু টা ভয় পেলেও বাইরের কেউ হবে বলে মনে হচ্ছে না।

হটাতই একটা টর্চ জালিয়ে আমার চোখে ধরে রেখেছে আমি আর কিছু ই দেখতে পাচ্ছি না।

এই কে রে??
কোন কথা না বলে এক জগ পানি ঢেলে দিলো আমার ওপর আমি লাফিয়ে উঠলাম,,, আচমকা পানি লাগাতে এবার একটু হকচকিয়ে গেছি। চিল্লিয়ে ডাক ছাড়লাম
চোখ বন্ধ করে,,,, কিছু সময় পর ভাবী আর তিশা এলো,, সবার কাচা ঘুমের চোখ,,,, কিন্তু তিশার চেহারা দেখে বুঝা যাচ্ছে তার ঘুমন্ত চেহারা না। আর সেই আগে এসে জিজ্ঞেস করলো

কি হলো বেয়াই এত রাতে কি হইছে তোমার এভাবে চিল্লাচ্ছো কেন,,, হাম ছেড়ে বললো

আমি আর কি বলব,,, দুজনই আমার এ অবস্থা দেখে ওরা এমনি লজ্জিত তবে কে করলো এটা নিয়ে চিন্তিত।

আমি আর ভাবী দুজনেই বুঝলাম কাজ টা আর কেউ নয় ডাইনি তিশাই করেছে।।

শুধু বললাম শোধ আমিও নিব।।

তারপর অন্য একটা রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম।। রাতটুকু শুধু প্ল্যান করতে করতেই কাটলো। সকালে সবাই খাওয়া দাওয়া করে বেরিয়ে পড়লাম।

আজ তিশার সাজুগুজু দেখে মন চাচ্ছিলো বউ বলে জড়িয়ে ধরি। খুব সুন্দর লাগছে। সাদা জামা তারওপর লাল লিপস্টিক ঠোঁটের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে সাথে কাজল কালো চোখ। কিলার লুক।

গাড়ি চালাবো না লুকিং গ্লাসে ওকে দেখব বুঝতেছি না।
অনেক মায়ার বাধা পেরিয়ে বাড়িতে এলাম। কিন্তু তারপরই আমি বেরিয়ে গেলাম বাসা থেকে। দুপুরের পর বাসায় ফিরে দেখি ডাইনিটা আমার রুমে গিয়ে আমার ডায়েরী, টেবিল, আমার সাজানো সবকিছু খুঁটে খুঁটে দেখছে। কি আজিব

ওই ডাইনি আমার রুমে কি

আআআআউ,,, ককককইইই কিকিকিছু নাতো

তাহলে এখানে কি করছো শুনি,, অনুমতি ছাড়া কারো পারসোনাল জিনিস দেখতে নাই এটা জানো না??

উউউহহহহহ,,,, যে না পারসোনাল জিনিস তার আবার অনুমতি যতসব। বেশি কথা বললে সব ভেঙে চুরে চলে যাবো

আচ্ছা তাই নাকি?? এখন কিন্তু তুমি আর তোমার বাসায় নেই আমার বাসায় আছো,,, তাই আমার কথা মতই তোমাকে চলতে হবে

এবার তিশার মনে ভয় ঢুকলো,, সত্যি ই তো এখন তো চাইলেও সবকিছু করতে পারবে না।

আর আমিও এই ভয়টাই কাজে লাগাবো তিশাকে টাইট দিতে…..

#চলবে