ভাবির জমজ বোন Part-10+11

0
386

গল্প – ভাবির জমজ বোন
part – 10 /১১
RJ MOSTAKIM ???

নীলা নীলা সাথে সাথে দৌড়ে চলে গেল।
আমি এটা কি করলাম নিজেই বুঝতে পারছি। ঝড়ের মতো এক নিমিষের মাঝে হয়ে গেল।
মনডাই খারাপ হয়ে গেল। এমন আমি কেমন করে করলাম। এই ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়েছি..
সকাল বেলা ওই আপদ টা আবার এসে আমার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিলো…
নীলা – ওই উঠেন অনেক সকাল হয়ে গেছে..
আমি – ওই কি সমস্যা আপনার এই সকাল সকাল এই চিল্লাচিল্লি কিসের..
নীলা – ওই আমি চিল্লা করছি কখন আমি তো সুধু আপনাকে ঘুম থেকে উঠানোর চেস্টা করছি ভার্সিটি যেতে হবে তাই…
আমি – আমি আপনারে বলছি নাকি যে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে দিবেন…
নীলা – বলেন নাই তবে বিয়ের পর তো আমাকেই ডেকে দিতে হবে তাই না। তাই আগে থেকেই অভ্যাস করছি…
আমি – বিয়ে মানে কার হুম..??
নীলা – আমার আর তোমার..
আমি – আমারে পাগলা কুত্তাই কামড়াইছে তাই আপনার মতো মেয়ে কে বিয়ে করবো…। আমি তো বিয়ে করবো একদম পরীর মতো বউ…
নীলা – কেন আমি দেখতে খারাপ নাকি…??
আমি – কেন আপনি মনে করেন আপনি বিশ্ব সুন্দরী। একবার ভালো করে আয়নাই দেখেন নিজেকে কেমন দেখাই একদমি বাজে চেহারা এই টা কোন চেহারা হল নাকি…

নীলার মুখটা একদম কালো হয়ে গেল চোখে পানি টলমল করছে যখন তখন বৃস্টি হতে পারে…

আমার মনে মনে খুশি লাগতেছে আমারে যেমনে অপমান করেছে তার একটু প্রতিশোধ নিতে পেরে..

আমি আর কিছু না বলে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি নীলা সেখানেই দাঁড়িয়ে কাদঁতেছে
আমি – কি হল আপনি এখনো এখানে দাঁড়িয়ে কাদঁতেছেন যান গিয়ে রেডি হন…
নীলা – একটা কথা বলবো..???
আমি – আবার কি কথা…
নীলা – শেষবার এর মতো বলবো তারপর আর কিছু বলবো না…
আমি – কি বলেন…
নীলা – সত্যি কি আমি দেখতে অনেক খারাপ…
আমি – খালি খারাপ অনেক খারাপ
নীলা – ওও ভালো ঠিক আছে। আপনাকে অনেক জ্বলাইছি এর জন্য ক্ষমা করে দিবেন। আর কখনো আপনাকে এইভাবে জ্বলাবো না….
আমি – কেন করবেন..??
নীলা – আপনার না জানলেও চলবে….

বলেই চলে…

এইমেয়ের আবার কি হলো। হঠাং করে এমন আচারণ করলো…
আবার উল্টা পাল্টা কিছু করবে নাতো..

আমি আর কিছু না ভেবে তাড়াতাড়ি নীলার পিছন পিছন গেলাম। গিয়ে দেখি রুমে বসে বসে কাদতেছে…

আমার মনে অনেক খুশি লাগতেছে মন তাইতেছে লুঙ্গী ড্যান্স দিতে। যাক আমাকে যে অপমান আর জ্বালাইছে তার প্রতিশোধ টা ভালোই নিছি।

খুশি মনে তাড়াতাড়ি কলেজের জন্য রেডি হলাম…
রেডি হয়ে এসে নীলার জন্য দাঁড়ালাম। অনেক ক্ষন হয়ে গেল আসতেছে না..
আমি – ভাবি তুমার বোন যাবে না নাকি দেরি হয়ে যাচ্ছে তো..??
ভাবি – আমি দেখতেছি…
নীলা এই নীলা
ভার্সিটি যাবি না নাকি….??
নীলা – না আমি যাবো না…
ভাবি – যাবি না মানে সকালেই তো পাগল করে ফেলছিলি যাওয়ার জন্য। বলছিলি তামজিদ কে ডেকে দেওয়ার জন্য এখন আবার কি হল..??
নীলা – আমার ভালো লাগছে না তাই যাবো না…
আমি – দূর যাবে না আগে বললেই তো হত এতো সময় আমাকে দেরি করানোর কোন মানে হয় নাকি…
একটু রাগ করে চলে আসলাম। খুশি মনেই গেলাম কিন্ত আসতে আসতে কেন জানি মন খারাপ হতে থাকলো। কেন জানি নিলার জন্য মন খারাপ হচ্ছে…
ওই ভাবে বলাটা উচিত হয়নি। সে নাহয় না বুঝে একটা ভুল করছে কিন্তু আমি কি করলাম সব কিছু বুঝে শুনেই এমন কেন করলাম… কিছুতেই আর মন ভালো করতে পারলাম না অবশেষ এ বাসায় ফিরে আসলাম…
বাসায় আসার পর ভাবি আমাকে জিজ্ঞাসা করলো..
ভাবি – আচ্ছা তুমি আর নীলাকি ঝগরা করছো নাকি..??
আমি – কেন…?
ভাবি – না সেই সকাল থেকে নীলা আর রুম থেকে বের হয়নি কিছু খাইনি। কি হয়েছে কিছু বলছেও না…
আমি – কি বল এখনো কিছু খাইনি…
ভাবি – হ্যা।
আমি – ওকে আমি দেখতেছি…
তারপর আমি নীলার রুমে গেলাম।
গিয়ে দেখি শুয়ে আছে চোখ ২ টা লাল হয়ে ফুলে আছে…
মনে হয় অনেক কান্না করছে..

আমি কি বলবো বুঝতেছি না

তারপর আস্তে করে সরি বললাম…
কিন্তু নীলা কোন কথা বললো না..
আমি – কি হয়েছে একনো খান নাই কেন..??
নীলা -…..
আমি – কি হল আমি আপনাকে বলছি কথা বলছেন না কেন.??
নীলা – আপনি জেনে কি করবেন…
আমি – জানার দরকার আছে তাই জানতে চাইছি.??
নীলা – কি দরকার আছে জানার..?
আমি – যে আমাকে এতো ভালোবাসে সে রাগ করে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে থাকবে আমি তো সেটা দেখে চুপ করে থাকতে পারি না
নীলা – কে আপনাকে ভালোবাসে….???
আমি – নীলা নামের এক সুন্দরী মেয়ে…..
নীলা – ভালো তো তার কাছে যান আমার এখানে কেন আসছেন…?
আমি – সেই মেয়ে টা যে তুমি।।।
নীলা – আমি সুন্দরী না ওকে আমি পৃথিবীর সব থেকে পচা চেহারার মানুষ
আমি – না এই কথা মিথ্যা তুমি অনেক সুন্দরী বুঝলে..
নীলা – ভালো এখন এখান থেকে যান আপনি আপনার সাথে কথা বলার কোন ইচ্ছে আমার নাই ওকে.
আমি – ওকে যাবো তুমি ও যাবে..
নীলা – কেন আমি যাবো কেন..?
আমি – গিয়ে খাবার খাবে…
নীলা – না আমি খাবো না তাতে আপনার কি আপনি তো চান আমি কস্ট পাই..
আমি – আমি কি কখনো বলছি আমি চাই তুমি কস্ট পাও..??
নীলা – মুখে সব কথা বলতে হয় না কিছু কথা বুঝে নিতে হয়।
আর যদি আপনি আমাকে কস্ট দিতে না চাইতেন তাহলে সকাল বেলা ওই রকম ভাবে অপমান করতেন না…
আমি – আসলে তুমি আমাকে ভাইয়ার সামনে যেভাবে ছোট করেছিলে তার জন্য আমার খুব কস্ট হয়েছিলো। আর ভাইয়া আমাকে বিনা কারনে ভুল বুঝলো এটা আমি মেনে নিতে পারি নাই এজন্য এমন ব্যববার করেছি…
নীলা – হুম ভালো করেছেন আপনি তো এটাই চাইতেন আমি কস্ট পাই এখন পাইছি আপনি এখন শান্তি পাইছেন…
আমি – সরি সরি
নীলা – সরি বলে কাজ হবে না…
আমি – তাহলে কি বলতে হবে…
নীলা – I love You বলতে হবে যদি পারেন তাহলে রাগ ভাংবে তাছাড়া না..
আমি – না বলবো না…

নীলা – না বললে কিন্তু আরো অনেক রাগ করবো আর তখন রাগ ভাংঙানোর ডিমান্ড ও বেড়ে যাবে কিন্ত।
আমি – মানে.??
নীলা – এখন তুমি I love you না বললে আমি সুইসাইড করবো আর সুইসাইড নোট এ তোমাকে দায়ী করে যাবো আমার আত্মহত্যার জন্য..
আমি – কি বলেন এই সব আমাকে দায়ী করবেন মানে আমি কি করছি…
নীলা – অনেক কিছু করেছো বাঁচতে চাইলে আমি যা বলবো তাই শুনতে হবে…
আমি – সুইসাইড নোট এ কি লিখে যাবেন আমার নামে…??
নীলা – লিখবো আপনি আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের আশা দিয়ে আমার শরীর কে আপনি ব্যবহার করেছেন। তারপর যখন আমি আপনাকে বিয়ের কথা বলতে বলি তখন আপনি আমাকে ইগনোর করতে থাকেন। এবং বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করতে থাকেন..
তাই আমি অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলাম..??

কথা গুলা শুনে রিতি মতো আমার হাত পা কাপা শুরু হয়ে গেছে…আমি কাপা গলাই বললাম তুমি এতো মিথ্যা কথা বলো কেমনে। তোমার উপড় তো আল্লাই ঠাডা ফালাইবো।।।।

নীলা – পরুক ঠাডা তবুও তোমাকে আমার চাই…
আমি – না আমি তোমার হমু না যদি বিয়ের পর তোমার উপড় ঠাডা পরে তুমি মরে যাও তখন আমার কি হবে..?
নীলা – তাহলে আরেক টা বিয়ে করে নিও…
আমি – ভালো এখন চলেন খাবার খাইবেন..
নীলা – না আগে আমাকে প্রপোজ করো তারপর…
আমি – কেন ভালোবাসা কি প্রপোজ ছাড়া প্রকাশ হয় না…
নীলা – জানি না আমি তোমার মুখে শুনতে চাই তুমি আমাকে ভালোবাসো..
আমি – ভালোবাসি..
নীলা – এইভাবে না ভালো করে বল..
আমি – আমি তোমাকে ভালোবাসি । তুমি আমার বউ হবে নাকি…
নীলা – না হব না..
আমি – কেন হবে না কেন…??
নীলা – নিজের চেহারা আয়নাতে দেখছো দেখতে বন বিড়াল এর মতো দেখতে আর বিয়ে করতে চাই আমার মতো সুন্দরী কে… হি হি হি…
আমি – ঠিক আছে আমি যখন বন বিড়াল এর মতো দেখতে আমার সাথে তোমার কথা বলতে হবে না যাও..
ভাইয়া – ঠিক কথা বলছো নীলা তুমি ও দেখতে একদমী বন বিড়াল এর মতো দেখতে…

হাই আল্লাহ ভাইয়া ভাবি এখানে কি করে। খাইছে সব কথা তো শুনে ফেলে নাই…??
আমি – তোমরা এখানে…
ভাইয়া – কেন ভাই ডিসর্টাব করলাক নাকি..?
আমি – ডিসর্টাব করলে মানে…??
ভাইয়া – না আমার ছোট ভাই আমার একটি মাএ শালীর সাথে প্রেম করতেছে আর আমি তার মাজ খানে ডুকে পড়লাম…
আমি – কি বল কে প্রেম করতেছে..
ভাইয়া – হাই হাই নীলা তুমি এইডা কার সাথে প্রেম কর যে তার পরিবার সামনে সরাসরি না করে তোমাদের সম্পর্কের কথা..

নীলা – হুম ভাইয়া আপনার ভাই একটা ভিতুম ডিম।
ভাবি – তা এই রকম চুপি চুপি আর কত দিন চলবে হ্যা..??
ভাইয়া – চুপি চুপি চলার দিন শেষ সবার সামনে প্রেম করবি..
ভাবি – দূর বোকা রাম এদের বিয়ে দিয়ে দাও তারপর যা ইচ্ছে করুক…

বিয়ের কথা শুনে বুকের মাজে কেমন জানি করে ঊঠলো…

ভাইয়া – ভালোই বলছো তাড়াতাড়ি এদের বিয়েটা দিয়ে দিতে হবে… আমি আজকেই আব্বুকে সব বলবো…
আমি – ভাইয়া প্লিজ আব্বুকে বলিস না তাহলে আমাকে মনে হয় আস্তো রাখবে না…
ভাইয়া – তুই চুপ একটু ও সাহস নাই বুকে তুই কিসের পুরুষ মানুষ
আমি – ওকে তোমাদের যা ইচ্ছে কর…
ভাবি – আহারে বেচারা একদম অসহায় হয়ে গেছে
আমি – দূর ভাবি তুমি যে হয়ছো না মহাপাজি

বলেই ওইখান থেকে চলে আসলাম জানি এখান থেকে না গেলে অনেক কথা বলবে শয়তান ভাবি..
বিয়ের কিথা শুনে কেমন জানি আনন্দ লাগতেছে।
আনন্দ হচ্ছে আবার একটু ভয় হচ্ছে ঐ কি জানি কি করবে বিয়ের পর ওই শয়াতান ডাই।

রাতে সুয়ে গেম খেলতেছিলাম এমন সময় আব্বুর জরুরি ডাক এলো। তাই তাড়তাড়ি চলে গেলাম।

আমি – কি আব্বু ডাকছিলে..?
আব্বু – হ্যা এই সব আমি কি শুনছি ( কথা একটা রাগি ভাবে বললো)
আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম আমি আবার কি করলাম আর কি বা শুনলো.। সবার মুখের দিখে তাকিয়ে আমি আরো ভয় পেয়ে গেলাম কারন কারো মুখে কোন হাসি নাই সবার মুখ গূমড়া করে বসে আছে..
আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কি শুনছো…??
আব্বু – তুমি নাকি নীলাকে ভালোবাসো আর বিয়ে করতে চাও
আমি – না আব্বা আমি সত্যি বলছি ভালোবাসি কিন্ত আমি বিয়ের কথা কখনো বলি নাই আপনের কসম…

সবাই আমার কথা শুনে মনে হয় অবাক হল।

আব্বু – তার মানে তুমি নীলাকে বিয়ে করবে না তাই না…
আমি – হ্যা আব্বু বিয়ে করবো না…
আব্বু – ছি ছি তুই কি আমার ছেলে নাকি অন্য কারো বুঝতেছি না।
আমি – আব্বা আপনে এই গুলা কি বলেন আমি আপনার ছেলে না তো কার ছেলে ??
আব্বু – হ্যা আমার ছেলে হলে তো এই কথা বলতি না যে তুই যাকে ভালোবাসিস তাকে বিয়ে করার ইচ্ছে নাই…

কথা টা শুনে লজ্জাই আমি আর কথা বলতে পারছিলাম না।
নীলার দিকে একটু আড় চোখে তাকালাম দেখি সে অজগর সাপের মতো রাগে ফুঁসতেছে..
আম্মু – ঠিক তাই আমারো তাই মনে হচ্ছে..
মনে মনে নিজেকে ইচ্চে মতো গালি দিতে লাগলাম এতো ভয় কিসের আমার।
আমি – না মানে আসলে..
আব্বু – চুপ কিসের মানে মানে
আমি – আব্বু আমি নীলাকে বিয়ে করতে চাই…
আব্বু – না হবে জোর করে বিয়ে দিয়ে আমি এই মেয়ের জীবন টা নস্ট করতে চাই না..
আমি – না আব্বু আমি নীলাকে অনেক ভালোবাসি আর বিয়ে করে সুখে রাখতে চাই….
আব্বু – আমি কিছু জানি না যদি নীলা রাজি থাকে তাহলে বিয়ে হবে না হলে নাই। আমি গেলাম
বলেই সবাই চলে গেল আমকে অসহায় এর মত রেখে চলে গেল।
নীলা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হয় আজকে আমাকে একদম খেয়ে ফেলবে…

নীলা – রুমে আসো কথা আছে..
আমি – রুমে কেন এখানে বল..

আমি জানি রুমে গেলে কি হবে আমার বারোটা বাজবে..

নীলা – রুমে আসতে বলছি ভালোই ভালোই আসো না হলে পরে পরে ফল টা ভালো হবে না…
বলেই নীলা রুমের চলে গেল

আমি ও ভয়ে ভয়ে রুমের দিকে গেলাম।

to be continue,,,,,,,,,,,,,,,,