ভাবির জমজ বোন Part-12 (শেষ পর্ব)

0
485

গল্প – ভাবির জমজ বোন
part -12 & End
??RJ MOSTAKIM ??❣️

আমি ভয়ে ভয়ে রুমে গেলাম।

দেখি নীলার হাতে একটা বড় লাঠি। আর নীলার এতো রেগে আছে যে ওর দিকে তাকাতেই ভয়ে আমার হাত পা কাপতেছে..

নীলা – কি বাবু আমারে বিয়া করবানা তাই না. ???
আমি -…….
নীলা – ওই তোরে কিছু জিজ্ঞাসা করেছি না উত্তর কই…

আমি – হ্যা করবো কে বলছে বিয়া করমু না তোমারে তো আমার আদরের বউ বানামু…
নীলা – ওই একদমি নেকামি করবি না আর তোর এই মিস্টি মিস্টি কথাই আমার মন গলাইতে পারবি না
আমি – ওই আমার সাথে ভালোভাবে কথা বল আমি কিন্তু তোমার হবু স্বামী তুই তুই করে কথা বলছো কেন…

নীলা – এতোক্ষন তো তুই তুই করে কথা বলছি এখন তো তোরে পিডামু…
আমি – পিডাইবা মানে কি আমি কি বইসা বইসা ললিপপ খামু নাকি….
নীলা – কিহহ তুই ও আমারে মারবি….??
আমি – তুমি মারলে আমি মারতে পারবো না কেন..??
নীলা – তুই ভুল করেছিস তার শাস্থি আমি কি কোন ভুল করেছি নাকি হুম…
আমি – কেন তুমি জানো না স্বামীকে মারতে হয় না..??
নীলা – ওই স্বামী করবি না এখনো বিয়ে হয়নি কিন্তু
আমি – ওও তাই তো বিয়ে তো হয়নি তুমি তো এখন আমার কেউ না এখন আমি ও তোমার কোন কথা শুনবো না হা হা হা…

নীলা – কিহহহহ

বলেই লাঠি দিয়ে আমার মাথায় দিলো বাড়ি…আর দ্বিতীয় বারের মতো ডায়নি টা আমার মাথা ফাটিয়ে দিলো….

বাড়ি দেয়ার সাথে মাথা ফেটে রক্ত বের হতে লাগলো…..

আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম। রক্তে আমার হাত ভরে গেল।

নীলা এই অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেল মনে হয় ভাবতেও পারে এই রখম হবে…

নীলা – রক্ত দেখে চিংকার দিলো নীলার চিংকার শুনে সবাই এই রুমে এসে তো সবাই পুরাই অবাক আমার এই অবস্থা দেখে…..

তারপর আমাকে ধরে হসপিটালে নিয়ে গেল..
তারপর আমাকে ব্যান্ডেজ করা হলো…

সবাই ঘঠনা শুনে নীলা কে অনেক বকাঝকা করেছে যার জন্য নীলার মন টা একদমি খারাপ

তারপর বাসায় চলে আসলাম আমাকে রুমে রেখে সবাই চলে গেল….
একটুপর নীলা রুমে আসলো…
নীলা – সরি আমিনা আসলে বুঝতে পারি নাই এমন হবে আমি তো হালকা ভাবে বাড়ি দিতেচাইছিলাম কিন্তু জানি না কেমনে কি হয়ে গেল। আসলে জানো আমি না আমার রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না যার কারনে আমার রাগ উঠলে আমার মাথা কাজ করে না…

এক নিঃশ্বাস এ কথা গুলা বললো,।।।

আমি আর কিছু বলললাম না। নীলা – কি হলো কোন কথা বলছো না যে….
আমি – কি বলবো….
নীলা – কিছুই বলার নাই…
আমি – তেমন কিছু বলার নাই তো….
নীলা – ওও তারমানে সবার মতো তুমি আমার উপর রাগ করে আছো।।।

আমি – আমি বলছি নাকি আমি রাগ করে আছি,.??
নীলা – সব কথা তো আর মুখে বলতে হয় কিছু কিছু কথা আছে যা মুখ দেখেই বুঝে নিতে হয়…
আমি – তা আমার মুখ দেখে কি বুঝলে.??
নীলা – বুঝেছি অনেক কিছু..
আমি, – কি কি একটু শুনি…
নীলা – শুনা লাগবো না…
আমি – কেন.??
নীলা – আমি বলছি তাই…
আমি- না শুনতে চাই আমি…
নীলা – না আমি বলবো না…
আমি – না বলতে হবে…?
নীলা – কচু মনে হয়তেছে। তুমি থাকো তোমার সাথে আজাইরা বকবক করার টাইম নাই আমার…
বলেই চলে যায়তেছিলো
আমি ওর হাত টা ধরে একটা টান মারলাম একদম আমার উপর এসে পরলো
….
আমি – নীলা কে জরাই ধরে বললাম কই যাবো হুম।একদমিত যায়তে দিমু না…

নীলা – ওই ছাড়ো প্লিজ কেউ দেখে ফেলবে কিন্তু।।।

আমি – দেখুক…

নীলা – ছাড়ো বলছি বিয়ের পর সব সময় এইভাবে ধরে রাইখো,।।।
আমি – কেন ধরে রাখলে সমস্যা কি..?
নীলা – এখন আমি তোমার বউ না তাই..?
আমি – বউ না তাতে কি হবু বউ তো তাই না
নীলা – কচু এখন হবু বলছে বাপের সামনে গিয়ে তো বোবা হয়ে যাও
তখন তো বলতে পারো না আমাকে বিয়ে করার কথা…
আমি – কি করবো আমি বল সেই ছোট বেলা থেকেই বাবাকে খুব বেশি ভয় পাই আমি…
নীলা – ঠিক আছে ভীতুর ডিম তোমার বিয়া করা লাগবো না সারা জীবন একাই থাকবে বউ লাগবে না…..
এখন আমাকে ছাড়ো কেউ দেখলে কিন্তু খারাপ ভাব্বে…

আমি – যা ইচ্ছে ভাবুক আমার কিছু যায় আসে না….
নীলা – আব্বু আসতেছে ছাড়ো

আমি ভয় পেয়ে ছেড়ে দিলাম কিন্তু কেউ নাই…
নীলা আমাকে এই ভাবে বোকা বানিয়ে খিল খিল করে হাসতে লাগলো ঠিক যেনো একটা পরি হাসতেছে

নীলার হাসি দেখে আমার মাথায় একটা শয়তানি বুদ্ধি এসে গেলো। আমি নীলাকে বললাম
আমি – নীলা তোমার পিছনে আরশোলা.. ??
নীলা – কই.??
আমি – ওই তো তোমার কাপড়ে..

ভয় পেয়ে চিংকার।আমার কাছে এসে আমাকে জরিয়ে ধরে আমার বুকে মুখ লুকিয়ে ফেললো..

আমি – হা হা হা আমাকে বোকা বানাইছো আমি তোমাকে আমার থেকে বড় বোকা বনালাম…
নীলা – কিহহহ আমাকে ছাড়ো আমার তোমার আর কোন কথা নাই..
আমি – এখন আর ছাড়বো না..

বলেই নীলার কপালে একটা চুমু দিলাম..

নীলা – এটা কি হলো…
আমি – কিহ হল..
নীলা – তুমি কিস করলে কেন…
আমি – ইচ্ছে হয়ছে তাই..
নীলা – আমার ইচ্ছে করছে নাক ফাটাইতে.. হি হি হি
আমি – কেন..
নীলা – আমাকে কেন এইভাবে ভয় দেখালে..
আমি – কেন তখন আমাকে বোকা বানিয়ে তো খুব হাসতেছিলে তাই আমি ও তোমাকে একটু বোকা বানালাম

নীলা – ওই ছাড়ো আব্বু আসতেছে ছাড়ো..
আমি – এবার আর কাজ হবে না এবার ছাড়বো না…
নীলা – আরে সত্যি সত্যি আসতেছে..
আমি – আসলে আসুক

বলতে বলতে আব্বু রুমে এসে হাজির

আমি তো আব্বুকে দেখেই কি বলবো বুঝতাছি না নীলা আমার হাত থেকে ছুটেই দিলো একটা দৌড়।

আমি লজ্জাই আর কোন কথাই বলতে পারছি না…

আব্বু – কাল তোমার বিয়ে প্রস্তুত থেকো..
আমি – কালকে বিয়ে এতো আগে কেন বিয়ে করবো…??
আব্বু – বেশি ডং দেখাবি লাঠি দিয়া পিটাইয়া সব ডং ছাড়ামু…
আমি ভয় পেয়ে গেলাম আব্বুর এমন কথা শুনে…
আমি – আচ্ছা ঠিক তুমি যা ভালো বুঝো তাই কর…
তারপর আব্বু চলে গেল

কালকে আমার বিয়ে ভাবতেই কি মজা….

জানি কেমনে জানি বিয়ের টাইম চলে আসলো আর বিয়ে টা সম্পন্ন হয়ে গেল

১১ টার দিকে বন্ধুরা আর ভাবি মিলে বাসর ঘরে ডুকিয়ে দিলো..
আমার বুকটক ধকবক করতে লাগলো…
আজকে কেন এমন লাগতেছে বুঝতেছি না..
ভিতরে ডুকে দেখি বজ্জাত টা ঘুমাইতেছে…
আমি কিছু না বলে ফ্রেশ ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি এখনো ঘুমাইতেছে চুল গুলা সব মুখের উপর এসে পড়ছে..
আর মুখ টা অনেক মায়াবি লাগতেছে..আমি গিয়ে নীলার পাশে বসলাম তারপর নীলার মাথায় হাত বুলাতে লাগলাম চুল সরিয়ে দিলাম।
খুব ইচ্ছে করছিলো একটা চুমু খাওয়ার তাই চুমু খাওয়ার জন্য মুখটা যখনি নীলার কপাল এর দিকে নিলাম ওমনি নীলা জেগে ঊঠলো..
আমি – সরে গেলাম…
নীলা – এই তুমি এই রাতে আমার রুমে কি করো….
আমি – এ্যা কি মাথা ঠিক আছে…
নীলা – কেন কি হয়েছে..?
আমি – আমি এখন তুমার বর আর তুমি আমার বউ ওকে তাই এখন থেকে এক রুমেই থাকবে..
নীলা আমার কথা শুনে উঠে বসলো…
নীলা – ওও সরি আসলে ঘুমিয়ে গেছিলাম তো তাই সব ভুলে গেছিলাম..তুমি রুমে আসলে কখন। আর আমি বসে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নাই সরি…
আমি – জীবনের প্রথম কোন এমন বউ দেখলাম যে নাকি বাসর রাতে স্বামী আসার আগেই ঘুমিয়ে গেছে…
নীলা – সরি বললাম তো ভুল হয়ে গেছে..
আমি – ওকে যাও অজু করে আসো নামাজ পড়বে…
নীলা – শীত করে জামু না…
আমি – চুপ যা বলছি তাই কর..
নীলা অজু করে আসলো ২ জনে একসাথে নামাজ পড়লাম নামাজ শেষ ঘুমাতে বিছানায় যাবো এমন সময় নীলা বললো ওই তোমার সাথে ঘুমাবো নাকি…
আমি – তাহলে কোথায় ঘুমাবা???.
নীলা – এ্যা আমার শরীর এর সাথে কারো স্পর্শ হলে আমি ঘুমাতে পারি না কি হবে তাহলে…
আমি – কি জানি আমি কি জানি আর আমি তো সারা রাত তোমাকে জরিয়ে ধরে থাকবো..
বলেই শুয়ে পড়লাম..
নীলা – ঘুমাও সমস্যা নাই কিন্তু মাজ খানে এই যে কোল বালিশ দিলাম এটা সরাবে না তাহলে কিন্তু আমার ঘুম হবে নাই
আমি সাথে সাথে কোল বালিশ টা সরিয়ে নীলাকে জরিয়ে ধরে আমার বুকে নিয়ে নিলাম…
আমি – এইভাবে সারা রাত ঘুমাবো..
নীলা – আমি পারবো না প্লিজ আমাকে ছাড়ো..
আমি – কিহহ ছাড়ার জন্য বুঝি বিয়ে করেছি…
নীলা – জানি না..ওকে তুমি জরাই ধরে থাকো আমি দেখি ঘুম আসে নাকি…
আমি – ঘুমাইলে আমার বাকি পাওনা কে মিটাবে হুম..
নীলা – কি পাওনা..
আমি – নীলার ঠোটে ঠোট মিলে বললাম এই টা…চ
নীলা – যা দুষ্টু আর কিছু আছে পাওনা..
আমি – হুম আছে কিন্তু আগে পাঠক/ পাঠিকাদের তাড়াই তারপর বলি…

এই আপনারা অনেক গল্প পড়ছেন এখন যান আমাদের শান্তিতে বাসর টা করতে দেন ??
সমাপ্ত