ভালোবাসা_কেবল_শুরু পর্ব ০৫

0
1366

ভালোবাসা_কেবল_শুরু
পর্ব ০৫
#লিখা -নীলকন্ঠী
.
খাওয়ার টেবিলে সেদিন আর রাফান কে পাওয়া যায় নি। রাতে ও আর বাসায় আসেনি। সারা রাত রুহির আম্মু অপেক্ষা করেছে।

পরের দিন কলেজে যাওয়ার পথে রুহি দেখলো রাফান দাড়িয়ে আছে। রুহি কাছে যেতেই রাফান বলে উঠলো, “রিকশায় উঠো।”

-আগে বলো গতকাল কোথায় ছিলে?

-বলছি, আগে রিকশায় উঠো।

রাফানের হঠাৎ তুমি বলা টা কেমন যেন ছিলো। রুহি চুপচাপ রিকশায় বসে পড়লো। রিকশা গিয়ে থামলো এক রেস্টুরেন্টে। প্রায় ২০ মিনিট কেউ কোন কথাই বলল না, রুহি ই নীরবতা ভাঙ্গলো।

-কি হয়েছে বলবা তো? এমন অদ্ভুত আচরণ করছো!

রুহির চোখে বেশি ক্ষন চেয়ে থাকতে পারলো না রাফান, ওই চোখ, নাকের ডগার উপর গাঢ় তিল এখন সব কিছুতেই অন্য কারো অধিকার। নিচে তাকিয়েই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চকলেটের বক্স এগিয়ে দিয়ে বলল,

-অভিনন্দন রুহি, এই নে তোর গিফট। বিয়ে করেছিস অথচ একবার ও জানাসনি। যাই হোক আমি জানতাম না তাই ভালো কিছু দিতে পারিনি। তোকে যখন তুলে নিবে, তোর বিরিং তখন সব চেয়ে বড় গিফট দিবো।

রুহি খুশিতে সেখানেই প্যাকেট খোলা শুরু করলো।
কথার ঝুলি যেন শেষ ই হচ্ছে না। আপাতত অন্য চিন্তা করতে রাফান নারাজ, এভাবে অনন্ত কাল মেয়েটার হাসি মুখ দেখলেও মন্দ হয়না। জীবন আসলেই সুন্দর।

সেই কখন থেকে আদি এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে , রুহির সাথে বসা ছেলে টাকে একদম ই চিনতে পারছে না। ফ্রেন্ডদের নিয়ে ট্রিট দিতে আসছিলো। বিয়ে ও হয়েছে হুট করে , ফ্রেন্ড রা ধরলো আজ তাই তাদের নিয়ে আসা। কিন্তু মনোযোগ দিতে পারছে না আড্ডায়।

অংগভংগী দেখেও বুঝতে পারছে না পরিচিত কেউ কিনা।
রুহি অপরিচিত কারও সাথে বাইরে এমন রেস্টুরেন্টে বসার কথা না। মনের মাঝে খুঁত খুঁত করেই চলছে।

কথা বলতে বলতেই আদির দিকে চোখ পড়লো রুহির। নিমিষেই হাসি হাসি মুখ খানি বিষাদের ছায়ায় ঢাকা পড়লো। রাফানের চোখ কিছুই এরায়নি, কোন একটা সমস্যা আছে যেটা রাফান ঠিক ই বুঝতে পারছে, কিন্তু কি সেটা??? সেটাই এখন জানার বিষয়।

রাফান ভাইয়া চলো বাসায় যাবো।

আরেকটু বসি না! বলেই রুহির হাত ধরলো রাফান।

রুহি নিচের দিকে তাকিয়েই উত্তর দিলো আমার ভীষণ মাথা ব্যথা করছে।

ঠিক আছে চল বলেই তারা টেবিল ছেড়ে উঠে পড়লো।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আদি এখনো এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে, তাদের চলার পথ বিলীন হয় ঠিক ই কিন্তু আদির চিন্তার পথ যেন ফুরাচ্ছেই না । কি এক অজানা শংকা মাথার ভীতরে কুন্ডলী পাকিয়ে বসে আছে।

শুক্রবার সকালেই সবাই রেডি হলো ফ্যামিলি ট্যুরের জন্য। রুহি আজকে মেরুন কালারের লং কামিজ পড়েছে, সাথে গোল্ডেন স্টোনের কাজ করা। সক্কাল সক্কাল উঠে রেডি হওয়াতে সকালের সমস্ত স্নিগ্ধতা তার চোখে মুখে ভর করেছে। কিন্তু ভীষণ আনইজি লাগছে। সেদিনের পর থেকে আর আদির সাথে কথা হয়নি। আজ না চাইতেও সারা দিন এক সাথে থাকতে হবে।

রাফান এক মুহুর্তের জন্য ও রুহির সান্নিধ্য মিস করতে চায় না। গাড়ি করে সবাই আগে আদির বাসায় যাবে, সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ এর পথে রওনা করবে।

জিনিসপত্র সব গুছিয়ে উঠার সময় হলো যত ঝামেলা। আসমা আর রাহেলা বেগম একসাথে পিছনে বসে আদি আর রুহি কে এক সাথে বসতে বলল আর রাফান কে সামনে। কিন্তু রুহি স্ট্যাচুর মতো দাড়িয়ে রইলো।

রাফান কে এক নজর দেখেই আদি বুঝতে পারলো সেদিন তাহলে ওর সাথেই ছিলো রুহি। রাফান কে আদি চিনে কিন্তু ওভাবে কখনো কথা হয়ে উঠেনি দু জনের।

রুহির মনের অবস্থা রাফান বুঝতে পেরে রুহির উদ্দেশ্যে বলল কি বসছিস না ক্যান?

“ইয়ে মানে তুমিও আসো পিছনে ” বলেই রুহি আদির দিকে তাকালো। এবার আদির ভীষণ রাগ হলো। এক সাথে বসা নিয়ে এতো কাহিনী কেন?

কিছু বুঝে উঠার আগেই রুহি র হাত টেনে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। আদির এমন আচরনে সবাই সাত আসমান থেকে পড়লো। রুহির বুঝতে বাকি নেই আদি একটু হলেও জেলাস ফিল করছে। মনে মনে বেশ খুশি ই হলো এই ভেবে যে আমাকে নিয়ে হয়ত এক টু হলেও ভাবতে শুরু করেছে আদি।

চলবে …….