ভালোবাসা_কেবল_শুরু পর্ব – ১১

0
1146

ভালোবাসা_কেবল_শুরু
পর্ব – ১১
#লিখা – নীলকন্ঠী
.
জোর করেও রুহি কে কিচ্ছু খাওয়ানো যায় নি। রাফান রীতিমতো রাগে ফুঁসছে। এতো টা জেদি কেন মেয়েটা। তার সাথে থাকতে কি প্রবেলেম! কই আগে তো রুহি ঠিক ই সারা দিন রাফানের সাথে সময় কাটাতে পারতো। এখন কেন এমন করছে!!!

প্রচন্ড খুদা নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়লো রুহি। রাফান ইজি চেয়ারে সেই কখন থেকে দোল খাচ্ছে আর এক মনে রুহির দিকে তাকিয়ে আছে। এই একটা মুখ দেখলে হৃদয় কেঁপে উঠে। কেমন যেন সুখ সুখ অনুভূতি হয়। মনে হয় এই অবুঝ মেয়ে টাকে নিয়েই সারা জীবন কাটিয়ে দেয়া যায় অনায়াসে।

রাত বাড়ার সাথে সাথেই রুহির গায়ে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলো। জ্বরের প্রকোপে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। খুব বমি বমি পাওয়াতে বিছানা থেকে উঠে বাথরুমের দিকে পা বাড়াতেই মাথা ঘুরিয়ে লুটিয়ে পরলো। শব্দ পেয়ে রাফানের ঘুম ভেঙ্গে গেলে ই দেখতে পেলো রুহি গোঙ্গানির মতো আওয়াজ করছে।

ও মাই গড বলেই রাফান রুহির মাথা চেপে ধরলো।
পড়ে যাওয়ার সময় খাটের কোনায় লেগে রুহি মাথায় আঘাত পায়। মুহুর্তেই রক্তে ভেসে যায় রাফানের হাত। এখন আর লুকোচুরি করার সময় নেই, খালামনি কে অবশ্যই খবর দিতে হবে । রুহিকে ও হাসপাতাল নিতে হবে।

সমস্ত জায়গায় খোঁজ নেয়া শেষ রুহির খোঁজ পাওয়া যায় নি। অস্থির হয়ে আদি রুমে পায়চারি করছে। আর মাথার চুল উল্টাচ্ছে। রুহির মায়ের বিলাপ এই মুহুর্তে ভীষণ অসহ্য লাগছে। মাথা ঠান্ডা করে ভাবার সুযোগ পাচ্ছে না আদি। হঠাৎ ই রাফানের কথা মনে হতেই রাহেলা বেগম কে জিজ্ঞাসা করলো সে,

–আম্মু রাফান কোথায়? আসলেই তো রাফান কোথায়! নিজের মেয়ের চিন্তায় এতোই ডুবে আছে যে রাফান কোথায় সেই খেয়াল ই নেই।

–রাফান রুহির সাথে নেই তো? চিন্তিত গলায় আদি বলে উঠলো, আম্মু বলুন রাফান কোথায়? সে কতক্ষণ যাবৎ নাই বাসায়?

–আসলে আমি এতোই চিন্তিত ছিলাম ও যে বাসায় নেই আমার খেয়াল ছিলো না।

— এক্ষুনি ফোন দিন। আর জিজ্ঞাসা করুন কোথায় সে।
ফোন হাতে নিয়ে ডায়াল করতেই রাফান রিসিভ করলো

–খালামনি আমি রুহি কে নিয়ে হাসপাতাল আসছি।

এই কথা শুনে রাহেলা বেগমের কলিজায় পানি আসলেও মুহুতেই আবার ভয় গ্রাস করলো।

–হাসপাতালে কেন? কি হয়েছে? আর কিছুই বলার সুযোগ হয়নি। লাইন কেটে গেলো। রাফান এস এম এসে জানিয়ে দেয় কোন হাসপাতাল আছে ।

আদি দের পৌঁছাতে সময় লাগে না। আদির মায়ের কাছে পুরো ব্যাপার টা ভালো ঠেকছে না। কিন্তু এমন পরিস্থিতি তে কিছু বলা ঠিক না বলে বলছে না কিছুই।

হাসপাতাল এ পৌঁছে আদি দেখলো করিডোরের শেষ মাথায় রাফান দাঁড়িয়ে । কিছু না ভেবেই নিজের দিকে ঘুরিয়ে সজোরে একটা ঘুষি বসিয়ে দিলো রাফানের মুখে। রাফান ও ঘুরে দিতে গেলেই সবাই ওদের বাধা দিলো।

— কোন সাহসে তুই আমার বউ কে কিডনাপ করেছিস? কি করেছিস আমার রুহির সাথে? আজ ওর এই অবস্থার জন্য তুই দায়ী। তোকে আজ খুন করবো আমি।

–বাহ বিয়ে করলেই বুঝি বউ হয়ে যায়!! কই আগে কই ছিলি তুই ।রুহি শুধু আমাকে নিয়েই ভালো থাকবে। জীবন থেকে অনেক কিছু হারিয়েছি। রুহি কে হারাতে পারবো না।

— রাহেলা এটা যদি তোমার মেয়ের ইচ্ছা ছিলো তাহলে আমার ছেলে কে কেন বিয়ে করলো। তোমার বোনের ছেলে আর তোমার মেয়ের মাঝে সম্পর্ক তারপর ও কেন আমাদের পরিবার কে জড়ালে। আসমা বেগম ছেলে হাত ধরে বললেন, ” এক্ষন এই মুহুর্তে বাসায় চলো আদি। ”

–তুমি এসব কি বলছো। আমার মেয়ে তো তোমার ছেলে কেই চায়। প্লিজ রুহির জ্ঞান আসতে দাও। যা হবার পরে হবে। এই মুহুর্তে কিচ্ছু ভাবতে পারছিনা। আর রাফান এই মুহুর্তে আমার চোখের সামনে থেকে চলে যাবি। দুধ কলা দিয়ে আমি সাপ পুষেছি এতদিন।
রাহেলা বেগম আর কিছু বলতে পারলো না ঢলে পড়ে গেলো।

আদি মায়ের হাত ছাড়িয়ে
— মা যা বলার বাসায় গিয়ে বলো। হাসপাতালে আর না। রাফান কে টানতে টানতে বের করে দিলো। আর কখনো কোন দিন রুহির আশে পাশে যেন না দেখি তোকে।

রাফান ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো। রুহির জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত সে কোথাও যাবে না। এখানেই থাকবে।

চলবে ….