ভালোবাসি তোমাকে পর্ব :৬

0
1000

গল্প ::::::ভালোবাসি তোমাকে ?❤️
পর্ব :::৬
Writer ::Sajna Akther

তিন বছর পর রায়হান ফিরছে দেশে,, দেশে ফেরার একটাই উদ্দেশ্য রায়হানের ভালোবাসার মানুষকে আপন করে নিজের পাওয়ার,, এতদিন এই দিনের অপেক্ষায় ছিলো রায়হান,, তার একমাত্র ভালোবাসার মানুষ নাফিসা জামান নিশাতকে একটা বার দেখার জন্য উতলা হয়ে পড়েছে কখন পৌঁছবে সে তার মায়ের কাছে সে তার মায়ের কথা রেখেছে,, এখন তো মায়ের কথা রাখার পালা নিশাতকে রায়হানের সাথে বিয়ে দেওয়া
রায়হান :::::কোনো এক কুয়াশা ভেজা সকালে দেখেছিলাম
তোমায়, দেখেছিলাম সাদাসিধে সাজে এলোমেলো
চুলে মুখ ঢেকে যায়, আর পাগল হয়ে যাই আমি
কি নিষ্পাপ চাহনি তার, চোখের ভাষায় বলে
দিতে চায়- আমিও ভালোবাসি তোমায় নিশাত

(হ্যাপি নাম চেন্জ করে নিশাত রাখা হয়েছে ?)
.
আজ ভাইয়া এসেছে ওর সাথে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কয়েকদিন ওখানে থেকে আসবো বাবা আর ওনাকে বলে বেরিয়ে পড়ি,,আসার সময় দেখলাম ওনার চেহারা একদম মলিন হয়ে ছিলো,, মুখ ফুলিয়ে বলে উঠলেন ঠিক আছে যাও তাড়াতাড়ি আসবে ? ভাইয়া পাশে ছিলো তাই কিছু বলতে পারিনি
অবশেষে বাসায় এসে পৌঁছলাম
.
এদিকে…
.
রায়হান ::::নাহ একটা নজর আগে নিশাতকে দেখে আসি কেমন আছে ও আমার যে আর তর সইছে না তারপর নাহয় বাসায় যাবো
.
কলিং বেল বাজতেই আমি গিয়ে দরজা খুলে দেই
.
আমি :::::রায়হান ভাইয়া আপনি ? কেমন আছেন ভাইয়া
.
রায়হান :::::ভালো, তুই কেমন আছিস নিশাত
.
আমি :::::জি ভাইয়া আমিও ভালো আছি ভিতরে আসুন (দরজা থেকে সরে)
.
রায়হান :::::নারে আজ থাক অন্য একদিন আসবো জরুরি একটা কাজের কথা মনে পড়েছে আংকেল আন্টিকে আমার তরফ থেকে সালাম জানিয়ে দিস (মুচকি হেসে চলে গেলেন)
.
(রায়হান ভাইয়ার সাথে আমার পরিচয় ছিলো চার আগে এক বছরে একটু আধটু কথা হতো তার তিন বছর থেকে ওনাকে দেখতে পাইনি কোথায় হয়তো চলে গিয়েছিলেন ওনি যেহেতু আমার বড় তাই ভাইয়া বলে ডাকি লোকটা এমনিতে খুব ভালো কেমন সম্মান দিয়ে কথা বলেন কিন্তু আজ এতদিন পর ওনার চাহনি কেমন তিষ্নার্ত) ,, হঠাৎ আমার ফোনে রিং বেজে উঠলো হাহ বজ্জাতটা কল দিয়েছে আসতে না আসতেই কল দেওয়া শুরু এখন রিসিভ না করাই বেটার মনে করি”” সকালে তো কত সুন্দর আমার চুল কাটার জন্য দৌড় করিয়েছেন তাও কাচি হাতে,, তার একটাই কারণ আমার চুল নাকি ঘুমালে ওনার মুখে এসে পরে তার জন্যই আমার চুল কাটা প্রয়োজন ভাগ্যিস সেই সময় ভাইয়া চলে আসছিল নাহলে তো আমার চুলের বারোটা বাজিয়ে ছারতো খাটাশটা ?
.
রোশান ::::::কি হলো বউ আমার কল ধরছে না কেনো রাগ করেছে মনে হয়, কিন্তু আমিতো কিছু করিনি রাগ করবে কেনো ওওও মনে হয় আমি সঙ্গে যাই নি বলে রাগ করেছে,,, রাগ করে না লক্ষী সোনা আমি কালোই আসছি ? তোমার কাছে
.
.
.
.
রায়হানের মা ::::::এসব কথা এখন থাক এতদিন পর বাড়ি ফিরেছিস যা রুমে গিয়ে রেস্ট নে বাবা
.
রায়হান :::::না মা তুমি আগে বল সকাল হলেই নিশাতের বাসায় যাবে প্রস্তাব নিয়ে,, আমি আর দেরি করতে চাই না
.
রায়হানের মা :::::দেখ বাবা এতদিন যখন অপেক্ষা করে থাকতে পেরেছিস তাহলে আর তিনটা দিন অপেক্ষা কর
.
রায়হান ::::::ঠিক আছে মা তুমি যা ভালো মনে করো,, কিন্তু একটা কথা আমার শুধু নিশাতকে চাই (বলেই রায়হান রুমে চলে গেলো)
রায়হানের মা ভাবতে লাগলেন
রায়হানের মা ::::::হে আল্লাহ এখন আমি কি করবো এই ছেলে তো মেয়েটাকে ছাড়া কিছুই বুঝতে চাইছে না আমার ছেলের জীবন কি আমার জন্যই নষ্ট হয়ে যাবে কিন্তু আমিতো এটা চাই নি যেদিন রায়হান আমাকে নিশাত এর কথা বলেছিলো আমি নিজে রায়হান কে বলেছিলাম বাবা এখন তো তুই বেকার কোনো কাজ কর্ম করিস না মেয়েটাকে এনে খাওয়াবি কি তার চেয়ে বরং তোর বাবার বিজনেস এর কাজে জয়েন কর নিজের পায়ে দাঁড়া,, আমি তোকে কথা দিচ্ছি ওই মেয়েকে তোর সাথে বিয়ে দিবো,, তার জন্যই আমার ছেলেটা কাজের জন্য দেশের বাইরে চলে গিয়েছিল তিন বছর পর এসেছে এখন যদি জানতে পারে তার প্রেয়সির অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে গেছে তখন আমার ছেলেটা কি করবে সব সব দোষ আমার (কান্না করে)
.
.
.
আমি :::::এই ভাইয়া আমার বিয়ে হয়ে গেছে বলে আমার সাথে একটু গল্প ও করবি না বলি তোর হৃদয়ে দয়া মায়া বলতে কিছু নেই
(দেখো এখনো কিছু বলছে না ?
ওওওওইইইই ভাইয়া (কোমরে দু হাত রেখে)
.
ভাইয়া :::::কে আপনি আর আমার রুমে কি করছেন মা ও মা এই মেয়েটা কে দেখো তো (মোবাইলে মুখ রেখে)
.
আমি ::::::আমি কে তাই না দাঁড়া বুঝাচ্ছি তোকে আমি কে হৈ তোর ?( বলেই বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে মারতে শুরু করি)
.
ভাইয়া :::::আরে এ তো দেখি আমার ই একমাত্র বোন অলে আমার বোনটার কি হয়েছে কাঁদছে কেনো
.
আমি ::::হোয়াট ? আমি কাঁদছি ফাজিল ভাই একটা (বলেই আমার রুমে চলে আসি)
.
.
.
পরের দিন…
মনে হচ্ছে আমার আমি কোনো ভুতের মুভি করছি সারা রুম কেমন ভয়ে ভয়ে আওরাচ্ছি তার একটাই কারণ রুমে আমি একা আর মোবাইল এ গেম খেলছি হঠাৎ আমার নাম ধরে কেউ ঢেকে উঠলো নিনিশশাত আমি তো কাউকে দেখতেই পাচ্ছি না কে হবে ভুত নাতো? আমি ধীরে ধীরে বেলকনিতে যেতেই পেছন থেকে কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরলো,, আমি যখনি চিৎকার করবো লোকটা বলে উঠলো বৌওও কেমন আছো ?
.
আমি ::::::তারমানে আপনি আমাকে ভয় দেখাচ্ছিলেন এতক্ষণ ?
.
রোশান :::::যাহ দুষ্টু আমি ভয় দেখাতে যাবো কেনো আমিতো মজা করছিলাম ?
.
আমি :::::অসব্য একটা ছাড়ুন আমাকে
.
(লোকটা তো ছারছেই না আরো পারলে আমার গলায় মুখ ডুবালো,, কাঁধ থেকে চুল সরিয়ে সেখানে চুমু খেতে লাগলো,, আমি চোখ বন্ধ করে তা উপভোগ করছি হঠাৎ মনে পড়লো দরজা খুলা যদি কেউ চলে আসে তাই ওনাকে হালকা ধাক্কা দিয়ে রুমে চলে আসি)
.
আমি :::::আপনি ফ্রেশ হোন,,, আমি নাস্তা নিয়ে আসছি
.
রান্নাঘরে যাওয়ার সাথে সাথে মা আমার হাতে নাস্তার টে ধরিয়ে দিলেন আমিও চুপচাপ নিয়ে আসি
রুমে এসে দেখি ওনি আমার ছোটকালের পুতুল একটা ভেঙে ফেলেছেন তিনটা থেকে একটা ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছেন
.
আমি :::::আপনি আমার পুতুল ভাঙলেন কেনো ?
.
রোশান :::::তার একটাই কারণ এখানে শুধু আমি আর তুমি থাকবো তৃতীয় কোনো ব্যাক্তি বা পুতুল ও না that’s it
.
আমি :::::এখানে একটা মেয়ে পুতুল আর দুইটা ছেলে পুতুল ছিলো তাই বলে একটা ভেঙে ফেলতে হবে,, কি আজব লোক একটা (মনে মনে)
.
.
.
.
চলবে…..