ভালোবাসি পর্বঃ০৭

0
974

ভালোবাসি?
#পর্ব_০৭
#স্বর্নালি_আক্তার_শ্রাবণ

?
সারা বাড়ি খুঁজে কোথাও অপাকে পেলো না পলক।
ডাক্তার এসে দেখে মেডিসিন পেসক্রাইভ করে গেছেন।সেগুলো আনতেই ফার্মেসিতে গিয়েছিল পলক।বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে না গিয়ে সোজা রান্না ঘরে চলে গেলো। নিজে হাতে স্যুপ করে নিয়ে উপরে যেয়ে দেখে অপা নেই।পুরো বাড়ির সবগুলো ঘর ছাদ বাগান চিলেকোঠা আনাচে কানাচে কোথাও বাদ রাখে নি খুঁজতে! চিৎকার করে সার্ভেন্টসহ দারোয়ান চাচাকে ডাকলে সবাই মাথা নিচু করে একটাই জবাব দিলো..কেউ দেখে নি অপাকে বাড়ি থেকে বেরুতে!

ধুম মেরে কিছুক্ষন বসে রইলো পলক।কোথায় যেতে পারে এ সময়?কাল মেয়েটার বলা কথাগুলো খামখেয়ালি ভাবে নেয়া ঠিক হয়নি তার!
এখন কোথায় ই বা যাবে।তার উপর যে পরিমান জ্বর শরীরে..!

আর না ভেবে চাবি ফোন নিয়ে বেরিয়ে গেলো পলক!
.
.
.
.
.
.
.
হ্যালো…

হাই অপরাজিতা..বলেই অপাকে হাগ করলো তিয়াস

তোমার গায়ে তো অনেক জ্বর!

তেমন কিছু না..চলো..

গাড়ি নিয়ে আসো নি?আংকেল কেমন আছেন?

এতকথা বলার সময় এখন না তিয়াস।আগে চলো…

তিয়াসকে নিয়ে সিনএনজিতে উঠলো অপা।গন্তব্য নিশান ম্যানশন..
.
.
.
.
.
.
সোফায় তিয়াসকে বসতে দিয়ে ডাইনীং থেকে পানি খেলো অপা।একজন সার্ভেন্ট এসে জানালো পলক তাকে খুঁজতে বেরিয়েছে।
অপাকে তাকে আস্বস্থ করে বলল সে সবটা সামলে নিবে।

অপা তিয়াসের পাশে বসতেই তিয়াশ জিজ্ঞেস করল আংকেল কোথায় অপরাজিতা?আর তোমাদের বাড়িটা তো খুব সুন্দর…

এটা আমার স্বামীর বাড়ি তিয়াস।আর বাবা বেঁচে নেই!

হোয়াট!আর ইউ কিডিং উইথ মি অপরাজিতা?

কুল তিয়াস..শোনো সবটা…
তিয়াশকে সবটা খুলে বলল অপা।সবটা শুনে গর্জে উঠলো সে..

তুমি কি ছোট বাচ্চা? যে ধমকে রাজি হয়ে গেলে..তুমি কি আমায় একটু বলবে?

তিয়াস দু তিনমাস যাবৎ তুমি আমায় একটা কল ও করো নি না এ্যা সিঙ্গেল মেসেজ..ওয়ার্সএ্যাপ ফেসবুক সবকিছুতে অফ লাইন ছিলে।আমি ভেবেছি হয়ত তুমি আর রিলেশনটা রাখতে চাও না!আর বাবা এমনভাবে বলল আর এত দ্রুত সবটা হয়ে গেলো আমি তোমায় জানাতে পারি নি আর আটাকাতেও পারি নি।

আমি তো কাজের চাপে ছিলাম আর কিছুটা রেগে ছিলাম তোমার উপর।আর আমাদের ভালোবাসা কি এতোটা ঠুনকো তোমার কাছে?কয়েকটা মাস যোগাযোগ করি নি বলে..
কোথায় তোমার সো কল্ড স্বামী তোমার স্যার?ডাকো এক্ষুনি আমি এক্ষুনি তোমায় নিয়ে যেতে চাই!এক মিনিট ও তোমায় এখানে রাখবো না আমি।এ খুনির কাছে..

বাহিরে গেছে আমায় খুঁজতে..এসে পড়বে তুমি বসো আমি নাস্তা আনছি তোমার জন্য..

এক ফোঁটা পানিও গিলবো না আমি এ বাড়িতে..!তুমি বসো!
.
.
.
.
.
.
দারোয়ান চাচার কল পেয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে পলক।অপা এসেছে শুনে কলিজায় পানি ফিরে এলো।কিন্তু সাথের ছেলেটাকে কে?নয়ন নয় তো..চোখ মুখ শক্ত হয়ে এলো পলকের।হাতের মুঠ শক্ত করে বাড়ির ভেতেরে ডুকলো!

সোফায় বসে ছিলো অপা।একটানে দাঁড় করিয়ে ঠাসস ঠাসস করে দুগালে দুটো চড় বসিয়ে দিলো। কিছুটা দূরে ছিটকে পড়লো অপা।বাহু টেনে ধরে তুলে দাঁড় করালো!

কত বড় সাহস তোমার?কোথায় গিয়েছিলে না জানিয়ে..কত জ্বর খেয়াল আছে?কোথায় গিয়েছিলে বলো…

পলক…অস্পষ্ট সুরে কারো ডাকে পেছনে তাকালো পলক।

কলেজ লাইফের সেই বন্ধুকে এত বছর পর দেখে কিছুটা নয় অনেকটা অবাক হলো পলক!
দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরল!
.
.
.
.
.
তুই কি বলিস পলক?তুই যা বলবি তাই হবে..

তুই কি করে অপার সাথে রিলেশনে গেলি..

আসলে অপরাজিতা আর ওর বাবা দার্জেলিং গিয়েছিলো ট্রাভেলিংয়ে।আর সেখানেই পরিচয় তারপর অনলাইনে যোগাযোগ..

আমি তো জানি নয়নকে..

ভুল জানেন! আমি আপনাকে মোটেও দেখতে পারি না।অসহ্য একটা লোক আপনি..যার জন্য নয়নকের সাথে কথা বলি মিশি আমি..দেখুন এখন তো সব ক্লিয়ার আপনার কাছে…প্লিজ আমায় তিয়াসের সাথে যেতে দিন!আর যত দ্রুত সম্ভব ডির্ভোস ফাইল করুন পেপার এলে আমি সাইন করে দিবো!

দেখো অপা তুমি যদি ভেবে থাকো আমার পুরোনো বন্ধুর সাথে তোমার রিলেশন বলে তোমাকে তার হাতে তুলে দিবো তাহলে ভুল ভাবছো!এরকম কাপুরুষ আমি না!
তুমি যদি বলো তিয়াস ছাড়া মরে যাবে তাহলে আমি ই তোমায় মেরে ফেলবো সমস্যা নাই!

আর তিয়াস এসেছিস খাওয়া দাওয়া কর ঘুরাঘুরি কর তবে আমার বউকে ভুলে যা!ও শুধু আমার সম্পত্তি। আর আমার জিনিসে হাত দেয়া পরিনামে আমি কতটা ভয়ংকর হই তা অপার চেয়ে তুই ভালো জানিস!
তুমি কেমন তা অপার সামনে মেলে ধরতে আমায় বাধ্য করিস না!সম্মান নিয়ে ফিরে যা!

অপা উপরে চলো।জ্বর কমে নি।খেয়ে ঔষধ খেতে হবে।
চলো।অপার হাত ধরে টেনে উপর নিয়ে যাওয়া ধরল!

অপা পিছু ফিরে একটা কথাই বললো তিয়াসের উদ্দেশ্য… ভুল ভেবে ভুলে যেও আমায়!বিয়ে করে নিও!
.
.
.
.
.
মাথা চেপে ধরে সোফায় বসে আছে তিয়াস!অযথা এতগুলো বছর এমেয়ের পেছনে নষ্ট করেছে।এত এত টাকা সম্পত্তির আশায় ছিলো সব গেলো!
আগে যদি জানতো এই মেয়ে পলকের ওয়াইফ কোনোদিনও এ মুখো হতো না…সব পাওয়ার আশা তো গেলো সাথে গাড়ি ভাড়া আর পরিশ্রম টাও গেলো!
বিরক্তি নিয়ে পলকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো তিয়াস!

?
খেয়ে নাও অপা জেদ করো না..

আমি খাবো না!আমি কিছুতেই থাকবো না আপনার কাছে।আপনি একটা অসহ্য লোক!

হা করো…

যেভাবেই হোক এখান থেকে পালিয়ে তিয়াসের কাছে চলে যাবো আমি!তারপর দুজন মিলে অনেক দূর চলে যাবো!

সম্পত্তি-টাকা পয়সা ছাড়া তিয়াসের কাছে গেলে সে তোমায় চিনবেও না..

হোয়াট রাবিস..কি বলতে চাইছেন আপনি?

কিছু না!খেয়ে নাও..

পলকের হাত থেকে খপ করে বাটিটা নিয়ে গরম স্যুপ গিলে নিলো অপা।

আরে আরে থামো কি করছো বলতে বলতে অপা গিলে নিলো।গরম স্যুপে জিব গলার বেহাল অবস্থা।
উঠে মুঠো করে ঔষধ নিয়ে পাশের ঘরে চলে গেলো অপা।
ধুম করে দরজা আটকে দিয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লো।
গলায় অসম্ভব জ্বালা করছে।তার চেয়েও বেশি জিবে…!

নিজেকে নিজে এক ভয়ংকর প্রমিস করে বসলো অপা।যে করেই হোক ওই পলককে শিক্ষা দিয়ে তিয়াসের কাছে চলে যাবে ও!ওর ভালোবাসা কতটা স্ট্রং তা প্রমাণ করে ছাড়বে!
.
.
.
.
ফ্রেশ হয়ে চেঞ্জ করে পাশের রুমে গেলো পলক।দরজা অব্ধি এসেই বুঝলো ভেতর থেকে আটকানো।খুব সাবধানে বড় জানালা দিয়ে ভেতরে ডুকল।অপাকে এলোমেলো হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে রহস্যময় হাসি হাসলো পলক।আস্তে আস্তে কম্বলের নিচে শুয়ে পড়লো!
জ্বরটা কমছে।ভারী নিশ্বাস পড়ছে।অনেক আগেই ঘুমিয়ে গেছে তাহলে।আলতো করে অপাকে টেনে নিজের বুকে আনলো পলক।

চলবে_