ভালোবাসি পর্বঃ০৮

0
944

ভালোবাসি?
পর্ব_০৮
স্বর্ণালি_আক্তার_শ্রাবণ

?
আজ সাতদিন হলো অপা পলকের সাথে কথা বলে না।কোনো রকম কথা ই না!পলক কিছু বললেও হু হা করে নয়ত কিছু বলে না!
কারন?
তিয়াস চলে যাওয়ার দুইদিন পরেই পলক অপার জেদের কাছে হার মেনে অপাকে তিয়াসের সাথে দেখা করতে বলে!
অপা বেশ খুশি হয়েই যায় তিয়াসের সাথে দেখা করতে!
দেখা হলে অপা খুব উৎফুল্লতা নিয়ে বলে তিয়াস..ঝামেলা শেষ! চলো আমি তোমার সাথে যাবো।
তিয়াস মুখটা ঘোমরা করে বলে আমি তো বিয়ে করে ফেলেছি অপরাজিতা!
হোয়াট!
ইয়াহ!আমার কি দোষ বলো তুমিই তো বলেছিলে বিয়ে করে নিতে!
তুমি দার্জেলিং না গিয়ে বিয়ে করলে কেমনে?
না মানে আসলে..
আসলে?
আসলে আমার ছোট বেলার এক বান্ধবীর সাথে দেখা হয়েছে সিলেটে!ও বিয়ে থেকে পালিয়ে আসে।কারন ৫০ বছরের টাকলার সাথে ওর বাবা ওর বিয়ে ঠিক করেছিলো!বিয়ের দিন ও পালিয়ে আসে।আর আমি সিলেট ঘুরে তারপর বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলাম।আকস্মিক ভাবে দুজনের দেখা হয়ে যায়।দুদিন যেতেই…
বুঝেছি! থামো..
অপা..আহত দৃষ্টিতে অপার দিকে তাকায় তিয়াস।
অপা ঘুরে বাড়ি মুখো হয়!সেই অব্ধি এসে পলকের সাথে কোনো রকম কোনো কথা বলছে না অপা!
তার দৃঢ় বিশ্বাস এসব কারসাজির পেছনে পলকের হাত!
.
.
.
.
.
.
.
ছাদের এক কোণায় উদাসীন হয়ে বসে আছে অপা!পলক পুরো বাড়ি খুঁজে না পেয়ে ছাদে আসে।চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার।সিড়ির ধারের লাইটের হালকা আলোয় দেখা যাচ্ছে অপাকে।অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে অপার কাছে যেতেই মুখটা মলিন হয়ে যায় পলকের!
একদম শুকিয়ে গেছে অপা কয়েকদিনে।কেমন যেন মনমরা থাকে সারাক্ষণ!আগে কত প্রানবন্ত লাগতো অপাকে।যেন কথা বলা ময়না পাখি কিন্তু নাহ এখন সে অপা নেই!পলক অপার কাঁধে হাত রেখে বলে

অপা চলো খাবে চলো..

খাবো না!

জেদ করো না

আপনার সাথে জেদ করে লাভ কি!

তাহলে চলো..

খাবো না বললাম তো..

আচ্ছা খেও না!আমায় খায়িয়ে দিও বলেই অপাকে কোলে তুলে নেয় পলক!

আকস্মিকতায় হকচকিয়ে পলকের গলা আঁকড়ে ধরে অপা!

আপনি কথায় কথায় আমাকে কোলে তুলে নেন কেন বলেন তো!

কই কথায় কথায় কোলে তুলে নিলাম!

আপনার কি লজ্জা করে নাহ একজন টিচার হয়ে স্টুডেন্টকে বিয়ে করেছেন!

লজ্জা নারীর ভূষন আমি লজ্জা পেয়ে কি করবো?
আর তাছাড়া দুনিয়াতে আমি একাই কেবল স্টুডেন্ট বিয়ে করেছি এমনটা তো নয়!আর যদি করেও থাকি তাহলে আমি গর্বিত!কারন স্পেশাল একটা কিছু তো করতে পেরেছি নাকি..

আপনাকে কিছু বলাই বেকার!তা আমি কি আর কলেজ যাবো না?

নাহ!শুধু এক্সামের সময় যাবে!আর বাসায়ই পড়বে!

আপনি?

আমিও কলেজ যাবো না!কারন এতদিন কলেজ যাওয়া প্রয়োজন ছিলো কিন্তু এখন তো তুমি আমার কাছেই! তাই কলেজ যেয়ে কি করবো?

আমায় ভালোবাসেন?

কথা বলতে বলতে নিচে চলে এসে পড়ল পলক!অপাকে নিয়ে ডাইনীং এনে চেয়ারে বসালো।
নিজেও পাশের চেয়ারে বসল!
প্লেটে ভাত তুলে নিয়ে অপা আবারও প্রশ্ন করে বসল!কি হলো স্যার বললেন না যে..

কি বলবো?

আমায় ভালোবাসেন কিনা..

তুমি এটুকু মেয়ে ভালোবাসার কি বুঝো হ্যা!খাও চুপচাপ!হা করো..

অপা নিজের প্লেটে হাত না দিয়ে পলকের হাতে মুখ শক্ত করে খেয়ে নিলো।পলক উঠে যেতেই অপা পেছন থেকে বলল সব হাসবেন্ডরা তো তার ওয়াইফকে এত এত আদর করে কই আপনি তো আমায় আদর করেন না!

অপার কথায় কি রিয়েক্ট করা উচিত ভেবে পাচ্ছে না পলক।যে মেয়েটা কাল অব্ধি জেদ করে ছিলো কারন সে নাকি তিয়াসকে ভালোবাসে!আবার আজ অন্য কথা বলছে। আসলেই একদম বাচ্চাই রয়ে গেছে..

কি ভাবছেন স্যার?

কেমন আদর লাগবে তোমার..

এই আমি কি বলেছি আমার আদর লাগবে..!আর কেমন আদর লাগবে সেটাও কি শিখিয়ে দিতে হবে?

ভ্রু কুঁচকে অপার দিকে তাকিয়ে রইলো পলক!মেয়েটাকে সে গভীর ভাবে বুঝতে চাইছে কিন্তু বুঝে উঠতে পারছে না..

স্যার কোলে নিন তো!

কেনো?

পা ব্যাথা করছে!

পারবো না!

এমা একটু আগেই না নিলেন।নিন না একটু

করুন কন্ঠে বলায় পলক অপাকে কোলে তুলে নিলো।

বিছনায় বসিয়ে দিয়ে পলকও ল্যাপটপ নিয়ে বসে পরলো!

অপা ফোন টিপতে টিপতে বললো স্যার অফিস যাবেন না?

সাতদিন পর থেকে যাবো।আর স্যার স্যার করবে না।আমি এখন আর তোমার স্যার না।আমি কলেজ থেকে বেরিয়ে এসেছি!

স্যার একটু কোলে বসি?

পলক অবাক দৃষ্টিতে তাকালো অপার দিকে।কি হলো এ মেয়ের?ভুতেটুতে ধরল নাকি?ছুঁলেই লাফ মারে আর আজ কি হলো হঠাৎ?

এই কি হলো..

ল্যাপটপ কোল থেকে সরিয়ে অপাকে কোলে নিয়ে বসলো পলক।গুটিসুটি মেরে পলকের বুকে মাথা রাখলো অপা।যেন এক বিমল হাওয়া বয়ে গেলো পলকের বক্ষ জুড়ে!শান্তির আদল!

কাল সারারাত একটা কথা চিন্তা করেছি জানেন!চোখ বন্ধ করে বলল অপা!

পলক অপার চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে জিজ্ঞেস করল কি কথা?

সব কিছু ভুলে জীবনটা নতুন করে শুরু করবো!

আমিও তাই চাই মায়াপরী!

আমার নাম মায়া না মায়াপরীও না।অপা!অপরাজিতা রহমান!

আই নো!

স্যার

আবার স্যার

ওকে পলক

হু

আমার স্বপ্ন পুরনের সঙ্গী হবেন?

আমি তো জানি আমার পরীবউ ডক্টর হতে চায়।আমি সবসময় থাকবো তোমার পাশে..

কিন্তু এখন আমি ডক্টর হতে চাই না!গতকাল রাতে স্বপ্ন বদলে নিয়েছি!

তবে কি হতে চাও বলো?

চার পাঁচটা বাচ্চার মা!

অবাক হয়ে তাকালো পলক। চোখে মুখে বিস্ময়..

আমি কিন্তু জানি কি করে বাচ্চার মা হতে হয়!

মনে হলো শুকনো গলায় বিষম খেলো পলক।খুক খুক করে অনবরত কাশতে লাগলো!

আহ পলক থামুন তো!ন্যাকামি করতে হবে না!

পলকের কাশি তবুও থামলো না।কিছুটা রেগে মাথায় চাটি মারলো অপা।

পলক অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো অপার দিকে।

শুনুন আগে আমরা বন্ধু হবো।বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা হবে তারপর সংসার হবে তারপর বেবি প্ল্যানিং!ব্যাপারটা বেশ মজার তাই না!

এ মেয়েকে যতটা বাচ্চা ভেবেছিলাম ও ততটা বাচ্চা নয়!এ তো আমার থেকেও ফাস্ট.. বিড়বিড় করে বললো পলক!

উফফফ আপনি আমার কথাই শুনছেন না মন দিয়ে
বিরক্তি নিয়ে কথাটা বলেই অপা ঘুরে কপাল কুঁচকে পলকের দিকে তাকালো!

পলকের নজর আটকে গেলো তার পিচ্চির পিচ্চি ঠোঁট গুলোর দিকে।অপলক তাকিয়ে রইলো!পলকের এরুপ দৃষ্টিতে অপাও যেন স্থীর হয়ে গেলো।দুজনেই ঘোরের মধ্যে আছে!গরম নিশ্বাসগুলো পড়ছে শুধু!
দুই জোড়া ঠোঁট কাছাকাছি আসতেই স্ব শব্দে ফোন বেজে উঠলো পলকের!

হকচকিয়ে কোল থেকে উঠে ওয়াশরুমে দৌড় দিলো অপা।লজ্জায় তার মাথা কাটা যাচ্ছে! কি হতে গিয়েছিলো ছিঃ ছিঃ।
দুহাতে মুখ ঢেকে মিনিট বিশেক ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো অপা।কি যে লজ্জা লাগছে তার!মনে হচ্ছে হাত সরালেই পলক তার মুখটা দেখে ফেলবে!
বেশ কিছু সময় পর ফ্রেশ হয়ে আস্তে আস্তে দরজা খুলে উঁকি দিলো অপা।নাহ রুমে কেউ নেই। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে গুটিগুটি পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো!
পলকের রুমের পাশের রুমটাতেই ঘুমায় অপা!যদিও নয়টার মত বাজে তবুও চুপটি করে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে রইলো।এই মুহুর্তে পলকের সামনে সে যেতে পারবে না!

!!
অপা ভাবতে লাগল কিছুদিন আগেও যে লোকটাকে তার অসহ্য লাগতো ৩-৪ দিনের ব্যবধানে এখন আর তাকে অসহ্য লাগে না!
সব কিছু ভুলে জীবনে এগুতে চায় অপা!এ অসহ্য লোকটাই যে তার জীবনের পথচলার বিশ্বস্ত সঙ্গী ..!
মুচকি হাসলো!

ঘাড়ে কারো গরম নিশ্বাস পরতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল ।
পাশে পলক ঠোঁট চেপে মুচকি মুচকি হাসছে!

এ এ এই আ-আ-আপনি এখানে কেনো?

আমার বউ তোতলা? কই আগে জানতাম না তো..একটু দুষ্টুমি হাসি হেসে বলল পলক!

আমার সাথে শুয়েছেন কেন?

ভয় করছিলো!

কিহ

হুম…মন খারাপ করে বলল পলক

ডং করার জায়গা পান না?

এই তুমি না বলেছো আগে বন্ধুত্ব তারপর ভালোবাসার তারপর…
তাহলে দূরে দূরে থাকলে এসব হবে কি করে?

এবার দমে গেলো অপা।ঠিকই তো বলেছেন উনি দাঁতে নখ কাটতে কাটতে ভাবলো অপা!

অপা শুয়ে পড়ো..

ছোঁবেন না আমায়!

আচ্ছা শোও তো আগে..

অপা শুয়ে পড়ল একটু ডিসটেন্স রেখে!

কিছুক্ষণ পর অপার কোমড় টেনে একদম বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো পলক।অপা রাগী চোখে তাকিয়ে দেখলো পলক ঘুমে আছে!তার মানে ঘুমের ঘোরে তাকে কাছে নিয়েছে।মুচকি হেসে হাতে মুখ ডাকলো অপা!

পলক বিজয়ের হাসি হাসলো!

চলবে_