ভোরের কুয়াশা পর্বঃ০৪

0
966

ভোরের_কুয়াশা
#পর্বঃ৪
#Misty Meye(মরিয়ম)

——–কি বললে আমি শুনতে পাইনি।আর একবার বলোতো।

——–আশ্চর্যতো।আমিতো জোরেই বললাম।তবুও আপনি শুনতে পাননি?

———না আসলে,,,,আমার কানটা এখন একটু প্রবলেম করছে তাই আবার বলো?

———আমি খাবো।তাই আমায় আপনি খাইয়ে দিন।এবার শুনছেন।নাকি আবার বলতে হবে?(রেগে)

———-নাহ,,,,,এবার আমি শুনেছি।তো বসো।

———-কেনো।বসবো কেনো?

———-আমি কি তোমাকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাওয়াবো নাকি।যত্তসব।বসো তাড়াতাড়ি।(জোরে ধমক দিয়ে)

———–আহ,,,,বকছেন কেনো?ভালোভাবে বললেইতো হতো।

———–নাহ,,,,তোমাকে ভালোভাবে বললে কোন কাজ হয়না।তাই বকছি,,,,,,

———–(মুখ বাঁকিয়ে) হু,,,,,

———-হা করো।

এরপর আমি হা করে খাবার খেয়ে নেই।আর লোকটাও আমার সাথে সাথে খাবার খেয়ে নেয়।আচ্ছা লোকটার নামইতো জানি না।জিজ্ঞাসা করিতো কি নাম লোকটার।

———–এইযে,,,শুনছেন,,,,,,

———–হুম,,, বলো?

———–আচ্ছা বলছি যে আপনার নামটা কি?

———–মানে?তুমি আমার নামই জানো না।তাহলে বিয়ে করছো কিভাবে?

———–আমি তো বিয়ে করতেই চাইনি।না মানে তখন আপনার নামটা তেমন খেয়াল করিনি?বলুন না কি নাম?

———–আমার নাম ভো…..

লোকটা তার নাম বলতে গেলে আমি তার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলি,,,,,

————ভোলা, রাইট।জানতাম আপনার নাম এমনই একটা কিছু হবে।কিন্তু আপনার চেহারার সাথে তো আপনার নামটা ঠিক যায়না।ইমমম,,,,,,অবশ্য আপনিতো তখন ছোট ছিলেন।তাই হয়তো আপনার পরিবারের লোক এই নামটা রেখেছিলো।তাই না,,,,,,

বলে যেই লোকটার দিকে তাকিয়েছি অমনি দেখি লোকটা আমার দিকে রক্তচক্ষু দিয়ে তাকিয়ে আছে।

——-আমি কি কিছু ভুল বললাম,,,,,,,

——-কুয়াশা,,,,,,আমি আমার নাম এখনো বলিনি কিন্তু?(রেগে)

——-বলেননি তো কি হইছে আমি তো বললাম।কেনো হয়নি? (অবাক হয়ে)

——-আমি ভোলা হ্যাঁ।তোমার আমাকে দেখে এই নাম মনে হলো?

——-মনে হওয়ার কি আছে আপনিইইইতো বললেএএএন।(তখনই মনে হলো উনিতো ওনার পুরো নাম বলেননি)।ওহ সরি, সরি আচ্ছা বলুন আপনার নাম কি?

——-হুম,,,আমার নাম ভোর আহম্মেদ।

——-ওহ,,,,,ভোর।বাহ সুন্দর নাম।তা আপনার নাম এতো সুন্দর। কিন্তু আপনি এমন কেনো?

——-আমি কেমন মানে?(ভ্রু কুচকে)

——-না মানে,,,এইযে বদরাগী,বদমেজাজি । কথায় কথায় খালি রাগ দেখান, চোখ গরম করেন।

——– কুয়াশাাাাাাাাাাা।

——–আমি ঘুমাবো।(ভয় পেয়ে)

——–ঘুমাও না করছে কে?(বিরক্তি নিয়ে)

——–কই ঘুমাবো।

——–কেনো খাট কি তোমার চোখে পড়ছে না।

——– পড়েছে।তাহলে আপনি এখন বেড়িয়ে যান।আমি দরজা লাগাবো।

——-দরজা লাগাবে মানে।

——-বারে,,,,আমি একটা মেয়ে।আর আপনি ছেলে।তাই আমরা আলাদা ঘুমাবো।

——-আমরা আলাদা ঘুমাবোনা একসাথেই ঘুমাবো।

——-কিইইইই,,,,কেনো?কিসের জন্য এক সাথে ঘুমাবো?

——-আমার অধিকার আছে তাই,,,,,

——-কিসের অধিকার?

——–স্বামীর অধিকার।এখন থেকে যে আমি তোমার হ্যাজবেন্ড সেটা কি তুমি ভুলে গেছো নাকি।আর এখন থেকে তোমার সব কিছুতেই আমার অধিকার। অন্যকারো না।বুঝতে পারছো তুমি?

——–হু,,,,,হ্যাজবেন্ড।মানিইতো না।তাহলে আবার কিসের অধিকার।(মনে মনে)

এরপর লোকটা আমাকে বিছানায় ফেলে আমাকে জরিয়ে ধরে নিজেও শুয়ে পড়ে।

উফঃ অসহ্য।আমাকে জড়িয়ে ধরে শোয়ার কি আছে।আমি কি পালিয়ে যাবো নাকি।ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়েই যাই।

রাত তিনটা,,,,,,,,

হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।চোখ খুলে দেখি লুচুটা সেই আগের মতোই আমাকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।কি মিষ্টি লাগছে দেখতে।মুখটা কত্ত মায়া।গোলাপি ঠোট দুটোতে ইচ্ছা করছে এখনই চুমুই দিয়ে দিই।ঘুমন্ত মুখটা দেখে মনেই হচ্ছেনা এই লোকটা এতো রাগী।

———-কুয়াশা তুই কি করছিসটা কি?তোকে পালাতে হবে।ওর মায়ায় পড়ে গেলে চলবেনা।তোকে জোড় করে বিয়ে দিছে তোর বাবা।তার উপর ভোর তোকে চিটিং করে বিয়ে করছে।ও উঠে গেলে আবার তোরে বকা দিবে।সেটা কি তুই চাস।নো ওয়ে,,,,কোন মতেই আমি আর এই লোকটার সাথে থাকবো না।এ্যট এ্যানি কস্ট আমাকে পালাতেই হবে।(নিজে নিজেই ভাবছি আর বলছি।)

এরপর আস্তে করে ভোরের হাতটা সরিয়ে আমি আস্তে করে উঠে পা টিপে টিপে বাইরে এসে দিলাম এক দৌড়।ব্যাস আমাকে আর পায় কে।আমি অনেক দূড়ে চলে আসছি।আমিতো মনে মনে কত্ত খুশি।আহা কি আনন্দ আকাশে – বাতাসে।মনে মনে গান গাইছিলাম ঠিক তখনই মনে পড়লো আরে আমি তো আমার সাথে করে কিছুই আনিনি।আমার ব্যাগ, টাকা-পয়সা,মোবাইল কিছুই তো মনে নেই আনতে।আমার ব্যাগে তো পাসপোর্ট, দরকারি কাগজপএ সবই আছে।এই জন্যই মানুষ বলে বিপদের সময়ই কিছু মনে থাকে না।দূর,,,,,,এবার কি হবে।আবার যাবো। ওরে আল্লাহরে।যদি আমাকে ধরে ফেলে।নাআাাাাাাাাাাা।

দূর,,,,,,ভোলা থুক্কু ভোরতো এখন ঘুমিয়েই আছে।আমি টুক করে যাবো আর টুক করে জিনিসগুলো নিয়ে চলে আসবো।ওনি টের ও পাবেনা।হিহিহি।

এরপর আমি আবার ওইবাড়িতে যাই।আর আস্তে করে ঘরে ঢুকে আমার ব্যাগ প্যাক নিয়ে যেই বেড়িয়ে আসবো অমনিই আমার গালে ঠাস করে কেউ চড় বসিয়ে দেয়।থাপ্পড়টা এতোই জোড়ে ছিলো যে আমার ঠোট কেটে রক্ত পড়ছে।

আর আমি তখন,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

চলবে……………….