ভোরের কুয়াশা পর্বঃ১৪

0
861

ভোরের_কুয়াশা
#পর্বঃ১৪
#Misty Meye(মরিয়ম)

দূর ভালো লাগে না,,,, মেজাজটাই গরম হয়ে যায়।

সারাদিন এভাবে কাটিয়ে রান্নাবান্না করে বসে আছি।কিন্তু ভোরের আসার কোন নামই নাই।আমি ওর জন্য অপেক্ষা করতে করতে সোফায়ই ঘুমিয়ে যাই।রাত দশটায় গাড়ির আওয়াজ শুনে ঘুম ভাঙে।আমি উঠে দরজা খুলে দেখি ভোরকে কয়েকজন মিলে ধরে ঘরে ঢুকছে।ভোরের হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ করা।এক মুহূর্ত আমার মনে কিছুটা ভয় হয়।ভোরের কি হলো ভেবে।লোকগুলো ভোরকে ঘরে শুইয়ে নিচে এসে আমাকে বলে ভোর ড্রাইভ করতে গিয়ে ছোট একটা এক্সিডেন্ট করেছে।আর হাতে পায়ে চোট পেয়েছে।ডাক্তার বলেছে কিছুদিন রেস্ট আর যত্ন নিলে ঠিক হয়ে যাবে।তারপর লোকগুলা চলে যায়।

ভোর খাটের একপাশে শুয়ে আছে।আমি আস্তে আস্তে ওর পাশে গিয়ে বসলাম।ওর হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ দেখে আমার মনের কোথাও যেন খুব কষ্ট লাগছে।কি জানি কেনো?এখনতো আমি ইচ্ছা করলেই পালাতে পারি কিন্তু আমি কেনো জানি পালাতে পারছিনা।ভিষন কান্না পাচ্ছে আমার।

ভোর আমাকে এভাবে দেখে বলল,,,,

___কি হলো,,,,, তুমি এভাবে বসে আছো কেনো?

___আপনার এগুলা কিভাবে হলো,,,,,(ব্যান্ডেজের দিকে ইশারা করে)

___আসলে,,,,আমার একটা ইম্পরট্যান্ট কল আসছিলো আর ফোনটা রিসিভ করতে গিয়েই এক্সিডেন্ট।

___আপনাকে ফোন রিসিভ করতে কে বলেছিলো।গাড়ি থামিয়েও তো রিসিভ করতে পারতেন।তাই না,,,,,(রেগে)

___হুম,,,,বাট তখনতো এতো কিছু মাথায় ছিলোনা।

___তখনতো এতো কিছু মাথায় ছিলোনা,,,,,এখন ভালো হয়েছেনা।হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়ে বসে থাকতে।(জোরে)

___এখন তুমি আমাকে এগুলা বলবা।আমার কিন্তু খুব ক্ষুধা লাগছে কুয়াশা ।কিছু কি রান্না করছো।

___হ্যা করেছি।আপনি একটু বসুন আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি।

তারপর আমি চলে যাই খাবার আনতে।ভোরের খাবার নিয়ে এসে,,,,

___এইযে নিন আপনার খাবার।ওহ,,,আপনিতো আবার খেতে পারবেন না।হাত,পা ভেংগে আসছেন।দাড়ান আমি খাইয়ে দিচ্ছি।

তারপর আমি ভোরকে খাইয়ে দিই।

___তুমিওতো খাওনি।আমার সাথে তুমিও খেয়ে নাও।

___না আমি পড়ে খাবো।

___না,,,আমার সাথেই খাও।

তারপর আমিও খেয়ে নেই।খাওয়া শেষ করে ভোর আর আমি শুয়ে পড়ি।

___কুয়াশা,,,,আজকে কিন্তু তুমি চলে যেতে পারতে।

___হুম তো,,,,

___তো গেলে না যে।

___শুনুন,,,, আমার ইচ্ছা করছে না তাই যাইনি।আর আমি আপনার মতো খারাপ না যে চোখের সামনে অসুস্থ কাউকে রেখে চলে যাবো।

___তাহলে তুমি যাবেনা বলছো।

___যাবোনা কখন বললাম,,,আমি কিছুদিন পড়েই চলে যাবো।মানে আপনি সুস্থ হলে আরকি,,,,

___ঠিক আছে,,,,,দেখা যাবে।(তুমি আমাকে ভালোবেসে ফেলেছো কুয়াশা।তা তুমি নিজেও জানো না।কিন্তু আমি তোমার মুখ থেকে কথাটা ঠিক বের করবো।মনে মনে)

এইকদিন ভোর একেবারেই বেড রেস্টে ছিলো।কুয়াশা ও সারাক্ষন ভোরের পাশে পাশেই ছিলো।ভোরের খাওয়া দাওয়া,ঔষুধ সবকিছু কুয়াশাই দেখেছে।এখন ভোর অনেকটায় সুস্থ।এ কয়েকটাদিনে ভোরের প্রতি কুয়াশার মায়া পড়ে গেছে।এখন কুয়াশা ইচ্ছা করলেও ভোরের থেকে পালাতে পারেনা।

___কুয়াশা।(ভোর)

___হুম,,,,কিছু বলবেন?

___তুমি কি আমাকে এখনো ভালোবাসোনা।

___আগেও ভালোবাসিনি,এখনো বাসিনা আর ভবিষ্যৎ এও ভাসবোনা। বুজেছেন।

___হুম।বুঝলাম।

___কি,,,,,বুঝছেন।

___কিছুনা।

এখন ভোর সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় অফিস চলে যায়।আর আমি দরজা লাগিয়ে দেই।ভোর এখন আর বাহির থেকে দরজা লাগিয়ে যায়না।কিছুক্ষন পরেই আবার কলিং বেলের আওয়াজে দরজা খুলে দেখি ভোর ব্যাগ ভর্তি বাজার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

___একি,,,আপনি না অফিসে গেলেন।তাহলে আবার এতো বাজার নিয়ে বাসায় আসলেন কেনো?

___আগে দরজার সামনে থেকে সরো।তারপর বলছি।

___ওহ,,,,হ্যা সরছি।(দরজার সামনে থেকে সরে)

___এবার বলুন,,,,এগুলা কিসের জন্য,,,

___আমার এক ফ্রেন্ড আসবে।তাই,,,,

___ওহ,,,,,আচ্ছা।

___হুম।নাও এগুলা রান্না করে ফেলো।আর ভালো করে রান্না করবে কিন্তু।ও কিন্তু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।আমেরিকা থেকে আসছে।

___হু,,,ভালো করেই রান্না করবো।

তারপর আমি রান্না করতে শুরু করি।তারপর রান্না শেষ করে গোসল করে নেই।আর ভোরতো সেই আগে থেকেই রেডি।এমন সেজেছে যেন নতুন বউ আসছে।হু,,,,

দুপুরে,,,,,

কলিং বেল বাজলে আমি দরজা খুলতে গেলে রাজ আমার আগে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেয়।দরজা খুলে একটা হাসি দিয়ে দরজার ওপর পাশের ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরে।আর অপর ব্যক্তিও ভোরকে জরিয়ে ধরে।

আর এদিকে কুয়াশা জ্বলেপুড়ে শেষ।কুয়াশার চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে।কারন ওইটা বন্ধুনা, ওইটা ভোরের বান্ধুবি।

___লুচ্চা পোলা।বউ থাকতে আরেকটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরতে তোর লজ্জা লাগেনা।ওনার নাকি ফ্রেন্ড আসবে।আগে যদি জানতাম ফ্রেন্ডটা মেয়ে তাহলে এতো সুন্দর করে রান্নাই করতাম না।আর তোর মেয়ে ফ্রেন্ডেরই বা জরিয়ে ধরার কি আছে যত্তসব।(আমি)

ভোর এমন ভাব করছে,,,যেন কুয়াশা এখানে নেই।ও কুয়াশাকে দেখতেই পারচ্ছেনা।

___রিমি বাইরে কেনো?ভেতরে চলো।(ভোর)এতো দেরি হলো কেনো তোমার।

___আর বলোনা ভোর।এখানে যে জ্যাম, আড়াই ঘন্টাতো রাস্তায় চলে গেলো।তাই আসতে একটু দেরি হয়ে গেলো।(ভেতরে আসতে আসতে)।

___ও,,,,কুয়াশা,,,,,রিমির লাগেজগুলা ভেতরে নিয়ে যাও।

___কিইইই,,,আমি কেনো?

___তাহলে কে নিবে,,,,এখানে তুমি ছাড়া আর কেউ নেই।তাই এগুলা তুমিই নিবা। যাও আমার রুমের পাশের রুমটায় ও থাকবে।এইগুলা ওইখানে নিয়ে যাও।

___রিমি,,বসো।অনেক দিন তোমার সাথে সামনা -সামনি দেখা ও জমিয়ে গল্প করা হয়নি।আজকে আমরা জমিয়ে গল্প করবো।

___হ্যা,,,আমিও তো।জানো ভোর,,,আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি। তাইতো আর থাকতে না পেরে সোজা আমেরিকা থেকে তোমার কাছে চলে আসলাম।

___হুম,,,,,।আর তাছাড়া এখন না আসলেওতো পরে তোমাকে ঠিকিই আসতে হতো।

___তার জন্যইতো আগে চলে আসলাম।আমাকে তো আগে থেকেই সব দেখে নিতে হবে তাই না।(রিমি)

___আগে থেকে দেখার কি আছে।আসছে, কয়দিন থাকবে তারপর আবার চলে যাবে।এতো দেখাদেখির কি আছে বুঝলাম না।মনে মনে।(আমি)

___কি হলোটা কি কুয়াশা।কি বললাম। এখনো যাচ্ছোনা কেনো?আর শোন এগুলা রেখে রিমির জন্য কোল্ড ড্রিংক নিয়ে আসো।ও অনেক জার্নি করে আসছে।(ভোর)

___হ্যা যাচ্ছিতো।(এহ,,,,কোল্ড ড্রিংকস নিয়ে আসো,,,,কচু নিয়ে আসবো।ওমাগো,,,,এতো ব্যাগ কেনো নিয়ে আসছে মেয়েটা।কতো ভারি ব্যাগগুলা।কয়দিন থাকবো?এতো ব্যাগ নিয়ে আসছে যেন মনে হচ্ছে যেন অনেক বছর থাকবে।ভোরের এতোই যখন দরদ নিজেই পারতো আদরের ফ্রেন্ডের ব্যাগগুলা উপরে রেখে আসতে।)

তারপর আস্তে আস্তে সব গুলা ব্যাগ আমি সিঁড়ি বেয়ে ঘরে দিয়ে আসি।আমাদের পাশের ঘরে মেয়েটাকে রাখার কি আছে।তারপর আমি নিচে এসে ড্রিংকস নিয়ে ড্রইং রুমে গিয়ে দেখি ভোর আর রিমি গল্প করছে আর জোরে জোরে হাসছে।ওরা খুব কাছাকাছি বসছে।আর একটু আগালে একদম দুইজনের গা মিশে যাবে।

___ভোরের বাচ্চা ভোর,,,,তোরে আজকে আমি,,,,,,,,,,,,,,,,

চলবে…………………….