ভোরের কুয়াশা পর্বঃ১৫

0
815

ভোরের_কুয়াশা
#পর্বঃ১৫
#Misty_Meye(মরিয়ম)

___ভোরের বাচ্চা ভোর। তোরে আজকে আমি মাইরাই ফেলবো।অসভ্য ছেলে,লুচ্চা ছেলে,বেয়াদব ছেলে।আজকে তুই খালি একবার আমাকে জরিয়ে ধর দেখবি আমি কি করি।আমাকে খাইয়ে দিতে আসলেও আমি খাবোনা।হু,,,,,,,

আমি শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওদের কথা শুনছি।ইচ্ছা করছে দুইটার মাথা ফাটিয়ে দেই।ওদের গল্প শেষ হলে ভোর বলে,,,,,

___কুয়াশা আমাদের জন্য খাবার বাড়ো।রিমি তুমি চলো আমি তোমাকে তোমার রুমে নিয়ে যাই।

___আচ্ছা,,,, চলো ভোর।আমার খুব টায়ার্ড লাগছে।

___হুম,,চলো।

তারপর ভোর রিমিকে নিয়ে উপরে চলে যায়।আর আমি সব খাবার রেডি করছি।

___এহ,,,,কুয়াশাই সব করবো।কেনরে কেন,,,,,কুয়াশাই কেনো করবো।তোর ফ্রেন্ড তুই কর।গল্প করার সময়তো কুয়াশারে লাগেনা।তাহলে কাজ করার সময় কুয়াশারে কেন লাগবো তোর।কুত্তা, বিলাই,ছাগল।তোর জিবনেও ভালো হবে না।বউ রাইখা অন্য মেয়ের সাথে মিশা,,,,,তোর কপালে বউ জুটবো না।দজ্জাল বউ হইবো তোর।দূর,,,,,আমি নিজেইতো নিজেরে বলতাছি।(একা একাই বিড়বিড় করে বলছি)

তারপর আমি খাবার টেবিলে সাজিয়ে বসে আছি।দূর ভোর এখনো আসে না কেনো?আল্লাহগো ওই মাইয়া আর ভোরতো এক সাথে।না না,,,, ওদের একা থাকতে দেওয়া যাবে না।আমার জামাই আমারেই আগলাইয়া রাখতে হবে।বলে যখন উঠতে যাবো, তখন দেখি,ভোর আর রিমি আসছে।

___রিমি বসো,,,,(ভোর)

এরপর রিমি বসে পড়ে।আর ভোরও বসে।ওরা পাশাপাশি বসছে।

___কি হলো কুয়াশা,,,,তুমি এখনও খাবার সার্ব করোনি কেনো?

___এইতো,,,,করছি,,,,,

এরপর আমি খাবার পরিবেশন করে ভোরের সামনের চেয়ারে বসেছি।জানি এখন ভোর আমাকে খাইয়ে দিতে চাইবে।কিন্তু আমি খাবোনা।হুম,,,,,দেখি তুই কেমনে খাওয়াস আমারে,,,

ওমা,,,,ভোর আর রিমি খাওয়া শুরু করে দিছে।ভোরতো আমার দিকে একবারো তাকাচ্ছেও না।ওরে বাবারে,,,,মাঝে মাঝে রিমিকেও খাইয়ে দিচ্ছে।আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে।আর আমি যে বসে আছি আমাকেতো দেখছেই না।

___ওই খাটাশ,,,,,, আমাকে খাওয়াবিনা(মনে মনে)

ভোর রিমির প্লেটে বেশি বেশি খাবার দিচ্ছে।শয়তান মাইয়া না না করছে তবুও ভোর শুনছেনা।দিচ্ছেতো দিচ্ছেই।

ওরা খাওয়া শেষ করে উপরে চলে যায়।আর আমি চেয়ারেই বসে আছি।আমার ভিষন মন খারাপ হচ্ছে।মরে যেতে ইচ্ছা করছে।আমি না খেয়েই উপরে চলে যাই।

রাতে ভোর রুমে এসে শুয়ে পড়ে।অন্যসময় আমাকে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ঘুমায়।আর আজকে একা একাই ঘুমিয়ে পরছে।আমাকে ডাক দেয়ার প্রয়োজন মনে করলোনা।বজ্জাততো তাই।

তারপর আমিও লাইট অফ করে শুয়ে পড়ি।আমি যতই ভোরের কাছে যাই ভোর ততই দূরে চলে যায়।কেমনডা লাগে।অন্যসময় আমি দূরে থাকতাম আর ভোর আমাকে কাছে টেনে নিতো।আর এখন!

এসব ভাবতে ভাবতে আমিও ঘুমিয়ে পড়ি।কিছুক্ষন পর কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে আমি চোখ খুলি। দেখি ভোর আমাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে।মুহূর্তে আমার মন ভালো হয়ে যায়।আমিও যখন ভোরকে জরিয়ে ধরবো ঠিক তখনই ভোর উঠে বলে,

___সরি কুয়াশা।আমি ইচ্ছা করে করিনি।ঘুমের ঘোরে তোমাকে জরিয়ে ধরছি।

___কিইইইইই,,,,,আপনি ঘুমের ঘোরে আমাকে জরিয়ে ধরেছেন।ইচ্ছা করে না।

___নাহ,,,,,,

___ওহ,,,,(আবারো মনটা খারাপ হয়ে যায়)

সারারাত আমি না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিলাম।আমি সকাল ভোরে উঠে নামাজ পড়ে ছাদে চলে যাই।আমার ভিষন কষ্ট হচ্ছে।হাত পা ছুরে কাঁদতে ইচ্ছা করছে।এভাবে ভোরের আমাকে এভোয়েড করাটা আমার একদম সহ্য হচ্ছেনা।চুপচাপ অনেকক্ষন বসে থেকে নিচে গিয়ে নাশতা বানিয়ে ফেলি।

রিমি আর ভোর নিচে এসে নাশতা করে নেয়।এবারো ভোর আমাকে ডাকলো ও না।সেই শাঁকচুন্নিটাকে নিয়েই নাশতা করলো।

___কুয়াশা,,,,(ভোর)

___(নিশ্চয় আমাকে খেতে বলবে, মনে মনে)একটা মুচকি হাসি দিয়ে,,,,,কি, বলুন।

___আজকে রিমি আর আমি একসাথে অফিস যাবো।আমরা ওখানেই খাবো।আজকে তুমি আমাদের জন্য খাবার বানিয়ো না।

___ওহ,,,,এইটা বলার জন্য আমাকে ডাকলেন।

___হুম,,,কেনো? তুমি কি ভাবছো?

___কিছুনা।,,,, (আজকে সারাদিন রিমি আর ভোর এক সাথে থাকবে।???)

ওরা দুইজন বাইরে চলে গেলে আমি খেতে বসে পড়ি।কিন্তু খাবার গলা দিয়ে নামছেই না।ভোর আমাকে এখন আর আগের মতো ভালোবাসেনা।একটুও ভালোবাসে না।আমি থাকবো না।(কান্না করতে করতে উঠে উপরে গিয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে অনেক্ষন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়েই পড়ি।)

সন্ধ্যায় ঘুম ভাঙলে আমার প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলে আমি শাওয়ার নিতে ঝর্নার নিচে বসে পড়ি।প্রায় দুইঘন্টা পর বের হই।বের হয়ে নিচে গিয়ে অল্প কিছু শুকনা খাবার খেয়ে একটা নাপা এক্সট্রা খেয়ে নেই,গায়ে হালকা জ্বর থাকায়।

রাত আটায়,,,,,

কলিংবেল বাজলে আমি দরজা খুলে দিয়ে ভিতরে চলে যাই।আজকে আমার একদম ভালো লাগছেনা।আমি দরজা খুলে দিয়ে আবার উপরে গিয়ে শুয়ে পড়ি।ভোর বিষয়টা খেয়াল করেও করেনি।দুইজন এসেই রিমির ঘরে ঢুকে যায়।অনেকক্ষন থেকে ঘরে এসে ঘুমিয়ে পড়ে।

সকালে আমি,,,,,,,,,,,,,,,

চলবে………………..