শালিকা যখন বউ part_17+18

0
1031

শালিকা_যখন_বউ
#part_17+18
#Written_by_Adnan_Sami_Raj

নিশিঃ ও শুধু আমার আর কারো না। তাই আপনি ওকে ছোয়ার চেষ্টাও করবেন না।

আমিঃ প্লিজ নিশি আমার বাচ্চাকে একটু কোলে নিতে দাও।

নিশিঃ আপনার বাচ্চা। হাসালেন মিস্টার রাজ। ও শুধু আমার বাবু আর আমি ওর মা এবং আমিই ওর বাবা।

আমিঃ নিশি প্লিজ (অনুরোধ এর সুরে)

নিশিঃ না আমি ওকে কোনো অপরিচিত লোকের কাছে দিবো না।

আমিঃ তুমি কাকে অপরিচিত বলছো নিশি। তুমি যানো না আমি ওর কে হয়।

নিশিঃ না জানিনা,,আর জানতেও চাইনা। তাই ভালোই ভালোই বলছি এখান থেকে চলে জান নয়তো আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না।

আমিঃ তুমি মানো নাকি না মানো আমি ওর বাবা আর এটাই সত্যি।

নিশিঃ বাবা তাই না,,, এই বাবার অর্থ টা মানে আপনি জানেন। যে নিজের স্ত্রীকে বিলিস না করে অন্য লোকের কথা শুনে নিজের অন্তসত্তা স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বাইর করে দেই তার কোনো বাবা হওয়ার যোগ্যতা নেই বুঝেছেন আপনি।

আমিঃ নিশি আমি মানছি আমি ভুল করেছি তাই বলে কি তুমি আমাকে আমার বাচ্চার থেকে আলাদা করে দেবে( কান্না করতে করতে)

নিশিঃ আপনি আর একবার ও ওকে নিজের বাচ্চা বলবেন না। এই ১ বছর আমিই ওর বাবা মা দুটোই ছিলাম আর ভবিৎষতেও থাকতে পারবো( অনেক চিল্লাই কথা গুলো বলল)

আমিঃ প্লিজ নিশি আমাকে ক্ষমা করে দাও এরকম ভুল আমি আর কোনোদিন করবো না ( এই বলে আমি ওকে নিজের বুকের মাঝে টেনে নিই)

নিশি কিছুক্ষন আমার বুকের মাঝে থেকে পরক্ষনেই নিজেকে ছাড়িয়ে নেই আর বলে

নিশিঃ ও বুঝেছি আপনি কেন এখানে এসেছেন। আপনি আমার শরির টা ভোগ করতে চান এই তো। এর আগেও একবার করেছিলেন তাই না। ওকে আমি নিজেই আমার সব বিলিয়ে দিচ্ছি তবুও আপনি আমার আর আমার সন্তান এর মাঝে আসবেন না ( বলেই নিজের শাড়ির আচল নিচে ফেলে দিলো আর বলল)

নিশিঃ নিন শুরু করুন (কান্নারত অবস্থাই)

আমি এবার নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করতে না পেরে নিশির গালে জোরে একটা চর মারি আর বলি।

আমিঃ তুমি এমন টা ভাবলে কি করে নিশি। তুমি আজ প্রযন্ত এই চিনলে ঠিক আছে তুমি যখন বলছো তবে আমি তোমাদের জীবন থেকে অনেক দূরে চলে যাবো। তার আগে প্লিজ একবার আমার ছেলেকে আমার কোলে দাও।

নিশি কিছুক্ষন কি যেন একটা ভাবল তার পর বলল।

নিশিঃ শুধু একবার তার বেশি না।

তারপর আমি আমার ছেলেকে কোলে তুলে নিলাম আর ওকে কোলে নেওয়ার পর যেন মনে হলো পুরো পৃথিবীর সুখ আমার কোলের মাঝে আবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু এটা বেশি সময় স্থায়ি হলো না নিশি আমার কোল থেকে বাচ্চা কে কেড়ে নিয়ে বলল।

নিশিঃ এবার জান আর কোনো এখানে আসবেন না।

আমি কিছু বললাম না শুধু বললাম নিজের ও বাবুর খেয়াল রেখো তারপর সেখান থেকে চলে আসলাম।


নিশির বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসলাম আর ভাবতে লাগলাম নিশি আমাকে এতটুকু ও বিশ্বাস করে না ও কেমন করে ভাবতে পারলো যে আমি ওর শরির কে। নাহ নিশির সামনে আমি আর কোনো দিন যাবো না। নিশিও তো এটাই তবে তাই হোক।

এমন সময় রবির ফোন আসে আর ও বলে।

রবিঃ কিরে রাজ কোথায় আছিস তুই সেই কখন থেকে ফোন দিয়ে যাচ্ছি।

আমিঃ হুম,,তুই আমার অফিস এ এখুনি আই আর সাথে করে একজন উকিল কেউ নিয়ে আসিস।

রবিঃ আমি না হয় আসবো তবে উকিল কে কেন নিয়ে আসবো তাই তো বলবি

আমিঃ এত কথা না বলে তোকে যা বলছি তুই তাই কর। (এই বলে আমি ফোন কেটে দিই আর নিজের অফিস এ চলে আসি)

কিছুক্ষন পরে রবি আর উকিল আসে তখন আমি বলি।

আমিঃ উকিল সাহেব আমি একটা উইল করতে চাই।

উকিলঃ হুম বলুন কিসের উইল করবেন।

আমিঃ আমি এই কম্পানীর অর্ধেক আমার ছেলে আর বাকি অর্ধের আমার স্ত্রী নামে করে দিতে চাই আর সেটা আজ রাতের মধ্যেই।

রবিঃ কি বলছিস কি এসব তোর মাথাটা কি ঠিক আছে।

আমিঃ হুম আমি ঠিক বলছি আর আমার মাথাও ঠিক আছে।( যেহুতু আমার আব্বুর আলাদা কম্পানি আছে তাই কোনো প্রবলেম নাই)

উকিলঃ ওকে আপনি যখন বলছেন তখন তাই হোক।

তারপর উকিল সাহেব সকল ফর্মালিটি পূরণ করে দেই। আর আমি ম্যানেজার কে ফোন করে বলে দিই যে নিশি এখন থেকে এই কম্পানীর মালিক।


তারপর আমি রবি কে বলি

আমিঃ রবি আমার জন্য যত তারতারি পারিস একটা লন্ডন এর ফ্লাইট এর টিকিট বুক করে দে আর সেটা আজ রাতের মধ্যে হলেই ভালো হয়।

রবিঃ মানে তুই লন্ডন এর টিকিট কি করবি??

আমিঃ আমি এদেশে আর থাকবো না তাই লন্ডনে যাবো।

রবিঃ কিন্তু…

আমিঃ কোন কিন্তু নই আর হ্যা কেউ যেন জানতে না পারে আমি কোথাই আছি। তুই কাউকে বলবি এটা আমার কসম।

রবিঃ হুম ঠিক আছে।

তারপর রবি একটা টিকিট এর ব্যাবস্থা করে দেই আর আমাকে এয়ারপোর্ট এ থুতেও যাই আর বলে।

রবিঃ ওখানে পৌছে আমাকে ফোন দিবি। আর আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করবি না কিন্তু ( কান্না করে বলল)

আমিঃ হুম করবো ( এবার আমি ওকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকি)

কিছুক্ষন পরে আমার ফ্লাইট তাই আমি প্লেনে গিয়ে বসি। আর প্লেন ও টেক অফ করে।

যেহুতু আমি লন্ডন থেকে লেখা পড়া শেষ করেছি তাই এখানে আমার অনেক ফ্রেন্ড ই আছে তাই আমি সেখানে পৌছে আমার এক ফ্রেন্ড কে কল দিই আর সে আমাকে এয়ারপোর্ট থেকে পিক করে নিয়ে যাই। আমার ফ্রেন্ড এর লন্ডনে একটা কম্পানি আছে তাই সে আমাকে সেখানে কাজ দেই।

আমি লন্ডনে এসেছি দুদিন হলো এর মধ্যে রবির শুধু রবির সাথেই কথা হয়েছে।


অন্যদিকে নিশি প্রায় দুদিন হলো অফিস এ যাই না। আর সে একদিন বিকেলে তার ছেলে কে নিয়ে বাইরে ঘুর‍তে বের হয় আর তখনই তার মীম এর সাথে দেখা হয় আর মীম নিশিকে দেখা মাত্র জড়িয়ে ধরে আর কান্না শুরু করে দেই এভাবে কিছুক্ষন দুজন কান্না করতে থাকে তারপর মীম নিশির কোলে বাবু দেখে বলে।

মীমঃ এটাই বুঝি আমার পুচকু।

নিশিঃ হুম রে।

মীমঃ দেখতে তো একেবারে ওর বাবার মতো হয়েছে।

নিশিঃ প্লিজ মীম ওর নাম টা আর বলবি না।

মীমঃ কেন রে??

নিশিঃ তুই কিছুই জানিস না ও আমার সাথে কি করেছে।

মীমঃ আমি সব জানি রাজ ভাইয়া আমাকে সব বলেছে।

তারপর মীম নিশিকে সব সেদিন কার কথা সব খুলে বলে আর কথা গুলো শুনে নিশিও কান্না শুরু করে দেই আর বলে।

নিশিঃ আমি কিভাবে পারলাম…..

চলবে..?

#শালিকা_যখন_বউ
#part_18
#Written_by_Adnan_Sami_Raj

নিশিঃ আমি কিভাবে পারলাম ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করতে,, তাহলে কি সেদিন ও এই কথাই বলতে এসেছিল( কান্না করতে করতে বলল)

মীমঃ তুই কি বলছিস আমি কিছুই বুঝতে পারছি না kindly একটু পরিষ্কার করে বলবি যে কার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিস?

নিশিঃ হুম বলছি ( এখনও ওর কান্না থামে নাই)

তারপর নিশি সেদিন ঘটে যাওয়া ওর আর রাজের সকল ঘটনা গুলো বলে। সব কথা শোনার পরে মীম বলে।

মীমঃ যা হওয়ার হয়ে গেছে তুই কালকে গিয়েই রাজ ভাইয়ার কাছে মাফ চাইবি।

নিশিঃ ওকে আমায় মাফ করবে ( জিঙ্গাসু দৃষ্টিতে)

মীমঃ অবশ্যই করবে। আর এখন বাড়িতে যা কাল দেখা হচ্ছে।

তারপর নিশি ও তার ছেলে বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে আসার পর থেকেই নিশি অনেকটা খুশি যার মূল কারন ভালোবাসার মানুষ কে ফিরে পাওয়া। নিশি ভাবতে শুরু করে দিয়েছে কালকে কি হবে।

কিন্তু নিশি হয়তো এটা জানে না যে কালকে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে।


পরের দিন সকালে নিশি একদম রাজের পছন্দ মতো সাজে। নীল শাড়ি নীল চুরু হাল্কা মেকাপ কিন্তু ঠোটে কোনো প্রকার লিপস্টিক দেয় নি কারন রাজ লিপস্টিক দেওয়া পছন্দ করে না। সাজ গোজ শেষে নিশি নিজেকে নিজে দেখেই লজ্জা পাই কারন আজ প্রায় ১ বছর পরে ও এরকম ভাবে সাজলো। কিছুক্ষন নিজেকে আয়নাই দেখার পরে নিশি অফিস এর উদ্দেশ্যে রওনা দেই।

অফিস এ পৌছে নিশি অবাক হয়ে যাই কারন সবাই নিশি কে সালাম দিচ্ছে কিন্তু এসব নিয়ে নিশির কোনো মাথা ব্যাথা নেই সে শুধু তার প্রিয় মানুষ টির অপেক্ষা করতে থাকলো।

নিশি অফিস এ এসেছে প্রায় ঘন্টা খানেক হলো কিন্তু এখনও রাজ আসে নাই। তাই এবার নিশির বেশ চিন্তা হচ্ছে তাই সে ম্যানেজার এর কাছে যাই আর বলে।

নিশিঃ আচ্ছা এখনও রাজ অফিস এ আসে নাই কেন।

ম্যানেজারঃ রাজ স্যার তো গত তিন দিন ধরেই অফিস এ আসে না ম্যাম।

নিশিঃ মানে অফিস এ আসে না কেন। আর আপনি আমাকে ম্যাম কেন বলছেন?

ম্যানেজারঃ অফিস এর বস কে ম্যাম বলবো না তো আর কি বলব।

নিশিঃ কি বলছেন এসব আর কে অফিস এর বস।

ম্যানেজারঃ আপনি আমাদের অফিস এর নতুম বস। আর এই অফিস আপনার ও আপনার ছেলের নামে রাজ স্যার লিখে দিয়ে গেছেন।

নিশিঃ মানে লিখে দিয়ে গেছেন। কোথায় গেছেন উনি ( বেশ বিচলিত হয়ে)

ম্যানেজারঃ সেটা তো আমি জানি না আর গত তিনদিন ধরে ওনার ফোন টাও বন্ধ দেখাচ্ছে।

নিশিঃ কি বলছেন এগুলো ওনার ফোন বন্ধ দেখাচ্ছে মানে (প্রায় কান্না করে দিয়েছে)

ম্যানেজারঃ হুম আমি ঠিক বলছি (তারপর ম্যানেজার চলে যাই)

ম্যানেজার এর কথা শুনে নিশি ধপাস করে চেয়ার এ বসে পড়ে। আর ভাবতে লাগে তাহলে কে আবার রাজ কে হারিয়ে ফেলল। না এ হতে পারে না। আমি রাজ কে কিছুতেই হারাতে দিবো না।

তারপর নিশি অফিস থেকে বের হয়ে যাই আর ওর বাসাই চলে যাই বাসাই গিয়ে নিজের ছেলে কে নিয়ে রাজের বাসাই চলে আসে। আর যেহুতু রাজ এর মা জানে যে নিশি আর রাজ এর একটা ছেলে আছে তাই তিনি নিশিকে দেখা মাত্র কাছে টেনে নেই আর বলে।

রাজের মাঃ কোথাই ছিলি মা এতদিন আমাদের কথা কি এবারও মনে পরে নি।

নিশিঃ মনে তো অনেক পড়েছে কিন্তু আসার অধিকার টা ছিল না।

আম্মুঃ হুম হয়েছে আর বলতে হবে না, আর এটাই কি আমার দাদুভাই।

নিশিঃ হুম আম্মু।

তারপর সবাই মেহমেত কে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরে। কিছুক্ষন পর নিশি বলে।

নিশিঃ আম্মু তোমার ছেলে কোথাই গো,,ও আমাকে অনেক জালিয়েছে আজ তার বদলা নিবো ( হাসি মাখা মুখ নিয়ে)

আম্মুঃ মানে রাজ তোর সাথে আসে নাই। সে তো বলেছিল তোকে নিয়ে গা বাসাই আসবে তাই আমি ওকে কোনো ফোন দিই নাই।

নিশিঃ ও তিনদিন ধরে আমার সাথে দেখাই করে নাই। আর অফিস এও যাই নি তাই আমি মনে করলাম যে ও বাসাই আছে ( বলেই নিশি আবার কান্না শুরু করলো)

এখন রাজের আম্মুও কান্না করছে। তারা সবাই ভাবছে যে রাজ কোথাই গেল।


অন্যদিকে রাজ লন্ডনে গিয়ে তার বন্ধুর বাসাই উঠেছে আর আজ তার অফিস এর প্রথম দিন তাই সে অফিস এর জন্য তৈরি হয়ে বের হয়ে আসে তারপর রাজ আর ইব্রাহীম (রাজের বন্ধু) অফিস এর উদ্দেশ্যে রওনা দেই।

অফিস এ পৌছে রাজ অবাক না হয়ে পারলো না কারন….

চলবে..