শুধু তোমায় ঘিরে পর্ব-১৫

0
1946

?শুধু তোমায় ঘিরে?

#মেঘা আফরোজ…..?
#পর্ব-১৫…..?

?

আ আপনি এখানে!!!
আমার সামনে থাকা মানুষটি আর কেউ নয় আবির ছিলো। আবির মুচকি হেসে আমার সামনে এসে বসে বললো
..হুমম আমি। এই তুমি কাঁদছো কেনো মেঘা! কান্না অফ করো একদম কাঁদবে না তোমাকে কাঁদতে দেখলে যে আমার কষ্ট হয়।
আমি একদৃষ্টিতে আবিরের দিকে চেয়ে আছি ভাবছি মানুষ নিজের স্বার্থের জন্য কতটা নিচে নামতে পারে। আমি চেঁচিয়ে বললাম
..আমাকে এভাবে নিয়ে এসেছেন কেনো আপনি?
..জানতে চাও কেনো এনেছি। এনেছি কারন আমি তোমাকে ভালোবাসি তোমাকে আমার করে পেতে চাই।
..ছিহ এত জঘন্য আপনি আমার ঘৃণা লাগছে আপনাকে দেখে,আপনার লজ্জা করলো না নিজের বন্ধুকে ঠকাতে!
আবির জোরে হেসে উঠে বললো
..বন্ধু, আরে সে তো কলেজ লাইফে ছিলো এখনো থাকতো বাট সে আমার বন্ধুক্তর মর্যাদা দেয়নি। ওকে আমি বলেছিলাম তোমাকে ভালোবাসার কথা কিন্তু ও কি করলো নিজের করে নিলো তোমায়। আমার সামনে তাসিন তোমাকে পেয়ে যাবে আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো সেটা কি করে হয় বলো। আমি যা একবার চাই তা নিজের করেই ছাড়ি।
..আপনার মন মানষিকতা এত নিচ যা আমি ভাবতেও পারছি না। জোর করে যে কারো ভালোবাসা পাওয়া যায় না সেটা জানেন না আপনি? ভালোয় ভালোয় আমাকে যেতে দিন তা না হলে তাসিন যদি একবার জানতে পারে আপনাকে আর নিজের পায়ে দাড়ানোর অবস্থাতে রাখবে না।
..তাসিন কোনো ভাবেই জানতে পারবে না। আর কি বললে জোর করে ভালোবাসা পাওয়া যায় না! আমি তো জোর করছি না তোমায় তোমার যখন ইচ্ছে ভালোবেসো আমায়। তোমাকে যে আমার হতেই হবে মেঘা শুধু আমার।
..আপনি সে সপ্নটাই দেখুন আমি মরে গেলেও আপনার হবো না। আমি তাসিনকে ভালোবাসি আর ওকেই ভালোবেসে যাবো। আপনার মতো মানুষ রুপি জানোয়ারকে শুধু ঘৃণা করা যায় বুঝেছেন আপনি।

আবির রেগে গিয়ে একহাতে আমার গাল চেপে ধরে বললো
..কি বললে তুমি আমি জানোয়ার! এতক্ষণ ভালোভাবে কথা বলেছি বলে ভেবো না আমি হাত গুটিয়ে বসে থাকবো আজকেই বিয়ে করবো তোমাকে আমি তারপর দেখবো তাসিনের প্রতি তোমার ভালোবাসা কোথায় থাকে।
আমার গাল এত জোরে চেপে ধরেছিলো যে খুব ব্যাথা পাচ্ছিলাম আমি চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো। আবির আমাকে ছেড়ে দিয়ে গালে হাত রেখে বললো
..সরি সরি সোনা খুব লেগেছে তোমার,কেঁদো না প্লিজ আর এমন করবো না।
আমি একঝটকায় আবিরের হাতটি সরিয়ে জোরে একটা থাপ্পড় মেরে বললাম
..আপনার ওই হাত দিয়ে আমাকে টার্চ করবেন না। ঘৃণা করি আমি আপনাকে।
আবির আমার দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিয়ে উঠে বেড়িয়ে গেলো বাইরে থেকে দরজাটা আটকে দিলো।

আমি যে আর পারছি না সহ্য করতে। আবির কি বলে গেলো আজি বিয়ে করবে! আমি নিজেকে কি করে বাঁচাবো, আমি কি আর কখনো দেখতে পাবো না আমার তাসিনকে!

. ?

ওদিকে আমাকে না পেয়ে বাবা মা খুব কাঁন্নাকাটি করছে তাসিন তো পাগল প্রায় অবস্থা। সারা শহরে পাগলের মতো খুজছে তাসিন আমাকে। একসময় হতাস হয়ে তাসিন বাড়ি ফিরে গেলো আয়ান ভাইয়াও সাথে ছিলো। তাসিনদের বাড়ির সকলে আমাদের বাড়িতে ছিলো তখন,তিশা মায়ের পাশে চুপচাপ বসে আছে। বাড়িতে যেতেই মা দৌড়ে এসে তাসিনের সামনে দাড়ালো

..তাসিন খোজ পেলে আমার মেয়ের? বলোনা বাবা চুপ করে কেনো আছো। কোথায় আমার মেঘা? মা তাসিনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।
তাসিনের চোখ থেকে নিরবে পানি পড়ছে। সে যে ছেলে চাইলেও চিৎকার করে কাঁদতে পারছে না। তাসিন মাকে শান্তনা দিয়ে বললো
..খালামনি কেঁদো না আমি মেঘাকে ঠিক খুজে বের করবো। দেখি বসো তো এভাবে কাঁদলে তোমার শরীর খারাপ করবে তো।
তমা আপু এগিয়ে এসে মাকে রুমে নিয়ে গেলো খালামনিও গেলো সাথে।

তাসিন তিশাকে বললো
..তিশা মেঘা কাল কাখন কথা বলেছে তোমার সাথে?
..১০:৩০ এর পর কথা বলেছিলো আর কথা হয়নি।
তাসিন দুহাতে নিজের মুখ ঢেকে সোফায় বসে পড়লো।
আয়ান ভাইয়া উনার পাশে এসে বললো
..তাসিন হঠাৎ করে মেঘ কোথায় গেলো! তোর কি কাউকে সন্দেহ হয়?
..সন্দেহ তো হচ্ছেই আবির ছাড়া এ কাজ অন্য কেউ করেনি আবির আমার মেঘাকে কিডন্যাপ করেছে।
তিশা বললো
..আমারো তাই মনে হচ্ছে। আবির এখন কোথায় সেটা জানা দরকার।
তাসিন তিশাকে বললো
..তিশা আমি আবিরের খোজ ও করেছি পাইনি আর এ জন্যই বেশি সন্দেহ করছি। যদি আবির থাকে এর পেছনে ছাড়বো না আমি ওকে। ও আমার কলিজাতে হাত দিয়ে পারবে না বাঁচতে।

. ?

দুহাতে মুখ চেপে অঝরে কাঁন্না করছি বড্ড অসহায় লাগছে নিজেকে। আবির কি করে পারলো এমন একটা কাজ করতে।
দরজা খোলার শব্দ পেয়ে মাথা তুলে তাকালাম সেদিকে। আবির আর সেই লোকটি দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো আবিরের হাতে কয়েকটা ব্যাগ। আবির আমার দিকে ব্যাগ গুলো এগিয়ে দিয়ে বললো
..মেঘা এতে শাড়ি আর কিছু গহনা আছে এগুলো পড়ে জলদি তৈরি হয়ে নাও।
..এগুলো পড়তে যাবো কেনো আমি! পড়বো না আমি এসব।
..মেঘা রাগিয়ো না আমাকে তার ফল কিন্তু ভালো হবে না যা বলেছি চুপচাপ সেটা করো। একটু পরেই কাজী সাহেব আসবে দেরি করলে চলবে না।
আমার আত্তাটা কেপে উঠলো কাজীর কথা শুনে জোড়ে চেঁচিয়ে বললাম
..আপনাকে আমি কখনোই বিয়ে করবো না কখনোই না প্রয়োজনে নিজেকে শেষ করে দিবো।
..বিয়ে তো তুমি আমাকে করবেই মেঘা আর আজি করবে। ভালোয় ভালোয় বলছি শাড়িটা পড়ে নাও।
..পড়বো না শাড়ি।

আবির ওই লোকটিকে বললো
..আছাদ তুই বাইরে গিয়ে দাড়া।
লোকটি মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো। আমার ভয়টা এখন ক্রমশ বেড়ে চলেছে আবির কি করতে চাইছে লোকটিকে বাইরে পাঠালো কেনো! ভয়ার্থ চোখে চেয়ে আছি আবিরের দিকে।
আবির দরজাটা আটকে আমার কাছে এসে বললো
..এতক্ষণ তো ভালো ভাবে বলেছি শোনো নি। এবার আমি নিজে তোমাকে শাড়ি পড়িয়ে দিবো। কই উঠো শাড়িটা পড়তে হবে তো। বলেই ওনার হাতের ব্যাগগুলো আর নিজের ফোনটা টেবিলে রাখলো।

আমি একটু পিছিয়ে গেলাম। আমি যে আর এ নরক থেকে বের হতে পারবো না বেশ বুঝতে পারছি। তাই মনে মনে ভেবে নিলাম নিজেকেই শেষ করে দিবো। তাসিনকে ছাড়া অন্য কাউকে আমি বিয়ে করবো না আর এই আবিরকে তো কখনোই না।
আবিরকে বললাম
..ঠিকআছে আমি শাড়িটা পড়ে নিচ্ছি আ আপনি বাইরে যান।
আবির খুশি হয়ে বললো
..এইতো গুড গার্ল। আমিও চাইনা বিয়ে করার আগে তোমাকে সেভাবে টার্চ করতে। এখন লক্ষি মেয়ের মতো রেডি হয়ে নাও।
..অন্যের ভালোবাসাকে কেড়ে নিচ্ছেন আবার বলছেন বিয়ের আগে টার্চ করবেন না! নিজেকে মহৎ মানুষ ভাবেন তাইনা। তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললাম।
..মেঘা আমিও তোমাকে ভালোবাসি। তাসিনের থেকে বেশি ভালো রাখবো তোমায় আমি।
আমি আর কিছু বললাম না মুখটা ঘুড়িয়ে নিলাম,এই বদ লোকটির সাথে আর একটি কথা বলতেও আমার রুচিতে বাধছে।
..আমি বাইরে যাচ্ছি রেডি হও মেঘা। বলেই বেড়িয়ে গেলো।

. ?

কিছুসময় বসে থেকে উঠে দাড়ালাম এই মুহুর্তে যে আমার ওই বদ লোকটির কথা মতো কাজ করতে হবে। তবে বিয়ে আমি ওকে করবো না সুযোগ বুঝে এর হাত থেকে বাঁচতে হবে আমায়।
টেবিলে রাখা ব্যাগগুলোতে হাত রাখতেই সেখানে রাখা ফোনের দিকে চোখ পড়লো আমার। মুহুর্তেই আমার মনের কনে এক অন্য রকম আশা সৃষ্টি হলো। এটাই এখন আমাকে বাঁচতে সাহায্য করবে,দেরি না করে ফোনটা হাতে নিলাম তাসিনকে ফোন দিবো।
কিন্তু এর লকটাই যে খুলতে পারছি না। কি করবো এখন? আচ্ছা এটা তো আবিরের ফোন আমার নাম দিয়ে লক দেয়নি তো? আমি এম লিখতেই লকটা খুলে গেলো।
তাড়াতাড়ি তাসিনের নাম্বারটা তুলে ডায়েল করলাম। একবার রিং হতেই রিসিভ হলো। কানে ভেসে আসলো সেই চিরোচেনা কন্ঠস্বর। ওপাশ থেকে কান্না রত কন্ঠে বললো
..হ্যালো কে বলছেন?
উনার এমন কন্ঠ শুনে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না ফুপিয়ে কেঁদে উঠলাম। ওপাশ থেকে তাসিন উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলো
..মেঘাপাখি তুমি! কোথায় আছো তুমি কাঁদছো কেনো? এই মেঘা বলো না সোনা কোথায় আছে তুমি? উনি কেঁদে কেঁদেই বলছিলো।
..আ আমাকে ন নিয়ে যান তাসিন। আআমি জানি না এটা ককোন জায়গা। কাপা কাপা গলায় বললাম।
..কেঁদো না মেঘা। এটা বলো কে তোমাকে নিয়ে গিয়েছে আর এ নাম্বারটা কার?
..আ আবির নিয়ে এসেছে এটা আবিরের নাম্বার নিজের ফোনটা ভুলে আমার এখানে রেখে গিয়েছে।
তাসিন একটু চুপ থেকে বললো
..ওই জানোয়ারকে তো আমি মেরেই ফেলবো। মেঘা তুমি কেঁদো না। শোনো ফোনথেকে আমার নাম্বারটা ডিলিট করে যেখানে ছিলো রেখে দাও। আমি এই নাম্বারটা ট্র্যাক করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তোমাকে খুজে বের করার ব্যবস্থা করছি।
..যা করার তাড়াতাড়ি করুন আবির আমাকে শাড়ি গহনা দিয়ে গেছে আজি নাকি আমাকে বিয়ে করবে।
..আমার কলিজাটাকে ও কেড়ে নেবে এতই সোজা নাকি। তুমি চিন্তা করো না মেঘাপাখি আমি বেঁচে থাকতে তোমাকে ও কোনো ভাবেই পাবে না।
..কেউ আসছে হয়তো আমি রাখছি।
বলেই ফোন কেটে তাড়াতাড়ি নাম্বারটা ডিলিট করে আগের জায়গাতে রেখে শাড়িটা হাতে নিয়ে নাড়তে লাগলাম।
আবির ঘরে ঢুকে বললো
..এখনো শাড়িটা নেড়ে যাচ্ছো কেনো পড়তে বলেছি না। ধমক দিয়ে বললো।
আমি কিছুটা কেঁপে উঠে বললাম
..আমার খুব ক্ষুদা পেয়েছে।
আবির আমার দিকে একটু তাকিয়ে থেকে হেসে বললো
..ঠিকআছে আমি খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি ততক্ষণে রেডি হও তুমি। বলে টেবিলের ওপর থেকে ফোনটা নিয়ে আমার দিকে তাকালো আমি নিচের দিকে তাকালাম,ভয় লাগছে বুঝে ফেললো নাতো আবার?
আড়চোখে দেখলাম আবির ফোনটা পকেটে রাখলো তারমানে বুঝতে পারেনি। যাক বাবা বাঁচা গেলো।
আমি আস্তে করে বললাম
..আগে খাবার নিয়ে আসুন খেয়ে তারপর রেডি হবো।
..আচ্ছা তুমি যা বলবে সেটাই হবে আমি খাবার আনতে যাচ্ছি।
আবির দরজা আটকে বেড়িয়ে গেলো আমি ধপাস করে চেয়ারে বসে ভাবতে লাগলাম তাসিন কি পারবে আমাকে খুজে বের করতে? আমার মন বলছে পারবে। আমাকে এখন নিজেকে স্বাভাবিক রেখে আবিরের সাথে মিল দিয়ে থাকতে হবে।

?

#চলবে. . . ?