শেষ ভালোবাসা পর্বঃ১০

0
2858

শেষ_ভালোবাসা
পর্ব : ১০
লেখা : মেঘপরী
.
আভা এখনও বসে অবাক হয়ে ভাবছে
হঠাৎ অত্রের ডাকে তার ঘোর ভাঙ্গে
– কি ব্যাপার আসছো না কেনো কফি তো ঠান্ডা হয়ে গেলো,
– এইতো আসছি,
তারপর আভা উঠে বেলকনিতে চলে যায় আভা যেতেই অত্র আভার হাতে কফির মগটা ধরিয়ে বলে
– দেখো এখান থেকে সূর্যটা কত সুন্দর দেখা যায়
– হ্যা আমি তো এটা লক্ষ্যই করিনি…
.

এভাবেই কেটে যাচ্ছিলে অত্রর সাথে আমার দিনগুলে হাসি মজা বন্ধুত্বর মধ্য দিয়ে…

এ কয়দিনে এটুকু বুঝেছি অত্র অনেক কেয়ারিং .. রাজ্যকে হারিয়ে বাচার ইচ্ছাটাই কেমন যেনো হারিয়ে ফেলেছিলাম কিন্তু অত্রর জন্য নতুন করে বাচার আশা খুজে পাচ্ছি। এসব ভাবছি আর হাসছি এরই মধ্যে অত্র রুমে আসলো..
– কি ব্যপার মহারানী এতো হাসছে কেনো এই প্রথম তোমার হাসি দেখছি.. হাসিটা তোমার খুব মিষ্টি ?
– হয়েছে এতো হাসির তারিফ করতে হবে না( কিছুটা লজ্জা পেয়ে)।আজ এতো আগে আগে অফিস থেকে আসলেন যে?
-একসাথে লাঞ্চ করে বিকালে তোমাকে নিয়ে ঘুরতে বের হবো তাই
-নাহ আমি কোথাও যাবো না.. আমার বের হতে ভালো লাগে না।
-কিন্তু আমি তো অন্য কথা শুনেছিলাম। নতুন জায়গার ঘুরতে নাকি তুমি খুব পছন্দ করো।
– এটা আপনাকে কে বলেছে?
– আদ্রিতার কাছে শুনেছি
– কিন্তু এখন ভালো লাগে না।
– চুপ আমি যা বলছি তাই হবে আর আজ তুমি শাড়ি পরবে এখন খেতে চলো খুব ক্ষুধা লেগেছে..
– ঘুরতে যাবেন ঠিক আছে কিন্তু শাড়ি পরতে পারবো না
-আমি যা বলছি তাই হবে শাড়ি না পরলে আমি নিজেই কিন্তু শাড়ি পরিয়ে দিবো
– উফফফ আচ্ছা ঠিক আছে শাড়িই পরবো এখন খেতে চলেন।

তারপর ওরা দুজন নিজে যায় খাওয়ার জন্য টেবিলে আগে থেকেই অত্রের আম্মু আর আদ্রিতা ওয়েট করছিলো ওদের জন্য ওরা গিয়ে বসতেই আদ্রিতা বলে ওঠে
– কিরে ভাইয়া আজ এতো তাড়াতাড়ি ফিরলি যে বউকে রেখে বুঝি অফিসে মন বসছিলো না?
– চুপ ফাজলামি করার জায়গা পাস না
– ফাজলামি কই করছি এক কাজ কর ভাবিকে তোর পিএ করে নে তাহলে সব সময় তোর চোখের সামনে থাকবে, তোকে আর ছুটে বাসায় আসতে হবে না
-মা এবার তোমার ছোট মেয়ের একটা বিয়ের ব্যবস্থা করো। বেশি পেকে গেছে ফাজিলটা।
-মা তোমার ছেলেকে চুপ করতে বলো
– এখন কেনো চুপ করবো?
-ধুর তোকে আর কিছু বলবোই না
আদ্রিতার কথা শুনে অত্র আর আভা হাসতে থাকে ওদের হাসি দেখে অত্রের মা বলে..

-হ্যা রে অত্র আমরা তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছি কবে যে নাতি নাতনির মুখ দেখবো
কথাটা শুনেই অত্র মুচকি হাসি দেয়.
আর এদিকে আভার গলায় খাবার আটকে যায় অত্র তাড়াতাড়ি আভাকে পানির গ্লাস এগিয়ে দেয় আভা ঢকঢক করে পুরো পানিটা খেয়ে ফেলে
তখন অত্রের মা বলে
– তোরা খাবার সময় যে কেনো এতো কথা বলিস দেখতো মেয়েটার গলায় খাবার আটকে গেলো
এটা শুনে আদ্রিতা বলে
– আম্মু আমাদের কথায় নয় তোমার কথা শুনে ভাবির গলায় খাবার আটকে গেছে
তারপর হাসতে থাকে
.
খাওয়া শেষে অত্র বলে
-মা আজ আমি আভাকে নিয়ে একটু বাইরে যাবো
– আচ্ছা ঠিক আছে কখনো তো ওকে নিয়ে বের হস নি..তোরা সাবধানে যা ভালো লাগবে।
মায়ের সাথে কথা বলে অত্র আর আভা ওদের রুমে গিয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নেয়
আভাকে চুপচাপ দেখে অত্র বলে
-তখন মায়ের কথার জন্য কি মন খারাপ?
– আরে তেমন কিছু না
– ওকে এখন তাড়াতাড়ি রেডি হও না হলে দেরি হয়ে যাবে।
– আচ্ছা ঠিক আছে এটা বলে আভা আলমারি থেকে একটা কালো শাড়ি নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায় এদিকে অত্রও রেডি হয়ে নেয়
.
কিছুক্ষণ পরে আভা ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়, আভাকে দেখে অত্র হা করে তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে বলে আমার বউটাকে শাড়িতে যে এতো সুন্দর লাগে আগে বুঝতে পারি নি চোখ তো সরানো দায়,
আর কিছুক্ষণ ওর সামনে থাকলে ধরা পরে যাবো
– আমি নিচে তোমার জন্য ওয়েট করছি তুমি রেডি হয়ে এসো,
– আচ্ছা
তারপর আভা রেডি হয়ে নিচে চলে যায় অত্রের আম্মুকে বলে ওরা দুজন বেড়িয়ে যায়,
.
অত্র গাড়ি চালাচ্ছে আর বার বার আভার দিকে তাকাচ্ছে আর আভা বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে কিছুক্ষণ পরে অত্র একটা মার্কেটের সামনে গিয়ে গাড়ি থামায় তারপর গাড়ি থেকে নেমে আভার পাশের দরজা খুলে বলে,
– নামো
তারপর আভাকে নিয়ে একটা দোকানে গিয়ে বলে
– আমার বলা জিনিস গুলো কি রেডি হয়েছে,
– জ্বি স্যার আপনার বলা জিনিস গুলো আমরা প্যাকিং করেই রেখেছি এই নিন এটা বলে লোকটা অত্রের সামনে অনেকগুলো শপিং ব্যাগ রাখে,
অত্র বিল পে করে ব্যাগ গুলো হাতে নিয়ে আভাকে বলে
-চলো
– এতোগুলো শপিং ব্যাগ কিসের?
– চলো একটু পরেই জানতে পারবে..

তারপর কিছুক্ষণ পর ওদের গাড়ি একটা রেষ্টুরেন্ট এর সামনে থামে সেখান থেকে অত্র অনেক গুলো খাবারের প্যাকেট নিয়ে আবার চলতে শুরু করে,

অত্রের কাজ দেখে আভা শুধু অবাকই হচ্ছে কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছে না আর অত্রও কিছু বলছেনা

বেশ কিছুক্ষণ পরে অত্র একটা জায়গা গিয়ে গাড়ি থামায় তারপর গাড়ি থেকে নেমে আভাকেও নামতে বলে আভা গাড়ি থেকে নেমে সমানে সাইন বোর্ডের লেখা দেখে বুঝতে পারে এটা একটা এতিমখানা
কিন্তু অত্র হঠাৎ ওকে এতিমখানায় কোনো নিয়ে আসলো সেটা ওর মাথায় ঢুকছে না
হঠাৎ অত্রের কথায় আভা ফিরে তাকায়
– কি ম্যাম এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন নাকি আমাকে একটু শপিং ব্যাগ গুলো নিতে হেল্প করবেন?
– ও হ্যা দিন আমাকে..
তারপর ওরা সবকিছু নিয়ে এতিমখানার ভেতরে চলে যায় ওদের দেখে সব বাচ্চারা দৌড়ে আশে অত্র একে একে সবাইকে একটা করে শপিং ব্যাগ দেয় আর বলে এটার মধ্যে ওদের জন্য নতুন জামা কাপড় আছে

তারপর সবাইকে একসাথে অনেক মজা করে। অত্র অাভাকে সব বাচ্চাদের চকলের দিতে বলে।কিছুক্ষনের জন্য আভারও নিজেকে বাচ্চা মনে হচ্ছে..
এভাকে অনেক সময় কেটে গেলো।
অত্র নিজের হাতে সবাইকে খাবার পরিবেশ করে
আভা তো এসব দেখে অবাক

খাবার খাওয়ার সময় বাচ্চাগুলো জিদ ধরে আভা আর অত্রকেও তাদের সাথে খেতে হবে তাই ওরাও ওদের সাথে অল্প কিছু খেয়ে নেয়,

খাওয়া শেষে ওরা বাচ্চাদের সাথে অনেক গল্প করে
– কি ম্যাম তখন তো বাইরে আসতে রাজি হচ্ছিলে না, এখন ভালো লাগছে তো?
– হ্যা অনেক অনেক ভালো লাগছে অনেকদিন পর মনের মধ্যে এক অদ্ভুত শান্তি পাচ্ছি,
– এবার তো বাসায় ফিরতে হবে
– কিন্তু আমার তো এখন বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে না,
– তাহলে কি করতে ইচ্ছে করছে?
– এই বাচ্চাদের সাথে থেকে যেতে ইচ্ছে করছে
– তুমি থেকে গেলে আমার কি হবে?
– কিইইই
– কিছুনা চলো
চলবে