সাইকো লাভার পর্ব-০২

0
3660

#সাইকো লাভার❤
#লেখিকাঃ নাবিলা আহমেদ
#পর্ব- ২

রোজ হা করে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আছে। প্রিন্সিপাল ও ভেতরে চলে গিয়েছে। রোজ কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভ্রু কুঁচকে বললো।”

—-” এটা কি হলো?”

শুভ্র কোন কথা না বলে। রোজের হাত ধরে বাইরে নিয়ে এলো। এদিকে রোজের হাত ধরায়। রোজ রেগে বোম হয়ে আছে। শুভ্র রোজকে পার্কিং সাইডে এনে বললো!”

—-” হ্যা তো কি বলছিলে?”

রোজ কপাল কুঁচকে বললো,

—-” আপনি স্যারকে মিথ্যে বললেন কেন?”

শুভ্র ভ্রু নাচিয়ে বললো।”

—-” তা মিথ্যে আগে কে বলেছিলো শুনি? আমি যদি ওনাকে না বলতাম। যে তুমি আমার উডবি ওয়াইফ। তাহলে উনি তোমাকে ভার্সিটি থেকে বের করে দিতো,

রোজ এবার নরম কাটলো। শুভ্র ডান হাতের দুটো আঙুল কপালে ঘষতে ঘষতে বললো!”

—-” হ্যা তো তোমার কথা অনুযায়ী। তুমি আমার ওয়াইফ রাইট?”

রোজ শুকনো ঢোক গিলে বললো,

—-” দেখুন আমি আসলে।”

শুভ্র এদিক, ওদিক তাকিয়ে বললো,

—-” তুমি আসলে কি?”

রোজ কিছু বলতে যাবে। তখনি সেখানে রোজের ফ্রেন্ড মিম এসে বললো!”

—-” রোজ তোকে প্রিন্সিপাল স্যার ডাকে,

রোজ মিনমিন করে বললো।”

—-” কেন?”

মিম মুখটা বাঁকিয়ে বললো,

—-” সেটা আমি কি জানি?”

রোজ ভেংচি কেটে মিমের সাথে গেলো। শুভ্রও কি মনে করে ওদের পেছনে গেলো। রোজ কোনরকম নিজেকে ঠিক রেখে। প্রিন্সিপালের রুমের সামনে এসে বললো!”

—-” আসবো স্যার?”

প্রিন্সিপাল মুচকি হেসে বললো,

—-” হ্যা, হ্যা এসো।”

রোজ ভেতরে গিয়ে বললো,

—-” আমাকে ডেকেছিলেন স্যার?”

প্রিন্সিপাল হেসে দিয়ে বললো!”

—-” হ্যা আসলে তুমি ফেল করোনি। ওটা নোটিশে নাম ভুল এসেছে। পরে আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। ফেল করেছে যে ও হচ্ছে রজনী আহমেদ। বাট ভুলে রোজ আহমেদ চলে এসেছিলো। তুমি অনেক ভাল রেজাল্ট করেছো,

রোজ খুশিতে এক লাফ দিলো। শুভ্র বাইরে থেকে সব দেখে মুচকি হেসে বললো।”

—-” বাচ্চা মেয়েদের মতো করে। বাট কোন ব্যাপার না আমি ঠিক করে নেবো,

শুভ্র ওখান থেকে চলে গেলো। রোজও ভার্সিটি থেকে বাড়ি চলে গেলো। বাড়ি যেতেই রোজের বাবা আহাদ আহমেদ বললো!”

—-” রোজ আজকে রেজাল্ট দিয়েছে না?”

রোজ ওর বাবার কাছে গিয়ে বললো,

—-” হ্যা বাবা।”

রোজের বাবা গম্ভীর কন্ঠে বললো,

—-” তা কি রেজাল্ট এসেছে?”

রোজ বলতে যাবে তার আগে রোজের ভাই রোদ বললো!”

—-” দেখো ফেল করেছে হয়তো,

রোজ রেগে বললো।”

—-” এই তুই জানিস?”

রোজের বাবা রোদকে ধমক দিয়ে বললো,

—-” রোদ এখানে আমি মজা করতে বসিনি!”

রোদ ভয়ে চুপ হয়ে গেলো। রোজ আর রোদ দুজনেই। নিজেদের বাবাকে ভীষণ ভয় পায়। রোজ ওর বাবাকে রেজাল্ট দেখালো। মেয়ের রেজাল্ট দেখে উনি খুশি হলো। রোদ রোজের দিকে তাকিয়ে আছে। সেটা দেখে রোজ ভেংচি কেটে রুমে চলে গেলো,

ওদিকে শুভ্র বাড়ি গিয়েই। নিজের রুমে ড্যানিকে ডেকে আনে। ড্যানি শুভ্রর রুমে এসে বলে।”

—-” স্যার ডেকেছিলেন?”

শুভ্র চোখ রাঙিয়ে বলে,

—-” না ডাকলে কি এখানে আসতে?”

ড্যানি ঢোক গিলে বলে!”

—-” সরি স্যার বলুন কি করতে হবে?”

শুভ্র গলার টাইটা খুলে রেখে বলে,

—-” একটা মেয়ের ফুল ডিটেইলস আমার চাই।”

___________________________

ড্যানি হা করে তাকিয়ে আছে। শুভ্র যে কোন মেয়ের ডিটেইলস জানতে চাইছে। বেচারার সেটা বিশ্বাস হচ্ছে না। ড্যানিকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে। শুভ্র রাগী গলায় বলে উঠলো,

—-” তোমাকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে বলিনি!”

ড্যানি আমতা, আমতা করে বললো,

—-” স্যার মেয়েটাকে চিনবো কি করে?”

শুভ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো।”

—-” তোমার কিছু করতে হবে না। আমিই যা করার করবো। আর হ্যা মেয়েটা না ম্যাডাম বলবে। নাউ এখান থেকে যাও,

ড্যানি মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো। ড্যানি যেতেই শুভ্র প্রিন্সিপালকে ফোন দিলো। প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে বাঁকা হাসলো। এরপর মনে, মনে নিজেই বললো!”

—-” কোনদিন কোন মেয়েকে ভাল লাগেনি। লাইফে ফার্স্ট তোমাকে ভাল লেগেছে। আমি এখনো জানিনা এটা ভালবাসা কি না? বাট, বাট, বাট তোমাকে আমার ভাল লেগেছে। দ্যাটস মিন তুমি আমার হয়ে গিয়েছো। সেটা তুমি চাও বা না চাও। খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে এই শুভ্রর রাজ্যর রানী করে। সারাজীবনের মতো আমার কাছে নিয়ে আসবো সুইটহার্ট,

এদিকে রোজ রুমে এসে। আগে ফ্রেশ হয়ে নিলো। এরপর একটা কিটক্যাট চকলেট নিয়ে। জানালার কাছে দাড়িয়ে খেতে লাগলো। জানালা দিয়ে তাকালেই নিচটা দেখা যায়। পুরো বাড়িটা বাউন্ডারি করা। নাহলে ব্যস্ত শহরটাও দেখা যেতো। তবে ছাদে গেলেই ব্যস্ত শহরটা দেখা যায়। তাই তো রোজ মাঝে মাঝে ছাদে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। রোজ কিটক্যাট খেতে, খেতে। হঠাৎ শুভ্রর কথা মনে করে বললো।”

—-” ওই লোকটা আমাকে। ওনার উডবি ওয়াইফ কেন বললো? আমিতো ভয়তে মিথ্যে বলেছিলাম। বাট উনি কোন সুখে মিথ্যে বললো?”

এরপর আবার নিজেই বিরবির করে বললো,

—-” যাগ গে তাতে আমার কি?”

চকলেট শেষ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো। হুমায়ুন আহমেদ স্যারের একটা বই হাতে নিলো। বইয়ের পাতা উল্টোতেই রোজের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো!”

—-” শুভ্র,

বইটা পড়তে, পড়তে। একটা সময় রোজ ঘুমের দেশে পাড়ি জমালো। পরেরদিন যথারীতি রোজ ভার্সিটিতে গেলো। পাশেই শুভ্র গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। কিন্তুু রোজ সেটা খেয়াল করেনি। রোজ ভেতরে ঢোকার টাইমে ২টা ছেলে। একজন আরেকজনকে বলাবলি করছে।”

—-” কি মাল দেখেছিস?”

আরেকজন দাত কেলিয়ে বললো,

—-” পুরাই হট ফিগারটা দেখ!”

এটা রোজ না শুনলেও। শুভ্রর কানে পৌছাতে দেরী হলো না। মুহূর্তেই শুভ্রর চোখগুলো রক্তের মতো লাল হয়ে গিয়েছে। দাত কিড়মিড় করছে এক আঙুল দিয়ে কপাল ঘষছে। ঘাড়ের আর কপালের রগগুলোও ফুলে গিয়েছে। শুভ্রকে এখন পুরো সাইকো লাগছে। শুভ্র বড়, বড় পা ফেলে রোজের সামনে গেলো। রোজ শুভ্রকে দেখে চমকে বললো,

—-” আপনি এখানে?”

রোজ শুভ্রকে এভাবে দেখে ভয়ও পেলো। শুভ্র আঙুল কপালে ঘষতে, ঘষতেই বললো।”

—-” আমার সাথে চলো,

রোজ অবাক হয়ে বললো!”

—-” মানে?”

শুভ্র রাগটা কন্ট্রোল রাখার চেষ্টা করে বললো,

—-” বাংলায় বলেছি বোঝোনি? বলেছি আমার সাথে চলো।”

রোজ এবার বিরক্তি নিয়ে বললো,

—-” পাগল নাকি আপনি? আমি কেন আপনার সাথে যাবো? আমি আপনার সাথে কোথাও যাবো না!”

শুভ্রর মাথায় ধপ আগুন ধরে গেলো। শুভ্র চেঁচিয়ে, চেঁচিয়ে বলে উঠলো,

—-” কি বললি তুই? আমি পাগল? তোকে আমি যেতে বলেছি আমার সাথে তুই যাবি।”

সবাই তাকিয়ে আছে। শুভ্র রোজের হাত চেপে ধরে বললো,

—-” চল তুই আমার সাথে!”

বলে টানতে, টানতে নিয়ে গেলো। আর কারো ক্ষমতা নেই যে শুভ্রকে আটকাবে। যেতে, যেতে সেই ছেলে দুটোকে দেখে গেলো। আর ঠিক করে নিলো ওদের সাথে কি করবে,

#চলবে…