সাইকো লাভার পর্ব-০৭

0
3015

#সাইকো লাভার❤
#লেখিকাঃ নাবিলা আহমেদ
#পর্ব- ৭

রোজের সেন্স আসার পর। নিজেকে ফুল দিয়ে সাজানো রুমে পায়। ততক্ষণাক রোজ চট করে উঠে বসে। এদিক, ওদিক তাকিয়ে বুঝতে চাইছে এটা কোথায়। বিছানা থেকে নেমে লাইট জ্বালায়। এতক্ষণ আবছা আলো ছিলো রুমে। এবার রোজ বুঝতে পারে এটা ওর রুম। রোজ চেঁচিয়ে ওঠে। রোজের আওয়াজ শুনো শুভ্র চলে আসে। শুভর গায়ে বিয়ের পাঞ্জাবী। সেটা দেখে রোজ চমকে বলে।”

—-” এসব কি?”

শুভ্র রুমে আসতে, আসতে বলে,

—-” দেখতে পারছো না?”

রোজ ভয়ে, ভয়ে বলে!”

—-” আপনার গায়ে বিয়ের পাঞ্জাবী কেন?”

শুভ্র মুচকি হেসে বলে,

—-” বিয়ে হলে তো বিয়ের পাঞ্জাবীই থাকবে তাই না?”

রোজ চমকে বলে।”

—-” বিয়ে হয়েছে মানে?”

শুভ্র শয়তানি হেসে বলে,

—-” আমার সাথে তোমার বিয়ে হয়েছে!”

রোজ শকড হয়ে বলে,

—-” এসব কি বলছেন আপনি? মাথা ঠিক আছে আপনার?”‘

শুভ্র ঠোট চেপে হেসে বলে ওঠে!”

—-” না থাকার কি আছে?”

রোজ দাতে দাত চেপে বলে,

—-” আপনার সাথে আমার এংগেজমেন্ট হয়েছে।”

শুভ্র তবুও বলে,

—-” না গো রেড রোজ বিয়ে হয়েছে!”

রোজ এবার জোড়ে চিৎকার করে। ওর চিৎকারে সবাই চলে আসে। রোজ রোদকে দেখেই ওকে গিয়ে বলে।”

—-” তুই আমাকে চর মারলি ভাইয়া? তুই কেন আমাকে মারলি? তোদের কথায় এমনিই আমার মাথা ঘুরছিলো। আবার তুই আমাকে চর মারলি। এই লোকটা তোকে কিডন্যাপ করেছিলো,

রোদ রেগে বলে!”

—-” সাট আপ রোজ। শুভ্রর নামে এসব কেন বলছিস তুই?” আরে আমি সিলেট ছিলাম। সেখান থেকে আসতে গিয়ে। সেখানে কিছু গুন্ডা আমাকে আ্যাটাক করে। এই শুভ্রই আমাকে বাঁচিয়েছে। আর শুভ্র আমার বেস্ট ফ্রেন্ড রোজ। তাই ওর নামে একটা বাজে কথা আমি টলারেট করবো না,

রোজ কাঁদো, কাঁদো ভাবে বলে।”

—-” আর আমি তোর কেউ না?”

রোদ রোজের মাথায় হাত দিয়ে বলে,

—-” তুই আমার বোন ব্লাক রোজ। কিন্তুু তাই বলে যেটা আমার সাথে ঘটেনি। সেটার দায়ভার কেন শুভ্র নেবে?”

রোজ বুঝতে পারছে। এখন রোদকে কিছু বলে লাভ নেই। কিন্তুু কথা হলো রোদ সব ভুললো কি করে? সবাই রুম থেকে যেতেই শুভ্র বলে!”

—-” কি ভাবছো? রোদ কি করে সব ভুললো তাই তো?”

রোজ রেগে বলে,

—-” আপনি কি করেছেন ভাইয়ার সাথে?”

শুভ্র ডেভিল হেসে বলে।”

—-” সেটা এখন বলতে পারবো না। চেঞ্জ করে নাও আমি বাড়ি যাই,

রোজ পেছন থেকে চেঁচিয়ে বললো!”

—-” সবটা বলে যান,

শুভ্র পাত্তা না দিয়ে চলে যায়। রোজ ধপ করে বিছানায় বসে পড়ে। এসব কি হচ্ছে ওর সাথে? বেচারীর ছোট মাথায় কিছুই ঢুকছে না। রোজ চেঞ্জ করে শুয়ে পড়ে। পরেরদিন ওরা বাড়ি চলে আসে। ৫দিন পর আবার বিয়ের ঝামেলা। রোজের ইচ্ছে করছে চেঁচিয়ে বলতে। যে ও এই বিয়ে করতে চায় না। কিন্তুু ও চায় না ওর জন্য কারো ক্ষতি হোক। তাই চুপচাপ সব মেনে নিচ্ছে। এদিকে সকাল, সকাল শুভ্র এসে হাজির। শুভ্রকে দেখেই রোজ বিরক্তি নিয়ে বললো।”

—-” কি চাই আপনার?”

শুভ্র হেসেই বললো,

—-” শপিং করতে যেতে হবে তো!”

রোজ রেগে বোম হয়ে বললো,

—-” তো যান কে বারন করেছে?”

শুভ্র ভেতরে গিয়ে বললো।”

—-” তুমিও যাবে যাও রেডি হয়ে এসো,

রোজ হনহন করে শুভ্রর সামনে এসে বললো!”

—-” আমি কোথাও যাবো না,

______________________

তখন রোদ সেখানে এসে বললো।”

—-” রোজ বিয়েটা তোর। তাই তোর যেতে হবে। কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ চলে যা,

রোজ এক গাদা বিরক্তি নিয়ে। রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে এসে বললো!”

—-” চলুন আর আমাকে উদ্ধার করুন,

শুভ্র মুচকি হেসে বললো।”

—-” চলো,

রোজ একটা কথা ভেবে অবাক হলো। ও শুভ্রকে যত অপমানই করুক না কেন। শুভ্রর ঠোটের কোনায় হাসিটা ঠিকই থাকে। তাহলে কি সত্যি শুভ্র ওকে ভালবাসে? এসব ভাবতে, ভাবতে পৌছে গেলো। শপিং মলে গিয়ে বিয়ে আর গায়ে হলুদের জন্য। রোজকে লেহেঙ্গা কিনে দিয়েছি শুভ্র। গায়ে হলুদেরটা হলুদ বিয়েরটা লাল। ২টা ১লাখ ৬০ হাজার। তাছাড়া এমনি কয়েকটা শাড়িও কিনেছে। যার অনেক দাম। নিজের জন্য শেরওয়ানি নিয়েছে। জুয়েলারি নিয়েছে সব ডায়মন্ড। শপিং শেষ করে খাবার সাইডে গেলো। রোজকে এক প্রকার জোড় করে খাইয়েছো শুভ্র। এরপর বাড়ির দিকে রওনা দিলো। রোজকে বাড়ি দিয়ে শুভ্রও বাড়ি চলে গেলো। শুভ্রর ফুপ্পি আর চাচ্চুরা এসেছে। দেখতে, দেখতে গায়ে হলুদের দিন চলে এলো। কমিউনিটি সেন্টার জলজল করছে। শুভ্রর বিয়েতে প্রেস, মিডিয়া সবাই এসেছে। রোজকে সবাই সাজাচ্ছে। লেহেঙ্গা যে দেখছে তারই চোখ আটকে যাচ্ছে। রোজের কাজিন সাফিয়া বললল!”

—-” ওয়াও রোজ তুই অনেক লাকি। এমন কাউকে যদি আমি পেতাম,

রোজ কিছুই বললো না। রোজকে ফুলের গয়না দিয়ে সাজিয়ে স্টেজে নিয়ে গেলো। স্টেজের এক পাশে শুভ্র দাড়ানো। শুভ্রকে মেয়েরা চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। হলুদ একটা পাঞ্জাবী পড়া। বুকের কাছে পুরোটা স্টোন বসানো। হোয়াইট কালার প্যান্ট। হাতে ব্লাক কালার ঘড়ি। সিল্কি চুলগুলো কপালে এসে পড়েছে। দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। আর মাঝে, মাঝে ঠোট কামড়াচ্ছে। চিরল ঠোটদুটো নড়ছে। রোজকে নিয়ে স্টেজে বসানো হলো। শুভ্র হা করে রোজকে দেখছো। একটুপর সবাই হলুূদ লাগাতে এলো। দুজন পাশাপাশি বসা। হলুদের তালে গান চলছে।”

?গতরে হলুদও লাগাইয়া?
?কন্যারে সাজা বধুরও সাজে মিলিয়া?
?আজকে যে খুশিতে নাচে দুলহানিয়া?
?পাড়া প্রতিবেশী ঘরেতে আসিয়া?

রোজের রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। আর শুভ্র তার রেড রোজকে অপলক দেখে যাচ্ছে,

?আজকে যে খুশিতে নাচে দুলহানিয়া?
?পাড়া প্রতিবেশী ঘরেতে আসিয়া?
?নাচে যে চুমকি আর নাচে ফুলবানিয়া
?হলুদে নাচবে আঙ্কেল আর আন্টিরা?

রোজের এসব অসহ্য লাগছে। তাই কাউকে না বলে রুমে চলে গেলো। এসে আগে হাতের মেহেদী ধুয়ে নিলো। হাতের দিকে তাকাতে ওর চোখ চড়কগাছ। কারন হাতে স্পষ্ট শুভ্র নাম জলজল করছে। রোজ রেগে লেহেঙ্গা খুলে থ্রি পি পড়লো। এরপর হাত ঘষতে লাগলো। এরমাঝে শুভ্র এসে বললো!”

—-” কোন লাব নেই উঠবে না,

রোজ শুভ্রকে দেখে বললো।”

—-” আপনি এখানে কি করছেন?”

শুভ্র রোজের আরো কাছে এসে বললো,

—-” আমার বউয়ের রুমে আমি আসবো না?”

রোজ বিরক্তিকর ফেস নিয়ে বললো!”

—-” আমি ঘুমাবো আপনি যান,

শুভ্র হুট করেই রোজের কপালে চুমু দিয়ে বললো।”

—-” গুড নাইট মাই লাভ,

বলে হেলেদুলে চলে গেলো। রোজ হা করে তাকিয়ে আছে। রেগে গিয়ে ঠাস করে বিছানায় শুয়ে পড়লো!”

________________________

পরেরদিন রোজ বউ সেজে বসে আছে। টকটকে লাল লেহেঙ্গা পড়ানো হয়েছে। সাথে সব ডায়মন্ড জুয়েলারি। চোখে মোটা করে কাজল দেয়া। ঠোটে লাল লিপস্টিক। একটু পর রোজকে নিচে নিতে বললো। রোজ কিছুতেই যেতে চাইছে না। পরে রোদ এসে জোড় করে নিয়ে গেলো। স্টেজে নিয়ে বসানোর পর। রোজ একবারও শুভ্রর দিকে তাকাচ্ছে না। বিয়ে পড়ানোর সময় হয়ে গিয়েছে। শুভ্র কবুল বলে দিয়েছে। এমনকি সাইনও করে দিয়েছে রেজিস্ট্রি পেপারে। এরমাঝেই রোজ চেঁচিয়ে বললো,

—-” এই বিয়ে আমি করতে পারবো না।”

সবাই হতবাক রোজ রেগে বললো,

—-” এই পাগলকে আমি বিয়ে করবো না!”

শুভ্র পাগড়ী ফেলে উঠে এসে। রোজের গালে ঠাটিয়ে এক চর মেরে বললো,

—-” আমাকে কি খেলনা মনে হয়? এতদিন খেলতে মন চেয়েছো বলে খেলেছো। আর এখন খেলা শেষ বলে ছুড়ে ফেলতে চাইছো। চুপচাপ কবুল বলো আর সাইন করো। নয়তো সব শেষ করে দেবো।”

শেষের কথাটা আস্তে বললো। ভয় পেয়ে রোজ কবুল বললো। আর কাঁপা, কাঁপা হাতে সাইন করলো। এবার বিদায়ের পালা একটা মেয়ের জন্য। এই মুহূর্তটা অনেক বেশী কষ্টের। যাদের কাছে বড় হয়েছে। যেই বাবার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়েছে। যেই মাকে জড়িয়ে ধরে হাজারও গল্প শুনে ঘুমিয়েছে। যেই ভাইয়ার কোলে, কাঁধে চরেছে। আজকে তাদের রেখে চলে যেতে হচ্ছে। রোজকে অনেক কষ্টে গাড়িতে উঠিয়েছে। সারা রাস্তাই রোজ কাঁদতে, কাঁদতে এসেছে,

বাসর ঘরে বসে আছে রোজ। একটুপরই শুভ্র এলো রুমে। শুভ্র আসতেই রোজ বিছানা থেকে নেমে এসে বললো!”

—-” ভাববেন না আপনাকে সালাম করতে এসেছি। আমি আপনাকে স্বামী বলে মানিনা। আমি জানতে চাই ভাইয়া সব কি করে ভুললো? কি করেছেন আপনি ভাইয়ার সাথে?”

শুভ্র বাঁকা হেসে বললো,

—-” চাইলে নিজের অধিকার। আমি এখনি আদায় করতে পারি। বাট আমি আমি জোড় করবো না। আর রোদের সাথে বেশী কিছু করিনি। রোদ সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলো। আর প্রমিজ অনুযায়ী আজকে ওকে ছেড়ে দেওয়ার কথা। বাট এমনি কি করে ছাড়তাম বলো? তাই ওর সেন্স আসার আগেই। ওকে এমন ইনজেকশন দিয়েছি। যে ওর সাথে গত ২৪ঘন্টা কি হয়েছে সেই সব ও ভুলে গিয়েছে। আর ইনজেকশন দেয়ার পর যখন ওর সেন্স এসেছে। তখন আমি ওকে বুঝিয়েছি যে আমি ওর বেস্ট ফ্রেন্ড। আর ইনজেকশনের রিয়েকশনে ও সেটাই বিলিভ করেছে,

রোজ অবাক হয়ে বললো!”

—-” তাহলে তামান্না কেন বললো? যে ভাইয়া কিডন্যাপ হয়নি? ভাইয়া এখানেই ছিলো,

শুভ্র একটু শব্দ করে হেসে বললো।”

—-” কারন এটাও ওর মাথায় আমি ঢুকিয়েছি। আমি ওকে বলেছি এসব বললে তুমি টেনশন করবে তাই,

রোজ শুভ্রর কলার চেপে ধরে বললো!”

—-” আপনি এত খারাপ?”

শুভ্র রোজের হাত ধরে বললো,

—-” নো বেইব, বাট তোমাকে পেতে। ইয়েস তোমাকে পেতে আমি সব করতে পারি। যত নিচে নামতে হয় নামতে পারবো। বিকজ আই লাভ ইউ।”

#চলবে…