সাইকো লাভার পর্ব-১৫

0
3158

#সাইকো লাভার❤
#লেখিকাঃ নাবিলা আহমেদ রোজ
#পর্ব- ১৫

রোজ মেঘকে তামান্নার কাছে দিয়ে রুমে গেলো। মেঘ রোজের কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছে। রোজও রুমে গিয়ে যেভাবে ছিলো। ওভাবেই বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। কারন রাত হলেই আবার বেরিয়ে যাবে। রোদের জ্বর কিছুটা কমেছে। মেঘ রোদের পাশেই শোয়া ছিলো। তাই ঘুম থেকে উঠে রোদকে দেখে। উঠে বসে রোদের পেটের উপর গিয়ে বসে। হাত দিয়ে রোদের মুখে হাত দিয়ে। নিজের আদো, আদো ভাষাতেই বললো।”

—-” পাপা, পাপা, পাপা,

রোদ নিজের ছেলের কান্ড দেখে হাসছে। রোদও উঠে বসে মেঘকে কোলে নিয়ে বললো!”

—-” আমার পাপা কি তার পাপাকে মিস করছিলো?”

এবার মেঘ মাম্মা, মাম্মা করতে লাগলো। তামান্না এসে মেঘকে কোলে নিয়ে খাইয়ে দিলো। সন্ধ্যার দিকে রোজের ঘুম ভেঙে গেলো। রোজ কাবার্ড থেকে টাকা নিয়ে নিচে এলো। বের হবে এমন সময় রোদ বললো,

—-” আজকে না গেলে হয় না?”

রোজ হেসে বললো।”

—-” না,

তামান্না রোজের কাছে এসে বললো!”

—-” এভাবে যাবি?”

এটা বলার কারন রোজ একটা টি শার্ট পড়া। আর একটা থ্রি কোয়াটার প্যান্ট। রোজ বিরক্তি নিয়ে বললো,

—-” দেখতেই তো পাচ্ছিস এভাবে যাচ্ছি।”

বলে বেরিয়ে গেলো। সবাই মন খারাপ করে বসে রইলো। রোজ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সোজা ক্লাবে চলে এলো। গাড়ি থেকে নেমে একটা সিগারেট ধরালো। এরপর গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে। একমনে সিগারেট খেতে শুরু করলো। একটা শেষ হতে আরেকটা ধরাচ্ছে। এভাবে প্রায় ৫টা সিগারেট শেষ করলো। ক্লাবে ঢুকবে তখনি নিরব এসে হাজির হলো। রোজ দাতে দাত চেপে ভেতরে গেলো। রোজের পিছনে নিরবও গেলো। আজকে ক্লাবে অন্যরকম আমেজ। তাতে রোজের কোন মাথা ব্যথা নেই। রোজ নিজের মতো বারে গিয়ে বসলো। এক বোতল মদ নিয়েই খেতে শুরু করলো। ৮টা বাজতেই হৈ, চৈ শুরু হয়ে গেলো। রোজ বিরক্তিকর ফেস করে বললো,

—-” আজকে এত হৈ, চৈ কেন মিউজিক ছাড়া?”

একটা ছেলে শুনে বললো!”

—-” কারন আজকে রকস্টার আবির রায়জাদা গান গাইবে,

রোজ নিজের মতো বসে রইলো। একটু পড়েই সবাই আবির নাম জপতে লাগলো। তখনি একটা ছেলে ক্লাবের ডান্স ফ্লোরে এলো। সবাই গোল হয়ে দাড়িয়ে আছে। রোজ পিছন থেকে দেখলো। ছেলেটার পড়নে ব্লাক ড্রেস। মুখে মাস্ক লাগানো,চুলগুলো বিদেশীদের মতো কালার করা। চোখে কালো সাইন গ্লাস লাগানো। ছেলেটা মাইক্রোফোন মুখে নিয়ে বললো।”

—-” আর ইউ রেডি গাইস?”

রোজও হেলেদুলে এগিয়ে গেলো। ছেলেটা একবার রোজকে দেখলো,

?আপনে কারাম কি কার দায়েএএএএএএএএ?
?ইয়ারা, ইয়ারা, ইয়ারা?

সাইন গ্লাসে হাত দিয়ে আবার হাত নামালো!”

?মুজকো ইরাদে দে?
?কাসমে দে ওয়াদে দে?
?মেরি দুয়া কে?
?ইশারো কো সাহারে দে?

গিটারটা হাতে নিলো এবার,

?দিলকো ঠিকানে দে?
?না ইয়ে বাহানে দে?
?খাবোকি বারিসোকো?
?মসাম কো প্যামানে দে?

উল্টোদিকে ঘুরে গিয়ে দাড়ালো।”

?আপনে কারাম কি কার দায়ে?
?কার দে ইধার তু নিগায়ে?
?সুন রাহা হে না তু?
?রো রাহা হু ম্যা?
?সুন রাহা হে না তু?
?কিউ রো রাহা হু ম্যা?

এবার আবার সেইদিকে ঘুরলো। যেইদিকে রোজ দাড়ানো। সেইদিকে ঘুরেই সবাইকে সরিয়ে রোজের সামনে দাড়ালো। দাড়িয়ে গিটারটা একজনের হাতে দিয়ে। এবার অন্য গান গাইতে শুরু করলো,

?আরে লারকি বিউটিফুল কার গায়ে চুল?
?আরে লারকি বিউটিফুল কার গায়ে চুল?
?দেখ তেরা রাঙ বাউলা?
?লারকি নেহি হে তু গারাম মামলা?

রোজকে একটানে কাছে এনে চেঁচিয়ে বললো!”

—-” এভরিবডি লেটস নাচো,

আবির রোজের কোমরে হাত দিয়ে আছে। রোজের খুব রাগ লাগছে আবিরের ছোয়াঁতে। কিন্তুু আবির রোজকে এমনভাবে ধরেছে। রোজ কিছু করতেও পারছে না। আবির রোজকে নিয়ে ডান্স করতে লাগলো। এক পর্যায় হঠাৎ লাইট অফ হয়ে গেলো। তখনি রোজ অনুভব করলো ওর হাত জ্বালা করছে। তবে রোজ একটু টু শব্দও করলো না। যেই মেয়ে কি না হালকা ব্যথা পেলে। পুরো বাড়িটা মাথায় তুলে নিতো। লাইট অন হতেই দেখলো হাতে গোল দাগ। আর নিচে সিগারেট পড়ে আছে। রোজের হাত থেকে রক্ত পড়ছে। রোজ বুঝলো কেউ ওর হাতে সিগারেট চেপে ধরেছিলো। কিন্তুু বুঝতে পারছে না কে হতে পারে? আবির তো পাশেই আরেকটা মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত। রোজ একটা মদের গ্লাস নিয়ে। পোড়া যায়গায় মদ ঢেলে দিলো। যে, যে ওর পোড়া জায়গা দেখেছে। সবাই এমন ঘটনায় অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।”

_____________________

নিরব দৌড়ে এসে রোজের হাত ধরে বললো,

—-” রোজ তোমার হাতে কি হয়েছে?”

রোজ হাত ছাড়িয়ে বললো!”

—-” তেমন কিছু হয়নি নিরব। কোন কাপুরুষ যেনো পিছন থেকে ছুড়ি মেরেছে। এনিওয়ে আজকে আমি চলে যাচ্ছি,

নিরব অবাক হয়ে বললো।”

—-” এত তাড়াতাড়ি?”

রোজ তাকাতেই নিরব মিনমিন করে বললো,

—-” না মানে তুমিতো অনেক লেট করে যাও!”

রোজ কিছু না বলে চলে গেলো। বেচারা নিরবও আর কি করবে? ও ক্লাবে আসেই রোজের জন্য। তাই নিরবও আর থাকলো না চলে গেলো। রোজ আজকে আগে বাড়ি আসায়। সবাই ভুত দেখার মতো চমকে গেলো। রোজ সে সব ইগনোর করে রুমে গেলো। রুমে গিয়ে ইচ্ছেমতো ড্রিংক করতে লাগলো। এত বেশী ড্রিংক করাতে কন্ট্রোল হারিয়ে ফেললো। রোদ এসেছিলো রোজকে খেতে ডাকতে। বাট এসব দেখে আজকে অনেক রেগে গেলো। রোজকে টেনে উঠিয়ে ঠাটিয়ে এক থাপ্পর মেরে বললো,

—-” আর কত? আর কত নিচে নামবি তুই?”

রোদের চিৎকারে সবাই চলে এলো। রোজ ঢুলু, ঢুলু করে বললো।”

—-” আরে ভাইয়া এত রেগে যাচ্ছিস কেন?”

আজকে রোজের আম্মুও রেগে গেলো। উনি খুব রেগে রোজকে বললো,

—-” এই মেয়েটার জন্য মান সম্মান রইলো না। ওর এসব পাগলামি আর কত দেখবো? নেশাখোর একটা স্বামী মারা গিয়েছে যার। তাকে দেখো কিভাবে ঘুরে বেরায়। হ্যা রে তুই মানুষ আছিস তো? নাকি জানোয়ারে রুপ নিয়েছিস?”

রোজ দৌড়ে হেলে দুলে নিচে চলে গেলো। রোজকে এভাবে যেতে দেখে রোদ বললো!”

—-” শিট এটা কি করে ফেললাম আমি? আমি রোজকে চর মারলাম?”

রোদও দৌড়ে নিচে গেলো। কিন্তুু গিয়ে রোজকে পেলো না। রোদ ধপ করে বসে পড়লো। রোজ গাড়ি নিয়ে নির্জন একটা রাস্তায় চলে এলো। এরপর গাড়ি থেকে নেমে হাটু গেড়ে বসে পড়লো। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। কিন্তুু রোজ কিছুই বলছে না। শুধু চোখ দিয়ে পানিই পড়ছে। হঠাৎ রোজ পাগলের মতো হাসতে লাগলো হাসতে, হাসতেই বললো,

—-” হা তুই বড় বেইমান রে। কাকে কি বলবো আমি? জানি আমি যা করি। সেটা হয়তো সব লিমিট ক্রস করে গিয়েছে। কিন্তুু কেন এমন করি আমি? কেউ কি কখনো আমার মনের খোজ নিয়েছে? সবার এখন আমার কাজগুলো। পচা ডোবা, নেশা, লাথি, পাগলামী এসব মনে হয়। হ্যা আমি লিমিট ক্রস করছি। আমি ড্রিংক ও করি সিগারেটও খাই। ছেলেদের সাথে মারপিটও করি। কিন্তুু কারো চোখে আমার মনের কষ্টটা পড়ে না। কেউ আমার কষ্টটা দেখলো না। আমিও তো চেয়েছিলাম নরমাল থাকতে। কিন্তুু পারলাম কোথায়? আমি কি আগে এমন ছিলাম? আমিতো আর ৫টা মেয়ের মতো। স্বামীর সাথে সুখে সংসার করছিলাম। কিন্তুু সে যখন আমার সাথে বেইমানি করলো। আমার চোখের সামনে ভাইয়া তোকে গুলি করলো। সেটা আমি কি করে মেনে নিতাম? হ্যা এখন হয়তো বলবি যে তুইতো বেঁচে আছিস। আমিও জানি তুই বেঁচে আছিস। কিন্তুু সেই দৃশ্য আমি কি করে ভুলবো? যদি তোর কিছু হয়ে যেতো? আর তাইতো শুভ্র চৌধুরী শাস্তি পেয়েছে।”

রোজ উঠে গিয়ে গাড়িতে বসে পড়লো। কিন্তুু এখান থেকে গেলো না। সারারাত এখানেই পাড় করে দিলো। সকাল ১০টায় রোজ বাড়ি গেলো। কিন্তুু কারো সাথে কথা বললো না,

_____________________

গ্রামের একটা মাটির ঘরে বসা শান্ত। আর তার সামনেই বসা বিজলি বলে একটি মেয়ে। শান্ত মাথা থেকে গামছা খুলে বললো!”

—-” এইখানে বইসা আছোস যে?”

বিজলি মুখ কালো করে বললো,

—-” হ তোরে মুই বহুত মিস না কি হেইডা করছি।”

শান্ত বিরক্ত হয়ে বললো,

—-” শোন বিজলি এহন আমি ক্লান্ত। তাই একটু ঘুমামু তুই যা। সারাডা রাইত কাম কইরা দেখছোস কেমন লাগে?”

বিজলি মুখ কালো করে চলে গেলো। দুপুর ১টা বাজে আর আবির এখনো ঘুমানো। আবিরের বাবা এবার আবিরের রুমে এলো। আবির একটা থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পড়ে আছে। গায়ে হাতা কাটা একটা গেঞ্জি। কোলবালিশের উপর পা দিয়ে ঘুমানো। কপালে চুল এসে পড়েছে। আবিরের বাবা আবিরের কাছে গিয়ে ডাকলো!”

—-” আবির আর কত ঘুমাবি বাবা?”

আবির আড়মোড়া দিয়ে ঘুম, ঘুম কন্ঠে বললো,

—-” উহ ড্যাড লেট মি স্লিপ না?”

আবিরের বাবা হেসে বললো।”

—-” কয়টা বাজে জানিস? তোকে এই নিয়ে কতবার ডেকেছি। ব্রেকফাস্ট ও করলি না আজ,

আবির চোখ বন্ধ করেই বললো!”

—-” ১১টায় করবো ড্যাড,

আবিরের বাবা এবার জোড়ে হেসে বললো।”

—-” কিন্তুু বাবা এখন যে ১টা বাজে,

আবির এবার লাফ দিয়ে উঠে বসে বললো!”

—-” ওহ মাই গড ড্যাড। আমাকে আগে ডাকোনি কেন?”

বলে বিছানা থেকে নেমে ওয়াসরুমে চলে গেলো। গিয়ে আগে ব্রাশ করে শাওয়ার ছেড়ে দিলো। শাওয়ার নিয়ে একটা তোয়ালে পড়ে বেরিয়ে এলো। আর গেঞ্জিটা গলার উপর রাখা। শুধু পেটটা দেখা যাচ্ছে। আবিরের বাবা আবিরকে এভাবে দেখে হাসলো। একজন সার্ভেন্ট আবিরের জন্য কফি নিয়ে এলো। আবিরকে কখনো খালি গায়ে দেখেনি। আজকে খেয়াল করলো আবিরের পেটে একটা গভীর দাগ। এটা দেখে সার্ভেন্টটা বললো,

—-” বড় স্যার, ছোট স্যারের পেটে কিসের দাগ?”

আবির ততক্ষণে শার্ট পড়ে ফেলেছে। আবিরের বাবা একটা শ্বাস নিয়ে বললো।”

—-” ছোট বেলায় পড়ে গিয়েছিলো। আর পড়ে গিয়ে ওর পেটে কাচ ঢুকে গিয়েছিলো,

আবির রেডি হয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে বললো!”

—-” বাই ড্যাড,

আবিরের বাবা অবাক হয়ে বললো।”

—-” না খেয়ে কোথায় যাচ্ছিস?”

আবির যেতে, যেতে বললো,

—-” বাইরে খেয়ে নেবো!”

বলে চলে গেলো গাড়ি নিয়ে। আবিরের বাবা আর কি বলবে? আবির মুখে মাস্ক লাগিয়ে, গাড়ি ড্রাইভ করছে। এরমাঝে একটা গাড়ির সাথে ওর গাড়ি ধাক্কা লাগলো। গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো রোজ। আবির রোজকে দেখে বললো,

—-” আবার এই মেয়ে?”

রোজ হনহন করে আবিরের সামনে এলো।”

#চলবে..