সি আইডি অফিসারের ভালোবাসা part-০8

0
1032

গল্প: সি আইডি অফিসারের ভালোবাসা
#Raihan
Part-8
.
.
.
.
.
.
_অবশ্যয় থাকতে পারে।
এই ড্রোনটির জন্য যেহেতু এক্সট্রা নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে নেই।
তা এটা যেখান থেকে পাঠানো হয় এবং যেখানে পাঠানো হয় দু জায়গায় দুটো এ্যান্টেনা থাকে।
আর যেহেতু এই ভার্সিটিতে কয়েকদিন ধরে হত্যাকান্ড গঠতে চলেছে
তাহলে এই ড্রোনটাতে অবশ্যয় কোনো তথ্য থাকতে পারে।
মাসুদ প্রথমে ড্রোনের ব্যাটারীর লাইনটা কেটে দে।
আর ড্রোনটাতে দেখতো কিছু আছে নাকি? {আমি}
_আচ্ছা দেখতেছি।{মাসুদ}
_ঐ মাসুইদ্দা ব্যাটারীটা আমারে দিয়া আলা একটা লাইট বানামো….?
রাইতে একলা মুতপার উঠলে আমি ডরাই…?
{রেজা}
হঠাৎ রেজার কথা শোনে আমরা সবাই ফিক করে হেসে দেই।
ঠিক তখনি ভার্সিটির গেইট খোলার আওয়াজ আসে।
আর সাথে সাথেই আমরা চমকে যায়।
_কিরে মাসুদ! ভার্সিটির গেইট খোলার আওয়াজ আসলো না মনে হয়..?{আমি}
_হুম সেটাই তো মনে হচ্ছে।{মাসুদ}
_তাহলে সবাই সাবধান।
নিশ্চয় অপরাধীরা কেউ থাকতে পারে।
একটা কাজ কর,সবাই নিরাপদ জায়গা বুঝে লুকিয়ে যা।
আর আমি প্রথমে যা যা বলছিলাম ঠিক তাই করবি।{আমি}
_আচ্ছা।
আর ড্রোনটা সাথে নিয়ে চল।
এটার ভিতর কি আছে পরে দেখা যাবে।
আর এটা খুজার জন্য অপরাধীরা যখন সবাই বেরিয়ে আসবে ঠিক তখনি সুযোগ বুঝে এ্যাটাক করতে হবে।(আমি}
_ঠিক আছে।
এরপর আমরা সবাই গিয়ে আড়ালে লুকিয়ে পড়লাম।
অপরাধীটা কে তাকে দেখার জন্য।
কিন্তু অপরাধীটাকে দেখে তো আমরা পুরাই অবাক…?
আরে এটা তো দেখছি রাফি।
কলেজে দেখা সেই ছেলেটা।
এদিকে রাফি গেইট খোলার সাথে সাথেই ক্যাম্পাসের বট গাছটার আশে পাশে কি যেন খুজতে থাকে।
কিন্তু কিছুই যেন পাচ্ছে না।
কিছু না পেয়ে ওর সাথে থাকা আরো কাকে যেন ফোন করে
আর সাথে সাথেই দুটো ছেলে এসে হাজির হয়।
এবার সবাই খুজতে থাকে।
অনেক ক্ষণ খুজার পরেও কিছু না পেয়ে হতাশ হয়ে মাটিতে বসে পড়ে।

ঠিক তখনি অবস্থা বুঝে আমরা সবাই বেরিয়ে এসে ওদেরকে ঘিরে দাড়াই।
আর আমাদেরকে দেখে ওরা ভয় পেয়ে দাড়িয়ে যায়।
_কিরে রাফি!
দলবল নিয়ে কি খুজতেছিলি…?
_মা..মানে?
কি খুজবো?
আর তরা এখানে কেন…?{রাফি}
_এমনিতেই তরা যেন কি খুজতেছিলি
তদেরকে সাহায্য করার জন্যই আসলাম।{আমি}
_মা…মানে কি খুজবো..?
কিছু খুজি না তো।{রাফি}
_কিছু খুজিস না তো এখানে কি করিস..?{মাসুদ}
_সেই কইফিয়ত কি তদেরকে দিতে হবে?..?{রাফি}
_না কইফিয়ত চাচ্ছি না।
তদের কে জিনিসটা খুজতে সাহায্য করতে চাচ্ছি।{সবুজ}
_না তদের সাহায্য করতে হবে না।
এখন তরা এখান থেকে চলে যা।{রাফি}
_আচ্ছা তাহলে চলে গেলাম কিন্তু…..{আমি}
_ওক যা।
যেইমাত্র আমরা রাফিকে জাস্ট দেখানো জন্য চলে আসতে যাবো ঠিক তখনি
_ঐ শাকিল দাড়া…!{রাফি}
_কেন?
আমরা তো চলেই যাচ্ছি!{আমি}
_আমরা এখানে কি যেন খুজতেছিলাম
সেটা কি তরা দেখেছিস…?
_হুম দেখেছিলাম_ই তো।
তরা ঠিক কি যেন খুজতে চেয়েছিলি কিন্তু পেলি না।
_ও আচ্ছা!
তাহলে আর তদের বাড়িতে যাওয়ার দরকার নেই।{রাফি}
_মানে কি বলছিস তুই?{আমি}
_হুম! ঠিক_ই বলছি।
এই রাফি কখনো তার কোনো কাজের সাক্ষী রাখে না!
_মানে?
কিসের কাজের সাক্ষী?{আমি}
_সেটা তো বলবে এই রিভেলবারটাই….{রাফি}
কথাটা বলেই রাফি যেইমাত্র আমার মাথায় রিভেলবার ধরতে যাবে ঠিক তখনি ছিটকিয়ে ওর হাত থেকে রিভেলবার ফেলে দিয়ে আমার ফায়ার করা রিভেলবার ওর মাথায় ঠেকিয়ে দেই।
আর আমার হাতে রিভেলবার দেখে রাফি ভয় পেয়ে যায়।
আর রাফির মাথায় রিভেলবার ধরা দেখে রাফির সাথে যে দুইজন এসেছিলো ওর যেইমাত্র দৌড়ে পালিয়ে যেতে যাবে ঠিক তখনি মাসুদ আর সবুজ ওদেরকে ধরে ফেলে।
_কি রে রাফি!
আমাদেরকে এখান থেকে বের হতে নাকি দিবি না বললি।
এখন তোই বের হতে পারবি?{আমি}
কথাটা বলেই শাকিল ঠাস ঠাস করে রাফির গালে চড় বসিয়ে দেয়।
_কি মামো আমাদেরকে নাকি এহান থাইক্কা বাহির অইতে দিবা না কইছিলা
অহন তোমরা বাহির অইতে পারবা কি না সেটা আগে বল…?{রেজা}
_ঐ দেখ শাকিল তোই কাজটা ভালো করছিস না কিন্তু…?{রাফি}

_আরে হালা রাখ তোর ভালো_মন্দ ।
আগে চলো তোমার শ্বশুর বাড়ি থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি।(আমি)
_মানে?
তরা কে…?….?(রাফি}
_সেটা না হয় নিয়ে যাওয়ার পরেই বুঝতে পারবি।
ঐ সবুজ এদেরকে নিয়ে চল।{আমি}
_আচ্ছা।
ঐ হালারা চল।
আজকে দেখতে পারবি কত ধানে কত চাল।{সবুজ}
_শাকিল তরা কাজটা ঠিক করছিস না কিন্তু।
তুই আমাকে চিনিস না।
_আরে রাখ তর প্যাচাল তার আগে তুই আমাদেরকে চিনে নে।
কিরে সবুজ এদেরকে নিয়ে দাড়িয়ে থাকবি নাকি এখান থেকে নিয়ে যাবি?{আমি}
_ওকে নিয়ে যাচ্ছি।
_আরেকটা কথা শালারা কোনো ক্রমেই যেন পালাতে না পারে।
এদেরকে নিয়ে এমন জায়গাতে নিয়ে বেধে রাখবি যেন কেহ জানতে না পারে।
আর যদি যদি কোনো রকমের চালাকি করে
এমন কি পালানোর চেষ্টা করে তাহলে ডাইরেক্ট শুট করে দিবি…?
আর যেভাবেই পারিস ওদের মুখ থেকে তরা এ কেইসটা সম্পর্কে তথ্য নিবি।
দরকার পরলে পিটিয়ে হাত পা গুড়ো করে দিবি।
তবুও কালকে সকালে আমার তথ্য চাই।
মনে রাখবি সময় কিন্তু খুব ই স্বল্প।{আমি}
আমার মুখে শুট করার কথা শোনে রাফি সহ সবাই ঢুক গিলতে থাকে।
_কেন তুই যাবি না…?{রেজা}
_না তরা যা।
আমি এ দিকটা দেখে আসছি।
আর ড্রোনটা আমার কাছে দিয়ে যা।
কাজে লাগতে পারে।
রেজা আমার হাতে ড্রোনটা দিয়ে ওদেরকে নিয়ে চলে গেলো।
আর আমি ড্রোনটা হাতে নিয়ে দেখি এটাতে একটা পেইনড্রাইভ আর কিছু কাগজপত্র আছে।
সেখানে আমি আরো কিছুক্ষণ সময় অপেক্ষা করে সেখান থেকে চলে আসলাম।
আর ততক্ষণে ফজরের আযান দিয়ে দিয়েছে।
ফজরের নামাযটা পড়ে নিয়ে আমি বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম।
আর রাস্তায় ওদের সাথে ফোন করে জেনে নিলাম ওরা কিছু তথ্য বের করতে পেরেছে।
আর ওরা নাকি এখনো বাসায় আসে নি।
তাই আমি তাড়াতাড়ি বাসায় আসার জন্য পা চালালাম।
কিন্তু বাসার সামনে এসে তো আমি পুরোই অবাক।
আরে চাদনী দেখছি আমার বাসার সামনে দাড়িয়ে আছে।
চাদনীকে আমার বাসার সামনে দেখে খুব অবাক হলাম।
_আরে মেয়েটা এত সকালে আমার বাসার সামনে কি করছে?
আবার আমাদের মিশন সম্পর্কে সবকিছু জেনে গেলো না তো?
আল্লাহ ই জানে।
যদি জেনে যায় তাহলে তো খুব সমস্যা।
মনে মনে এসব কথা ভাবছি আর বাসার দিকে এগোচ্ছি।
যেই মাত্র আমি রুমের দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকতে যাবো ঠিক তখনি____
_শাকিল একটু কথা ছিলো।{চাদনী}
_কাকে আমাকে বলছেন?{আমি}
(বুঝেও না বুঝার ভান করলাম)
_হুম তোমাকেই বলছি{চাদনী}
_হুম কি বলবেন বলেন!{আমি}
_বলতে পারি!
তবে আমাকে আপনি বলা ছেড়ে দিয়ে তোমি বলতে হবে।
তারপর বলবো।{চাদনী}
_আজব তো!
কি বলবেল বলেন আর না হলে এখান থেকে ভাগেন।
এমনিতেই সারা রাত ঘুমাতে পারি নি।…?{আমি}
_মানে! ঘুমাতে পারনি কেন?(চাদনী)
_সে কথা আপনাকে বলতে হবে?
কি বলতে আসছেন সেটা আগে বলেন।{আমি}
_আসলে কথাটা হলো কালকে তোমাকে ওভাবে সবার সামনে অপমান করাটা ঠিক হয় নি।…?{চাদনী}
_তো আমি তার জন্য কি করতে পারি?….?{আমি}
_না তোমাকে কিছু করতে হবে না।
কালকে তোমাকে ওভাবে অপমান করে আমি খুব ভূল করেছি।
আর তোমাকে অপমান করার পর কাল সারা রাত ঘুমাতে পারি নি।
শুধু তোমাকে অপমান করার দৃশ্যটা মনে পড়ছিলো।
আর তাই এখানে চলে আসি তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য।
কিন্তু এখানে এসে জানতে পারলাম তোমি নেই।

_তো এখন আপনি কি চান..?
_আমি আমার সকল ভূলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি।
প্লীজ ক্ষমা করে দাও!
_দে ভাইয়া মেয়েটা তো একটু ক্ষমাই চাচ্ছে।
দিয়ে দে ক্ষমা।
থাকলে জিনিস দিতে হয়।
এই ডায়লগটা আমার খুব পরিচিত লাগছে।
কিন্তু ডায়লগটা কে দিচ্ছে সেটা দেখার জন্য আমি পেছন দিকে ঘুরতেই অবাক হয়ে যায়।
_আরে মোসলিমা তুই….?{আমি}
_কেন খুব অবাক হলি নাকি…?{মোসলিমা}
_হুমমম।
কিন্তু তুই এখানে আসলি কখন?{আমি}
_আরে হাবা আমি তর মত অত গাধা নাকি
সেই বিকালে আসছি।
কিন্তু এসে জামিলা কাকির কাছে জানতে পারলাম তুই বাসাই নেই।
(জামিলা কাকি হচ্ছে আমাদের বাসার কাজের লোক)
_ওহ আচ্ছা।
কিন্তু তোই এখানে আসলি কিভাবে?
আরে বুদ্ধি থাকলে বিয়ের আগে শ্বশুর বাড়ি যাওয়া যায় হুম।।…{মোসলিমা}
হঠাৎ মোসলিমার মুখো কথাটা শুনে আমি হা হয়ে যায়।…?
_আরে এটা তো ছেলেদের ডায়লগ তুই মারলি কেন?(আমি)
_আরে রাখ তর ছেলে মেয়ে।
আমি সবার ডাইলগ ই পারি…{মোসলিমা)
_তার মানে তুমি আমার সাথে এতক্ষণ ডায়লগ মারলা?
তাকিয়ে দেখি চাদনী মোসলিমা কে কথাটা বলছে।
_কি যে বলো না আপু!
ডায়লগ তো মারি শুধু আমার ভাইয়ার সাথে।
আসলে ভাইয়া ছাড়া আমার খেলার সাথি কেউ নাই তো
তাই ভাইয়াই আমার একমাত্র সাথি..(মোসলিমা}
_ভাইয়া জানো চাদনী আপু সেই সন্ধ্যা থেকে তোমার অপেক্ষাতে এখানে বসে আছে।
কখন তোমি আসবে আর তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে বাড়িতে যাবে।
কিন্তু সারা রাত তোমি আসোও নি।
আর চাদনী আপু তোমার অপেক্ষাতে থেকে বাসাতেও যাইনি এমন কি ঘুমাইও নি।
তার তাই আমরা দুজনে অনেক রাত তোমার ব্যপারে গল্প করেছি।
কিন্তু তোমি তো জানো আমি বেশি রাত জাগতে পারি না।
তাই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু চাদনী আপু তোমার অপেক্ষাতে জেগেই ছিলো।{মোসলিমা}
মোসলিমার কথা শোনে চাদনীর দিকে তাকিয়ে দেখি মেয়েটার চোখ দুটো সত্যিই খুব ফোলা।
দেখে মনে হচ্ছে আসলেই সারা রাত ঘুমাই নি।
মুহূত্বেই যেন মেয়েটার উপর থেকে সকল রাগ ধূলিসাৎ হয়ে গেলো।
আমি আর কিছু না বলে সোজা রুমে চলে গেলাম।
একটু পর চাদনীও আমার পেছনে পেছনে আসলো__
এসেই বলতে থাকলো___
_আচ্ছা আমি কি তোমার কাছে এত ই অপরাধ করে ফেলেছি?
যার জন্য তোমি আমাকে এমন বিহেভ করছো?
আমি সব কিছুর জন্য সরি বললাম তো।
আর মোসলিমার কাছ থেকে তোমার ব্যপারে সব কিছু জানার পরে আরও অপরাধবোধটা আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।
প্লীজ ক্ষমা করে দাও!
_কি রে ভাইয়া চাদনী আপুকে ক্ষমা করবি নাকি আমি এখান থেকে বাড়িতে চলে যাবো?
তাড়াতাড়ি ক্ষমা কর না হলে সত্যিই আমি এখান থেকে চলে যাবো।
চলে গেলাম কিন্তু।{মোসলিমা}
_আরে আরে বোন আমার করছিস কি?
ওকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
তবুও রাগ করিস না প্লীজ!{আমি}
হঠাৎ চাদনী ক্ষমা করে দেওয়ার কথা শোনে মোসলিমা আনন্দে লাফিয়ে ওঠে।
আর চাদনীও মোচকি একটা হাসি দিয়ে যেই মাত্র রোম থেকে বেরিয়ে যেতে চাইবে ঠিক তখনি…!!
to be continue