সে_কি_জানে Part-12

0
988

#সে_কি_জানে?
#Writter : Ishanur Tasmia [Mira]
#Part : { 12 }

বৃষ্টিতে ভিজছি আমি।।অনেকদিন পর এভাবে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির এক এক ফোটা অনুভব করছি।।কেন যেন অনেক শান্তি লাগছে।।মনে হচ্ছে,,, বুকের ভেতর যে কষ্ট লুকিয়ে ছিল তা এ-ই বৃষ্টির বিশুদ্ধ পানিতে একটু একটু করে মুছে যাচ্ছে।।প্রাণ ভরে আজ বৃষ্টিতে ভিজবো।। বৃষ্টি যে খুব ভালো লাগে আমার…….

হঠাৎ মনে হলো কেউ আমার দিকে তাকিয়ে আছে।।পেছনে তাকাতেই দেখি রেয়ান!! সে ছাদের দরজার সাথে হেলান দিয়ে বুকে হাত গুঁজে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।। তার চাহনিতে আমার খুব অস্বস্তি লাগছে।।যত দ্রুত সম্ভব এখান থেকে যেতে হবে আমার।।তাই পা বাড়ালাম দরজার দিকে।।দরজার কাছে আসতেই রেয়ান আমার হাত ধরে ফেলে।।আকাশের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়েই বলে…….

—” আমাকে পাগল করার জন্য সবসময় তৈরি থাকো তুমি।।তাই না?? ”

—” হাত ছাড়ুন আমার।। ”

—” যদি বলি ছাড়বো না!! ”

—” কখন এসেছেন?? ”

—” এইতো একটু আগে।। ”

—” ও ”

আমার কথা শেষ হতে না হতেই রেয়ান আবার বলে উঠেন……

—” আচ্ছা মরুভূমি!! তোমার মাকে ইম্প্রেস করতে কি করতে হবে বলতো?? ”

—” কেন কি হয়েছে?? ”

—” না মানে উনি খালি আমাকে বকা দেন।।এ-ই যে একটু আগেও খেয়ে আসছি উনার বকা।। ”

রেয়ানের কথা শুনে আমি তার দিকে তাকালাম।।সে এখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।।আমি একটা মুচকি হাসি দিয়ে তার হাত থেকে নিজের হাত ছাঁড়িয়ে নিতে নিতে বলি…..

—” ভালো ”

ব্যস এতটুকু বলেই চলে আসি সেখান থেকে।।যাওয়ার আগে শুধু রেয়ানের একটা কথা শুনেছিলাম।।আর সেটা হলো……

—” একেবারে রেডি হয়ে নিচে এসো,,,, মেরি জান।।আজকে তোমার ভার্সিটির ফাস্ট ডে বলে কথা।। ”

রেয়ানের কথা মতো একেবারে রেডি হয়েই নিচে আসি।।ডাইনিং টেবিলের কাছে আসতেই দেখি সবাই সেখানে বসে আছে।।রিহান তো দিব্যি রেয়ানের কোলে বসে বসে আরামে নাস্তা করছে।।পাশেই মা মুখ কালো করে বসে আছেন।।তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে তিনি বিরক্ত।।প্রচন্ড রকমের বিরক্ত!!

আমি চেয়ারে বসতেই রেয়ান দুষ্ট কণ্ঠে আমাকে জিজ্ঞেস করে…..

—” মিরা বলতো….এ পৃথিবীতে কোন এক মহা ব্যক্তি আছে যে আমাকে পছন্দ করে না?? ”

সাথে সাথে রিহান জবাব দেয়…..

—” নানু ”

—” রাইট মাই সান।।তো শ্বাশুমা,,,আপনার কি মতামত এ বিষয়ে।। ”

কথাটা রেয়ান মার দিকে তাকিয়ে বলে।।কিন্তু এতে মার কোনো খেয়াল নেই।।সে নিজ মনে রেগে যাচ্ছেন।।ইতোমধ্যে মার চেহারা লাল,,নীল,,বেগুনী হয়ে গেছে।।যা দেখে আমি,, রেয়ান আর রিহান মিটিমিটি হাসছি।।হঠাৎ রেয়ান রিহানকে আবার বলে উঠে……

—” জানো একটা কথা রিহান।।তোমার নানু আসলে নানু না।।তিনি হলেন একটা এটম বোমা।।যেকোনো সময় ফেটে যেতে পারে।। ”

কথাটা শুনে রিহান কি বুঝলো জানি না।। কিন্তু সে আর রেয়ান হাড় কাঁপানো হাসি হাসলো তখন।।এটা দেখে মার রাগ যেন আরও বেড়ে গেল।।ততক্ষনাত চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন মা।।তারপর নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বললেন…….

—” তুই যখন বাইরে যাবি তখন রিহানকে আমার রুমে দিয়ে আসিস।। ”

বলেই তিনি চলে যান সেখান থেকে।।মা চলে যেতেই আমি রেহানকে বললাম…….

—” এমনটা না করলেও পারতেন।। ”

—” কেন?? ”

—” দেখলেন না মা কত রেগে গেছেন।। ”

—” আমি কি করব।।উনার রাগাতে আমার অনেক ভালো লাগে।। তাই এমন রাগাই।।একচুয়েলি,,,আই লাইক হার রাগ্বানিত ফেস।। ”

—” আপনি এমন কেন বলেন তো?? ”

—” আমি আবার কেমন?? আচ্ছা রিহান আমাকে তোমার কেমন লাগে বলতো?? ”

রেয়ানের কথা শুনে রিহান এক গাল হেসে বলে……

—” তুমি আমার বেস্ট বাবা।। ”

আমি আর কিছু বললাম না।। চুপচাপ রিহান আর রেয়ানের কান্ড দেখতে লাগলাম……

.
.
.

খাবার খাওয়া শেষ হতেই আমি সব ঠিকঠাক করে গুছিয়ে ফেলি।।তারপর রিহানকে মার রুমে নিয়ে যাই।।মার রুমে ডুকতেই দেখি মা জ্বানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন।।আমি এসেছি সেটা বুঝতে পেরে কঠিন কণ্ঠে আমাকে জিজ্ঞেস করেন…….

—” রেয়ান ছেলেটাকে তুই কেন ঘরে আসতে দিস মিরা??আমার ওকে ভালো লাগে না একদম!!আমি চাই না ও আমাদের বাসায় এরকম ঘনঘন আসুক।। ”

মার কথার প্রতিউত্তরে হাসলাম আমি।।এরপর শান্ত কণ্ঠে বললাম……

—” খোদা হাফেজ মা।।রিহানের খেয়াল রেখো।। ”

.
.
.

কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি।।আমার পাশেই রেয়ান গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।।আশেপাশে সব মেয়েরা রেয়ানকে যেন চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে।। যা দেখে আমার রাগ লাগছে না মোটেও।।আমি তো আছি আমার তালে।।আমার ভার্সিটির ফাস্ট ডে আজকে।।কিভাবে কি করব সে চিন্তায় আমি শেষ।।রিতিমতো নখ কামড়াচ্ছি।।যা দেখে রেয়ান হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।।কোনো মতে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন…..

—” এত নার্ভাসনেস এ-র কি আছে??ভার্সিটি যাবা আর ভার্সিটি থেকে আসবা,,শেষ!! এতে আবার এতো কি?? ”

রেয়ানের কথা শুনে চোখ ছোট ছোট করে তাকালাম তার দিকে।।ঝাঁঝাঁলো কণ্ঠে বললাম……

—” তাহলে আমার জায়গায় আপনি যান না।।তারপর বুঝবেন ” কত ধানে কত চাল “।। ”

—” তাই নাকি?? ”

—” হুম তাই!! ”

বলেই আর এক মুহুর্তও দাঁড়ালাম না সেখানে।।ভার্সিটির ভেতর ডুকে গেলাম।।আমি নিশ্চিত!! রেয়ানের সাথে থাকলে আমার মাথা নষ্ট হবেই হবে।।তাই তার ধারের কাছেও না যাওয়া এখন আমার জন্য উত্তম।।

ভার্সিটির প্রথমদিন বেশ ভালোভাবেই কাটলো আমার।।সাথে অনেক নতুন নতুন বন্ধুবান্ধবও হলো।।যাদের একজনের নাম রাফি।।ছেলেটা অনেক ভালো।।আমাকে প্রথম দিনই বিভিন্ন নোট আর পড়ালেখার বিষয়ে অনেক হেল্প করেছে।।

সব ক্লাস শেষ করে আমি আর রাফি গল্প করতে করতেই হাঁটছিলাম।।হঠাৎ সামনে তাকাতেই আমি থমকে যাই।।রেয়ান চোখমুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছেন।। একটু খেয়াল করতেই বুঝতে পারি সে তার হাত মুঠো করে রেখেছে।।বুঝতে পারছি রেয়ান রেগে আছে।।ভীষণ রকমের রেগে আছে।।আর কেন রেগে আছে,,,সেটা হয়তো আমার অজানা নয়!!

তাই তাড়াতাড়ি রাফিকে বিদায় জানিয়ে আমি রেয়ানের সামনে এসে দাঁড়াই।।সাথে সাথে রেয়ান গাড়ির দরজা খুলে দেয়।।যার অর্থ ” গাড়িতে বসো ” আমিও ভদ্র মেয়ের মতো গাড়িতে বসে পড়ি……

.

প্রায় ১০ মিনিট হয়ে গেছে।।আমি আর রেয়ান গাড়িতে বসে আছি।।রেয়ান কেন যেন গাড়ি চালাচ্ছে না।। শুধু বাইরের দিকে তাকিয়ে,,,২হাত দিয়ে নিজের চুল টেনে ধরেছে।।রেয়ানের কেমন লাগছে জানি না।। কিন্তু এভাবে বসে থাকতে আমার প্রচন্ড বিরক্তি লাগছে।।আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই রেয়ান আমার দিকে ফিরে বসে।।তারপর নিজের দু’হাত আমার গালে আলতো করে রেখে শান্ত কণ্ঠে বলে……

—” ও-ই ছেলেটা কে ছিল?? ”

কেন যেন রেয়ানের কথা শুনে গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না আমার।।তবুও কিছুটা তোতলিয়ে বললাম…….

—” আজকে ন…নতুন ব..বন্ধুত্ব হলো ওর সাথে।।আ…আমাকে অনেক হ..হেল্প করেছে পড়ার ব..বিষয়ে।। ”

—” আর যেন না দেখি ও-ই ছেলের সাথে তোমাকে।।ইনফেক্ট ও কেন!! অন্য কোনো ছেলে সাথেও যেন না দেখি।।নাহলে জানে মেরে ফেলবো তাকে।।তারপর লাশও কেউ খুঁজে পাবে না।। ”

কথাগুলো বেশ শান্ত ভাবেই বললেন রেয়ান।।বলেই গড়ি স্টার্ট দিয়ে ড্রাইভ করা শুরু করে দেন।।এদিকে আমি এখনও তার দিকে তাকিয়ে আছি।।চোখ বড় বড় করে!!
.
.
প্রায় কিছুক্ষন পর রেয়ান একটা পাহাড়ি এলাকায় গাড়ি থামান।।যেখানে চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ।। প্রকৃতির যেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখছি আমি।।হঠাৎ রেয়ান আমার দুই বাহু শক্ত করে চেপে আমাকে তার দিকে ঘুরান।।তারপর কিছুটা হালকা কণ্ঠে বললেন……

—” আমার খুব ভয় হয় মিরা।।যদি তুমি আমাকে ছেঁড়ে চলে চাও??তাই যতটা সম্ভব তোমাকে নিজের করে রাখতে চাই।।বিয়েও তাড়াতাড়ি করতে চাচ্ছি।।কিন্তু তুমিই করছো না।।কিন্তু আর না,, আমি এখন এ-ই মুহুর্তে তোমাকে বিয়ে করব।।তুমি চাও আর না চাও।।”

—” মানে?? ”

—” মানে আমি তোমাকে এখন বিয়ে করছি!!বিয়ে করতে কি যেন বলে?? ও হ্যাঁ!! কবুল,, কবুল,, কবুল।।নাও!! এখন থেকে তুমি আমার বউ!! ”

.
.
.
.
#চলবে ??