৩.২০ মিনিট পর্ব-০৫

0
734

#৩.২০ মিনিট
#রাবেয়া_সুলতানা
#৫

___মাকে দেখে জোভান একটুও অবাক হয়নি।চোখ থেকে চশমাটা খুলে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে, তুমি কখন এলে মা?

-হলো কিছুক্ষন।নিজেকে আর কতো কষ্ট দিবি আমাকে একটু বলবি?

-ভালোবাসাতে কষ্ট নেই।কিন্তু যখন দেখি নিজের আপন মানুষ গুলোই বেইমানি করে তখনই কষ্ট লাগে।(কথাটা বলে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো জোভান)

জিসানের মা ছেলের কাঁধে হাত দিতেই জোভান তার মায়ের দিকে ফিরলো।

-তাহলে চোখের পানি লুকাতে চায়ছিস কেনো?

-মা “আমাদের মনে হয় বেশি দেরি করা ঠিক হবেনা।নিজেকে অনেক পাল্টেছি। জিসান থেকে জোভান হয়েছি।জোভানের মতো কথা বলতে শিখেছি।আচ্ছা মা জেবা কি আমাকে একটুও বুজতে পারেনা? আমি জেবার এতোটাই কাছে তবুও ও আমাকে চিনতে পারছেনা।

জিসানের মা জিসানকে জড়িয়ে ধরে,গলাটা যেনো আটকে যাচ্ছে,ফিসফিসিয়ে বললো,

আমার জোভানটা অকালে নিজের জীবনটা হারিয়ে ফেললো।জিসান আমি চাই তুই সবাইকে শাস্তি দিবি।যারা যারা আমার জোভান কে মেরেছে তুই তাদের কাউকে ছাড়বিনা।যারা অল্প বয়সে নিষ্পাপ মেয়েটাকে বিধবা বানাতে চেয়েছে তুই কাউকেই ছাড়বিনা।

জোভান তার পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে, মা তুমি আর এই কথা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করবেনা।আমি তোমাকে যা বলছি কাল সকাল থেকে তাই তাই করবে।কেউ যেনো বুজতে না পারে।
মা ছেলে কিছুক্ষণ কথা বলে নিচে চলে আসলো।
জোভান জেবার রুমের সামনে দিয়ে যেতেই আবার এক পা পিছনে নিয়ে জেবার রুমের দিকে তাকিয়ে দেখে,জেবা খাটের সামনে ফ্লোরে একটা সাদা রঙের জামা পরে চুল গুলো ছেড়ে কপালটা হাটুর সাথে লাগিয়ে বসে আছে।

জোভান ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গিয়ে, ঘুমিয়ে পড়ো।আর ছাদের ঘটনার জন্য স্যরি।

জেবা মাথা উঠিয়ে,জোভানের দিকে টলমল চোখ নিয়ে তাকিয়ে,স্যরি তো আমার বলা উচিৎ তাই না?আপনি কেনো শুধু শুধু বলতে যাবেন।আপনাদের বাড়িতে আমি থাকছি খাইছি এটাই বা কম কিসের। কেউ তো আর বিনা মূল্যে কাউকে কিছু দেয় না।অনেক মেয়ে আছে তাদের শরীর দিয়ে পেট চালাতে হয়।আবার কোনো মেয়ে আছে বাবার আদরের দুলালি, আবার অনেক মেয়ে আছে পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা ইনকাম করে।কিন্তু দেখুন আমার তো কোনোটাই নেই।না আছে স্বামী না আছে চাকরী।তাহলে আপনারা কেনো আমায় বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবেন।সেই জন্যই হয়তো আপনি ছাদে সবকিছুর দাম চেয়েছেন।
জেবার কথাটা শুনেই জোভান জেবার গালে থাপ্পড় দিয়ে,ইডিয়ট মেয়ে কথাকার।

আর এক সেকেন্ডের জন্যও দাঁড়ালোনা জোভান।

সারারাত একটুও ঘুমাতে পারিনি জোভান। সকাল বেলা তার মা কাজ টা গুছিয়ে করতে পারবে কিনা।কি জানে।

নাশতা খেতে সবাই বসেছে।জিসানের মা মারিয়ার কে বললো জেবাকে ডেকে নিয়ে আসতে।জেবাও এসে বসেছে।জেবা বার বার জোভানের দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু জোভান তার দিকে একবারও তাকালো না।

-তোমরা সবাই যখন এইখানে আছো তাহলে কথাটা বলেই ফেলি।

জোভানের বাবা গম্ভীর গলায় বললো কি কথা যা সবার সামনেই বলতে হবে?

-আসলে আমি চাই জেবা এই বাড়িতেই থেকে যাক।

-কিন্তু ওর বাবা তো রাজি হবেনা।কেউ তো আর তাদের মেয়েকে এমনি এমনি ফেলে রাখবেনা।আর ওর তো একটা ভবিষ্যত আছে।তুমি কেনো শুধু শুধু জেদ করছো?

-আমি এর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই বলছি।তাই আমি চাই জোভানের সাথেই জেবার বিয়েটা হোক।তাহলে ঘরের মেয়ে ঘরেই থেকে গেলো।

কথাটা শুনে সবাই খাবার মুখে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেনো এলিয়েন এসেছে।

জোভান “তোর কি এই ব্যাপারে কিছু বলার আছে?

মায়ের কথা শুনে জোভান বললো, না মা,তুমি যা ভালো মনে করো।তাই করো।

জোভানের বাবা জেবার দিকে একবার তাকিয়ে, তুমি কিন্তু খারাপ বলোনি কথাটা।এখন জেবা রাজি হয় কিনা দেখো।

জেবা চেঁচিয়ে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে, আপনারা সবকিছু ভাবলেই হবে? আমার মতামতের জন্য একটুও ভাবলেন না?আর এমনিতেই আমি কখনো এই বিয়ে করতে পারবোনা।

জিসানের মা জেবার পাশে দাঁড়িয়ে, আমার জিসানকে যদি তুই ভালোবাসিস তাহলে তুই এই বিয়েটা করবি।
এইটা আমার মরা ছেলেটার কসম দিলাম তোকে।

জেবা কথাটা শুনেই নিস্তব্ধ হয়ে বসে পড়লো চেয়ারে,,

কি করলে তুমি?
আমি যে শুধু জিসানকেই ভালোবাসি, শুধু শুধু আরেকটা জীবন কেনো নষ্ট করছো?(জেবে শান্ত গলায় কথা গুলো বলছে)

-আমি কি ভুল সময় এসে পড়লাম?

কথাটা শুনে সবাই সদর দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে মিস্টার মাসুদ।

জোভান এগিয়ে গিয়ে, মিস্টার মাসুদ আসুন। মা” উনাকে কফি বানিয়ে দাও।

মাসুদ আপনি বসুন।

দুজনেই বসে পড়লো। সাথে জিসানের কাকা আর বাবা এসে যোগ দিলেন।

-জোভান সাহেব আপনি ঠিক বলেছেন কাল,খুনি মেয়েই।

কথাটা শুনে জিসানের বাবা আর কাকা অবাক হয়ে,খুনি মেয়ে?

-হুম বাবা মেয়ে।এবং জিসান নিজেই তার ডাইরিতে অনেক কিছুই লিখে গেছে যেটাতে এইটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে খুনি মেয়েই।

-জিসান কি আগে থেকে জানতো নাকি যে তাকে খুন করা হবে?

-না বাবা”জিসান তো বুজতেই পারিনি।
কথাটা শুনে মারিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে রুমের দিকে যেতেই জোভানের নজর পড়তেই, এই মারিয়া শুন, তুই কথায় যাচ্ছিস? এইখানে বস।
জেবা তুমিও আসো।বসো এইখানে।

জেবা আর মারিয়া পাশাপাশি বসলো।

জোভান তার মা চাচীদের সবাইকে তার সামনে এসে বসতে বললো।
তারপর মাসুদ সাহেবের দিকে তাকিয়ে, মিস্টার মাসুদ আপনি কি জিসানের মৃত্যুর পর ওর মুখটা ভালো ভাবে দেখেছেন?
মাসুদ সাহেব কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে, না জোভান সাহেব।মুখটাকে এতোটাই বাজে অবস্থা করেছিলো বুজাই যাচ্ছিলো না।

জোভান পরিবারের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো, তোমরা?
সবাই চুপ করে আছে।মারিয়া বললো আরে ভাইয়া ওইটা জিসান ভাইয়াই ছিলো। জিসান ভাইয়াই সেদিন খুন হয়েছিলো।এইটা একটা সিম্পল ব্যাপারকে কেনো তুমি এতো ঘোলা করছো?

জোভান চশমাটা কে খুলে দুইদিকে দুইবার ফুঁ দিয়ে,শান্ত গলায় বললো,মারিয়া”আমি কখন বললাম ওইটা জিসানের লাশ ছিলো না? আমি বলেছি মুখটা কেউ দেখেছে কিনা? কিন্তু তুই এতো শিওর হচ্ছিস কিভাবে ওইটা জিসানেই ছিলো?

মারিয়া ভয়ে ঢোক গিলে, মানে,,,এই মানে,,,আমি সেই রকম কিছু মিন করে বলিনি।

তাহলে কেমন করে বলেছিস?

জোভানের বাবা জোভানকে থামিয়ে, তুই ওর কথা বাদ দে।তুই কি নিশ্চিত যে জিসানকে কোনো মেয়ে খুন করেছে।

-বাবা আমি মিথ্যা বলিনা। এর খুন নিয়ে তো নয়।সময় আসুক সব কিছু জানতে পারবে।

মারিয়াও জোভানের কথায় সায় দিয়ে, হ্যাঁ ভাইয়া ঠিক বলেছো।

জিসানের মা একটা প্লেটে করে মিষ্টি এনে মাসুদ সাহেবের সামনে দিয়ে,নিন মিস্টার মাসুদ, মিষ্টি খান।আমার ছেলের বিয়ে উপলক্ষে।

মাসুদ সাহেব পুরো একটা মিষ্টি গালে ঢুকিয়ে দিয়ে,নিশ্চয়ই জোভান সাহেবের সাথে মিসেস জেবার বিয়ে?

জোভান আরেকটা মিষ্টি মাসুদের গালে তুলে দিয়ে একদম ঠিক বলেছেন।

জোভান নিজের ফোন থেকে জিসানের পা বাঁধা ছবিটা বাহির করে,জেবা এই ওড়নাটা চিনো কিনা দেখো তো?
জেবা অবাক হয়ে জোভানের কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাথা নাড়িয়ে না বুজালো।আর এইদিকে চোখের পানি গুলো স্রোতের মতো বেয়ে পড়ছে।

জোভান বিরক্তি গলায় বললো, ফোনটা এইদিকে দাও।
খালি কান্নাকাটি ছাড়া কিচ্ছু জানেনা।

জেবার সাথে জোভানের এই কয়েকদিন আর কোনো কথা হয়নি।আজ সন্ধ্যায় ঘরোয়া ভাবে তাদের বিয়েটা সম্পূর্ণ করা হয়েছে।

রাত ১২.২৩, নিজের ঘরেই বসে আছে জেবা।নেই কোনো সাজ।নেই কোনো ফুলে সাজানো খাট।পুরোটা রুমে দেওয়াল জুড়ে আছে জিসান আর জেবার ছবি।

জোভান কে তার চাচাতো ভাই জোর করে রুমে দিয়ে গেলো।জেবা জোভানের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে, শান্তি হয়েছেন এইবার? আসলে আপনার মতো
চরিত্রহীন লোকেরা এর ছেয়ে বেশি কিছু আর কি করতে পারে? আপনি কি ভেবেছেন এই একঘরে আমি আপনার সাথে থাকবো? মরে গেলেও না।আপনি এখুনি আমাদের রুম থেকে বের হোন।

-আমাদের রুম মানে?

-এইটা আমার আর জিসানের রুম।

কথাটা শুনে জোভান মুচকি হেসে,
তোর চোখে যতো মায়া,
মনে লাগে ততই নেশা।
তোর ওই রাগন্বিত মুখে,
হারাই আমি বারে বারে।
বুজিস না কেনো কতটা
ভালোবাসি তোরে।

কথা গুলো শুনে জেবা রাগন্বিত চোখে বললো,এইবার এইখান থেকে যাবেন?

জোভান জেবার কথা সায় না দিয়ে হাই তুলে,বিছানায় গিয়ে বালিশে হেলান দিয়ে শুয়ে এইটা আমার রুম তাই এইখানে আমিই ঘুমাবো।তোমার যদি তোমার বরের সাথে ঘুমাতে ভালো না লাগে অন্য রুমে গিয়ে ঘুমাতে পারো।

জেবা শান্ত গলায় বললো,আপনি আমার কাছে আসবেন না প্লিজ।আপনি আমার কাছে আসলে আমার মনে হয় আমার জিসান আমার কাছে আসছে।
আপনি জানেন? সেইদিন আপনি যখন আমাকে টেনে আপনার বুকের সাথে মিশিয়ে নিলেন আমি তখন ভুলেই গিয়েছিলা আপনি আমার জিসান নয়।সেই চোখ,সেই ঠোঁট সেই চাহুনি, জড়িয়ে ধরা অনুভূতিটা।সবি যেনো এক।শুধু মানুষটাই ভিন্ন।তাই বলছি আপনি আমার কাছে আসবেন না।আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে অসম্মান করতে চাইনা।
কথা গুলো বলে চোখ মুছে জিসানের ছবির সামনে জেবা দাঁড়িয়ে, স্যরি জিসান, আমি পারলাম না তোমার ভালোবাসা হয়ে থাকতে।আমি পারলাম না তোমার হয়ে থাকতে।কিন্তু কি করবো বলো মা যে আমায় তোমার কসম দিয়েছে।বিয়েটা যে আমায় করতেই হবে।
তবে আমি তোমায় কথা দিচ্ছি তোমার জেবা কখনো কারো হবেনা।
কথা গুলো বলে জেবা চোখ বন্ধ করে আছে।

হঠাৎ অনুভব করলো পিছন থেকে কেউ তাকে জড়িয়ে ধরে, কাঁধে মুখটা গুজে দিয়ে বললো,লাভ ইউ বউ।

জেবাও নিজের অজান্তেই বলে ফেললো লাভ ইউ টূ জিসান।কথাটা বলেই নিজেই চমকে চোখ খুলে জোভন কে ছাড়িয়ে, ছিঃ আমি ভাবতেই পারিনি আপনি আমার ইমোশনাল নিয়ে এইভাবে খেলবেন।আপনার কি মানুষ্যত্ব বলে কিছুই নেই?

জেবা তুমি এখনো আমার এতোটা কাছে এসে আমাকে চিনতে পারলে না।একটু আগেও তো বললে আমায় তুমি অনুভব করো। আর এখন আমি তোমার এতোটা কাছে গেলাম তবুও বুজলেনা?

কথাটা শুনেই জেবা অবাক হয়ে বিস্ময়কর চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে জোভানের দিকে।
জোভান জেবাকে নিজের কাছে টেনে এনে, আমার বউটা যে আমায় এতো ভালোবাসে আমি বুজতেই পারতাম না যদি এতো কিছু না ঘটতো।

-কি বলছেন আমি আপনার কথা কিছুই বুজতেছিনা।

-জোভান চোখ থেকে চশমা টা খুলে, দেখোতো তো তোমার জিসানের সাথে কিছু মিল আছে কিনা?

আপনি পুরোই জিসানের মতো,তবে হ্যাঁ সামান্য কিছু এইদিক ওইদিক আছে।তবে আপনার কন্ঠ, হাসি সব কিছুই জিসানের।কিন্তু জিসান চশমা পরেনা।আর আপনি চশমা ছাড়া দেখতে পাননা। জিসান আমায় বলেছিলো তার একটা জমজ ভাই আছে সেই চশমা ছাড়া কিছু দেখতে পায়না।

-জোভান মুচকি হেসে, তাহলে আমি এখন তোমায় কি ভাবে দেখছি? আমার চোখে তো এখন চশমা নেই।

-আজব কথাবার্তা বলেন আপনি।আমি কি করে বুজবো আপনি এখন দেখতে পান কি পাননা।

-জেবা তুমি আসলেই বোকা।তুমি আমায় অনেক ভালোবাসো কিন্তু আমি তোমার এতোটা কাছে আছি তবুও বুজতে পারলেনা আমি তোমার জিসান?

কথাটা শুনে জেবা নিজেকে ছাড়িয়ে আপনি কেনো মিথ্যা বলছেন? আমার জিসান কে আমি খুব ভালো করেই চিনি।আপনি যে বকবক করেন আমার জিসান তেমনটা মোটেও নয়।ও খুব রাগী এবং শান্ত, আমি যে আপনাকে এতো কথা বললাম ও হলে আরো আগেই আমার গালে
,,,,,,ঠাস্

জেবা গালে হাত দিয়ে, ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো,আমি আপনাকে মারতে বলেছি? আমি বলেতে চাইছি জিসান মারতো।আপনি সব কিছুই ওভার করে ফেলছেন। আমি বুজে গেছি আপনি এইখান থেকে যাবেন না।এর ছেয়ে ভালো আমিই চলে যাচ্ছি।যতই এইখানে থাকবো আপনি মিথ্যা ছলনা গুলো দেখিয়েই যাবেন।

জেবা দরজার কাছে এগুতেই পিছন থেকে জোভান বলে উঠলো,তোমার বুকের বাম পাশে যে দুটো জোড়ো তিল আছে সেগুলো কি এখনো আছে?
কথাটা শুনেই জেবা থমকে দাঁড়িয়ে স্তব্ধ হয়ে আছে।(জেবা ভাবছে এইটা জিসানকে ছাড়া আমি কাউকেই বলিনি।আর জিসান এতোটাও বলদ না জোভান কে এই কথাটা বলতে যাবে)
জোভান পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে কাঁধে হাত রাখতেই,জেবা জোভানের দিকে ঘুরেই জোভানকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।

জোভান জেবাকে শান্তনা দিতে দিতে,আস্তে,,, আস্তে জেবা” সবাই শুনতে পাবেতো।আসো খাটে এসে বসো।

-তুমি আমার সাথে কেমন করে এতো অভিনয় করছো জিসান?
আমাকে এতোটা দিন কষ্ট দিতে তোমার ভালো লেগেছে তাই না?

-জেবা আস্তে কথা বলো কেউ শুনলে আমাকে তোমার আবার হারাতে হবে।
জিসান কথাটা বলতেই জেবা জিসানের বুকে মাথা রেখে, না! আমি তোমাকে আর হারাতেই চাই না।

কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ করে ছিলো? জিসান জেবাকে বুকে নিয়ে যেনো এতোদিনের সব কষ্ট নিমিষেই দূর হয়ে গেছে।শান্তি শান্তি লাগছে আজ।আজ এতোটা মাস শান্তিতে এক মুহূর্ত ঘুমাতে পারেনি জিসান।আজ ইচ্ছে করছে জেবাকে বুকে নিয়ে সারাটা রাত এইভাবেই কাটিয়ে দিতে।
কিন্তু এইরুমে থাকলে সমস্যা আছে।হয়তো জেবাকে খেপানোর জন্যই এইখানে আসা।না আর বেশিক্ষণ থাকা যাবে না।

-জেবা”

-হুম”

-তুমি ঘুমাও আমি আমার রুমে যাচ্ছি।

জেবা জিসানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে,না তুমি আমার সাথেই থাকবে।আচ্ছা জিসান “আমার মনে যে অনেক প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। অনেক কিছু যে জানতে ইচ্ছে করছে।

-আমি জানি তুমি কি জানতে চাও।কাল সব প্রশ্নের উত্তর তুমি পেয়ে যাবে।এখনো আর কোনো কথা নয় লক্ষ্মী বউ।আজকের রাত কষ্ট করো কাল থেকে তুমি আমার বুকেই ঘুমিও।

চলবে,,,,