#অদ্ভুত_তোমার_নেশা
#লেখিকা_লায়লা_আঞ্জুমান_ইতি
#পার্ট__________০২
।
।
।
।
কুহু বাড়ীটা দেখতে লাগলো,বিভোর গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসে কুহুকে বলল,,,,নিচে নামো।
কুহু নিচে নামলো, তারপর পুরো বাড়ীটা দেখতে লাগল,,সাদা রঙের ভিতরে হালকা মিষ্টি কালারের রং করা পুরোটা বাড়ী ভালোই বড়,আর বাড়ির বাহিরের নানান রঙের ফুলে ভরা, বাগান দেখে কুহুর মন ভরে গেলো,বিভোর সোজা বাড়ীর ভিতরে ঢুকলো তার সাথে কুহুও।
ভিতরে ঢুকেই বিভোর কিছু বলার আগেই কুহু বলতে লাগলো,,,,ওরে বাবা এই বাড়িটা তো অনেক বড়ো কে কে থাকে এখানে আপনার বউ বাচ্চারা কি এখানে থাকে, আপনার বাবা মাও তো আছে অবশ্যই ওয়েট দাদা দাদী কি আছে, আচ্ছা আপনার কয়টা ছেলে আর কয়টা মেয়ে কোন ক্লাসে পড়ে, আচ্ছা আমাকে এখানে নিয়ে আসলেন যে সবাইকে কি বলবেন আমার কথা।
বিভোর অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে, এই মেয়েটা এত কথা বলতে পারে, বিভোর বলে উঠল,,,, তোমার এইসব স্টুপিড কথা বার্তা বন্ধ কর। কুহু রেগে বলল,,,,স্টুপিড এর মতো কি বললাম।বিভোর বলল,,,,,
– প্রধানত তুমি যদি আর একটাও অপ্রয়োজনীয় কথা বল আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না, তোমাকে তোমার বাড়ীতে দিয়ে আসবো,আর এটা আমার বাড়ী এখানে আমি ছাড়া আর কেউ থাকে না, আর নাই আমি বিয়ে করেছি যে বাচ্চা কাচ্চা থাকবে।
– আপনার পরিবারের আর কেউ নেই
– আমার পরিবার বলতে আমার দাদু ছাড়া আর কেউ নেই
– উনি কোথায়
– দাদু আমেরিকায় আছে দাদু হার্টের রোগী বেশী চাপ নিতে পারে না, দাদু এত দিন সব সামলেছে আর আমি পেশায় একজন ডক্টর কিন্তু দাদুর কথা রাখতে অফিস সামলাতে হচ্ছে কিন্তু সপ্তাহে একদিন হাসপাতালে যাই পেশেন্ট দেখতে,আর এই বাড়ীতে আমি একা থাকি,কাজের লোকেরা কাজ করে দিয়ে সন্ধ্যায় চলে যায়।সব কিছু বলে দিয়েছি আর কোনো প্রশ্ন করবে না।
কুহু বিভোরের এত বড় রচনা শুনে চুপ হয়ে রইলো তারপর আবার বলল,,,,,আর একটা প্রশ্ন করি।বিভোর রেগে বলল,,,,ওকে শুধু একটা।কুহু বলল,,,,আপনি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন কেন? বিভোর কুহুর দিকে তাকিয়ে বলল,,,,,,,
– কেন চলে যাবে গেলে যাও তুমিই তো সাহায্য চাইলে
– কি সত্যি আপনি আমাকে হেল্প করবেন ( অনেকটা খুশি হয়ে বলল)
– তাহলে কেন এনেছি এখানে, কিন্তু তোমাকে এখন আমাকে সব বলতে হবে তুমি কেন বিয়ে করতে চাইছো না,যদি আমার কাছে মনে হয় তুমি সঠিক তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে হেল্প করব
– কি জানতে চান আপনি
– এখন না, অনেকটা ক্লান্ত লাগছে আগে ফ্রেশ হবো তুমিও তোমার রুমে যাও এদিকে নিচের রুম তোমার আর উপরের রুম আমার বুঝেছো
– হুম
– হুম যাও ফ্রেশ হও তারপর খাবার খেতে আসো
– আচ্ছা কিন্তু শুনুন
– বল
– আমি এই ভারি কাপড়ে আর থাকতে পারছি না
– আমার কাছে তো মেয়েদের কাপড় নেই কাল এনে দেবো
– কিন্তু এখন আমি কি পড়ব
– হুম আসলেই তো কি করা যায়,ওয়েট আমি আসছি
বিভোর উপরে চলে গেলো আর কুহু চারপাশটা দেখতে লাগল,ওর খুব অবাক লাগছে এত বড় বাড়ীতে উনি একা থাকে এতটা একা থাকে কি করে, এর মাঝে উপর থেকে বিভোর নেমে আসলো,হাতে একটা শার্ট আর টাওজার নিয়ে এসে কুহুর হাতে দিয়ে বলল,,,আবাদতঃ এটা ছাড়া কিছু নেই চেঞ্জ করে খাবার টেবিলে আসলো।কুহু কাপড় নিয়ে রুমে চলে গেল,বিভোর ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসলো তারপর এক গ্লাস পানি খেল, কারও আসার শব্দ পেয়ে বিভোর পিছনে তাকালো দেখলো কুহু আসছে,বিভোর কুহুর দিকে তাকিয়ে আবার এক অজানা ঘোর এতে হারিয়ে গেল,ওর শার্ট টা কুহুর শরীরে বেশ ঢিলেঢালা হয়েছে,চুল গুলো ভেজা এক দু ফোটা পানিও পড়ছে মেয়েটার সাদা মাটা চেহারা বিভোরের কাছে অসম্ভব সুন্দর লাগছে,মেয়েটা এসে ওর পাশে বসলো, তারপর বিভোরকে বলল,,,,কি দেখছেন।বিভোরের এত খনে ঘোর কাটলো,বিভোর সাভাবিক হয়ে বলল,,,খাবার খাও।দুজন খাওয়া শেষ করে ফেলল,
তারপর শুরু হলো ওদের মনের ভাব আদান প্রদান করা,বিভোর কুহুকে বলল,,,,
– এখন আমার প্রশ্নের উত্তর দেও
– বলুন
– তোমার পরিচয় দেও
– আমার পুরো নাম কুহু ইসলাম, আমার জন্মের সময় আমার মা মারা যায়, তারপর বাবা আবার বিয়ে করে, আমার সতমা আমাকে পছন্দ করে না, সব সময় আজেবাজে কথা বলে মুখপুড়ি অলক্ষী জন্মের পর নাকি মাকে খেয়ে ফেলেছি, তাও এসব এর মাঝে বড় হতে শুরু করলাম, বাবার জন্য বেশী কিছু বলতে পারতো না আমার সত একটা বোন আছে, ও আমাকে খুব ভালোবাসে, আমি এসএসসি পরিক্ষা দেওয়ার পরই মা উঠে পড়ে লাগলো আমাকে বিদায় দেওয়ার জন্য, কিন্তু বাবার জন্য পারলো না, এর পর কলেজে ভর্তি হলাম কষ্ট করে পড়াশোনা টা ক্যান্টিনিউ করতে লাগলাম, সবকিছু নিজের গতিতে চলতে লাগল,ভার্সিটিতে উঠে কয়েক মাস ক্লাস করার পর বাবার হঠাৎ হার্ট এ্যাটেক এতে মারা যান,তখন তো আমি পুরো অসহায় হয়ে পড়ি, মা একদম স্পষ্ট ভাবে বলে দিল আমাকে পড়াশোনার খরচ দিতে পারবে না,কিন্তু নিজে টিউশনি করে কোনো ভাবে পড়াটা আগাতে লাগলাম,আমাদের এলাকার একটা বকাটে ছেলে মুহিদ ভার্সিটিতে আসা যাওয়ার সময় রোজ বিরক্ত করে, একদিন টিউশনি পড়িয়ে এসে দেখি বাড়ীতে অনেক মানুষ জিজ্ঞেস করার পর বলল আমার বিয়ে ঠিক করেছে মা তাও মুহিদ নামের অসভ্যটার সাথে অনেক রিকুয়েষ্ট করেছি কেউ শোনে নিই কিন্তু আপনাদের একটা ভুল আমার জীবনটাকে বাচিয়ে দিয়েছে।
কুহু কথা শুনে বিভোরের খুব খারাপ লাগছে বাবা মা ছাড়া জীবনটা কেমন তা বিভোর ভালো করে জানে কারণ সেও একজন এতিম,আর বিভোর এটাও বুঝতে পারছে মেয়েটা অনেক সাফার করছে,বিভোর কুহুকে বলল,,,,ডোন্ট ওয়ারি আমি তোমাকে সাহায্য করব।
কুহু বলে উঠল,,,,, আমি না সব কাজ জানি আপনার বাড়ীর সব কাজ করব শুধু কিছু দিনের জন্য আমাকে এখানে লুকিয়ে থাকতে দিন।বিভোর বলল,,তোমাকে কোনো কাজ করতে হবে না আর তোমাকে লুকিয়েও থাকতে হবে না তোমার তো ১৮ বছর হয়ে গেছে কেউ চাইলেও তোমাকে জোর করে বিয়ে দিতে পারে না।
কুহু বিভোরের কথা শোনে অনেকটা সস্তিবোধ করলো আর বলল,,,,,আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। বিভোর বলল,,,এইসব কথা আমার পছন্দ না নেক্সট টাইম আর বলবে না। কুহু বলল,,
– ঠিক আছে আপনার শুধু দাদু আছে
– হ্যা, কার এ্যাকসিডেন্ট এতে আমার মা বাবা দুজন মারা যায় তখন উনাদের সাথে আমিও ছিলাম কিন্তু কি বেডলাক আমার কিভাবে যে বেচে গেলাম
– এভাবে বলছেন কেন
– আমার ভালো লাগে না এইসব, মানুষ ভাবে টাকা পয়সা থাকলেই সব সুখ পাওয়া যা কিন্তু এটা ভুল
– হুম
– ওকে রুমে যাও
– হুম
কুহু নিজের রুমে চলে গেল,আর বিভোর নিজের রুমে চলে গেলো।কুহু রুমে ঢুকে জানালাটা খুলে দাড়ালো বাহিরের হিম শিতল হাওয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়লো,কুহুর শরীরের সাথে লেপটে গেলো পুরো শরীরে শিহরণ বয়ে গেলো,নিজের হাত দিয়ে দুই বাহু ধরে প্রশান্তির সাথে আকাশের দিকে তাকালো,আজও ওর অবস্থা কি ছিল এখন ঠিক কতটা শান্তিতে আছে, বিভোর নামের ছেলেটা ওর জীবনে নতুন কিরণ নিয়ে এসেছে,কুহু খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,,,মানুষটা ভালো।
আর অন্য দিকে,,,,বিভোর রুমে গেলো,বিভোর জানে না কেন যেন ওর খুব ভালো লাগছে, এই ভালো লাগাটা অনেক গুলো দিনের পর অনুভব করলো,বিভোর কুহুর পাগলের মতো কথা গুলো মনে করে হেসে দিয়ে বলল,,পাগলী।বিভোর মোবাইলটা বের করে গ্যালেরিতে গেলো কিছু ছবি দেখে বিভোরের মন ভারি হয়ে উঠলো এক দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে আবার ডিপ্রেশনের রাজ্যে পাড়ি দিল বিভোর।
মাঝ রাতে হঠাৎ কুহুর ঘুম ভেঙ্গে গেল,উঠে চারপাশে তাকালো এটা ও কোথায় পরক্ষণেই মনে পড়ে গেলো,কুহুর হঠাৎ গলা শুকিয়ে আসছে তাই উঠে ডাইনিং টেবিলের সামনে গিয়ে পানি খেল হঠাৎ উপরের রুম থেকে বিভোরের চিৎকারের আওয়াজ আসলো কাকে জেনো রেগে কি বলছে বিভোরের এমন চিৎকারে কুহু ভয়ে জোড়োসড়ো হয়ে পড়লো,কুহু বিভোরের রুমের সামনে গিয়ে দেখে বিভোর কার সাথে যেন চিল্লিয়ে কথা বলছে আর রুমের কাচের আসবাপত্র গুলো ফ্লোরে ফেলে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে,আর ফোনে কাকে যেন বলছে,,,কেন ফোন করেছো কেন আর যদি কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা কর খুব খারাপ হয়ে যাবে বলে দিচ্ছি আহহ।কুহু তাকিয়ে দেখলো বিভোরের হাত কেটে রক্ত পড়ছে, বিভোর রেগে ওর হাতের সেলফোনটা ফ্লোরে আছার মারলো, বিভোরের হাত থেকে রক্ত পড়তে দেখে কুহু বিভোরের সামনে গেলো।বিভোর কুহুকে দেখে রেগে বলতে লাগল,,,,কেন এসেছো এখানে এখনি চলে যাও, যাও…….( জোরে ধমক দিয়ে বলল বিভোর) কুহু বিভোরের ধমক শুনে কেপে উঠলো…
চলবে…………..
ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 💙