#অদ্ভুত_তোমার_নেশা
#লেখিকা_লায়লা_আঞ্জুমান_ইতি
#পার্ট_____________০৬
।
।
।
।
বিভার ভয় কাটতেই আকাশকে ছেড়ে দিল,আকাশ বিভাকে বলল,,,,তুমি ঠিক আছো।বিভা মাথা নাড়িয়ে সাই দিল,বিভা আকাশকে বলল,,,কুহু ও কোথায় ও ঠিক আছে তো।আকাশ সবটুকু বলল বিভাকে, বিভা অবাক হয়ে বলল,,,,তার মানে স্যার আর কুহুর বিয়ে হয়ে গেছে।
আকাশ বলল,,,হ্যা।বিভা বলল,,,,এখন কি হবে।আকাশ বলল,,,,আর কি হবে ওরা সংসার করবে।বিভা বলল,,,,স্যার কুহুকে বিয়ে করেছে ওকে বাচানোর জন্য কিন্তু স্যার এই বিয়েটা কি মন থেকে মেনে নেবে কখনো।আকাশ চিন্তিতো হয়ে বলল,,,,হুম ঠিক বলেছো। বিভা বলল,,,,এখন কি হবে।আকাশ বলল,,,,তুমি চিন্তা কর না সব ঠিক হয়ে যাবে। বিভা বলল,,,,হুম কুহু কোথায়।আকাশ বলল,,,বাহিরেই আছে।
তারপর দুজন মিলে কুহুকে নিয়ে বের হলো এ বাড়ী থেকে, কিন্তু বাহিরে গিয়ে ওরা অবাক হয়ে গেল।কারণ বাহিরে বিভোর গাড়ির ভিতরে বসে আছে।বিভোর একবার কুহুর দিকে তাকালো তারপর ওর পাশের সিটের দরজাটা খুলে দিল,কুহু কিছু না বলে চুপচাপ বসে পড়লো,আকাশ বলল,,,,,বিভোর শো………,বলার আগেই বিভোর বলল,,,,,,কাল অফিসে কথা হবে আকাশ। বলেই গাড়ি নিয়ে চলে গেল।
আকাশ আর বিভা চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো,তখন আকাশ বলল,,,এখানেই কি রাত কাটাবার ইচ্ছে আছে নাকি আসো গাড়িতে বসো।বিভা গিয়ে উঠে পড়লো,আকাশও ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসলো,তারপর ড্রাইভ করতে লাগল,দুজনই বেশ কিছুখন চুপ হয়ে রইলো,সব চুপ থাকার সমাপ্তি ঘটিয়ে আকাশ বলে উঠল,,,, বিভা।বিভা বলল,,,,,
– হুম
– বিয়ে করছো না কেন বুড়ি হয়ে যাবে তো
– হুম আর তুমি মনে হয় যুবক থেকে যাবে
– হা হা হা হা
– তুমি বিয়ে করছো না কেন
– সে রাজি হলে শিনা বিয়ে করব
– সে কে
– তাকে তোমার থেকে ভালো কেউ চেনে না বিভা
-……………………………………..……….…
বিভা চুপ হয়ে গেল, আকাশ ও আর কিছু না বলে চুপচাপ ড্রাইভ করতে লাগল।
বিভোর চুপচাপ ড্রাইভ করছে আর কুহু চুপ হয়ে বসে আছে, অনেক খানি পথ পাড়ি দিতে দিতে কুহু এক পর্যায় ঘুমিয়ে পড়লো, বিভোর ড্রাইভ করতে করতে হঠাৎ কুহুর দিকে তাকালো, কুহুর ঘুমন্ত মুখ দেখে মনে হয় যেন এক ঘুমপরী, বিভোর একবার তাকিয়ে আবার সামনে তাকালো, বিভোর জানে না কেন যেন কুহুর দিকে নজর একবার গেলে ওর চোখ ওর দিকেই স্থির হয়ে যায়।
আকাশ হঠাৎ গাড়ি থামালো, বিভা অবাক হয়ে বলল,,,,, গাড়ি থামালে কেন।আকাশ বলল,,,তোমার বাড়ী চলে এসেছি যাও তোমার ছোট ভাই অপেক্ষা করছে তোমার জন্য।বিভা বলল,,,,ও আমি খেয়াল করি নিই।
বলেই বিভা নামলো গাড়ি থেকে, আকাশও নামলো তারপর বিভা আকাশকে বলল,,,,আসি।আকাশ বলল,,,হুম।বিভা পিছনে ঘুরতেই আকাশ বলে উঠল,,,, বিভা ওইল ইউ ম্যারি মিই।বিভা অবাক হয়ে পিছনে তাকালো, বিভা কিছু না বলে চুপ হয়ে তাকিয়ে রইলো আকাশের দিকে।আকাশ আবার বলল,,,এ্যান্সার মিই। প্রতি উওরে বিভা মুচকি হেসে চলে গেল,
আকাশ নিজের উওর পেয়ে গেল, আকাশের মন খুশিতে ভরে উঠেছে,সব সময় সব কিছু মুখে বলতে হয় না সামান্য ইশারায় বুঝে নিতে হয়।আর তুমি যাকে ভালোবাসবে তার না বলা কথা গুলো বুঝতে পারবে।
বিভোর বাড়ীরর সামনে এসে গাড়ি থামালো,তারপর কুহুকে ডাক দিতে গেল,কিন্তু ডাকলো না কুহুর ঘুমটা নষ্ট করতে বারণ করছে বিভোরের মন, বিভোর কিছুখন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো কুহুর দিকে, কালও এক সাথে ছিল দুজন আজও আছে কিন্তু পার্থক্য হলো কাল ওদের সম্পর্কের কোনো নাম ছিল না কিন্তু আজ ওদের সম্পর্কের নাম হয়েছে, বিভোরের খুব অবাক লাগছে, এই ছোট ঘুমন্ত পরীটা কি না এখন বিভোরের বিবাহিতা স্রী।
বিভোর আর বসে না থেকে দরজা খুলে বের হলো তারপর কুহুর সিটের দরজা খুলে কুহুকে কোলে তুলে নিলো,কুহুকে ওর রুমে নিয়ে শুয়িয়ে দিল তারপর ওর শরীরে কাথা দিয়ে রুমের লাইট অফ করে দরজা বন্ধ করে দিয়ে নিজের রুমে চলে গেল বিভোর। বিভোরের কাছে সব কিছু খুব উল্টপাল্ট লাগছে কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি। আজ বিভোর বিয়ে করে নিলো,
এখন সামনে কি হবে আগামী দিন গুলো কেমন হবে,সব কিছু ভাবতে লাগল বিভোর, হাতে একটা সিগারেট ধরিয়ে খেতে লাগলো,আর চোখ স্থির করে রেখেছে অসীম কালো মেঘ আচ্ছন্ন আকাশের দিকে,আজ কালো মেঘ গুলো বড্ড বিরক্ত করছে চাদ মামাকে,কালো মেঘ গুলো ঢেকে রেখেছে চাদ মামাকে, একটা তারাও আজ আকাশে দেখা যাচ্ছে না।
বাতাস ধিরে ধিরে ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করছে, যখন তখন প্রকৃতি নিজের তান্ডব শুরু করতে পারে।বিভোর এখনো চুপচাপ বসে আছে, হঠাৎ শুরু হলো তুমুল ঝড়,জোরে বজ্রপাত হলো আর সাথে সাথে কারেন্ট চলে গেলো।তাও বিভোরের কোনো পরিবর্তন নেই আগের মতো চুপ হয়ে বসে আছে, বিভোরের হুশ ফিরলো কুহুর জোরে চেচানোর আওয়াজে, বিভোর তাড়াতাড়ি নিচে নামলো, তারপর কুহুর রুমে গেলো মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে রুমের ভিতরে দেখতে লাগলো,বিছানায় টর্চের আলো যেতেই বিভোর দেখলে কুহু জোড়োসোড়ো হয়ে বিছানায় মুখ গুজে বসে আছে,বিভোর কুহুর কাছে যেতেই কুহু বিভোরকে দেখে জরিয়ে ধরলো, বিভোর পুরো অবাক হয়ে গেলো,কুহুর শরীর থরথর করে কাপছে, বিভোর বুঝতে পারলো কিছু খন আগের জোরে বজ্রপাত হওয়ায় কুহুর ঘুম ভেঙ্গে গেছে আর কুহু খুব ভয় পেয়েছে। বিভোর কুহুকে বলল,,,রিলেক্স রিলেক্স কুহু।
কুহু নিজেকে সামলে ঠিক হয়ে দাড়ালো, বিভোর কুহুকে বলল,,,ভয় পেয়ো না কারেন্ট চলো গেছে বাহিরে ঝড় হচ্ছে তো তাই আমার সাথে হোল রুমে চল।কুহু বলল,,,হুম।বিভোর সামনে হাটতে লাগলো তখনি কুহু পিছন থেকে ডাক দিলো আর বলল,,,শশ,,শুনুন।কুহুর কন্ঠে বিভোর পিছনে তাকালো তারপর বলল,,,কি হয়েছে। কুহু বলল,,,আপনি কিছু না মনে করলে আমি আপনার হাত ধরে যেতে পারি। বিভোর একটু অবাক হলো তারপর বলল,,,না সমস্যা নেই।কুহু বিভোরের এক হাত জরিয়ে ধরে নিলো,বিভোরের মাঝে এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে তা কেন সে নিজেও জানে না। দুজন হোল রুমে গেল।কুহু গিয়ে সোফায় বসলো বিভোর কেন্ডেল
জ্বালিয়ে নিয়ে আসলো তারপর দুজন চুপচাপ বসলো।
বাহিরে এখনো অনেক ঝড় হচ্ছে আবারও জোরে বজ্রপাত হলো আর কুহু কানে হাত দিয়ে আবার চেচিয়ে উঠলো,বিভোর বলল,,,,রিলেক্স কুহু আমি তো আছি এখানে।কুহু আবার সাভাবিক হলো,বেশ কিছু খন দুজন চুপ হয়ে বসে রইলো,হঠাৎ কুহু বলল,,,,চা খাবেন।বিভোর বলল,,,,অবশ্য এই বৃষ্টির রাতে চা খেতে মন্দ লাগবে না। কুহু বলল,,,ঠিক আছে আমি বানিয়ে আনছি।বিভোর বলল,,,,,চল আমিও সাথে যাই নইলে আবার ভয় পেতে পারো।কুহু মুচকি হেসে বলল,,,,না বজ্রপাত ধিরে ধিরে হচ্ছে ভয় করবে না।বিভোর বলল,,,,ঠিক আছে।
কুহু কিচেনে গেল। বিভোর মোবাইলটা বের করে দেখে ওর দাদুর অনেক গুলো কল এত ঝামেলার মাঝে মোবাইলের খেয়াল ও ছিল না বিভোরের,বিভোর সাথে সাথে কল বেক করলো ওর দাদুকে, একবার রিং হতেই কল রিসিভ করলো ওর দাদু।বিভোর বলল,,,,
– দাদু
– দাদুভাই তুই ঠিক আছিস তো কল রিসিভ করছিলি না কেন কত টেনশন হচ্ছিল আমার
– দাদু তুমি টেনশন কর না আমি ঠিক আছি একটু কাজের মাঝে ছিলাম তাই কল রিসিভ করতে পারি নিই
– হুম
– তোমার শরীর কেমন
– ভালো, তুই জানিস লিজা সকাল থেকে এসে বসে আছে তোর সাথে কথা বলবে বলে তুই বলে ওর ফোন কল রিসিভই করিস না
– দাদু ভালো লাগছে না
তখনি লিজা ওর দাদুর কাছ থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলতে লাগল,,,,,
– বিভোর ভাইয়া তুমি এত ভাব দেখাও কেন আমার ফোন কল ধরলে কি হয়
– তুই তোর এইসব কথা ছেড়ে মূল কথা বলবি
– হুম কেমন আছো, আমার কথা তো তোমার একটুও মনে পড়ে না
– ভালো তুই
– তোমাকে দেখি না কত বছর ভালো থাকি কিভাবে।
– বায়
বলেই ফোন কেটে দিল বিভোর।ওর খুব রাগ হচ্ছে লিজার এমন ন্যাকা কথায় বিভোরের খুব বিরক্ত লাগে,লিজা হলো বিভোরের ফুফাতো বোন,লিজা বিভোর বলতেই পাগল, কিন্তু বিভোর লিজাকে বেশী একটা পছন্দ করে না আর যতটুকু করে বোন হিসেবে করে।এর মাঝে কুহু চা নিয়ে আসলো, বিভোরকে দিল,বিভোর খেতে শুরু করলো, বিভোর বলল,,,,,,
– মুহিদ ছেলেটা কত দিন ধরে চেনে তোমাকে
– দুই বছর, আজ আপনি না থাকলে আমার যে কি হতো,থ্যাংক ইউ সো মাচ
– থ্যাংকস বলার দরকার নেই,আমি এভাবে কারও ক্ষতি হতে দেখতে পারতাম না,আর আমার কাছে কোনো ওয়ে ছিল না তোমাকে বাচানোর তাই বিয়েটা করতে হলো, তুমি চিন্তা কর না এই বিয়ের বিষয়ে আর কেউ জানবে না আমি বিভা আর আকাশকে কাউকে জানাতে নিষেধ করব, আর তুমি চিন্তা কর না আমি খুব দ্রুত ডিভোর্স এর ব্যবস্থা করব, অবশ্য এত তাড়াতাড়ি ডিভোর্স হওয়া সম্ভব না অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তুমি চিন্তা কর না যত দ্রুত সম্ভব আমি চেষ্টা করব।
বিভোর এর কথা শুনে কুহুর হ্রদ পিন্ড টা ধক করে উঠলো। কুহু জানে না এই কথাটা শুনে কুহুর ভিতরটায় ঝড় শুরু হয়ে গেল কিন্তু কেন এমন লাগছে কুহুর। বিভোর কুহুর এমন চুপ থাকা দেখে বলল,,,,কুহু আর ইউ ওকে।কুহু মুখে জোর পূর্বক একটা হাসি টেনে বলল,,হু,,হুম।
চলবে…………
ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 💙