অদ্ভুত তোমার নেশা পর্ব-০৭

0
1137

#অদ্ভুত_তোমার_নেশা
#লেখিকা_লায়লা_আঞ্জুমান_ইতি
#পার্ট_____________০৭




কুহু বসা থেকে উঠে পড়লো, বিভোর জিজ্ঞেস করলো,,,,, কি হয়েছে কুহু।কুহু বলল,,,,আমি রুমের গেলাম ভালো লাগছে না।বিভোর বলল,,,ঠিক আছে। কুহু জানে না কেন কুহুর এত খারাপ লাগছে, কুহু রুমে গিয়ে রুমের জানালা খুলে দাড়ালো বাহিরের ঝড় হাওয়া এসে রুম এলোমেলো করে দিচ্ছে, বাহিরের ঝড় বৃষ্টি এসে কুহুকে ভিজিয়ে দিচ্ছে খুব ঠান্ডা লাগছে কুহুর তবুও কেন জানি এই কষ্ট টুকু খুব কম মনে হচ্ছে কুহুর কাছে। বিভোরের কাছ থেকে আলাদা হওয়ার কথা শুনে কেন কুহুর এত খারাপ লাগছে তা কুহু জানে না কিন্তু কুহুর মন ভারী হয়ে উঠেছে ভিতরে থেকে এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসছে।

বিভোর নিজের রুমে গেল,ওর ভালো লাগছে না। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। ঘড়িতে রাত ৪ টা বেজে ০৮ মিনিট, বিভোর এর এখনো ঘুম আসছে না, বিভোর এর খুব গলা শুকিয়ে আসছে, বিভোর নিয়ে নেমে ডাইনিং টেবিলের সামনে এসে পানি খেল।উপরে যাওয়ার সময় দেখতে পেলো, কুহুর রুমের দরজা খোলা আর ঠান্ডা হাওয়া আসছে, বিভোর দরজার সামনে গিয়ে বলল,,,,কুহু তুমি ঠিক আছো তোমার রুম থেকে এত ঠান্ডা হাওয়া আসছে কেন আমি ভিতরে আসছি।বলেই বিভোর ভিতরে ঢুকে দেখলো কুহু ফ্লোরে পড়ে আছে,বিভোর এটা দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে গেল, কুহুর কাছে গিয়ে দেখে ওর শরীরের কাপড় কিছুটা ভেজা, বিভোর তাড়াতাড়ি রুমের জানালা আটকে দিল,তারপর কুহুর গালে হাত দিয়ে ডাকলো কুহুকে কিন্তু কুহুর কোনো সারা নেই, গাল হাত দিয়ে বিভোর কুহুর কপালে হাত দিয়ে দেখলো কুহুর প্রচুর জোর এসেছে।

বিভোর কুহুকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুয়িয়ে দিল,বিভোর কি করবে বুঝে পাচ্ছে না।

কুহুর চোখ খোলার পর কুহু দেখতে পেল বিভা ওর কাছে।কুহু উঠে বলল,,,আপু তুমি এখানে কয়টা বাজে।বিভা মুচকি হেসে বলল,,,তোমার শরীর কেমন লাগছে এখন।কুহু উঠে বলল,,,ভালো কিন্তু আমার কি হয়ে ছিল।বিভা সামান্য হেসে বলল,,,,কাল রাতে স্যার আমাকে ফোন করলো বলল তোমার খুব জ্বর আমি তাড়াতাড়ি এ বাসায় আসি এসে দেখি স্যার তোমার মাথায় জলপট্টি দিয়ে দিচ্ছে আমাকে দেখে বলল তোমার ভেজা কাপড় টা চেঞ্জ করে দিতে,সকাল হওয়ার আগ পযন্ত স্যার তোমার পাশেই ছিল আর খুব যত্ন নিয়েছে।কথাটা শুনে কুহুর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো।

অফিসে বিভোর মনোযোগ দিয়ে ফাইল দেখছে আর আকাশ রাগী লুকে বিভোরের দিকে তাকিয়ে আছে, আকাশ বিরক্ত হয়ে বলল,,,তোর মাথা ঠিক আছে। বিভোর ফাইলের দিকে তাকিয়েই বলল,,,,কেন।আকাশ বলল,,, তুই সত্যি ডিভোর্স নিতে চাইছিস।বিভোর বলল,,,,
– কেন এটা কি সাভাবিক না
– তুই কি বিয়েটাকে ছেলে খেলা পেয়েছিস
– না এভাবে বিয়ে হয় নাকি আর কুহুও চায়
– ও তোকে বলেছে ও ডিভোর্স চায়
– তোর কথার মানে কি আকাশ
– বিয়ে করেছিস ভালো হয়েছে, যেভাবেই করে থাকিস, কিন্তু এখন তো তোরা স্বামী স্রী
– তো
– তো তোরা সংসার কর
– কি??? হাহা আকাশ তুইও না এটা মজার করার সময়
– মজার কি বললাম আমি
– ও মুহিদ এর সাথে বিয়ে করতে চাইলো না, কারন ও বন্দি হয়ে যেতো, সেখানে আমি ওকে বিয়ে করলাম, আমি যদি সেম করি তাহলে ওকে বাচানোর কারণ টা কি হলো,আমি কখনো ওর কোনো সিদ্ধান্ততে বাধা দেব না, ও ওর মতো থাকবে।
– বিভোর একটা সত্যি কথা বলবি
– বল
– তোর মনে কি কুহুর জন্য কোনো অনুভূতি নেই
-……………………………………………..
– কিরে চুপ হয়ে গেলি কেন
– তোর ফালতু প্রশ্নের উত্তর কি দেব যা, আমাকে কাজ করতে দেয়
– হুম কুহু আজ অফিসে আসবে না
– না ওর কাল রাতে জ্বর এসেছিল এখনো হয় তো অসুস্থ আছে ও আজ রেস্ট করবে
– হুম ওকে
– আরেক টা কথা ছিল
– কি
– আমি আর বিভা খুব দ্রুত বিয়ে করতে চলেছি
– কি সত্যি তোদের প্রবলেম সোল্ভ হয়েছে
– হুম
– অভিনন্দন দোস্ত তো কবে হচ্ছে
– খুব দ্রুত
– খুব ভালো তাড়াতাড়ি আমাকে চাচ্চু ডাক শুনাস
– হুম তোরও তো দায়িত্ব আছে আমাকে চাচ্চু ডাক শোনানের
– কাম ওন তুই আবার শুরু করেছিস যা এখন নিজের কাজে
– ওকে

বিভার কথা শুনে সপ্তম আকাশে লাফ দিল কুহু,কুহু আনন্দে আওহারা হয়ে বলল,,,,কি বলছ আপু তার মানে তুমি আর আকাশ ভাইয়া বিয়ে করতে যাচ্ছো।বিভা লাজুক ভঙ্গিতে বলল,,, হুম
কুহু বলল,,,কবে কবে কবে আপু তোমাদের বিয়েতে লুঙ্গি পড়ে নাচতে পারব।কুহু কথা শুনে বিভা হেসে উঠল।

কুহু বলল,,,দাড়াও আমি একটু আসছি।বলে কুহু যেতে গিয়ে কুহুর হাতে লেগে একটা ফুলদানি পড়ে যেতে নিলো, কুহু সাথে সাথে ধরে ফেলল,আর বলল,,,,,আল্লাহ বাচিয়েছে।বিভা বলল,,,তা কেন বললে।কুহু বলল,,,আরে এটা তো এখনিই ভেঙ্গে যেতো তখন আমি উনাকে কি বলতাম,জানি উনি কিছু বলতো না কিন্তু তাও তো । বিভা সামান্য হেসে বলল,,,কুহু তুমি হয় তো ভুলে গেছো এই বাড়ীটা এখন তোমারও স্যার এর ওয়াইফ হিসেবে সব কিছুতে তোমার অধিকার আছে।কুহু তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বলল,,,,ওয়াইফ আর কয়েকটা মাস পর আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে।

কুহুর কথা শুনে শকট খেল বিভা আর বলল,,,কি বলছো কুহু।কুহু বলল,,,,,
– হ্যা কাল রাতেই উনি বললেন যত দ্রুত সম্ভব ডিভোর্সের ব্যবস্থা করবে
– কি বলছো এইসব আমার বিশ্বাস হচ্ছে না,কুহু তোমার খারাপ লাগছে না, তুমি কি এটাই চাও
– উনি আমার জন্য অনেক করেছে, আমি আর কি চাইবো উনার কাছে।
– কুহু
– আপু বাদ দাও না এইসব
– ঠিক আছে তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো তারপর খেতে বসো
– হুম আসছি

বাগানের নানান ফুলের সুবাস,যেন মন মাতিয়ে তুলার জন্য যথেষ্ট, পাশে জবা ফুলের গাছে রক্তজবা ফুটে আছে।হলুদ, সাদা নীল রঙের প্রজাপ্রতি এক ফুল থেকে আরেক ফুলে নাচা নাচি করছে, গোধূলির লগ্নে আকাশ লালছে রঙ ধারণ করেছে, আকাশে ঝাকে ঝাকে পাখিরা নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশে ডানা মেলে উড়ে চলেছে, বাতাসে এক অন্যরকম নীরবতা বিরাজ করছে,বাগানে একটা চেয়ারে বসে কুহু আনমনে উপভোগ করছে প্রকৃতির এই দৃশ্য।

কুহু আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল,,কোন ভাগ্য নিয়ে জন্ম নিয়ে ছিলাম ছোট থেকে কারও ভালোবাসা পেলাম না, কোনো চাওয়া পাওয়া পূর্ণতা পায় নিই কখনো, কখনো কারও কাছে আবদার করতে পারি নিই কারণ আবদার রাখার মতো কেউ ছিলই না, অনেক ইচ্ছে ছিল বিয়ের পর স্বামী নামক ভালোবাসার মানুষটার অসীম ভালোবাসা পাব, আমার সকল চাওয়া পাওয়া সে পূর্ণ করবে, যার সাথে একটু অভিমান দেখাতে পারব, যে মিষ্টি ভঙ্গিতে আমার রাগটা ভাঙ্গাবে,আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসবে, আর আমার জমানো ভালোবাসা দিয়ে তাকে মুড়ে দেবো কখনো কোনো অভিযোগ করতে দেব না, কত ইচ্ছে ছিল কিন্তু সেই ভাগ্য টাও আমার নেই বিয়ে তো হলো খুব ভালো একটা মানুষের সাথে কিন্তু তার কাছ থেকে কখনোই ভালোবাসা পাব না, তার সাথে তো বিয়ে টাই টিকলো না তাহলে ভালোবাসা পাবার কথা আসে কোথ থেকে, আমার মতো অসহায় একটা মেয়েকে মানবতার কারণে উনি করুণা করেছে তাই বলে কি আর নিজের অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে মেনে নেবে।

চলবে……….
ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 💙