#অদ্ভুত_তোমার_নেশা
#লেখিকা_লায়লা_আঞ্জুমান_ইতি
#পার্ট_____________০৮
।
।
।
।
এসব ভাবতে ভাবতে কুহুর চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু পানি জমা হতে লাগলো।বিভা হঠাৎ এসে বলল,কুহু।বলেই চুপ হয়ে গেল কুহু বিভাকে দেখে তাড়াতাড়ি নিজেকে ঠিক করলো,বিভা আবার বলল,কুহু তুমি কাদছো।কুহু মুচকি হাসি দিয়ে বলল,কই না তো। বিভা বলল,দেখলাম তো।কুহু বলল,আরে না চোখে কিছু পড়েছিল হয় তো।বিভা বলল,আমার তো চলে যাওয়ার সময় হয়েছে আমার ভাইটা বাড়ীতে একা আছে।কুহু বলল,ঠিক আছে তুমি যাও আপু।বিভা বলল,কুহু তুমি কিছু খেয়ে নেও সারা দিন তো কিছুই খেলে না তার উপর তোমার জ্বর, শরীর তো অনেক দূর্বল হয়ে গেছে।কুহু বলল,আপু তুমি যাও আমি খেয়ে নেবো।বিভা বলল,সত্যি খেয়ে নেবে তো।কুহু বলল,হ্যা খেয়ে নেবো।বিভা বলল,আচ্ছা তাহলে আমি যাই।কুহু মুচকি হেসে বলল,ঠিক আছে।
বিভা চলে গেল।কুহু খালি বাড়ীতে পায়চারি করতে লাগলো,ফাইনালি টিভি ওন করে কার্টুন দেখতে লাগলো।কিন্তু কুহুর কাছে ভালো লাগছে না শরীরটা প্রচুর খারাপ লাগছে কুহুর, হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে কুহুর মন উৎফুল্ল হয়ে উঠলো ঠোটের কোণে হাসির রাজ্য দখল করে নিল,বসা থেকে উঠতেই কুহুর মাথা ঘুরলো,নিজেকে ঠিক করে কুহুর দরজার সামনে গিয়ে দরজা খুললো, দরজার ওপাশে বিভোর দাড়ানো।বিভোর কুহুকে বলল,তোমার শরীর কেমন।কুহু মুচকি হেসে বলল,ভালো যান ফ্রেশ হয়ে আসুন। বিভোর বলল,হুম।
বিভোর উপরে চলে গেল, কুহু জানে না কেন ওর এত ভালো লাগছে বিভোরকে দেখে কুহুর মন আনন্দে ভরে উঠেছে,কুহু আনন্দের সাথে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে ব্লেট ঠিক করছে কিন্তু ওর শরীরটা ঠিক পেরে উঠছে না।
কিছুখন পর বিভোর উপর থেকে নিচে নামলো ব্লাক কালারের টি শার্ট এতে অসাধারণ দেখাচ্ছে বিভোরকে কুহু খানিকের জন্য এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিভোরের দিকে,বিভোর ওর সামনে এসে ভ্রু কুচকে বলল ,কি হলো কুহু।কুহু হঠাৎ চমকে উঠলো আর ভাবতে লাগলো ইশশ আমি এতোটা বেহায়া কেন এভাবে কেউ কারও দিকে তাকিয়ে থাকে ছি ছি ছি কুহু তুই একটা শেমলেস।কুহু নিজেকে সাভাবিক করে বলল,কক,,কই কিছু না তো বাদ দেন না খেতে বসুন।
কুহু পিছনে ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ মাথা ঘুড়ে পড়ে যেতে নিলো,বিভোর সাথে সাথে কুহুর কোমড় না আকড়ে ধরলো কুহু ভয়ের চোটে বিভোরের টি শার্ট ঘামচে ধরলো।বিভোর ঘাবড়ে বলল,কুহু আর ইউ ওকে।কুহু ধিরে ধিরে বলল,ইয়া আই এম ফাইন।বিভোর রেগে বলল,দেখতেই পাচ্ছি। বিভোর কুহুকে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বলল,তোমার শরীরে তো এখনো জ্বর মেডিসিন খেয়ে ছিলে। কুহু কিছু না বলে চুপ হয়ে মাথা নিচু করে রাখলো, বিভোরের বোঝার বাকি রইলো না
বিভোর কুহুর দিকে রেগে তাকিয়ে বলল,তুমি কবে বড় হবে। কুহু ঠোট উল্টে বলল,আমার মেডিসিন ভালো লাগে না।বিভোর বলল,ভালো লাগে না বললেই চলবে নাকি সুস্থ হতে হবে না।কুহু মাথা হালকা নাড়িয়ে বলল হুম।বিভোর বলল,খেয়েছো।কুহু বলল,না।বিভোর বলল,খেতে বসো।কুহু বলল,না প্লিজ খেতে ইচ্ছে করছে না। বিভোর বলল,না খেতে হবে তারপর মেডিসিন ও খেতে হবে।কুহু বলল,প্লিজ আমার একদম ইচ্ছে করছে না। বিভোর রেগে বলল, খেতে বলেছি তোমাকে।কুহু বলল,না না না না কিছুতেই খাবো না।বিভোর ব্লেটে খাবার নিয়ে নিজের হাতে খাবার নিয়ে কুহুর মুখের সামনে তুলে বলল,,,হা কর দেখি কিভাবে না খাও।কুহু অবাক হয়ে তাকালো বিভোরের দিকে, বিভোর আবার বলল,,,কি হলো হা কর।কুহু হা করলো, বিভোর নিজের হাতে খাইয়ে দিতে চাইছে আর কুহু না করবে এটা কি সম্ভব, কুহু লক্ষী মেয়ের মতো খেয়ে নিলো,কুহুকে খাইয়ে বিভোর বলল,,,,গুড গার্ল এখন মেডিসিন খাবে। বলেই বিভোর উঠে মেডিসিন আনতে গেল,কুহু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিভোরের দিকে, কুহু মনে মনে তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে ভাবতে লাগলো,এতটা মায়া কেন বাড়াচ্ছেন বিভোর যখন ছেড়ে চলে যাবেন।এসব ভেবে কুহুর মনটা আবার ভারি হয়ে উঠলো।
কিছুখন পর বিভোর মেডিসিন নিয়ে এসে কুহুকে খাইয়ে দিল।কুহু বলল,আপনি কখন খাবেন এমনি সারা দিন কষ্ট করে কাজ করে এসেছেন।বিভোর সামান্য হেসে বলল,আমি এখন খেয়ে নেবো তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।কুহু বলল,এত তাড়াতাড়ি ঘুম আসবে না আমার। বিভোর বলল,আচ্ছা কুহু তুমি কি মুহিদ এর বিষয়টা নিয়ে এখনো খুব আপসেট। কুহু বলল,কেন এটা মনে হলো।বিভোর বলল,না তুমি আগের মতো নেই তাই।কুহু বলল,আগের মতো নেই মানে।বিভোর বলল,না আসলে আমি আগের কুহু টাকে মিস করছি আগের কুহুকে ফিরিয়ে আনতে পারো না। বিভোরের কথা শুনে কুহু হেসে উঠলো।
বিভোর এর সাথে কথা বলে কুহু রুমে চলে আসলো, আজ খুব ভালো লাগছে কুহুর। বিভোরের সাথে হেসে কথা বললেই কুহুর মন সাথে সাথে ভালো হয়ে যায়। বিভোর নিজের রুমে গেল, গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো,চোখ গুলোতে যখন ঘুম ঘুম আভাস আসল তখনি ফোন বেজে উঠল, বিভোর দেখলো অপরিচিত নাম্বার এর থেকে কল এসেছে, বিভোর রিসিভ করলো আর বলল,,,,,,,,
– হ্যালো
– বিভোর প্লিজ প্লিজ ফোন কেটো না প্লিজ
– কি চাই তোমার
– বিভোর কেন বুঝতে চাইছো না কত বার মাফ চাইবো, আমি ভুল করেছি, তোমার সাথে অন্যায় করেছি, আমি মানছি তুমি, আমাকে একবার মাফ করে দেও আর কখনো কোনো অভিযোগ করতে দেব না একবার মাফ করে দেও,আমি তোমাকে ভালোবাসি।
– প্লিজ মিমি ভালোবাসা কথা টা তোমার মুখে মানায় না, তুমি টাকা ছাড়া আর কিছু বুঝো না,তুমি খুব সেলফিস, নিজের ভালো ছাড়া কিছু বুঝো না তুমি নিজেকে ভালোবাসো আর কাউকে না।
– না বিভোর আমি সত্যি তোমাকে খুব ভালোবাসি, তোমার বন্ধু মাহমুদ যে এতটা খারাপ লোক আমি কল্পনাও করতে পারি নিই, ও তোমাকে হিংসা করে তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য ও আমাকে বিয়ে করে ছিল।
– আর তুমি মিমি, তুমি কি করলে
– ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দেও, ভালোবাসার মানুষটাকে কি একবার মাফ করার যায় না
– আর কখনো কল করবে না গুড বায়
– প্লিজ বিভোর শোনো
– টু-টু-টু-টু-টু
বিভোরের মেজাজটা পুরো বিগরে গেল,এই মূহুর্তে প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে বিভোরের, বিভোর একটা সিগারেট ধরিয়ে মুখে নিতে গেল তখনি বিভোর বুঝতে পারলো ওর হাত কেউ ধরে ফেলেছে, বিভোর তাকিয়ে দেখলো কুহু।কুহুকে দেখে বিভোর বলল,কুহু তুমি এখানে কেন?
কুহু বলল,আগে এই বিষাক্ত অখাদ্য টা আমার কাছে দেন।বিভোর কিছু বলার আগেই কুহু বিভোরের হাত থেকে সিগারেট টা নিয়ে ফেলে দিল।আজ যেন কুহুকে অবাক দৃষ্টিতে দেখছে বিভোর, মেয়েটা কি নিজের অধিকার এর বল প্রয়োগ করছে। বিভোর বলল,কুহু এমনটা আর করবে না। কুহু বলল,সিগারেট না খেলে কি হয়। বিভোর বলল,আমার ভালো লাগে। কুহু বলল,এটা ভালো লাগার কিছু হলো নাকি, আমার মন খারাপ থাকলে কি করি জানেন, আমার যার সাথে কথা বললে ভালো লাগে তার সাথে একটা লম্বা আড্ডা দেই, আর এতেও যদি ভালো না লাগে তাহলে একটা লম্বা ঘুম দেই।
বিভোর বলল,শেষ তোমার এডভাইস দেওয়া এবার বল এখানে এসেছো কেন আর তোমার জ্বর কি কমেছে।কুহু বলল
– হুম কমেছে, আর আমি এসে ছিলাম এটা বলতে যে আমি কাল থেকে আবার অফিসে যাব।
– ঠিক আছে তোমার ইচ্ছে
– থ্যাংক ইউ
– হুম এবার যাও
– এভাবে তাড়াচ্ছেন কেন
– আর কিছু বলার আছে আপনার কুহু ম্যাডাম
– হুম আছে তো, আপনি আমাকে বন্ধু ভাবেন
– হঠাৎ এ কথা কেন
– বলেন না
– হুম ভাবি তো পিচ্চি বন্ধু
– বন্ধু ঠিক আছে কিন্তু আবার পিচ্চি এড করলেন কেন
– কারণ তুমি পিচ্চি তাই
– মোটেও না আমার ১৯+ বুঝেছেন
– বাবা অনেক বয়স হয়েছে তো, তাহলে
– হুম
– ওকে এবার বল হঠাৎ এ কথা বললে কেন
– না একটা কথা ছিল যদি কিছু না মনে করতেন তাহলে বলতাম
– ওকে বল
– আপনি যে প্রায় সময় রেগে যান তারপর তান্ডব শুরু করেন, এটা কি আপনার এক্স এর জন্য
– তাহলে বিভা বলেছে তোমাকে
– ইয়ে মানে আসলে হ্যা
– হুম আমার খুব রাগ হয় যখন আমাকে ফোন করে বলে আমাকে খুব ভালোবাসে, ও আমাকে ভালোবেসে থাকলে কখনো ছেড়ে যেতো না।আর এখন ভালোবাসার দাবি করে, সেলফিস গার্ল।
– আপনি কি এখনো উনাকে ভালোবাসেন
-…………………………না
– এটা বলতে এতটা সময় লাগলো যে
– বাদ দাও কুহু
– ওকে তো কাল আমি অফিসে যেতে পারব তো
– হ্যা
– আচ্ছা তাহলে আমি এখন গেলাম, আর আপনি আর স্মোকিং করবেন না কিন্তু
– না করব
– এটা একদম ভালো না
– জানি
– তাহলে ছাড়ছেন না কেন
– অভ্যাস হয়ে গেছে তাই
– তাহলে আপনি ছাড়বেন না
– না
– ওকে ফাইন ছাড়তে হবে না
-????
– এখন থেকে যখন যখন সিগারেট খাবেন আমাকেও সাথে নিয়ে খেতে হবে
– কি????????????
– কি না জ্বি,এখন থেকে আমিও আপনার সাথে সিগারেট খাবো, আপনি যখন ছাড়বেন না তখন আমিও খাওয়া শুরু করব
– কি বলছো কুহু
– কেন এত অবাক হওয়ার কি আছে, এখন থেকে এটা আমারও অভ্যাসে পরিণতি হবে, দুজন কোম্পিডিসেন করে সিগারেট খাবো কে বেশী খেতে পারে, আইডিয়া টা কেমন, দারুন হবে না
কুহুর কথা শুনে বিভোর অবাক হবে নাকি হাসবে বুঝে পাচ্ছে না, কুহু বিভোর কে অবাক করে একটা সিগারেট নিয়ে জ্বালিয়ে নিলো,বিভোর অবাক হয়ে এখনো তাকিয়ে আছে, কুহু বিভোরকে আবার অবাক করে সিগারেট টা মুখে নিয়ে একবার টান দিয়েই কাশতে শুরু করলো, বিভোর তাড়াতাড়ি ওর হাত থেকে সিগারেট টা নিয়ে ফেলে দিল, কুহু কাশতে কাশতে বলল,কি হলো দেন ওটা,আমিও খাবো। বিভোর কুহুকে বলল,থাক থাক আর খেতে হবে না আমি আর সিগারেট খাবো না।কুহু বলল,সত্যি তো।বিভোর বলল,,হ্যা। কুহু বলল,,,আগে তিন সত্যি বললেন।কুহুর এমন বাচ্চামো কথা শুনে বিভোর হেসে দিল, তারপর বলল,ওকে তিন সত্যি। কুহু মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল,গুড বয় আচ্ছা আমি আসি।বলেই কুহু রুম থেকে চলে গেল,আর বিভোর কুহুর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো, আর মনে মনে হাসলো আর বলল,,,এই মেয়েটা এতটা পাগলী টাইপের কেন।
চলবে…………
ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 💙