#অদ্ভুত_তোমার_নেশা
#লেখিকা_লায়লা_আঞ্জুমান_ইতি
#পার্ট____________০৯
।
।
।
।
আজ অফিসে সবাই খুব ব্যস্ত, বিভোর কিছু দিন ধরে খুব বেশী ব্যস্ত কাজ নিয়ে, শুধু নিজেই না সবাইকে ব্যস্ত করিয়ে রেখেছে, কুহু নিজের টেবিলে বসে খুব গুরুত্ব সহ কারে ফাইল দেখছে,হঠাৎ কুহুর সামনে কেউ কফি রাখলো, কুহু চোখ তুলে তাকিয়ে দেখলো রেহান ওর সামনে মিষ্টি হাসি দিয়ে দাড়িয়ে আছে, কুহু রেহানকে বলল,আপনি।
রেহান বলল,নিন কফি খান অনেক কাজ করছেন। কুহু মুচকি হেসে বলল,হুম সবাই খুব ব্যস্ত এই ডিলটা কোম্পানি পেলে অনেক লাভ হবে আর কিছু খন পর তো মিটিং। রেহান বলল,হুম আর কিছু খন পর তো মিটিং আপনাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে কফি খেয়ে নিন।কুহু বলল,থ্যাংকস ফর কফি।রেহান মুচকি হেসে বলল,ওয়েলকাম।রেহান আবার বলল,আপনার চোখের কাজল লেপটে গেছে।কুহু বলল,ওহ। বলেই কুহু হাত দিয়ে ঠিক করে বলল,এখন ঠিক আছে। রেহান এক গাল হেসে বলল,চোখের কাজল তো ঠিক হয়েছে কিন্তু আপনার গালে কালি লেগে গেছে।কুহু বলল,ওহ। কুহু ঠিক করে বলল,,এখন ঠিক আছে।রেহান বলল,না আমি হেল্প করব।কুহু বলল,ওকে।
রেহান টিস্যু নিয়ে আলতো করে কুহুর গালের কালিটা মুছে দিল।তখনি সবটুকু দেখলো বিভোর।
বিভোর জানে না কেন ওর হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে বিরক্ত লাগছে, বিভোর চাইলো ব্যাপারটাকে ইগনোর করে চলে যেতে কিন্তু কেন যেন পারলো না ওর খুব রাগ হচ্ছে, ও সামনে গেল, সবাই বিভোর কে দেখে চুপ হয়ে গেল, বিভোর কড়া গলায় সবাইকে বলল,গল্প করার জন্য কি আপনাদের মাস শেষে টাকা দেওয়া হয় নাকি নিজেদের কাজ করুন। বলেই কুহুর দিকে তাকিয়ে চলে গেল।সবাই বিভোরের এমন হঠাৎ রেগে যাওয়ার বিষয়টা কিছু বুঝতে পারলো না কেউ।সামনেই আকাশ ছিল, আকাশ সব কিছু দেখলো আর মনে মনে হাসলো।
বিভোর নিজের কেবিনে যাওয়ার সময় বিভার সাথে দেখা হলো, বিভোর বিভাকে বলল,তোমার কাজ কি বিভা।হঠাৎ বিভোরের এমন কথায় বিভা কি বলবে খুজে পাচ্ছে না, বিভা অপ্রস্তুত হয়ে বলল,মা…মানে স্যার। বিভোর বলল,,তুমি কুহুকে একা ছাড়ো কেন তোমাকে না বলেছি সব সময় ওর সাথে থাকবে। বিভা বলল,সরি স্যার আমি আসলে ওয়াসরুমে গিয়ে ছিলাম।বিভোর বলল,হুম ওর সাথে থাকবে। বলেই বিভোর কেবিনে ঢুকে পড়লো,বিভা হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলো আর নিজে নিজেকে বলতে লাগল,যা বাবা স্যার এত রেগে আছে কেন।
কিছুখন পর অন্য কোম্পানির সবাই চলে আসলো, সবাই এক জোর হলো, বিভোর আকাশ কে বলল,ফাইল গুলো কোথায়।আকাশ বলল,কুহু নিয়ে আসছে।বিভোর বলল,,ওকে।
বিভোর সবার সাথে হাই হ্যালো করে বসলো,এর মাঝে কুহু ফাইল নিয়ে আসলো, হঠাৎ ব্যালেন্স না রাখতে পেরে পড়ে গেল,বিভোর কুহুর কাছে যাওয়ার আগেই অন্য কোম্পানির একটা ছেলে কুহুর দিকে হাত বাড়ালো, কুহু হাত ধরে উঠলো, ছেলেটা সব গুলো ফাইল তুলে কুহুর হাতে দিল,তারপর বলল,,আর ইউ ওকে।কুহু মাথা নিচু করে ধিরে বলল,হুম থ্যাংকস।ছেলেটা মুচকি হেসে বলল,ওয়েল কাম বায় দ্যা ওয়ে আই এম আয়ান। বলেই কুহুর দিকে হাত বাড়ালো কুহু আস্তে করে হাত মেলালো আর বলল,, কুহু।আয়ান বলল,,,হাও সুইট নেম।
এইসব দেখে বিভোর তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো,বিভোর নিজের গলার টাই টা হালকা করলো, সামনে রাখা মিনি পানির বোতলটা খুলে এক নিশ্বাসে অর্ধেক পানি খেয়ে ফেলল,তারপর পানির বোতলটা এতটা জোরে চেপে ধরলো বেচারা বোতল পুরো আষ্টেপৃষ্টে লেগে গেল,আকাশ এইসব দেখে অবাক হচ্ছে আবার ওর খুব হাসিও পাচ্ছে, আকাশ বলে উঠল, মিস্টার আয়ান মিটিং শুরু করা দরকার। আয়ান বলল,অফকোর্স।
মিটিং শুরু করলো, সব কিছু পার্ফেক্ট ভাবে হবে হলো,বিভোর এর কোম্পানি ডিলটা পেয়ে গেল,সবাই খুব খুশি, সবাই খুশিতে একে অপরকে অভিনন্দন জানাচ্ছে,কুহু তো আনন্দে আত্তহারা হয়ে বাচ্চাদের মতো লাফাচ্ছে, বিভা কুহুর সামনে আসতেই কুহু বিভাকে জরিয়ে ধরে বলল,,ইয়ে আমরা সবাই পেরেছি। কুহু কথা শুনে বিভা হেসে উঠলো,বিভোর কাছে আসতেই কুহু খেয়াল না করে বিভোরকে জরিয়ে ধরে লাফাতে লাগলো , কুহুর এমন কান্ডে বিভোর অবাক হয়ে যায়।কুহুর খেয়াল হতেই বিভোরকে ছেড়ে দিয়ে বলল,,সরি সরি। বিভোর বলল,,ইটস ওকে।
তারপর বিভোর সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,গাইস আমরা আমাদের কাজে সফল হয়েছি এই আনন্দে আজ রাতে পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। কথাটা শুনে সবাই আনন্দে চেচিয়ে উঠলো, বিভোর আবার বলল,,আর এখন আপনাদের ছুটি যে যার বাড়ীতে যেতে পারেন। বিভোরের কথা শুনে সবাই আরেক দফা আনন্দে মেতে উঠলো,আর বলল,থ্যাংক ইউ স্যার।
যে যার সব কিছু গুছিয়ে চলে যেতে লাগলো,কুহুও নিজের ব্যাগ ঠিক করছে, তখনি কোণা খুব স্টাইল নিয়ে বলতে লাগল৷ আজ পার্টিতে সব চেয়ে সুন্দর আমাকে দেখাবে স্যার দেখলে তাকিয়েই থাকবে।রিমি এসে কোণাকে বলল,,কম মেকআপ করিস আবার মেকআপ এর বস্তা মুখে বেধে নিয়ে আসিস না নইলে আবার স্যার তোকে দেখে ভয়ে হার্ট এ্যাটেক না করে বসে।কোণা বিরক্ত হয়ে বলল,শাটআপ রিমি।সবাই হাসা শুরু করলো।তখন রেহান এসে কুহুকে বলল,আজ রাতে পার্টিতে আসবেন না।কুহু বলল,,দেখি।রেহান বলল,প্লিজ আসবেন আপনি আসলে ভালো লাগবে।কুহু বলল,ঠিক আছে।রেহান বলল,বায় পার্টিতে দেখা হবে।কুহুও সামান্য হেসে বায় বলে দিল রেহানকে,কুহু আর বিভা যেতে নিলো তখনি আকাশ এসে বলল,কুহু বিভা থামো।ওরা দাড়িয়ে পড়লো, আকাশের কাছে গেল,আকাশ বলল,কুহু তুমি বিভোরের কেবিনে যাও তোমাকে ডেকেছে আর বিভা তুমি আমার সাথে চল।বিভা বলল,কোথায় কেন।আকাশ বলল,আসো তো বড্ড প্রশ্ন কর তুমি। কুহু দুষ্টু হেসে বলল,যাও আপু।আকাশ মুচকি হেসে বলল,তুমিও যাও কুহু।কুহু বলল,হুম আপনাদের ডিস্টার্ব করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই বায়।বলে কুহু হেসে চলে আসলো,আর আকাশ আর বিভা হেসে দিল।বিভা কুহুর দিকে তাকিয়ে আছে, তখনি আকাশ বিভার হাত টেনে নিয়ে যেতে লাগলো।বিভা বলল,,আরে কি করছো।আকাশ বলল,,চল তো।বিভা হেসে বলল,পাগল।আকাশ বলল,আর তুমি পাগলি।বিভা বলল,হয়েছে চল এবার।
কুহু বিভোরের কাছে গিয়ে বলল,ডেকেছেন আমাকে।বিভোর বলল,,হুম ড্রাইভার কাকু ফোন করে ছিল উনার বাড়ীতে কাজ পড়েছে তোমাকে বাড়িতে দিয়ে আসতে পারবে না। কুহু বলল,ও তাহলে আমি টেক্সি করে চলে যাই।বিভোর বলল,তার কি প্রয়োজন চল এক সাথে বাড়ীতে যাই। কুহু বলল,হুম ঠিক আছে।
বিভোর আর কুহু বাড়ীর উদ্দেশ্যে পাড়ি জোমালো।হঠাৎ বিভোর গাড়ি থামালো,কুহু তাকিয়ে দেখলে একটা বড় শপিংমল এর সামনে কুহু বিভোরকে বলল,এখানে কেন। বিভোর গাড়ির থেকে নামতে নামতে বলল,অনেক দিন ধরে শপিং করা হয় না কিছু কেনা কাটা করব।বলে কুহুর সামনে দরজা খুলে দিল, কুহু বের হলো,দুজন এক সাথে শপিংমল ঢুকলো।বিভোর দুটো শার্ট দেখালো আর বলল,কুহু কোনটা ভালো দেখাচ্ছে ব্লু টা নাকি ব্লাক টা।কুহু নিখুঁত ভাবে দেখে বলল,,দুটোই ভালো দেখাচ্ছে আপনাকে দুটোতেই মানাবে।বিভোর বলল,,ওকে তাহলে দুটোই নিয়ে নেই।
কুহু চারপাশ টা দেখছে, বিভোর কুহুর সামনে এসে ওকে একটা কালো শাড়ি দেখিয়ে বলল,কুহু এই শাড়িটা কেমন।কুহু ভালো মতো দেখে বলল,খুব সুন্দর তো।বিভোর বলল,ওকে তাহলে এটা নিয়ে নেই, এই শা………….
বলার আগেই কুহু বলতে লাগল,আপনার শরীর ঠিক আছে তো,নাকি বেশী আনন্দের জন্য মাথা খারাপ হয়ে গেছে, আপনি কি এখন শাড়ি পড়বেন শাড়িতে আপনাকে কেমন দেখাবে জানেন আ…….। কুহুর আর কিছু বলার আগে বিভোর কুহুকে ধমক দিয়ে বলল,স্টোপিড ইডিয়েট এই শাড়িটা আমি পড়বো না তোমার জন্য বলছি।কুহু বলল,না না আমার শাড়ির দরকার নেই। বিভোর বলল,বললেই হলো নাকি আমি যখন বলেছি আজ পার্টিতে তুমি শাড়ি পড়বে এটাই ফাইনাল।
শাড়িটা নিয়ে নিলো,বাড়ী গিয়ে যে যার রুমে চলে গেল, আর রেডি হতে লাগলো।বিভোর রেডি হয়ে নিয়ে নেমে এসে জোরে জোরে ডাকলো কুহুকে,কুহু রেডি হও নিই এখনো।বিভোর নিজের হাতের ঘড়িটা টাইট করছিলো, তখনি কুহু বেড়িয়ে এসে বলল,আমি রেডি।কুহুর কন্ঠ শুনে বিভোর মাথা তুলে তাকালো আর সাথে সাথে বিভোর মুগ্ধতার সমুদ্রে ডুবে গেল,এ কেমন রুপ, কই অন্য কোনো মেয়েকে তো আমার কখনো এতটা সুন্দর লাগে না, ওর দিকে তাকালে কেন চোখ ফিরাতে পারি না আমি, কেন এতটা মুগ্ধ হই ওকে দেখলে, মিমিকে তো ভালোবাসতাম ওর প্রতি তো কখনো আমার এতটা মুগ্ধতা কাজ করতো না, কুহুর প্রতি এক অদ্ভুত নেশা কাজ করে আমার মাঝে কিন্তু কেন।কালো শাড়ি হালকা সাজ খোলা চুল, আমি তো পাগল হয়ে যাব এতটা ভয়ঙ্কর কেন এই মেয়েটা।
বিভোরের এমন তাকিয়ে থাকা দেখে কুহু ঠোট উল্টে বলল,আমাকে কি দেখতে খুব বাজে লাগছে।কুহুর কোথায় বিভোরের হুশ ফিরলো,বিভোর বলল,কিছু বললে তুমি।
কুহু বলল,ওমন ভাবে তাকিয়ে আছেন কেন আমাকে কি দেখতে খুব বাজে লাগছে।কুহুর কথা শুনে বিভোর হেসে উঠলো আর মনে মনে বলল তোমাকে যে কেমন দেখাচ্ছে তা তো বর্ণে প্রকাশ করা সম্ভব না কিন্তু খুব ভালোবাসতে ইচ্ছে করছে দূর কি সব ভাবছি আমি। কুহু আবার বলল,কিছু বলছেন না কেন।বিভোর বলল, না খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। কুহু বিরাট একটা স্মাইল দিয়ে বলল,সত্যি।বিভোর সামান্য হেসে বলল, হুম সত্যি।কুহু বলল, ওকে চলুন এখন।
চলবে…………….
ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 💙